শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) ডিএমপির রমনা বিভাগের নিউমার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. জাহাঙ্গীর কবির এসব তথ্য জানান। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর জিগাতলা, রায়েরবাজার ও বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) ভোরে যশোর জেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন- মো. রাকিব মাতব্বর, মো. আলাউদ্দিন ব্যাপারী, মো. মহিউদ্দিন ব্যাপারী, মো. মানিক, মো. ফরহাদ হোসেন ও মো. মেহেদী হাসান।
গ্রেফতারকালে প্রতারণায় ব্যবহৃত ১৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
মো. জাহাঙ্গীর কবির জানান, গত ১৯ আগস্ট দুপুরে এলিফ্যান্ট রোডের ভাড়া বাসায় অবস্থানকালে ভুক্তভোগী নারী ‘কোরআনিক শিফা’ নামে একটি ফেসবুক পেজে ‘অবাধ্য সন্তানকে বাধ্য করার উপায়’ শিরোনামের ভিডিও দেখেন। সেখানে দেওয়া নম্বরে ফোন করলে নিজেকে তান্ত্রিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি জানান, জ্বীনের মাধ্যমে তার সন্তানের সমস্যার সমাধান করা হবে।
প্রতারণার অংশ হিসেবে প্রথমে বিভিন্ন জিনিসপত্র কেনার অজুহাতে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকা বিকাশে নেন। এরপর হোয়াটসঅ্যাপে ‘কালো জাদু’র ছবি পাঠিয়ে কাজ চলছে বলে জানান। পরদিন পুনরায় ফোন করে ‘জ্বীন পরিচয়ে’ চক্রের একজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় দেখানো হয়। সমাধানের জন্য ৪৯ হাজার টাকা দাবি করা হয় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে।
সন্তানকে বিপদ থেকে রক্ষার আশায় তিনি পুনরায় টাকা পরিশোধ করেন। পরে একই কৌশলে ২১ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ৩৫ লাখ ৪৪ হাজার ১০৫ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা।
তিনি বলেন, এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী ওই নারী প্রতারণা চক্রের খপ্পরে পড়েছেন বুঝতে পেরে নিউমার্কেট থানায় হাজির হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এজাহার নেওয়ার পর নিউমার্কেট থানার এসআই (নি.) মো. ফিরোজ আহম্মেদ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে বুধবার সন্ধ্যায় হাজারীবাগ থানাধীন জিগাতলা-রায়েরবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে এবং বৃহস্পতিবার ভোরে যশোরের চৌগাছা থানার যাত্রাপুর এলাকা থেকে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত ১১টি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও ২টি বাটন ফোন জব্দ করা হয়।
গ্রেফতার আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
চট্টগ্রাম: শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় নগরের জামালখান প্রেস ক্লাবের সামনে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক শহীদ শরিফ ওসমান হাদির গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জানাজা শেষে এন্টি ফ্যাসিস্ট স্কোয়াডের মুখপাত্র রিদুয়ান হৃদয় জানান, হাদির হত্যাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, “হাদির জীবদ্দশায় যদি তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হতো, তিনি হয়তো আজ বেঁচে থাকতেন।”
সংগঠনের অন্য নেতা রাকিবুল হাসান নওশাদ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “এমন একটি হত্যাকাণ্ডের পরও যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হবে।”
গায়েবানা জানাজায় এন্টি ফ্যাসিস্ট স্কোয়াডের অন্যান্য নেতা-সদস্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধা, ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। জানাজায় ইমামতি করেন শহীদ মাহবুবুল হকের ছোট ভাই মঞ্জু মাহিম।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার দাবি জানাতে এই আয়োজনের মাধ্যমে চট্টগ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
#শরিফওসমানহাদি #চট্টগ্রামজানাজা #এন্টিফ্যাসিস্টস্কোয়াড #জুলাইগণঅভ্যুত্থান #হত্যাকারীদেরগ্রেফতার #BCNChannel #BangladeshNews #PoliticalNewsBangla #JusticeForSharifHadi #BangladeshActivism #ProtestBangladesh #হত্যারবিচার #ChattogramNews #BangladeshPolitics
আপনি চাইলে আমি এই নিউজ থেকে ফেসবুক/ইউটিউব শর্ট ভিডিও স্ক্রিপ্টও বানিয়ে দিতে পারি, ৩০–৪৫ সেকেন্ডের জন্য, যাতে সর্বোচ্চ ভিউ আসে।
আপনি কি আমি সেটা করব?
মন্তব্য করুন
ছোট ভাই শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার প্রকাশ্যে বাংলার মাটিতে দেখতে চান তার বড় ভাই ও জানাজার ইমাম ড. মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজার আগে তিনি এ দাবি জানান।
ড. আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, “ঘটনার ৭-৮ দিন পেরিয়ে গেলেও খুনিরা দিবালোকের মধ্যে গুলি করে পার পেয়ে গেছে—এর চেয়ে লজ্জার কিছু হতে পারে না।
যদি তারা বর্ডার ক্রস করে থাকে, তবে মাত্র ৫ থেকে ৭ ঘণ্টার মধ্যে কীভাবে তারা চলে গেল—এই প্রশ্ন জাতির কাছে রেখে গেলাম।”
তিনি আরও বলেন, “আমার কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া নেই। আমার ভাই শহীদ হয়েছে। শহীদি মৃত্যু তার কাম্য ছিল, হয়তো আল্লাহ তাকে সেই মর্যাদাই দিয়েছেন। কিন্তু আমি এই ঋণ কখনো ছাড়বো না—আমার ভাই শরিফ ওসমান হাদির বিচার বাংলার জমিনে প্রকাশ্যে দেখতে চাই।”
বিচার বিলম্বে গভীর বেদনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত আমরা কিছুই করতে পারিনি। এই দুঃখে আমার কলিজা ছিঁড়ে যাচ্ছে।”
ড. আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, “আমার কলিজার টুকরা ছোট ভাই শহীদ শরিফ ওসমান হাদি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার একটি বার্তা দিয়ে গেছেন—কীভাবে দেশ রক্ষা করতে হয়।”
পরিবারের শোকের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “তার সন্তানের মুখের দিকে তাকানো যায় না। আমার মা প্রায় পাগল হয়ে যাচ্ছেন, বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিল শরিফ ওসমান হাদি।”
শেষে তিনি দোয়া করে বলেন, “আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং তৌহিদের দ্বীপ বাংলাদেশকে রক্ষা করার তাওফিক আমাদের দেন।”
সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজার আগে ছোট ভাই শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার প্রকাশ্য বিচার দাবি করেছেন বড় ভাই ড. মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক।
#শরিফওসমানহাদি
#হত্যারবিচারচাই
#ডআবুবকরছিদ্দিক
#শহীদহাদি
#ন্যায়বিচার
#বাংলাদেশ
#জাতীয়সংবাদ
#BCNChannel
#BreakingNewsBangla
#JusticeForHadi
মন্তব্য করুন
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পাশেই তাকে শায়িত করা হয়েছে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে বিকেল ৩টার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স কবরস্থানে পৌঁছায়। দাফনকে কেন্দ্র করে কবরস্থানের আশপাশে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সোয়াটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও শাহবাগ মোড় থেকে সমাধিসৌধে প্রবেশের সড়কে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সাময়িকভাবে সীমিত রাখা হয়।
এর আগে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শরিফ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা পড়ান তার বড় ভাই ড. মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক।
জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া মো. গোলাম পরওয়ার, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জানাজায় বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন,
“প্রিয় ওসমান হাদি, তুমি যা বলে গেছো, সেই অঙ্গীকার পূরণ করতেই আমরা এসেছি। শুধু আমরা নই—দেশের মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম তা বাস্তবায়ন করবে।”
জানাজার আগে বক্তব্যে ড. মাওলানা আবু বকর ছিদ্দিক ভাই হত্যার প্রকাশ্য বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন,
“দিবালোকের মধ্যে গুলি করে খুনিরা যদি পার পেয়ে যায়, এর চেয়ে লজ্জার কিছু নেই। আমার ভাই শহীদ হয়েছে, কিন্তু তার হত্যার বিচার আমি এই বাংলার মাটিতে দেখতে চাই।”
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। পরে তাকে সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলেও বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
#শরিফ_ওসমান_হাদি
#InqilabMoncho
#হাদির_দাফন
#রাষ্ট্রীয়_মর্যাদা
#হত্যার_বিচার
#BangladeshPolitics
#DhakaUniversity
#BNChannel
#বাংলাদেশ_সংবাদ
#BreakingNewsBD
মন্তব্য করুন
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের অকুতোভয় যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে দেখতে যান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান।
রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে ফোন করে হাদির সর্বশেষ চিকিৎসা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। ফোনালাপে তিনি জানান, শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা এখনও অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
এই অবস্থায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে শরিফ ওসমান হাদির দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি। হাদির শারীরিক অবস্থার বিষয়ে পরবর্তী আপডেট জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
— বিসিএন চ্যানেল
মন্তব্য করুন
চাচাতো ভাইয়ের গুলিতে প্রাণ গেল ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়কের
উপজেলা প্রতিনিধি | ঈশ্বরদী (পাবনা)
পাবনার ঈশ্বরদীতে লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক বিরু মোল্লা (৬০) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তার আপন চাচাতো ভাই জহুরুল ইসলাম মোল্লা তাকে গুলি করে হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পদ্মার চরের জমিতে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরু মোল্লা ও তার চাচাতো ভাই জহুরুল ইসলাম মোল্লার মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন সকালে বিরু মোল্লা বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে জহুরুল ইসলাম মোল্লার বাড়িতে যান। এ সময় দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
এক পর্যায়ে জহুরুল ইসলাম মোল্লা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে বিরু মোল্লাকে গুলি করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এবারের ১৬ ডিসেম্বর হোক জাতীয় জীবনে নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দিন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের বিজয়ের মাধ্যমে উদিত স্বাধীনতার প্রভাত পরবর্তী সময়ে বহুবার কর্তৃত্ববাদ ও কুশাসনের অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়েছে।
ড. ইউনূস বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বৈষম্য, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। একটি সুশাসিত ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে অন্তর্বর্তী সরকার যে ব্যাপক সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণে সফল পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এসব সংস্কারের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদ নির্মূল হবে এবং রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে জনগণকেন্দ্রিক, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই বিজয় অগণিত শহীদের আত্মত্যাগে অর্জিত। তাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন জাতীয় পরিচয় ও লাল-সবুজের পতাকা।
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগ আমাদের অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা জোগায়।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এই বিজয় দিবস হোক জাতীয় ঐক্যের নতুন আহ্বান। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে শুরু হওয়া গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
নতুন প্রজন্মের জন্য নিরাপদ, সুখী ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ধর্ম, জাতিসত্তা ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।
মন্তব্য করুন
ঢাকা:
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত ও পেশাদার মাস্টার প্ল্যানের অংশ—এমনটাই মনে করছেন তদন্তে যুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা।
দিনেদুপুরে রাজধানীর ব্যস্ত রাজপথে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে খুব কাছ থেকে গুলি চালানো হয় হাদির ওপর। হামলার আগে ও পরে অভিযুক্তদের মধ্যে অন্তত ১২৫ বার মোবাইল যোগাযোগ হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ গুলির পরপরই ঘটনাস্থল ত্যাগ করে একের পর এক বাহন ও মোবাইল পরিবর্তন করে ঢাকা থেকে সাভার-ধামরাই হয়ে শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্ত এলাকায় পৌঁছে যায়।
গোয়েন্দাদের ধারণা, এই হত্যাচেষ্টার পেছনে একটি শক্তিশালী ও বিস্তৃত অপরাধ নেটওয়ার্ক কাজ করেছে, যাদের সহায়তা ছাড়া এত দ্রুত ও নির্বিঘ্নে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব নয়। তদন্তে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংশ্লিষ্টতার তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি একটি শক্তিশালী ইসলামি দলের কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছে একাধিক সংস্থা।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার আইটি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেড’-এর সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে এনবিআর। সন্দেহভাজনদের ধরিয়ে দিতে সরকার ঘোষণা করেছে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার।
অন্যদিকে, ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শরীফ ওসমান হাদি এখনও ডিপ কোমায় রয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মস্তিষ্কে ফোলা বেড়েছে এবং অবস্থা আশঙ্কাজনক। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে হাদির চিকিৎসকদের দাবি, ভারতীয় নম্বর থেকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, এমনকি চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত নম্বর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, হত্যাচেষ্টার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
মন্তব্য করুন
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে প্রণয় ভার্মাকে তলব করা হয় বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এসময় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের প্রচেষ্টার অভিযোগ করে ঢাকা।
এসব বিষয়ে ভারত সরকারের কাছে গভীর উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বিভিন্ন ঘটনায় এ নিয়ে অন্তত পাঁচবার তলব করা হলো প্রতিবেশী দেশটির এই রাষ্ট্রদূতকে।
এদিকে, হামলায় গুরুতর আহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদির অবস্থা অপরিবির্তত বলে জানা গেছে। এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরে ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভির ফুটেজ ও পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য বলছে, দুপুর ২টা ২০ মিনিটে গুলিরর শব্দ শোনা যায়।
এর কয়েক সেকেন্ড পর মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পুলিশ বলছে, তিনটি মোটরসাইকেলে করে দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থলে আসে। এর মধ্যে একটি মোটরসাইকেল থেকে হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। তিনি এসময় রিকশায় করে যাচ্ছিলেন।
মন্তব্য করুন
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে ডিএমপির ডেমরা থানাধীন মিরপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩টি গ্রেনেড সদৃশ অবিস্ফোরিত বোমা উদ্ধার করেছে র্যাব-১০।
র্যাব সূত্র জানায়, গতকাল ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১০, সিপিসি-১ যাত্রাবাড়ী ক্যাম্পের একটি চৌকস দল বনশ্রীগামী সড়কের পশ্চিম পাশে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে গ্রেনেড সদৃশ ধাতব লিভারযুক্ত ৩টি বোমা জাতীয় বস্তু পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সংঘটিত “জুলাই গণঅভ্যুত্থান”-এর সুযোগে দুষ্কৃতিকারীদের লুট করা অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারে র্যাব শুরু থেকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নির্দেশনায় র্যাব অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করেছে।
এই সফল অভিযান আবারও প্রমাণ করে, রাষ্ট্রবিরোধী যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধে র্যাব “জিরো টলারেন্স” নীতিতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে শহরের খাসমহল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওসমান হাদির চাচাতো ভাই সিরাজুল ইসলাম।
তিনি জানান, বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে জানালা ভেঙে চোর ঘরে প্রবেশ করে। কী পরিমাণ মালামাল নিয়েছে সেটা আমরা জানতে পারিনি।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর শুনে শুক্রবার বিকেলেই ঢাকায় চলে যান হাদির পরিবারের সদস্যরা।
নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগরে রিকশায় করে যাওয়ার সময় ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বর্তমানে সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার চিকিৎসা চলছে।
মন্তব্য করুন
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. জাহিদ রায়হান বলেছেন, গুলিবিদ্ধ শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। ক্রিটিক্যাল বলতে যা বোঝায় তাই। তবে, তিনি বেঁচে আছেন।
অপারেশন চলাকালে হাদির দুইবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে জানিয়ে ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, তার নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছিল। আমরা রোগীর ব্যাপারে কোনো আশার কথা বলবো না, তবে তিনি এখনো বেঁচে আছেন, বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির হামলা অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে অন্যতম উদ্বেগজনক ঘটনা।
তিনি বলেন, এই হামলা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার উপর সুপরিকল্পিত আঘাত। এর মাধ্যমে পরাজিত শক্তি দেশের অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখিয়েছে।
এদিন বিকেলে হাদির ওপর হামলার ঘটনাকে ন্যক্কারজনক ও কাপুরুষোচিত হামলা উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছিল ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
এতে বলা হয়, ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। থানা পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ হামলাকারীদের গ্রেফতারে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করছে।
এই ঘটনায় নগরবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে ঘটনায় জড়িতদের সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে পুলিশকে অবহিত করতে অনুরোধ জানিয়েছিল ডিএমপি।
শুক্রবার দুপুরে বিজয়নগর বক্স কালভার্ট এলাকায় মোটরসাইকেলে করে এসে দুর্বৃত্তরা ওসমান হাদির ওপর গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন এ তফসিল ঘোষণা করেন। তার এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচার করা হয়।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী সময়সূচি:
মনোনয়ন জমা: ২৯ ডিসেম্বর
যাচাই-বাছাই: ৩০ ডিসেম্বর–৪ জানুয়ারি
আপিল দায়েরের শেষ সময়: ১১ জানুয়ারি
আপিল নিষ্পত্তি: ১২–১৮ জানুয়ারি
প্রার্থিতা প্রত্যাহার: ২০ জানুয়ারি
প্রতীক বরাদ্দ: ২১ জানুয়ারি
প্রচার শুরু: ২২ জানুয়ারি
প্রচার শেষ: ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭:৩০
দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সংসদের ব্যালট হবে সাদা-কালো, আর গণভোটের ব্যালট গোলাপি রঙের।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক
তফসিল ঘোষণার আগের দিন (১০ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় নির্বাচন ভবনে সিইসির ভাষণ রেকর্ড করা হয়। এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে কমিশন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে নির্বাচন ও গণভোটের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করে। রাষ্ট্রপতি এতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব খান মো. নূরুল আমীন এবং রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আদিল চৌধুরী।
জনগণ ও রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রতিক্রিয়া
নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা আলোচনা থাকলেও তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করছে দেশ।
এ নির্বাচনে প্রবাসীরাও পোস্টাল ব্যালেটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। সিইসির ভাষণ ঘোষণার সময় পর্যন্ত তিন লাখের বেশি প্রবাসী অনলাইনে নিবন্ধন করেন।
সংসদীয় আসন সীমানা পরিবর্তন
তফসিল ঘোষণার আগে সংসদীয় আসনের সীমানায় পরিবর্তন আনছে ইসি। আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী বাগেরহাটের তিনটি আসন ও গাজীপুরের একটি আসনের পূর্ববর্তী গেজেটকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে হাইকোর্টের রায়ে বাগেরহাটে চারটি আসন পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ভোটের দিনে ব্যবধান—আগের নির্বাচনের তুলনা
তফসিল থেকে ভোটের দিনের ব্যবধান অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে ছিল ৩৭–৬৮ দিনের মধ্যে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবধান ছিল ৫৩ দিন। এবারও সময়সূচি ঘনিষ্ঠই রাখা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) লেনদেনের শুরুতে দেশের শেয়ারবাজারে সাময়িক নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও শেষ ঘণ্টার ক্রয়চাপেই বাজার ঘুরে দাঁড়ায়। দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়ে ইতিবাচক পরিস্থিতিতে লেনদেন সমাপ্ত হয়।
ডিএসই: ক্রেতা বাড়ায় সূচকের উত্থান
লেনদেন শুরুর পরপরই বেশিরভাগ শেয়ারের দাম কমতে থাকায় সূচকে নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়। তবে দুপুর ১টার পর বিক্রির চাপ কমে এবং ক্রেতার উপস্থিতি বাড়তে থাকায় ধীরে ধীরে দাম বাড়তে থাকে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের।
দিন শেষে—
দাম বেড়েছে ২৬২টি প্রতিষ্ঠানের
দাম কমেছে ৬৪টির
অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৬টি
ভালো কোম্পানি (১০% বা তার বেশি লভ্যাংশ) খাতে—
দাম বেড়েছে ১৪৪টি
কমেছে ৩৬টি
অপরিবর্তিত ৩৫টি
মাঝারি মানের (১০%-এর কম লভ্যাংশ) কোম্পানিগুলোর মধ্যে—
বেড়েছে ৭০টি
কমেছে ৩টি
অপরিবর্তিত ৭টি
‘জেড’ গ্রুপে—
বেড়েছে ৪৮টি
কমেছে ২৫টি
অপরিবর্তিত ২৪টি
মিউচুয়াল ফান্ডে—
বেড়েছে ১১টি
কমেছে ৩টি
অপরিবর্তিত ২১টি
সূচকের অবস্থান
ডিএসইএক্স বেড়েছে ২১ পয়েন্ট, অবস্থান ৪,৯৬৩
ডিএসই শরিয়াহ বেড়েছে ২ পয়েন্ট, অবস্থান ১,০৩৪
ডিএসই-৩০ বেড়েছে ৪ পয়েন্ট, অবস্থান ১,৯০৩
লেনদেন কমেছে ৭০ কোটি টাকা
ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৬৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৫৩৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা থেকে প্রায় ৭০ কোটি ১৪ লাখ টাকা কম।
শীর্ষ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান
১. সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ – ১৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা
২. ওরিয়ন ইনফিউশন – ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা
৩. মুন্নু ফেব্রিক্স – ১১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা
শীর্ষ ১০-এ আরও ছিল:
বিডি থাই ফুড, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, একমি পেস্টিসাইড, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, লাভেলো আইসক্রিম, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ।
সিএসইতে সূচক বৃদ্ধি
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২০ পয়েন্ট।
অংশ নেওয়া ১৬১ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে—
দাম বেড়েছে ৮৬টির
কমেছে ৪৪টির
অপরিবর্তিত ৩১টি
লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা থেকে বেশি।
#শেয়ারবাজার #ডিএসই #সিএসই #বাজারউত্থান #স্টকএক্সচেঞ্জ #লেনদেন #দামবৃদ্ধি #মূল্যসূচক #ডিএসইএক্স #ডিএসই৩০ #শেয়ারবাজারআজ #বিনিয়োগ #মিউচুয়ালফান্ড #জেডগ্রুপ #ভালো_কোম্পানি #সিমটেক্স #ওরিয়নইনফিউশন #মুন্নুফেব্রিক্স #বাংলাদেশঅর্থনীতি #শেয়ারবাজারসংবাদ
মন্তব্য করুন
তথ্য অধিদপ্তর বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) এক বিবরণীতে জানায়, স্মৃতিসৌধ এলাকার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ১৩ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্মৃতিসৌধের অভ্যন্তরে সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ থাকবে।
১৬ ডিসেম্বর ভোরে ভিভিআইপি ও ভিআইপিদের পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা স্মৃতিসৌধ ত্যাগ না করা পর্যন্ত সকাল ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।
এছাড়া দিবস উদযাপন উপলক্ষে ঢাকার গাবতলী থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত সড়কে কোনো পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন টানানো যাবে না বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়।
তথ্য বিবরণীতে আরও বলা হয়েছে, বিজয় দিবসে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণকালে ফুলের বাগান বা পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করার জন্য সর্বস্তরের জনগণকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টায় ক্যামেরা নামানো শুরু হয়। এর আগে ঘটনাস্থল থেকে ব্রিফ করেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, বিশ্বের কোথাও এমন কোনো প্রযুক্তি নেই যে, এত গভীর গর্ত থেকে তাৎক্ষণিক কাউকে উদ্ধার করবে। গর্তটি প্রায় ২০০ ফুট গভীর। নিরাপত্তার খাতিরে আমরা পাশে গর্ত করে অনুসন্ধান চালাচ্ছি। বিভিন্ন উন্নত দেশেও এত গভীরে পৌঁছাতে ৭৫-৭৮ ঘণ্টা সময় লাগে।
তিনি আরও বলেন, প্রথম পর্যায়ে ৩৫ ফুট পর্যন্ত গর্তে ক্যামেরা পাঠানো হলেও কিছু দেখা যায়নি। এখন ৪৫ ফুট পর্যন্ত নামতে পেরেছে ফায়ার সার্ভিস। আমরা সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। পদ্ধতিগত কোনো ভুলও এখানে নেই।
রাজশাহীর তানোরে ওই গভীর গর্তে দুই বছরের একটি শিশু পড়ে যায়। তাকে উদ্ধারে বুধবার থেকেই কাজ চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস।
মন্তব্য করুন
রাজধানীর চকবাজার এলাকায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), পরিবেশ অধিদপ্তর ও ডিএমপি’র সমন্বয়ে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানে নিষিদ্ধ পলিথিন বিক্রয়ের দায়ে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা, ৩ জনকে কারাদণ্ড এবং বিপুল পরিমাণ পলিথিন জব্দ করা হয়েছে। একই সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সীলগালা করা হয়।

র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মাদক, জালিয়াতি, ভেজাল ও নকল পণ্য নির্মূলসহ সামাজিক অপরাধ দমনে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে র্যাব সদর দপ্তরের আইন কর্মকর্তা মোঃ আবু হাসান, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং র্যাব-১০ এর সহযোগিতায় চকবাজার এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে বিএসটিআই অনুমোদনহীন ও নিষিদ্ধ পলিথিন বিক্রয়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত মো: হাবিব, মো: সাদ্দাম হোসেন ও মো: হেমায়েত– প্রতিজনকে ১,০০,০০০ টাকা করে মোট ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে।

এসময় ২৪৯ বস্তা ও ২৭ রোল নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয় এবং সব প্রতিষ্ঠান সীলগালা করা হয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ পলিথিন বিক্রয়ের মাধ্যমে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, জনস্বার্থে নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম। আসিফ মাহমুদ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছিলেন। মাহফুজ আলম তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের শুরুতেই উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি প্রথমে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। পরে শ্রম মন্ত্রণালয় বাদ দিয়ে তাকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সময় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এর আগে আজ বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ জানান, তিনি নির্বাচন করবেন, তবে কোন দল থেকে করবেন সেটা পরবর্তীসময়ে জানানো হবে।
আপনি সম্পদের বিবরণী দাখিল করবেন কি না- জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, আমি সম্পদের বিবরণী আজ সকালেই দাখিল করেছি। আমার যে কূটনৈতিক পাসপোর্ট আছে সেটাও আমি বাতিল করেছি।
আপনি কি আগামীকাল উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন নাকি আজ দিয়েছেন- এ বিষয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আমাকে ডাকা হয়েছে। বাকিটা প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে আপনাদের জানানো হবে।
উপদেষ্টা পরিষদে প্রধান উপদেষ্টা ছাড়া উপদেষ্টা ছিলেন ২২ জন। আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম পদত্যাগ করায় উপদেষ্টাদের সংখ্যা এখন ২০ জন।
মন্তব্য করুন
গত ৯ ডিসেম্বর বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে র্যাব-১০ এর একটি চৌকস দল গোপন সংবাদে জানতে পারে—রাজধানীর পল্টন এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে।

র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইক্রোবাসে থাকা ৬ জন ব্যক্তি নিজেদের র্যাব সদস্য পরিচয় দিলেও, তাদের পরিচয়পত্র যাচাই করে দেখা যায়—সবই ভুয়া।
পরে মাইক্রোবাস তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয়—
র্যাব লেখা ৪টি কটি
৪টি ক্যাপ
৫টি ভুয়া র্যাব আইডি কার্ড
২টি হ্যান্ডকাফ
২টি ওয়াকিটকি
পিস্তলের কভার
ব্যাটন স্টিক
অতিরিক্ত নম্বর প্লেট
মোবাইল ফোন
নগদ টাকা
এবং ডাকাতিতে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস

র্যাব জানায়—আটক শহিদ মাঝি, মামুন, মিজান ও তাদের সহযোগীরা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ডাকাতি করার পরিকল্পনা করছিল।
গ্রেফতারকৃত সবার বিরুদ্ধেই নানা থানায় ডাকাতি, অস্ত্র, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। জুয়েল বিশ্বাস নামের এক আসামি এই চক্রের নেতৃত্ব দিত এবং চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নতুন সদস্য সংগ্রহ করত।
একই দিন দুপুর ৩টার দিকে রাজধানীর লালবাগে শহীদনগরে ঘটে আরেকটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড।
কারখানা কর্মচারী মোহাম্মদ হোসেন (২৫)–কে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে স্থানীয় যুবক আবির।

ঘটনার আগের রাতে লোহার পাইপ চাওয়া নিয়ে তর্ক-বিতর্ক থেকে সৃষ্টি হয় ঝগড়া।
পরদিন প্রতিশোধ নিতে আবির ছুরিকাঘাত করে হোসেনকে হত্যা করে।
মিডিয়ায় খবর প্রচারিত হতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
র্যাব-১০ এবং লালবাগ থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে কেরাণীগঞ্জের খোলামোড়া এলাকা থেকে মাত্র ৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয় মূল আসামি আবিরকে।
র্যাব জানায়—
দেশে ভুয়া র্যাব পরিচয়ে বিভিন্ন অপরাধ বাড়ছে।
এ ধরনের প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে র্যাবের নজরদারি আরও কঠোর করা হয়েছে।
সন্দেহজনক আচরণ দেখলে জনগণকে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এ বছর রোকেয়া পদক পেয়েছেন রুভানা রাকিব (নারীশিক্ষা/গবেষণা), কল্পনা আক্তার (নারী অধিকার/শ্রম অধিকার), ঋতুপর্ণা চাকমা (নারী জাগরণ/ক্রীড়া), নাবিলা ইদ্রিস (মানবাধিকার)।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পদকপ্রাপ্ত নারীরা বেগম রোকেয়ার দেখানো পথেই জাতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। এটা শুধু পুরস্কার না এটা যুগান্তকারী অর্জন। তারা আমাদেরকে দুনিয়ার সামনে অন্য স্তরে নিয়ে গেছেন, মন্তব্য করেন তিনি।
রোকেয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ১০০ বছর পার হলেও আরেকজন রোকেয়া সৃষ্টি করতে পারিনি—এটাই আমাদের দুর্ভাগ্য। তার স্বপ্নকে আমলে নিতে পারিনি, কথা বলেছি কিন্তু এগোতে পারিনি।
১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ এবং গ্রামীণ ব্যাংকের শুরুর সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দুর্ভিক্ষের আঘাত প্রথমে আসে মেয়েদের ওপরে, শিশুদের ওপরে।
তিনি জানান, অনেক নারী তখন নিজের নামও জানতেন না সমাজ কীভাবে নারীদের পিছিয়ে রেখেছে, সেটিই এর বড় উদাহরণ বলেও উল্লেখ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের আসনসংখ্যা এখনও কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছেলে-মেয়ে অর্ধেক-অর্ধেক, কিন্তু মেয়েদের হল পাঁচটি আর ছেলেদের ১৩টি—এটা কেমন বিচার?
গণ-অভ্যুত্থানে নারীদের নেতৃত্বের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আজকের নারী সমাজ ভিন্ন সমাজ—তাদের হাত ধরেই নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছে। নারীদের উঁচু স্তরে ধরে রাখা আমাদের জন্য জরুরি।
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা দেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়’ করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। স্বাগত বক্তব্য দেন সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ।
মন্তব্য করুন
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি মো: শাকিল শেখ বাবু (২৫)–কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১০)।
রবিবার (০৮ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকাল আনুমানিক ৪টা ২০ মিনিটে র্যাব-১০ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চরভদ্রাসন থানাধীন আলেপের দোকানের মোড় এলাকায় পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে ফরিদপুর জেলার সদরপুর থানার জিআর মামলা নং-১৪৭/২১, ধারা ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ৩৬(১) টেবিল ১০(ক)–এর সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো: শাকিল শেখ বাবু (২৫)–কে গ্রেফতার করা হয়। তার বাবার নাম শেখ সৈয়দ আলী, ঠিকানা নাজিম শেখের ডাঙ্গী, সদরপুর, ফরিদপুর।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল স্বীকার করে যে, সে দীর্ঘদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। গ্রেফতারের পর তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে পুলিশ খবর পেয়ে শাহজাহান রোডের ৩২/২/এ বাসার ৭তলা থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের ধারণা, গৃহকর্মী দুজনকে হত্যা করে পালিয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি বলেন, খবর পেয়ে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের ওই বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আশপাশের সিসি ক্যামেরা দেখে বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে
মন্তব্য করুন
তবে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বাড়লেও জমা টাকার পরিমাণ কমেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জুন শেষে ব্যাংক খাতে মোট হিসাব (অ্যাকাউন্ট) ছিল ১৬ কোটি ৯০ লাখ ২ হাজার ৬৭১টি। সেপ্টেম্বর শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০টিতে। অর্থাৎ তিন মাসে নতুন হিসাব খোলা হয়েছে ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯টি।
একই সময়ে ব্যাংকে আমানতও কিছুটা বেড়েছে। জুন শেষে আমানতের পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর শেষে তা দাঁড়ায় ২০ লাখ ৩১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা। ফলে তিন মাসে আমানত বেড়েছে ৩৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা।
কোটিপতি হিসাবে প্রবৃদ্ধি
জুন প্রান্তিক শেষে কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে এমন হিসাব সংখ্যা ছিল এক লাখ ২৭ হাজার ৩৩৬টি। সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে তা বেড়ে হয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার ৭০টি। অর্থাৎ তিন মাসে কোটিপতি হিসাব সংখ্যা বেড়েছে ৭৩৪টি। এর আগে মার্চ শেষে সংখ্যাটি ছিল এক লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি।
হিসাব সংখ্যা বাড়লেও আমানত বাড়েনি
জুন শেষে কোটি টাকার অ্যাকাউন্টগুলোতে জমা ছিল ৮ লাখ ৮০ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা। কিন্তু সেপ্টেম্বর শেষে সেই পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ২১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকায়। অর্থাৎ তিন মাসে কমেছে ৫৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, কোটিপতি হিসাব মানেই কোটিপতি ‘ব্যক্তি’ নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ব্যক্তি ছাড়াও বহু বেসরকারি, সরকারি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠান কোটি টাকার বেশি আমানত রাখে। একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একাধিক অ্যাকাউন্টও থাকতে পারে। সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানকেও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে- ১৯৭২ সালে কোটিপতি আমানতকারী ছিল মাত্র ৫ জন। এরপর ১৯৭৫ সালে ৪৭ জন, ১৯৮০ সালে ৯৮টি হিসাব, ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪টি কোটিপতি হিসাব বা অ্যাকাউন্ট ছিল। এরপর ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭টি ও ২০০৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ হাজার ১৬৩টি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোটিপতি আমানতকারী আরও বেড়েছে। ২০২০ সালে এ ধরনের হিসাব সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি, ২০২১ সালে এক লাখ ৯ হাজার ৭৬টি, ২০২২ সালে এক লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি, ২০২৩ সালে এক লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি এবং ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি।
মন্তব্য করুন
বিডিআর হত্যাযজ্ঞের ঘটনার তদন্তে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে নাম আসায় তার বিরুদ্ধে এ নোটিশ পাঠান তিন আইনজীবী। তারা হলেন—মো. আব্দুস সামাদ, মো. শাহিন হোসেন, মো. আতিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ও আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর এ নোটিশ পাঠানো হয়।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণে ব্যর্থ হলে আইনের দ্বারস্থ হব বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের স্বাক্ষরযুক্ত এই নোটটি প্রথমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে ইস্যু করা হবে। পরে অন্যান্য শাখার মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। নতুন নোটটির আকার ১৫২ মিমি ৬৫ মিমি এবং রং হবে প্রধানত সবুজ। বাঁ পাশে থাকবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং মাঝের পটভূমিতে ফুটন্ত শাপলা ফুল ও পাতা।
বিপরীত পাশে চিত্রায়িত হয়েছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। নোটটিতে জলছাপ হিসেবে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রতিকৃতি, উজ্জ্বল ইলেক্ট্রোটাইপ ‘৫০০’ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম সংযোজিত রয়েছে।
নোটটির সত্যতা নিশ্চিত করতে ১০টি স্বতন্ত্র সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য যোগ করা হয়েছে। নোটের ডান দিকের ওপরের কোণে থাকা ‘৫০০’ সংখ্যা অপটিক্যালি ভ্যারিয়েবল কালিতে মুদ্রিত। নোটটি কাত করলে এই রং সবুজ থেকে নীল হয়ে যায় এবং ভেতরে তির্যক ‘৫০০’ দেখা যায়।
৪ মিমি চওড়া একটি টুইস্টেড সিকিউরিটি থ্রেডে লাল এবং উজ্জ্বল সোনালি রঙের সমন্বয় রয়েছে। নোটটি কাত করলে লাল অংশ সবুজে রূপ নেয় (যেখানে দেখা যায় Taka ৫০০), আর সোনালি অংশে চলমান রেইনবো রঙের বার দেখা যায়।
নোটটির নিচের বর্ডারের সবুজ নকশায় লুকানো ‘৫০০’ সংখ্যাটি শুধু অনুভূমিকভাবে ধরলে দেখা যায়। গভর্নরের স্বাক্ষরের পাশে থাকা সি-থ্রু ‘৫০০’ সংখ্যাটি আলোয় ধরলে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের সুবিধার জন্য নোটে ডান নিচের কোণে ৫টি ছোট উঁচু ডট দেওয়া হয়েছে। শহীদ মিনার, ব্যাংকের নাম, ডান পাশে তির্যক লাইন এবং সুপ্রিম কোর্টের ছবিসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো রাফ ইনট্যালিও মুদ্রণে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারীরা স্পর্শে নোটের বৈশিষ্ট্য বুঝতে পারেন।
নোটের দুই পাশে ইউভি কিউরিং ভার্নিশ ব্যবহার করা হয়েছে, যা নোটকে চকচকে অনুভূতি ও বাড়তি স্থায়িত্ব দেয়।
ইউভি ডিটেক্টরে নোট ধরলে শাপলা ফুলের ছবি মেজেন্ডা রঙে জ্বলে ওঠে এবং কাগজে ছড়ানো লাল, নীল ও সবুজ রঙের তন্তুগুলো দৃশ্যমান হয়। নোটের বিভিন্ন স্থানে মাইক্রো প্রিন্টিংয়ে ‘BANGLADESH BANK’ লেখা রয়েছে, যা শুধু লেন্সের সাহায্যে দেখা যাবে।
এর আগে একই স্থাপত্য সিরিজে নতুন ১০০০, ১০০, ৫০ এবং ২০ টাকার নোট বাজারে ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক।
মন্তব্য করুন
"জুলাই-আগস্টে রাজধানীর রামপুরায় ২৮ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ দুই সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার পর ঢাকার সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের আনা হয়। এ মামলায় চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি করবে প্রসিকিউশন।
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি হবে।
এদিকে, আজও নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা রয়েছে ট্রাইব্যুনালের আশপাশ এলাকা। হাইকোর্টের মূল অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
রেদোয়ানুল ছাড়া অপরজন হলেন বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত বিন আলম। পলাতকরা হলেন—ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।
পলাতকদের পক্ষে গত ২৪ নভেম্বর স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল। ওই দিন দুই সেনা কর্মকর্তার হয়ে আইনি লড়াই করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাসুদ সালাহউদ্দিন।
তিনি নিজের ক্লায়েন্টদের সশরীরে হাজির না হয়ে ভার্চুয়ালি শুনানি বা হাজিরার আবেদন করেন। তবে এ বিষয়ে আজ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে, ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা রেদোয়ান ও রাফাতকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।
শুনানি শেষে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠান ট্রাইব্যুনাল-১। একইসঙ্গে পলাতকদের হাজিরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চলেছে। এর মধ্যে রামপুরায় নিহত হয়েছেন ২৮ জন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। রামপুরায় বিজিবি কর্মকর্তা রেদোয়ানুলকে আন্দোলনকারীদের সরাসরি গুলি ছুড়তে দেখা যায়।
এছাড়া অন্যরাও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এ হত্যাযজ্ঞে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী ট্রাইবুনালে চারজনের বিরুদ্ধে আলাদা ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
মন্তব্য করুন
রিটে রুল চাওয়া হয়েছে এবং রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চাওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. ইয়ারুল ইসলাম বুধবার (৩ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট দায়ের করেন।
রিটে বলা হয়, নির্বাহী বিভাগের লোক দিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও নির্বাচন পরিচালনা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিচার বিভাগের ন্যায় স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনেরও নিজস্ব লোকবল থাকতে হবে।
এজন্য ‘ইলেক্টোরাল সার্ভিস কমিশন’ গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে। রিট আবেদনে আরও বলা হয়, সংবিধান অনুসারে নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাহী বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে।
কিন্তু সংবিধান লঙ্ঘন করে প্রতিটি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগকে দেওয়া হয়। নির্বাহী বিভাগ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে চাহিদা মোতাবেক নির্বাচন পরিচালনা করে। ফলে নির্বাচন নিয়ে নানামুখী বিতর্ক তৈরি হয়।
বর্তমানে নির্বাহী বিভাগ তাদের আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা ও দায়িত্ববোধ হারিয়ে ফেলেছে। তাদের দ্বারা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে এটা কেউ বিশ্বাস করে না। এমতাবস্থায় নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব লোকবল থেকে সচিব, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।
রিট দায়েরের বিষয়ে আইনজীবী মো. ইয়ারুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ডিসিদের সঙ্গে নির্বাচনের ব্যাপারে মতবিনিময় করেছে। তাদের (ডিসি) নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তাদের আবারও নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দিলে আরেকটি প্রভাবিত নির্বাচন হবে সেটা নিশ্চিত।
মো. ইয়ারুল ইসলাম আরও বলেন, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনের সচিবকে অপসারণ করতে হবে।
অন্যথায় নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত নিরপেক্ষ নির্বাচন আদৌ সম্ভব নয়। তাই রিটটি দায়ের করা হয়েছে।
আগামী সপ্তাহে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে রিটের শুনানি হওয়ার কথা আছে।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
আজ বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ও আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২৫ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। তখন দেশের নিরাপত্তা ও বিভিন্ন দূর্যোগে সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করেন প্রধান উপদেষ্টা।
কোর্স সম্পন্নকারীদের উদ্দেশে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বছরব্যাপী নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা জাতীয় উন্নয়ন, নীতি প্রণয়ন ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট অধ্যয়নের ক্ষেত্রে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ একটি উৎকর্ষতার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ নেতৃত্ব তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি যথাযথ ভূমিকা পালন করছে।
এ সময় বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
মন্তব্য করুন
এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন তারা। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ড. রিচার্ড বিউলের নেতৃত্বে মেডিকেল প্রতিনিধি দলটি এভারকেয়ার হাসপাতালের চতুর্থ তলার সিসিইউতে প্রবেশ করেন।
তারা খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করেন এবং হাসপাতালের স্থানীয় মেডিকেল টিমের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্যের এ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশে এসেছে।
স্থানীয় চিকিৎসক দলের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তারা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, বিদেশি বিশেষজ্ঞরা আসায় খালেদা জিয়ার চিকিৎসার অগ্রগতি হবে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
বিসিএন চ্যানেল রিপোর্টিং ডেস্ক:-
রাজধানীর জুরাইনে সশস্ত্র হামলায় সিএনজি অটোরিকশা চালক মোঃ পাপ্পু শেখ (২৬) হত্যার মামলায় এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০।
র্যাব জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনটি মাদক, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, অপহরণকারী, চাঁদাবাজ ও প্রতারকচক্রসহ বিভিন্ন অপরাধীর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আসছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন, নৃশংসতা বা সংবেদনশীল ঘটনার ক্ষেত্রে র্যাব দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভিকটিমের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনেছে।
ঘটনার বিবরণ
গত ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর কদমতলী থানাধীন জুরাইনস্থ কবি নজরুল লেন কানা জব্বারের গলিতে একটি পরিকল্পিত সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় মাদক কারবারী বাপ্পারাজ ওরফে বাপ্পা (৪০)-র গ্রুপের সাথে পাপ্পু শেখের পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে এই হামলা চালানো হয়।
শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হলে আসামিরা পাপ্পুকে জোরপূর্বক আটকে ফেলে। এ সময় বাপ্পারাজ তার হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে পরপর তিন রাউন্ড গুলি করে, যার একটি গুলি ভুক্তভোগীর শরীরের সংবেদনশীল স্থানে আঘাত করে। গুরুতর অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে আদ-দ্বীন হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামলা ও তদন্ত কার্যক্রম
ঘটনার পর নিহতের বাবা ডিএমপি’র কদমতলী থানায় হত্যা মামলা (নং-০১, তারিখ ০২/১২/২০২৫, ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোড) দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের জন্য র্যাব-১০ এর সহায়তা চান।
র্যাব-১০ এর অভিযান ও গ্রেফতার
সিপিসি-১, যাত্রাবাড়ী ক্যাম্পের একটি চৌকস দল গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় পৃথক দুটি অভিযানে দুই আসামিকে গ্রেফতার করে—
১️. মোঃ ইউসুফ সরদার (৪৫)
গ্রেফতার স্থান: জুরাইন আলমবাগ, কদমতলী
তার বিরুদ্ধে মাদক আইনের ৩টি পূর্ব মামলা রয়েছে।
2. মোঃ উজ্জল ওরফে কাঞ্চি (৩০)
গ্রেফতার স্থান: জুরাইন রেলগেট এলাকা, শ্যামপুর
তার বিরুদ্ধে মাদক আইনের ২টি পূর্ব মামলা রয়েছে।
র্যাব জানায়, গ্রেফতার হওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন
সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুদকের মহাপরিচালক (মানি লন্ডারিং) মো. মোকাম্মেল হক বলেন, তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে তিনি অভিযোগের বিস্তারিত জানাতে পারেননি।
দুদক সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ যাচাই–বাছাই শেষে তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুদকের আরেকজন কর্মকর্তা আরও বলেন, আলোচিত স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু এবং ইকবাল মাহমুদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে।
ইকবাল মাহমুদের ভাই সাদিক মাহমুদ বকুল ছিলেন ঠিকাদার মিঠুর ব্যবসায়িক সহযোগী। এই সম্পর্কের সুযোগে তারা স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।
ইকবাল মাহমুদের প্রভাবের কারণে মিঠু ও বকুল; দুজনই দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন, বলে দুদকের কাছে অভিযোগ রয়েছে।
চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে মিঠুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতারের পর রিমান্ডে থাকা অবস্থায় ঠিকাদার মিঠুর কাছ থেকে স্বাস্থ্য খাতের বিস্তৃত অনিয়ম, পাচারকৃত অর্থ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে দুদক।
সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের বিরুদ্ধে এই অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ঠিকাদার মিঠুর কাছ থেকে রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত এলাকায় দুইটি ফ্ল্যাট গ্রহণ করেছিলেন ইকবাল মাহমুদ—এমন অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তার বিরুদ্ধে অর্থপাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়েও অনুসন্ধান চালানো হবে। আর ইকবাল মাহমুদের ভাই সাদিক মাহমুদ বকুলের সম্পদের উৎস, বিদেশে সম্ভাব্য লেনদেন এবং যৌথ ব্যবসার আর্থিক তথ্যও পর্যালোচনা করবে দুদক।
মন্তব্য করুন
ধোঁয়ায় চারপাশ আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ফায়ার হুইসেলের শব্দে আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাফিউল ইসলাম নামের এক কর্মকর্তা বলেন, হঠাৎ করেই ফায়ার হুইসেল বাজতে শুরু করে।
কয়েক মিনিটের মধ্যে আমরা ১০ তলার দিক থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখেছি। পরিস্থিতি বুঝে সঙ্গে সঙ্গে নিচে নেমে আসি।
আরেক কর্মচারী জানান, আমরা প্রথমে মনে করেছিলাম এটা সিগারেট এর ধোঁয়া হতে পারে। পরে দেখি বড় আকারে ধোঁয়া উড়ছে। সবাই দ্রুত ভবন ত্যাগ করেছে। এখনও ঠিক কী হয়েছে তা কেউ বলতে পারছে না।
ঘটনার পর ১ নম্বর ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঠে নেমে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিয়েছেন। এ ভবনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ রয়েছে।
এর আগে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে আগুন লাগে। সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে আগুন লেগে ৬, ৭, ৮ ও ৯ তলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আগুনে সচিবালয়ের প্রায় ২০০ কক্ষ পুড়ে গেছে বলে জানান গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া।
ভবনটির চারটি তলা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জানিয়ে আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া বলেন, প্রতিটি তলায় গড়ে ছোটবড় মিলিয়ে মোটামুটি ৪০ থেকে ৫০টি করে কক্ষ রয়েছে।
চারটি তলাতেই কোথাও সম্পূর্ণ, কোথাও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত বছর আগুন লাগার ১১ দিন পর ওই ভবন সংস্কার শেষে কাজ শুরু হয়।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
ফরিদপুরের সালথায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থক দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়াগট্টি বাজারে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে কয়েকটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।
দুপুর ১২টায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলছে। এতে অন্তত শতাধিক মানুষের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ওই ইউনিয়নের গ্রাম্য মাতুব্বর নুরু ও জাহিদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। দুজনেই ফরিদপুর-২ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকুর সমর্থক।
দু’পক্ষের লোকজন আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সকাল ৭টার দিকে দেশীয় অস্ত্র ঢাল, সরকি, ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এসময় আরও কয়েক গ্রামের লোকজন এ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০০ জন আহত হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আহতদের অনেকে বাড়িতে আটকা পড়েছেন ও বেশ কিছু বাড়ি-ঘর, দোকানপাট ভাঙচুর-লুটপাট করা হয়।
হাবেলী গট্টি গ্রামের বাসিন্দা আলেপ শেখ আহত হয়ে নিজ বাড়িতে আটকা রয়েছেন। তিনি নুরু মাতব্বরের গ্রুপের সমর্থক। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কবির হোসেন নামে তার এক স্বজন বলেন, আমার শ্বশুর বৃদ্ধ মানুষ, সকালে বাড়িতে ছিলেন। তার পায়ে একাধিক কোপ দেওয়া হয়েছে, বাড়ি থেকে উদ্ধারও করা যাচ্ছে না।
এদিকে জাহিদ মাতুব্বর গ্রুপের ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালামের নেতৃত্ব বালিয়া বাজার সংলগ্ন ওমর ফারুক নামের এক ব্যক্তির ৫টি গরু লুট করার একটি ভিডিও দেখা গেছে। বেলা ১২টায় পর্যন্ত সংঘর্ষ চলছিল।
ওসির দায়িত্বে থাকা সালথা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মারুফ হাসান বলেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী মিলে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। এ ব্যাপারে পরবর্তীতে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারবো।
মন্তব্য করুন
সরকারপ্রধানসহ প্রধান উপদেষ্টা খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন এবং তার চিকিৎসায় সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরাও পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে তার চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পাশাপাশি কয়েকটি বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। দেশনেত্রীর সুস্থতা কামনায় সবাই যে আন্তরিকভাবে দোয়া ও ভালোবাসা প্রকাশ করছেন, তার জন্য জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
এ অবস্থায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, সংকটময় এই সময়ে মায়ের কাছে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তারও রয়েছে। তবে নিজের দেশে ফেরা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তার একক নিয়ন্ত্রণে নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পাঠকদের জন্য তারেক রহমানের পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হল...
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ ও সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন। তাঁর রোগমুক্তির জন্য দল মত নির্বিশেষে দেশের সকল স্তরের নাগরিক আন্তরিকভাবে দোয়া অব্যহত রেখেছেন।
মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা তাঁর রোগমুক্তির জন্য দোয়ার সাথে সাথে চিকিৎসার সর্বত সহায়তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
দেশ বিদেশের চিকিৎসক দল বরাবরের মত তাঁদের উচ্চ মানের পেশাদারিত্ব ছাড়াও সর্বোচ্চ আন্তরিকত সেবা প্রদান অব্যহত রেখেছেন। বন্ধু প্রতীম একাধিক রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও উন্নত চিকিৎসাসহ সম্ভাব্য সকল প্রকার সহযোগিতার আকাঙ্খা ব্যক্ত করা হয়েছে।
সর্বজন শ্রদ্ধেয়া বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সকলের আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা প্রদর্শন করায় জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
একই সাথে জিয়া পরিবার বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তির জন্য সকলের প্রতি দোয়া অব্যহত রাখার ঐকান্তিক অনুরোধ জানাচ্ছি।
এমন সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্খা যে কোন সন্তানের মত আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মত এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।
স্পর্শ কাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিস সরাফাতসহ চারজনের বিরুদ্ধে এক হাজার ৬১৩ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা দায়ের করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট গুলশান থানায় এ মামলা করে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, রেইস ম্যানেজমেন্ট পিএসিএল নামে একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ফান্ডের অর্থ ব্যক্তিগত ও অবৈধ স্বার্থে ব্যবহার করেন চৌধুরী নাফিস সরাফাত ও তার সহযোগীরা।
২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি গঠনের পর ২০১৩ সালের মধ্যেই ১০টি মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পায় এবং বর্তমানে ১৩টি ফান্ড পরিচালনা করছে।
নাফিস সরাফাত, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ ও সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমাম মিলে মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগ করে তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) শেয়ার কেনেন এবং পরবর্তীতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে জায়গা করে নেন।
একইভাবে কৌশলে আঞ্জুমান আরা শহীদকে সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালক পদেও বসান নাফিস সরাফাত।
অভিযুক্তরা মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ ব্যবহার করে মাল্টি সিকিউরিটিজ নামের একটি ব্রোকারেজ হাউজও অধিগ্রহণ করেন। ওই প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
এছাড়া পদ্মা ব্যাংকের অর্থ ব্যবহার করে পদ্মা ব্যাংক সিকিউরিটিজ ও স্ট্র্যাটেজিক ইকুইটি ফান্ডেও বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা।
সিআইডির অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিভিন্ন ব্যাংকে নাফিস সরাফাত, তার স্ত্রী ও ছেলে রাহীব সাফওয়ান সারাফাত চৌধুরীর নামে মোট ৭৮টি ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হয়েছে।
এসব হিসাবে প্রায় ১ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা জমা এবং ১ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে এসব হিসাবে স্থিতি রয়েছে মাত্র ২৯ লাখ ২১ হাজার টাকা।
সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও জানান, এছাড়া কানাডা, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে নাফিস সরাফাত পরিবার ও সহযোগীদের নামে বিপুল সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। শুধু রাহীব সাফওয়ান সারাফাত চৌধুরীর নামেই বিদেশি ব্যাংকে ৭৬টি হিসাব পরিচালনার তথ্য পেয়েছে সিআইডি।
নাফিস সরাফাত ও তার সহযোগীদের নামে দুবাইতে ফ্ল্যাট-ভিলা, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে নিবন্ধিত একাধিক কোম্পানি এবং সিঙ্গাপুরে বিভিন্ন ফান্ড পরিচালনার প্রমাণ। বাংলাদেশেও তাদের নামে বিপুল অস্থাবর–স্থাবর সম্পদের তথ্য মিলেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে বেস্ট হোল্ডিংসের বন্ডে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে চাপ প্রয়োগ, বিদেশে অর্থপাচার, বাড়ি-ফ্ল্যাট ক্রয়সহ নানা অভিযোগ প্রকাশের পর সিআইডি এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে।
সিআইডি বলছে, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের মাধ্যমে মোট ১ হাজার ৬১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকার বেশি অর্থ অবৈধভাবে অর্জিত হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই চারজনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ রক্ষায় মানিলন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে এমন অভিযান চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান।
মন্তব্য করুন
সোমবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় লটারি করে এই এসপিদের নির্বাচন করা হয়।
২৬ নভেম্বর বুধবার এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপণ জারি করা হয়।
কোন জেলার দায়িত্বে কে, :-




মন্তব্য করুন
একটি প্রজ্ঞাপনে ৩১ জনকে এবং অন্যটিতে দুজনকে পদোন্নতি দেওয়ার তথ্য জানানো হয়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখার উপসচিব মো. মাহাবুবুর রহমান প্রজ্ঞাপন দুইটিতে স্বাক্ষর করেছেন।
জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ যোগ দেওয়ার তারিখ থেকে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।
একই দিন আজ বুধবার দেশের ৬৪ জেলায় পুলিশ সুপারকে (এসপি) লটারির মাধ্যমে বদলি করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (পুলিশ-১ শাখা) এই প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
মন্তব্য করুন
ফরিদপুর জেলার সদরপুর থানা এলাকায় ভাগ্নীকে ধর্ষণ মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামী শামীম বেপারী (৩৩)-কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০।
ঘটনার বিবরণ
গত ০৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ বিকাল আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে, ফরিদপুর সদরপুর আল এহসান ইসলামীয়া মাদ্রাসার ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী (১১) কে ওষধি গাছ আনার কথা বলে চরচাঁদপুর কোলপাড়ের আফসার কাজীর কাঠ বাগানে নিয়ে গিয়ে তারই দুলাভাই শামীম বেপারী জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
এরপর ভিকটিমের মা মাদ্রাসার শিক্ষিকার নিকট ফোন করলে শিশুটি কান্নাকাটি করে মাকে ধর্ষণের বিষয়টি জানায়।
পরে ভিকটিমের মা ও মামা ছত্তার খান মাদ্রাসায় গিয়ে পুরো ঘটনা শুনে পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করে সদরপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকে আসামী পলাতক ছিল।
র্যাব-১০ এর অভিযান
ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তার অনুরোধে র্যাব-১০ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। পরবর্তীতে ২৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত ৮টা ১০ মিনিটে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানাধীন এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে আসামী শামীম বেপারী-কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে ফরিদপুর সদরপুর থানায় মামলা নং ১১, তারিখ ০৮/১১/২০২৫, ধারা— নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০২০) এর ৯(১) অনুযায়ী মামলা চলমান রয়েছে।
পরবর্তী ব্যবস্থা
গ্রেফতারকৃত আসামীকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব-১০ নিশ্চিত করেছে।
মন্তব্য করুন
আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে বস্তিতে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। ক্রমশ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে এটি।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বস্তিতে লাগা আগুন বেশ বড় আকারে রূপ নিয়েছে। পানির অভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের।
আগুন নেভাতে মোট ১৬টি ইউনিট কাজ করছে।
মঙ্গলবার বিকাল ৫টা ১৯ মিনিটে কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগে। তীব্র যানজট ঠেলে ফায়ারের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর আগুন নেভানোর কাজ শুরু করলেও, পানির অপ্রতুলতার কারণে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ জানান, ঘটনাস্থলে পানির সংকটের কারণে পানিসহ আরও কয়েকটি ইউনিট পাঠানো হয়েছে। পানি সংকটের কারণেই আমরা ইউনিট বাড়িয়ে মোট ১৬টি করেছি। আমাদের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।
আতঙ্কিত বস্তিবাসী
বস্তির বাসিন্দারা জানান, আগুন লাগার পর দাউ দাউ করে তা টিনের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত মানুষজন যে যেভাবে পারছেন, ঘর থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করছেন। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ বস্তির বাসিন্দাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা দুর্ঘটনা না ঘটে।
তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।নপ্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।
মন্তব্য করুন
রাজধানীর খিলগাঁও এলাকা থেকে আনুমানিক ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা মূল্যমানের ৪৬০ পিচ ইয়াবা উদ্ধার ও ২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০। মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানের বিবরণ
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদকবিরোধী অভিযানে সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ, বিকাল ১৭:০৫ মিনিটে রামপুরা থানাধীন খিলগাঁও এলাকায় র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে পাওয়া যায়—
1️⃣ শেখ এহসানুল কবির রিংকু (৩০)
– পিতা: মৃত এস এম শহিদুল্লাহ
– ঠিকানা: রাগবপুর, রামগঞ্জ, লক্ষীপুর
– রামপুরা থানায় নারী ও শিশু আইনে একটি মামলা রয়েছে।
2️⃣ শহিদুল ইসলাম রাকিব (৩২)
– পিতা: মৃত রফিক বন্ধুকসী
– ঠিকানা: মহিষাড়, ভেদরগঞ্জ, শরীয়তপুর
– তার বিরুদ্ধে রামপুরা থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সংগ্রহ করে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছিল। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজুর জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।র্যাবের অবস্থান
মাদকের বিরুদ্ধে র্যাব “জিরো টলারেন্স” নীতি অনুসরণ করে আসছে।
মাদক সমাজের জন্য ভয়াবহ হুমকি—
✔ পরিবারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে
✔ যুব সমাজকে ধ্বংস করে
✔ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে
র্যাব-১০ জানায়, ভবিষ্যতেও মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন
দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত এই সঙ্গীদের অবসর জীবন আরামদায়ক ও নিরাপদ করতে নতুন মালিক খুঁজছে ডিএমপি। সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ দমনে বিস্ফোরক ও বিপজ্জনক বস্তু খুঁজে বের করার কাজে বিশেষ প্রশিক্ষণ রয়েছে এই ইউনিটের কুকুরদের।
তিন কুকুরের প্রতিটিরই বয়স পেরিয়েছে আট বছর। ফিন ও কোরি ল্যাব্রাডর জাতের কুকুর। আর স্যাম জার্মান শেফার্ড। যুক্তরাজ্য থেকে আনা কুকুর তিনটির জন্য এই বিশেষায়িত ইউনিটে কাজ করার সময় ফুরিয়েছে।
ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিটের বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কুকুরগুলো বিক্রি করার জন্য মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) একটি উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
দরপত্র বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ব্যবসায়ী, নিলাম দরদাতা, ঠিকাদার এবং পশুপ্রেমীদের একই দিনে দুপুরে একটি উন্মুক্ত নিলামে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফিন, কোরি ও স্যাম মিরপুর-১৪ পুলিশ লাইন্সে অবস্থিত পুলিশ ‘কে-নাইন’ টিম সদর দপ্তরে উন্মুক্ত নিলামের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
নিলামে তোলা তিনটি কুকুর সম্পর্কে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে ওরা বাংলাদেশ পুলিশের সিটিটিসি গ্রুপের হয়ে নারকোটিক (মাদকদ্রব্য) ও এক্সপ্লোসিভ (বিস্ফোরক দ্রব্য) তল্লাশির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছে।
বিশেষ করে বইমেলা, সভা–সমাবেশ, এয়ারপোর্টে কার্গো চেকিংয়ের মতো দায়িত্ব সন্তোষজনকভাবে সামলাতে পারে এই জাতের কুকুরগুলো।
কুকুর তিনটির মধ্যে, ফিন পুরুষ ল্যাব্রাডর কুকুর। কোরি স্ত্রী ল্যাব্রাডর। আর স্যাম পুরুষ জার্মান শেফার্ড। তিনটির বয়সই আট বছর। এত বয়সের কারণে তারা আর বিস্ফোরক শনাক্ত করা, অনুসন্ধান অভিযান বা টহল দায়িত্বের মতো কঠিন কাজ করতে পারছে না।
তবে কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তাদের স্বাস্থ্য এখনো ভালো আছে এবং সহজেই পোষা প্রাণী হিসেবে স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারবে। ২০১৬ সালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বিস্ফোরক ও বিপজ্জনক বস্তু শনাক্ত করে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরও ভালোভাবে লড়াই করার জন্য একটি বিশেষায়িত কে-নাইন ইউনিট গঠন করে, যা ব্যাপকভাবে ‘K-9’ নামে পরিচিত।
দশটি কুকুরের মধ্যে ছয়টি জার্মান শেফার্ড ও চারটি ল্যাব্রাডর রিট্রিভার যুক্তরাজ্য থেকে কেনা হয়। বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কুকুরগুলো সিটিটিসি বিভাগের স্পেশাল অ্যাকশন ইউনিটের সদস্য হিসেবে কাজ করতো।
বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কুকুরের বিষয়ে ডিএমপির পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা যুক্তরাজ্যে প্রশিক্ষণ নেন। পরবর্তীসময়ে কুকুরদের প্রশিক্ষণ দেন। এই পাঁচজন কর্মকর্তা কে-নাইন স্কোয়াড পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেন আরও ২৫ জন পুলিশ সদস্যকে।
সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নাজমুল হাসান বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবহৃত কুকুরদের নির্দিষ্ট সেবাকাল থাকে। পুলিশ সদর দপ্তরের অনুমতি নিয়ে তিনটি কুকুর নিলামে তোলা হচ্ছে।
আমরা চাই, তারা যেন জীবনের বাকি সময়টা নিরাপদ ও স্নেহময় পরিবেশে কাটাতে পারে। নিলাম পশু কল্যাণ আইনের নিয়ম মেনে করা হচ্ছে।’
জানতে চাইলে কে-নাইন স্কোয়াডের পুলিশ পরিদর্শক ফখরুল আলম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ জনের বেশি মানুষ যোগাযোগ করেছেন। স্পটে এসে একজন নিলামকারী বা তার মনোনীত প্রতিনিধি এক হাজার টাকা জমা দিয়ে নিলামে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
নিলাম চলাকালীন যিনি সর্বোচ্চ দাম বলবেন তিনি কুকুরের মালিক হতে পারবেন।’
যে কুকুরগুলো নিলামে তোলা হচ্ছে তাদের খাবার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ব্রয়লার মুরগির মাংস এবং চাল-সবজি দিয়ে খিচুড়ি রান্না খায় তারা। দিনে একবেলা খাওয়ানো হয়।’
নিলামে অংশ নিতে ইচ্ছুকদের নগদ এক হাজার টাকা জমা দিয়ে ডাকে অংশ নিতে হবে। চাইলে আগে যোগাযোগ করে কুকুরগুলো দেখেও আসা যাবে। সে ক্ষেত্রে যোগাযোগ করতে হবে উপ-পুলিশ কমিশনারের (স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ) সঙ্গে। প্রতিটি কুকুরের জন্য আলাদাভাবে ডাক অনুষ্ঠিত হবে।
তিনটি কুকুর বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত নিলাম চলবে। নিলামের পর তিন দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধ করে কুকুর বুঝে নিতে হবে। বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাবে এই নম্বরে ফোন করে- ০১৩২০০৪৬৩৫৬।
মন্তব্য করুন
সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৈঠকে ভূমিকম্পের ঝুঁকি, প্রস্তুতি, সমন্বয় এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ও শনিবার (২২ নভেম্বর) প্রায় ৩১ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা ও এর আশপাশে চারটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
শুক্রবারের ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। এতে কেঁপে ওঠে ঢাকা, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। এতে শিশুসহ ১০ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হন।
আতঙ্কে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়া, ভবন হেলে যাওয়া ও ফাটল সৃষ্টি হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে বেশি—৫ জনের মৃত্যু হয় নরসিংদীতে; ঢাকায় মারা যান ৪ জন এবং নারায়ণগঞ্জে ১ জন।
পরের তিনটি ভূমিকম্প তুলনামূলক মৃদু ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভূমিকম্পগুলো বড় মাত্রার ভূমিকম্পের বার্তা দিচ্ছে। তাই যথাযাথ প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অবহেলার সময় নেই।
মন্তব্য করুন
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ শাস্তির কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে সই করেন সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি।
সম্প্রতি গঠিত বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালে নরসিংদীর পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়নের উদ্দেশে তিনি কথিতভাবে রবিউল মুন্সী নামের এক ব্যক্তিকে ৫০ লাখ টাকা ঘুস দেন।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে এ পদায়ন বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি বলে তদন্তে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীকালে গত বছরের ৯ নভেম্বর নরসিংদীতে পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পর তিনি এবং তার অধীনস্ত ডিবি ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক এস এম কামরুজ্জামান অনুমতি ছাড়া ঢাকায় গিয়ে মনিপুরীপাড়া এলাকায় রবিউল মুন্সীর অফিস থেকে ৫ লাখ টাকা আদায় করেন।
অবশিষ্ট ৪৫ লাখ টাকা ফেরতের জন্য তাদের উপস্থিতিতেই একটি স্বহস্তে লিখিত দলিল গ্রহণ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সাংবাদিক নেছারুল হক খোকনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের সময় পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান বদলি সংক্রান্ত বিষয় এবং ব্যক্তিগত কাজে অধস্তন পুলিশ সদস্য ব্যবহারের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক আলোচনা করেন।
পরবর্তীকালে কথোপকথনটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির পর পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান লিখিত জবাব দাখিল করেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন।
গত ১৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত শুনানিতে উভয়পক্ষের বক্তব্য, নথিপত্র ও অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। তদন্ত কর্মকর্তা ও শুনানি কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তাকে ‘তিরস্কার’ দণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
পুলিশের টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী (মাস্টারমাইন্ড)। আর সাবেক পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলী পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তার হাতে থাকা সরকারি পিস্তল দিয়ে সিনহাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার শরীরের ঊর্ধ্বাংশের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে পরপর চারটি গুলি করেছেন এবং গুলির আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এসেছে।
এর আগে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখে গত ২ জুন রায় দেন বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।
৩৭৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। রায়টি বাংলায় লিখেছেন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, যার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন বেঞ্চের অপর বিচারপতি মো. সগীর হোসেন।
হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী প্রদীপ
পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, ‘সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি প্রদীপ কুমার দাশ আলোচ্য হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড, পরিকল্পনাকারী ও ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সে ভিকটিম মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানের বুকের বাম পাঁজরে জুতা পরা পা দিয়ে জোরে আঘাত করে তার বুকের দুটি হাড় ভাঙাসহ ভিকটিমের গলার বাম পাশে জুতা পরা পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে, যা প্রসিকিউশন পক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যসহ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দিয়ে প্রমাণিত।’
পূর্বপরিকল্পনামতে লিয়াকত উপস্থিত হয়ে গুলি করেন
প্রসিকিউশন পক্ষের সাক্ষ্য, দণ্ডপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট আসামিদের অপরাধ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও শক্তিশালী পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে রায়ে আদালত বলেন, এটি প্রমাণিত হয়েছে যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি লিয়াকত আলী পূর্বপরিকল্পনামতে ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাঁর হাতে থাকা সরকারি পিস্তল দিয়ে নিরস্ত্র মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার শরীরের ঊর্ধ্বাংশের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে পরপর চারটি গুলি করেছেন এবং গুলির আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যে কারণে প্রদীপ ও লিয়াকতের মৃত্যুদণ্ড বহাল
পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, ‘যেহেতু আসামি প্রদীপ কুমার দাশ আলোচ্য হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এবং ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ভিটকিম মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানের বুকে আঘাত করে বুকের দুইটি হাড় ভাঙাসহ গলার বাম পার্শ্বে পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে এবং অপর আসামি লিয়াকত আলী পূর্বপরিকল্পনা মতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ভিকটিমের ওপর পরপর চারটি গুলি করেছে এবং এই গুলির আঘাতেই মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানের মৃত্যু হয়েছে বলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেহেতু আসামি প্রদীপ কুমার দাশ ও লিয়াকত আলীকে বিচারিক আদালত সঠিকভাবে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় উল্লেখিত সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন।’
সিনহাকে হত্যার ষড়যন্ত্র ও গতিবিধির ওপর নজর
প্রসিকিউশনের পক্ষের সাক্ষ্য, দণ্ডিত পাঁচ আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য ও উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে রায়ে আদালত বলেছেন, ‘মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান ‘জাস্ট গো’ নামে ইউটিউবের জন্য পাহাড়, জঙ্গল, সি-বিচ এলাকার ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণের জন্য ২০২০ সালের ২ জুলাই সাহেদুল ইসলাম ও শ্রিপা দেবনাথ ও রুপ্তিসহ কক্সবাজার পৌঁছান।
পরবর্তীতে ৭ জুলাই নীলিমা রিসোর্টে অবস্থান করে তাদের পূর্বপরিকল্পনামতো কক্সবাজার, টেকনাফ ও রামু এলাকার বিভিন্ন স্থানের ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করার সময় স্থানীয় জনসাধারণের কাছ থেকে টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তাঁর বাহিনীর কয়েক সদস্যের চাঁদা আদায়, গুম, ক্রসফায়ারসহ বিভিন্ন বেআইনি কার্যকলাপের বিষয়ে অবগত হয়।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন, যা প্রসিকিউশন পক্ষের সাক্ষ্যে প্রমাণিত।’
রায়ে আরও বলা হয়, বিষয়টি প্রদীপ কুমার দাশ সোর্সের মাধ্যমে অবগত হয়ে ভিকটিম মেজর (অব.) সিনহাকে ওই কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার জন্য ২০২০ সালের জুলাইয়ের মধ্যভাগে হুমকি দিয়ে ওই এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়, যা প্রসিকউশনপক্ষের সাক্ষ্য ও শক্তিশালী পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য থেকে প্রমাণিত।
আসামি প্রদীপ কুমার দাশের ওই ধরনের হুমকির পরও ভিকটিম (সিনহা) তার দলবলসহ ওই এলাকা ত্যাগ না করে বরং তার কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়াকালে প্রদীপ কুমার দাশ সঙ্গীয় লিয়াকত আলী, নন্দদুলাল রক্ষিত, সাগর দেব, রুবেল শর্মা, মো. রুহুল আমিন, মো. আইয়াজ ওরফে আয়াছ ও মো. নিজাম উদ্দিন ভিকটিম মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে এবং ভিকটিমের গতিবিধির ওপর নজর রেখে তথ্য প্রদানের জন্য সোর্স হিসেবে আসামি নুরুল আমিন, আইয়াজ ও মো. নিজাম উদ্দিনের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সিনহা ও সায়েদুল ইসলাম টেকনাফ থানার মারিশবুনিয়া মুইন্না পাহাড়ে অবস্থান করে ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করে নীলিমা রিসোর্টে ফিরে আসার সময় ওই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তাদের ডাকাত সাব্যস্ত করে গণপিটুনিতে হত্যা করার উদ্দেশ্যে স্থানীয় উম্মুল কুরআন জামে মসজিদের মাইক থেকে মুইন্না পাহাড়ে ডাকাত এসেছে বলে আসামি নিজাম উদ্দিন মাইকিং করে, যা আসামি নুরুল আমিন, মো. আইয়াজ ও নিজাম উদ্দিন অপরাধ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও প্রসিকিউশন পক্ষের দুজন সাক্ষীর সমর্থনীয় সাক্ষ্য দিয়ে প্রমাণিত।
যে কারণে ছয় আসামির যাবজ্জীবন বহাল
হাইকোর্টের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকা ছয় আসামি হলেন সাবেক এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল রুবেল শর্মা ও সাগর দেব, কক্সবাজারের বাহারছড়ার মারিশবুনিয়া গ্রামের মো. নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আইয়াজ ও মো. নিজাম উদ্দিন।
ওই ছয় আসামির বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, আলোচ্য হত্যাকাণ্ডে ষড়যন্ত্র, সহায়তা ও সাধারণ অভিপ্রায়ের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারিক আদালত তাঁদের করা অপরাধের ধরন বিচার-বিশ্লেষণ করে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় উল্লিখিত মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন, যা সঠিক ও যুক্তিযুক্ত বলে আমরা মনে করি। সে কারণে রায়ে হস্তক্ষেপ করার কোনো অবকাশ নেই।
মামলার পূর্বাপর
২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টায় কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের তৎকালীন কর্মকর্তা পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন সিনহা।
এ ঘটনায় করা মামলায় ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালত রায় দেন। রায়ে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স ২০২২ সালে হাইকোর্টে আসে। দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আসামিরা পৃথক জেল আপিল ও আপিল করেন। এছাড়া বিচারিক আদালতের রায়ে খালাসপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে এবং যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ছয়জনের সাজা বৃদ্ধি চেয়ে মামলার বাদী ও সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস হাইকোর্টে ফৌজদারি রিভিশন আবেদন করেন।
ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ করে, দণ্ডিত আসামিদের জেল আপিল ও আপিল নামঞ্জুর করে এবং বাদীর রিভিশন আবেদন (রুল খারিজ) খারিজ করে গত ২ জুন রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। পূর্ণাঙ্গ রায়টি আজ সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
মন্তব্য করুন
রাজধানীর কদমতলী থানাধীন জুরাইন এলাকায় চাঞ্চল্যকর সশস্ত্র হামলা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় এজাহারনামীয় এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০। জুরাইনের ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার মোড় এলাকায় মাদক চোরাকারবারীদের পূর্ব বিরোধের জেরে ঘটনার সূত্রপাত হয়।
গত ২২ নভেম্বর ২০২৫, বিকাল আনুমানিক ৪টা ৪০ মিনিটে স্থানীয় সন্ত্রাসী চানু-জহির গ্রুপ ভুক্তভোগী মোঃ শাহীন বেপারী (২৭)-কে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত সশস্ত্র হামলা চালায়। পূর্বের মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গ্রুপের সদস্যরা তাকে ঘেরাও করে হামলা চালায়।
আত্মরক্ষার জন্য শাহীন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে আসামিরা তাকে আটক করে। এসময় প্রধান আসামি চান মিয়া ওরফে চানু (৩৯) তার হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে শাহীনের মাথায় লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ শাহীন ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয় জনতা তাৎক্ষণিকভাবে চান মিয়া ও মোঃ জহিরকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। বাকি সহযোগীরা পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দা এবং একটি তলোয়ার জব্দ করে।
গুরুতর আহত শাহীনকে স্থানীয়রা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
ভিকটিমের ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে কদমতলী থানায়
মামলা নং–৩২, তারিখ–২৩/১১/২০২৫,
ধারা: ১৪৩/৩২৬/৩০৭/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০ অনুযায়ী মামলা রুজু হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা পলাতক আসামিদের গ্রেফতারসহ সহায়তার জন্য র্যাব-১০ এর কাছে অধিযাচন পাঠান।
তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-১০ এর একটি টিম অভিযান চালিয়ে
২৩ নভেম্বর ২০২৫ বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটে
রাজধানীর কদমতলী থানাধীন চেয়ারম্যান বাড়ী এলাকা থেকে এজাহারনামীয় আসামি
মোঃ ইব্রাহীম হোসেন (৩৫)
পিতা: মোঃ মিজানুর রহমান
সাং: কুসুমদি, থানা: আলফাডাঙ্গা, জেলা: ফরিদপুর
কে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাট থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি মো: ওসমান কাজী (৩৬)-কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১০)।
র্যাব-১০ জানায়, মাদকবিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের একটি চৌকস আভিযানিক দল অদ্য ২২ নভেম্বর ২০২৫, বিকাল আনুমানিক ১৭:১০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দঘাট থানাধীন দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে গোয়ালন্দঘাট থানার জিআর মামলা নং– ৩৮০/১৮, ধারা– মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯০ এর ১৯(১), টেবিল ৯(ক)-এ বর্ণিত ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো: ওসমান কাজী (৩৬)-কে আটক করা হয়।
তিনি মৃত উম্বার কাজীর পুত্র, সাং—উত্তর দৌলতদিয়া, থানা—গোয়ালন্দঘাট, জেলা—রাজবাড়ী।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি স্বীকার করেছে যে, গ্রেফতার এড়ানোর জন্য সে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে ছিল।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন শনির আখড়া এলাকায় র্যাব-১০ এর অভিযানে দশ লক্ষ আশি হাজার টাকা মূল্যমানের ৩৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার এবং ২ জন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়েছে।
অভিযানটি পরিচালিত হয় ২২ নভেম্বর ২০২৫, দুপুর ১১:৩৫ মিনিটে।অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল আগ্রাসন থেকে রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১০ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল শনির আখড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ দুই সদস্যকে আটক করে।গ্রেফতার ব্যক্তিদের নাম
১️⃣ মোঃ মাসুদ (২৮)
পিতা: রফিকুল ইসলাম
সাং: বড় আলমপুর, থানা: কোতয়ালী, জেলা: কুমিল্লা
২️⃣ মোঃ রবিউল আলম (৩২)
পিতা: মৃত ইব্রাহীম
সাং: আড়াইওড়া, থানা: কোতয়ালী, জেলা: কুমিল্লা
তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাদক সংগ্রহ করে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।আইনগত ব্যবস্থা
উদ্ধারকৃত ৩৬ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। খুব শিগগিরই তাদের ডিএমপি’র যাত্রাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হবে।
র্যাবের বার্তা
মাদক সমাজের সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাধি—যা যুব সমাজকে ধ্বংস করছে, পরিবারে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
র্যাব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে—
“মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স” বাস্তবায়ন ছাড়া শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
মন্তব্য করুন
সংবাদ বর্ণনা:
ঢাকার কেরানীগঞ্জে ইউরো বাংলা বিল্ডার্স প্রাঃ লিঃ আয়োজন করতে যাচ্ছে মাসব্যাপী আবাসন মেলা ও সওয়ারেস লাইন উদ্বোধন। মেলায় অংশ নেবে প্রতিষ্ঠানটির নতুন ও পুরাতন সকল ক্লায়েন্ট। নতুন ক্রেতাদের জন্য থাকবে বিশেষ ছাড় এবং মেলার আনন্দ বাড়াতে আয়োজন করা হয়েছে শীতকালীন পিঠা উৎসব।
মেলায় প্রদর্শিত হবে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আবাসিক প্রকল্পসমূহ:
দীর্ঘদিন ধরে সোনার বাংলা আবাসিক প্রকল্পের অধিবাসীরা সওয়ারেস লাইনের অভাবে অসন্তুষ্ট ছিলেন। আগামী ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হচ্ছে সওয়ারেস লাইনের কাজ, যা প্রকল্পের পরিবেশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখপাত্র জনাব মোঃ আমান উল্লাহ আমান। সভাপতিত্ব করবেন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধর ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাবা ফাতেমা আক্তার আঁখি। অনুষ্ঠানে থাকবেন স্থানীয় ব্যক্তি, ক্রেতা-বিক্রেতা, কর্মকর্তাবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
মেলা চলাকালীন থাকবে বিশেষ ছাড়, বিনোদনমূলক কার্যক্রম এবং স্থানীয় পিঠা ও খাবারের আয়োজন, যা ক্রেতা ও দর্শকদের জন্য আনন্দঘন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে।
মন্তব্য করুন
রাজধানীর পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটক একজনের ডিবি হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয় ডিএমপি।
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত সোমবার সন্ধ্যায় মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি নামের দোকানে ঢুকে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে যুবদল নেতা কিবরিয়াকে হত্যা করে।
এই ঘটনায় তার স্ত্রী সাবিহা আক্তার বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। অজ্ঞাতনামা আসামি ৭-৮ জন। সুষ্ঠু তদন্তসহ জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতারের লক্ষ্যে মামলাটি ডিএমপির ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ডিবি গতকাল বৃহস্পতিবার শরীয়তপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত নজরুল, মাসুম ও জামানকে গ্রেফতার করে।
ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেফতার ব্যক্তিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন। কিবরিয়া হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি মোক্তারের হেফাজতে আছে বলে জানান তারা। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির একটি দল গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পল্লবীর একটি গ্যারেজে অভিযান চালায়।
ডিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মোক্তার দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় কৌশলে তাকে আটক করা হয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা মোক্তারকে মারধর করেন।
ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোক্তারের তথ্যের ভিত্তিতে পল্লবীর একটি রিকশা গ্যারেজ থেকে পিস্তলের আটটি গুলি উদ্ধার করে ডিবি। পরে মোক্তারকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। গতকাল দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মোক্তার অসুস্থবোধ করেন। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কিছু ওষুধ দিয়ে তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেন। তাকে আবার ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে খাবার খাওয়ার জন্য মোক্তারকে ডাকাডাকি করা হয়। কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ময়নাতদন্তের জন্য মোক্তারের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানায় ডিএমপি।
এ ঘটনায় ডিএমপির পক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এতে বলা হয়, এই তদন্ত কমিটির প্রধান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) মো. সরওয়ার।
মন্তব্য করুন
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) ফেসবুক পোস্টে আইন উপদেষ্টা লিখেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল। চালু হবে পরবর্তী সংসদ থেকে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বিভাগ ঐতিহাসিক এ রায় ঘোষণা করেন।
বেঞ্চের অপর ছয় বিচারপতি হলেন— বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
আপিল বিভাগ বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কার্যকর হবে।
এই রায়ের পর্যবেক্ষণে আপিল বিভাগ বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের অতীতের রায় ছিল কলঙ্কিত ও একাধিক ত্রুটিতে ত্রুটিপূর্ণ। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বিভাগ সর্বসম্মতিক্রমে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।
পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, আদালত এই মর্মে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন- পর্যালোচনাধীন আপিল বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায়টি নথি দৃষ্টে স্পষ্টরূপে প্রতীয়মান একাধিক ত্রুটিতে ত্রুটিপূর্ণ।
এ কারণে আপিল বিভাগের অতীতের রায়টি সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হলো। এর ফলে ফলশ্রুতিতে সংবিধানের চতুর্থ ভাগের পরিচ্ছেদ ২(ক)-এর নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সম্পর্কিত বিধানাবলী, যা সংবিধান (ত্রয়োদশ সংশোধন) আইন, ১৯৯৬ (১৯৯৬ সনের ১ নং আইন) এর ধারা ৩ দ্বারা সন্নিবেশিত হয়েছিল, তা এই রায়ের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত ও সক্রিয় করা হলো।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যেভাবে বাতিল হয়
রায়ে বলা হয়েছে, যদিও এইরূপ পুনরুজ্জীবন পরিচ্ছেদ ২(ক)-এ বর্ণিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত বিধানাবলীর স্বয়ংক্রিয় পুনঃস্থাপন নিশ্চিত করে, তবে পুনরুজ্জীবিত অনুচ্ছেদ ৫৮(খ)(১) এবং অনুচ্ছেদ ৫৮(গ)(২)-এর বিধানাবলীর প্রয়োগ সাপেক্ষে তা কার্যকর হবে।
রায়ে আরও বলা হয়েছে, পুনঃস্থাপিত ও পুনরুজ্জীবিত পরিচ্ছেদ ২(ক)-এ বর্ণিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত বিধানাবলী কেবলমাত্র উক্তরূপ ভবিষ্যৎ প্রয়োগযোগ্যতার ভিত্তিতেই কার্যকর হবে।
মন্তব্য করুন
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি মো: নান্টু শরীফ (২২)–কে টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০ ও র্যাব-১৪ এর যৌথ আভিযানিক দল।
১। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ১৯/১১/২০২৫ তারিখ দুপুর ১৩:২০ ঘটিকায় র্যাব-১০ ও র্যাব-১৪ এর একটি বিশেষ দল সখীপুর থানাধীন দেওদিঘী বাজার এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে ঝালকাঠি, ঢাকা ও অন্যান্য থানায় দায়ের করা বহু মামলার সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি নান্টু শরীফ (২২)–কে গ্রেফতার করা হয়।
২। গ্রেফতারকৃত নান্টু শরীফের বিরুদ্ধে পূর্বে দায়ের হওয়া মামলাসমূহ—
উল্লেখিত মামলাগুলোর মধ্যে একাধিক মামলায় তিনি ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন।
৩। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নান্টু শরীফ জানায় যে, সে বিভিন্ন এলাকায় গোপনে অবস্থান করে পুলিশের নজর এড়িয়ে চলছিল। পরবর্তীতে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
ঢাকার কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার জিনজিরায় সংঘটিত দস্যুতা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মো: শুক্কুর আলী (৩৯)’কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১০ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল।
র্যাব জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ২১:৩০ মিনিটে জিনজিরা এলাকায় ভিকটিম মো: শাকিল @ জুনিয়র শাকিব (২৯)’কে পথরোধ করে আসামি শুক্কুর আলীসহ অন্যান্য আসামিরা দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে লোহার শিকল দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এ সময় তারা ভিকটিমের কাছ থেকে ০১টি রোড ওয়্যারলেস মাইক্রোফোন, ০২টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৩,৬০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
এই ঘটনায় কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা নং- ৩৪/৩৯১, তারিখ- ২২/০৯/২০২৫, ধারা ৩৯৪ পেনাল কোড ১৮৬০ অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের জন্য র্যাব-১০ বরাবর অধিযাচনপত্র প্রেরণ করেন।
পরবর্তীতে র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ১৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১৩:০০ ঘটিকায় দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন শুভ্যাঢা এলাকা থেকে এজাহারনামীয় আসামি মো: শুক্কুর আলীকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার রাজেন্দ্রপুরে সংঘটিত দস্যুতার মামলার প্রধান আসামি মোঃ আকাশ মোল্যা (৩০)–কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল।
১। ঘটনার বিবরণ
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ২০:৩০ ঘটিকায় দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় ভিকটিম মোঃ রাসেল মিয়া (৪৫)–কে পথরোধ করে আসামি আকাশ মোল্যাসহ অন্যান্য সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে এবং এলোপাথাড়ি মারধর করে। পরে তারা ভিকটিমের নিকট থেকে নগদ ১৫,০০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় ভিকটিম দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় মামলা নং-০৪, তারিখ-৩০/০৯/২০২৫, ধারা ৩৯৪ পenal কোড, ১৮৬০ অনুযায়ী মামলা দায়ের করেন।
২। অভিযান ও গ্রেফতার
মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব-১০ বরাবর অধিযাচনপত্র পাঠান। পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ১৮:৩০ ঘটিকায় দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার রাজেন্দ্রপুর পশ্চিমদি এলাকা থেকে এজাহারনামীয় আসামি মোঃ আকাশ মোল্যা (৩০)–কে গ্রেফতার করতে সফল হয়।
গ্রেফতারকৃতের বাড়ি পশ্চিমদি নর্দা, দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা।
৩। পরবর্তী ব্যবস্থা
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
ঘটনার বিবরণ
গত ১২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত ২টা ৩০ মিনিটের দিকে আসামি রাসেলসহ অন্যান্যরা কিশোর বাপ্পিকে টাকা ও প্রিপেইড কার্ড চুরির অভিযোগে জোরপূর্বক মীরহাজিরবাগের একটি ক্লাব ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন করা হয়।
এরপর একই দিনের সকাল ৬টার দিকে ভিকটিমকে তার বাসায় নিয়ে এসে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে ফের ধরে নিয়ে যায় এবং স্টিলের পাইপ ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। বাপ্পিকে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায় আসামিরা। হাসপাতালে নেয়ার পথেই কিশোরটির মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর নিহতের মা যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা নং–৩৮, তারিখ: ১৩/১১/২০২৫ দায়ের করেন।
র্যাবের অভিযান ও গ্রেফতার
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের গ্রেফতারে র্যাব-১০-এর সহযোগিতা কামনা করেন। এরপর র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল ১৭ নভেম্বর ২০২৫ রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে যাত্রাবাড়ীর মীরহাজিরবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার অন্যতম আসামি রাসেল @ কাপাসী রাসেল (৩৫)–কে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতের পরিচয়:
পিতা: মোঃ মোস্তফা
সাং: বৌ বাজার, থানা–যাত্রাবাড়ী, ডিএমপি, ঢাকা।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃতকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার অভিযান চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন
রাজধানীর কাজলায় আনুমানিক তেইশ লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা মূল্যমানের ৭৮ কেজি গাঁজা এবং মাদক বিক্রয়লব্ধ ৩,০০০ টাকাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০। একই সাথে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত নেভি ব্লু রঙের একটি কাভার্ড ভ্যানও জব্দ করা হয়েছে।
র্যাবের নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন কাজলা ব্রীজ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চেকপোস্ট স্থাপন করে র্যাব সদস্যরা একটি সন্দেহজনক কাভার্ড ভ্যানকে থামানোর সংকেত দিলে ভ্যানের দুই যাত্রী পালানোর চেষ্টা করে। র্যাব সদস্যরা ধাওয়া করে ভ্যানসহ দুজনকে আটক করে। পরে তল্লাশিতে ভ্যানের ভেতর থেকে বিশেষ কায়দায় লুকানো ৭৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
১। মোঃ নাসির উদ্দিন (৪২)
পিতা— মোঃ নুর ইসলাম,
সাং— পেরাঙ্গীর হাট, থানা— সদর দক্ষিণ, জেলা— কুমিল্লা
২। ইসমাইল হোসেন (৩৮)
পিতা— মৃত আবু বক্কর সিদ্দিক,
সাং— বাঘপাড়া, থানা— কিশোরগঞ্জ সদর, জেলা— কিশোরগঞ্জ
অভিযানে আরও ৫৬৪ কেজি চায়ের পাতা গুড়া এবং ঢাকা মেট্রো-ন-১২-৯৫৮৩ নম্বরের কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা থেকে গাঁজাসহ অন্যান্য মাদক সংগ্রহ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছিল।
উদ্ধারকৃত মাদকসহ তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজুর জন্য ডিএমপি’র যাত্রাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মাদককে সমাজের সর্বাধিক ভয়াবহ ব্যাধি উল্লেখ করে র্যাব জানায়, “মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি” বাস্তবায়নে র্যাব সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন
সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাত ৯টা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ জনতা ৩২ নম্বর সংলগ্ন বনলতা পয়েন্টের সামনে মিরপুর রোড অবরোধ করে রাখেন।
তবে সন্ধ্যার পর থেকে আন্দোলনকারীদের বড় একটি অংশ ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে গেছে। এখন শতাধিক লোক সড়কে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছেন।
এর আগে সোমবার সকাল থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের সংখ্যা ক্রমে বাড়তে থাকে। দুপুরের দিকে তারা দুটি বুলডোজার নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন।
বুলডোজারগুলো ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির অবশিষ্ট অংশ ভাঙার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধায় বুলডোজার নিয়ে ৩২ নম্বর বাড়ির সামনে যেতে পারেননি।
এ নিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সন্ধ্যার পর পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করে আন্দোলনকারীরা।
এরপর থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় আন্দোলনকারীদের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিরপুর রোডে শতাধিক মানুষকে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া ধানমন্ডির একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলেন, ‘আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণ পাওয়া গেছে, জুলাই–আগস্টের গণহত্যায় শেখ হাসিনা সরাসরি জড়িত ছিলেন।
তাই ধানমন্ডির মাটিতে শেখ পরিবারের কোনো অস্তিত্ব বা চিহ্ন টিকিয়ে রাখা হবে না। আমরা শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির অবশিষ্ট অংশ ভেঙে ফেলবো।
মন্তব্য করুন
রোববার (১৬ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মাহফুজুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, আজ রাত ৯টার দিকে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বাসার সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আমরা ঘটনাস্থলে আছি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্তে এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।
এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মেট্রো স্টেশনের নিচে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।
এর আগে এদিন সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে নিউ ইস্কাটন রোডের ওয়াক্ফ ভবনের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আবদুল বাসির (৫০) নামের এক পথচারী আহত হন।
এরও আগে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে হাতিরঝিল মধুবাগ সেতুতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরে যায়।
এরপর রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে আগারগাঁওয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। শেরেবাংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হক বলেন, এডিবি ভবনের সামনের সড়কে ককটেল বিস্ফোরণে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
মোটরসাইকেলে এসে ককটেল বিস্ফোরণ করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্ত। আসামিদের আটক করতে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের রায় ঘোষণা করা হবে।
এই রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘিরে গত কয়েকদিন থেকে বিক্ষিপ্তভাবে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
মন্তব্য করুন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নতুন কাউকে ভোটার করবে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেক্ষেত্রে দেশে এসে ভোটার হতে হলে তারেক রহমানকে তফসিলের আগেই ফিরতে হবে।
২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রথমবারের মতো ছবিসহ ভোটার তালিকা করা হয়। ওই সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ছিলেন লন্ডনে।
ফলে ভোটার হতে পারেননি তারা। জুবাইদা কয়েক মাস আগে ভোটার হলেও দেশে না ফেরায় এখনো ভোটার নন তারেক। লন্ডনেও তিনি ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেননি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের নিবন্ধন ও প্রবাসী শাখা সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গেলে তারেক রহমানকে অবশ্যই ছবিসহ জাতীয় পরিচয়পত্র করা লাগবে। সে অনুযায়ী তিনি ভোটার হবেন।
তফসিল ঘোষণার আগে যদি তিনি দেশে ফিরে ভোটার না হন তাহলে আইনি জটিলতায় পড়বেন। তফসিল হলে সব ধরনের মাইগ্রেশন ও ভোটার কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এছাড়া কোর্ট থেকে ডিক্লারেশন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ পাঁচ কমিশনার একমত হলেই তফসিলের পরে কাউকে ভোটার করা যায়। তবে সে প্রক্রিয়া অনেক জটিল।
সহজ ও সাধারণভাবে তারেক রহমান ভোটার হতে চাইলে অবশ্যই তফসিল ঘোষণার আগে দেশে ফিরতে হবে।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের নিবন্ধন ও প্রবাসী শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘তারেক রহমান দেশে এসে ভোটার হতে চাইলে তফসিলের আগেই ফিরতে হবে। যুক্তরাজ্যের লন্ডন, বার্মিংহাম ও ম্যানচেস্টারে ভোটার কার্যক্রম চালু আছে।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তিনি লন্ডনে ভোটার হবেন না। বাংলাদেশে এসেই ভোটার হবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।’
তফসিলের পরে ভোটার হওয়া যায় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তফসিলের পরে ভোটার হওয়া খুব কঠিন। কোর্ট থেকে ডিক্লারেশন লাগবে। এছাড়া ফুল কমিশন বৈঠক করে সবাই একমত হলেই কেবল ভোটার হওয়া যায়।
পাঁচ কমিশনের মধ্যে একজন যদি দ্বিমত পোষণ করেন তবে তিনি আর ভোটার হতে পারবেন না।’
• অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্র (নিবন্ধন ফরম-২ক)
• বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন সনদের কপি (অনলাইন ভেরিফায়েড)
•মেয়াদ সম্বলিত বাংলাদেশি পাসপোর্টের কপি/মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্টের কপি/বিদেশি পাসপোর্টের কপি/সংশ্লিষ্ট দেশে বসবাসকারী তিনজন বাংলাদেশি এনআইডিধারী ব্যক্তির বাংলাদেশি নাগরিক মর্মে (নির্ধারিত ফরমে) প্রত্যয়নপত্র
• আবেদনকারীর পিতা-মাতার এনআইডির কপি/বাংলাদেশি অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের কপি/বাংলাদেশি মৃত্যু সনদের কপি (মৃত হলে)/পাসপোর্টের কপি/ওয়ারিশ সনদের কপি/বাংলাদেশের বাসিন্দা মর্মে নাগরিক।
• পাসপোর্ট সাইজের এক কপি রঙিন ছবি
• শিক্ষা সনদের কপি, নিকাহনামা, স্বামী/স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র, আবেদনকারীর নাগরিকত্ব সনদ (কাউন্সিলর চেয়ারম্যান/মেয়র/সিইও/প্রশাসক থেকে সত্যায়িত, সংশ্লিষ্ট ঠিকানা সম্বলিত ইউটিলিটি বিলের কপি/হোল্ডিং ট্যাক্স রসিদ
• মিশন অফিস থেকে প্রাপ্ত অ্যাপয়নমেন্ট অনুসারে নির্ধারিত তারিখে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আবশ্যকীয় দলিলাদি নিবন্ধন কেন্দ্রে (সংশ্লিষ্ট মিশন অফিসে) জমা দিতে হবে এবং ছবি ও বায়োমেট্রিক (দশ আঙুলের ছাপ, আইরিশ, স্বাক্ষর) দিতে হবে।
বর্ণিত প্রয়োজনীয় অন্য দলিলাদিও নিবন্ধন কেন্দ্রে জমা দেওয়া যাবে, তবে নিবন্ধন কেন্দ্রে সম্ভব না হলে, আবেদনকারীর পক্ষে বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রতিনিধির মাধ্যমে উক্ত দলিলাদি তদন্তকারী কর্মকর্তা তথা রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসার) কাছে দিতে হবে।
• এছাড়া প্রবাসীদের জন্য নির্ধারিত ফরমে দেওয়া তথ্যাদির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ভোটার এলাকার উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসারের সরেজমিনে তদন্ত প্রতিবেদন আবশ্যক
চলতি বছরের ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেন ১২ হাজার ৪৯৮ জন যুক্তরাজ্য প্রবাসী। এর মধ্যে থেকে সব প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্তভাবে ভোটার হয়েছেন পাঁচ হাজার ৭৪৯ জন।
তবে এই তালিকায় নাম নেই তারেক রহমানের। যুক্তরাজ্যের লন্ডন, বার্মিংহাম ও ম্যানচেস্টারেও ভোটার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে তারেক রহমান সেখানে ভোটার হাওয়ার জন্য এখনো আবেদন করেননি বলে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের নিবন্ধন ও প্রবাসী শাখা থেকে জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লন্ডনে প্রবাসীদের ভোটার হতে গেলে আবেদনকারীকে অবশ্যই লন্ডনের নির্বাচন অফিসে আসতে হবে। কারণ আবেদনকারীর স্বাক্ষর, ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ বাধ্যতামূলক।
ইসির সবশেষ তথ্য অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান ও আমেরিকাসহ মোট ১১টি দেশে ভোটার কার্যক্রম চলমান।
১১টি দেশের ২১টি স্টেশনে মোট আবেদন পড়েছে ৬৯ হাজার ৬৬২ জনের। এর মধ্যে মোট ভোটার হয়েছেন ২৫ হাজার ৮৫৯ জন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য সময় ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে এবং ভোটগ্রহণ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে।
গত ১ নভেম্বর বিকেলে পটুয়াখালী সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে নির্বাচনের জন্য একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। আমরা রমজান মাসের আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে চাই।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইসিতে বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ চলমান। সংলাপ শেষেই চূড়ান্তভাবে সম্ভাব্য তফসিল ঘোষণা করা হবে। তফসিল ঘোষণার জন্য সব কাজ এগিয়ে নিচ্ছে ইসি। ইসির তফসিল ঘোষণার আগেই দেশে ফিরতে হবে তারেক রহমানকে।
তবে বিএনপি সূত্র জানায়, নভেম্বর মাসের শেষ দিকে অথবা ডিসেম্বর মাসের শুরুতে দেশে ফিরবেন তারেক রহমান। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চলতি (নভেম্বর) মাসের শেষ দিকে দেশে ফিরতে পারেন বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমরা আশা করছি এ মাসের শেষ নাগাদ তিনি দেশে ফিরতে পারেন। না হলে কমপক্ষে দু-একদিন এদিক-ওদিক হতে পারে হয়তো।
সালাহউদ্দিন আহমদের কথা ঠিক থাকলে তফসিল ঘোষণার একেবারে মাহেন্দ্রক্ষণে ভোটার হবেন তারেক রহমান। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করছে বিএনপি।
প্রাথমিকভাবে ২৩৭ আসনে (পরে একটি স্থগিত) প্রার্থী দিয়েছে দলটি। এতে বগুড়া-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি।
মন্তব্য করুন
পটুয়াখালী থেকে গণধর্ষণ মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি আরিফ হাওলাদার (২৫)–কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, ১৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখ বিকাল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে ভিকটিম (৩৬) তার মায়ের চিকিৎসার ওষুধ সংগ্রহের জন্য বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার গাগরিয়া গ্রাম থেকে ভোলা যান। ওষুধ কেনা শেষে ফেরার পথে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে যাত্রীবাহী নৌকায় আসামি আরিফ হাওলাদারসহ কয়েকজন ভিকটিমের পিছু নেয়।
ভিকটিম নৌকা থেকে নামার পর বাড়ির পথে এক পর্যায়ে মাছের ঘেরের সামনে পৌঁছালে আসামিরা তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাকে জোরপূর্বক গণধর্ষণ করা হয়।
পরে ভিকটিম নিজেই মেহেন্দিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং–০২, তারিখ–১৮/০৮/২০২৪; ধারা– নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯(৩)/৩০ তৎসহ ৩২৩/৩৭৯/৫০৬ পেনাল কোড)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গণধর্ষণে জড়িত আসামিদের গ্রেফতারের অনুরোধ জানিয়ে র্যাব–১০ বরাবর অধিযাচনপত্র প্রেরণ করেন।
এর প্রেক্ষিতে র্যাব–১০ আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায়, র্যাব–৮ এর সহযোগিতায় পটুয়াখালী সদর থানাধীন ফতুল্লা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আরিফ হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে ছিল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছিল।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
ঘটনার বিবরণ
গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৪ সকাল প্রায় ১০টার দিকে মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানাধীন চরমস্তপুর এলাকায় সংঘটিত মানব পাচার মামলায় রুবেল ইসলামসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভিকটিম মাসুদ মাতুব্বর (৩২)–কে ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে ২২ লাখ টাকা গ্রহণ করে।
কিন্তু প্রতারণার মাধ্যমে ভিকটিমকে ইতালিতে না পাঠিয়ে প্রথমে দুবাই, পরে লিবিয়া পাঠানো হয়। লিবিয়ায় নিয়ে তাকে অজ্ঞাত স্থান ও মাফিয়া চক্রের হাতে আটকে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে পরিবারের কাছে পাঠিয়ে প্রথমে ৮ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
পরবর্তীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ ও ব্যাংকের মাধ্যমে ভিকটিমের পরিবারের নিকট থেকে ৯৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা আদায় করে আসামিরা। এরপরও তারা পুনরায় ৭ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
মামলা দায়ের
এ ঘটনায় ভিকটিমের মা রাজৈর থানায় মামলা করেন। মামলা নং– ০৯, তারিখ– ০৭/১১/২০২৫; ধারা– মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ এর ৬/৭/৮/১০।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের গ্রেফতারের জন্য র্যাব-১০–এর কাছে অধিযাচন পত্র পাঠালে র্যাব তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান জোরদার করে।
গ্রেফতার অভিযান
১১ নভেম্বর ২০২৫ ভোর আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে র্যাব-১০ ও র্যাব-১৪ এর যৌথ দল ময়মনসিংহ জেলার পাগলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আসামি রুবেল ইসলাম (৩০)-কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
তার বাড়ি— সাং: নিগুসারী, থানা: পাগলা, জেলা: ময়মনসিংহ।
গ্রেফতারকৃতকে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
কিন্তু এ পদক্ষেপে সত্যিই কি শেখ হাসিনার বক্তব্য বন্ধ হবে—এনিয়ে কূটনৈতিক মহলে উঠেছে নানান প্রশ্ন। কারণ ভারত বলছে, শেষ হাসিনাকে তারা আশ্রয় দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু তিনি কার সঙ্গে কথা বলবেন বা বলবেন না সেটার নিয়ন্ত্রণ সরকার করতে পারে না।
কিংবা ভারতের সরকার গণমাধ্যমও নিয়ন্ত্রণ করে না। গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স, এএফপি, বিবিসি ও নিউজ১৮ সহ ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন শেখ হাসিনা। বিষয়টি মোটেই ইতিবাচকভাবে নেয়নি বাংলাদেশ।
শেখ হাসিনা যে নিরাপত্তাবেষ্টিত পরিবেশে আছেন, সেখানে কোনো গণমাধ্যম সরকারের অনুমতি ছাড়া যেতে পারে না। শেখ হাসিনা নজরবন্দি অবস্থায় থাকায় সরাসরি সাক্ষাৎকার দেওয়া সম্ভব নয়। তবুও ভারতের তিন শীর্ষ গণমাধ্যমে প্রকাশিত তার লিখিত সাক্ষাৎকার, এই পুরো আয়োজন ভারতীয় উদ্যোগেই করা।- সাবেক রাষ্ট্রদূত এম শফিউল্লাহ
শেখ হাসিনাকে মূলধারার ভারতীয় গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের জন্য মোটেই সহায়ক নয়- এমন যুক্তি তুলে ধরে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা।
গত বুধবার (১২ নভেম্বর) ভারতীয় উপ-হাইকমিশনার পবন ভাদেকে তলব করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ অবস্থান জানায়। মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক বৈঠকে ভারতীয় পক্ষকে অবহিত করেন, বিচারাধীন এক পলাতক আসামিকে প্ল্যাটফর্ম দেওয়ার ঘটনাটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশ তার অনুরোধ তুলে ধরলেও ভারত জানিয়ে দিয়েছে—দেশটির গণমাধ্যম স্বাধীন। ফলে কে কার সাক্ষাৎকার নেবে বা প্রচার করবে, তাতে সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। সাক্ষাৎকার বন্ধ করতে ভারতের পক্ষে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।
বৈঠকের বিষয়ে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের একটি সূত্র জাগো নিউজকে জানায়, সেদিনের আলোচনা খুব আন্তরিক পরিবেশেই হয়েছে।
‘বাংলাদেশ তাদের উদ্বেগ জানিয়েছে, আমরা আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি’ বলেন তিনি।
তার প্রশ্ন, ‘ভারতের আগে–পরে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার নিয়েছে। সেসব দেশের দূতদের তো ডাকা হয়নি। তাহলে ভারতকে কেন আলাদা করে বলা হলো?
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভারতে রয়েছেন। এ কারণেই ভারতের কাছে শেখ হাসিনার কথা বলা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সূত্র জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়—মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারাধীন একজন পলাতক আসামিকে আশ্রয় দেওয়া এবং তাকে বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর। নয়াদিল্লিকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত এম শফিউল্লাহ মনে করেন, ভারত সরকারের সক্রিয় সহায়তা ছাড়া শেখ হাসিনার এই ধারাবাহিক সাক্ষাৎকার সম্ভব নয়। তার ভাষ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি থাকা শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের মন্তব্য, ‘দুর্বল প্রশাসনই তার পতনের কারণ’ মূলত দিল্লির পক্ষ থেকে আগের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত।
তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছর ভারত শেখ হাসিনার সরকারকে সব সময় সমর্থন দিয়েছে। বিতর্কিত নির্বাচন হোক বা রাজনৈতিক সংকট, ভারত তাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে। সম্পর্ককে ‘সোনালি অধ্যায়’ও বলা হয়েছে। এখন আবার বলা হচ্ছে—দুর্বল শাসনই তার পতনের কারণ। এটা পরিষ্কারভাবে হাসিনার প্রতি ভারতের আস্থাহীনতার প্রকাশ।’
শফিউল্লাহর দাবি, দোভালের মন্তব্যের পর হাসিনার ‘ক্ষুণ্ণ মর্যাদা’ পুনরুদ্ধারের জন্যই ভারত তাকে দিয়ে বারবার গণমাধ্যমে বক্তব্য প্রকাশের ব্যবস্থা করছে।
‘শেখ হাসিনা যে নিরাপত্তাবেষ্টিত পরিবেশে আছেন, সেখানে কোনো গণমাধ্যম সরকারের অনুমতি ছাড়া যেতে পারে না’ মন্তব্য তার।
এম শফিউল্লাহ আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা নজরবন্দি অবস্থায় থাকায় সরাসরি সাক্ষাৎকার দেওয়া সম্ভব নয়। তবুও ভারতের তিন শীর্ষ গণমাধ্যমে প্রকাশিত তার লিখিত সাক্ষাৎকার, এই পুরো আয়োজন ভারতীয় উদ্যোগেই করা।’
তার মতে, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে ভারত বাড়তি তৎপর হয়ে উঠেছে এবং শেখ হাসিনার এ ধারাবাহিক প্রচার দুই দেশের সম্পর্কেও নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
সাবেক এই কূটনীতিক আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেসবের বিচার বাংলাদেশেই হওয়া উচিত। তাই ভারতের উচিত এদেশের মানুষের প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়ে আইনের শাসনের স্বার্থে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানো।’
তার মতে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং দুই দেশের সম্পর্কে স্বচ্ছতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে ভারতকে এ বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।
মন্তব্য করুন
রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে হত্যা করে লাশ ২৬ খণ্ডে বিভক্ত করে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের পাশে দুটি ড্রামে ফেলে রাখার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে। মামলার প্রধান আসামি জরেজুল ইসলামের প্রেমিকা শামীমা আক্তার কোহিনুরকে (৩৩) আলামতসহ গ্রেফতার করেছে র্যাব-৩।
র্যাব জানায়, ১৪ নভেম্বর সকালে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার বড় বিজরা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, ব্ল্যাকমেইলিং এবং লাশ গুমের পুরো সহযোগিতায় জড়িত ছিলেন।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকালে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।
তিনি বলেন, গত ১১ নভেম্বর রাতে রংপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন ব্যবসায়ী আশরাফুল হক। তিনি একই এলাকার বন্ধু জরেজুল ইসলামের সঙ্গে ব্যবসায়িক পাওনা আদায়ের জন্য ঢাকায় আসেন। ১২ নভেম্বর সকাল থেকে তার পরিবার তার মোবাইল বন্ধ পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে।
১৩ নভেম্বর হাইকোর্ট এলাকার পানির পাম্প সংলগ্ন দুটি নীল রঙের ড্রাম থেকে ২৬ টুকরো করা এক অজ্ঞাতপরিচয়ের ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে শাহবাগ থানা পুলিশ।
পরে আঙুলের ছাপ বিশ্লেষণে মরদেহটির পরিচয় নিশ্চিত হয়, তা ছিল নিখোঁজ আশরাফুল হকের।
গ্রেফতার শামীমা আক্তারের মোবাইল বিশ্লেষণ ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি ও জরেজুল এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। জরেজুল তাকে জানান, তার এক বন্ধুকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে ১০ লাখ টাকা আদায় করা সম্ভব।
এর মধ্যে ৭ লাখ নেবে জরেজুল আর ৩ লাখ পাবে শামীমা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার একমাস আগে থেকেই শামীমা নিহত আশরাফুলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে তাকে আকৃষ্ট করেন। নিয়মিত অডিও-ভিডিও কলে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে।
ফায়েজুল আরেফীন আরও বলেন, ১১ নভেম্বর রাতে ঢাকায় আসার পর জরেজ ও আশরাফুলের সঙ্গে ঢাকার শনিরআখড়ার নূরপুর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেন শামীমা। সেখানে ব্ল্যাকমেইলের উদ্দেশ্যে আশরাফুলকে মালটার শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়।
তিনি অচেতন হওয়ার পর জরেজ বাইরে থেকে শামীমা ও আশরাফুলের অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করেন।
শামীমার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ১২ নভেম্বর দুপুরে আশরাফুল পুরোপুরি অচেতন হয়ে পড়লে জরেজ তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং মুখে কসটেপ লাগায়। এরপর ইয়াবা সেবনের উত্তেজনায় জরেজ হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে হত্যা করে।
লাশ পাশের ঘরেই রেখে দু’জন রাত কাটায় এবং শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়।
র্যাব-৩ এর অধিনায়ক বলেন, পরদিন সকালে জরেজ বাজার থেকে চাপাতি ও দুটি ড্রাম এনে লাশ ২৬ টুকরো করে ড্রামে ভরে। দুপুরে একটি সিএনজি ভাড়া করে ড্রামগুলো বাসা থেকে বের করে, পরে মাঝপথে সিএনজি পরিবর্তন করে হাইকোর্টের মাজার গেটের কাছে পৌঁছায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দেখে তারা ড্রাম দুটি সড়কের পাশের গাছতলায় ফেলে দ্রুত অটোযোগে সায়েদাবাদে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে জরেজ শামীমাকে কুমিল্লায় নিজ বাড়িতে চলে যেতে বলে। এরপর থেকে দুজনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
শামীমার তথ্য অনুযায়ী, শনিরআখড়ার নূরপুর এলাকা থেকে আশরাফুলের রক্তমাখা পাঞ্জাবি-পায়জামা, হত্যায় ব্যবহৃত দড়ি, কসটেপ, একটি গেঞ্জি ও হাফপ্যান্ট উদ্ধার করেছে র্যাব-৩।
র্যাব জানিয়েছে, তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করা। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত শত্রুতার বিষয় আছে কি না, তা প্রধান আসামি জরেজকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পরিষ্কার হবে।
গ্রেফতার শামীমা আক্তারকে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
মন্তব্য করুন
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, রংপুরের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল হক (৪৩) তিনদিন আগে বন্ধু জরেজ মিয়ার সঙ্গে ঢাকা আসেন। এরপর থেকে তার খোঁজ মিলছিল না। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে দুটি নীল রঙের ড্রাম খুলে অজ্ঞাতপরিচয় এক পুরুষের খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পায়।
তখন মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। পরে দুটি নীল রঙের ড্রাম থেকে মরদেহ বের করা হয়। ড্রামের মধ্যে চাল ছিল এবং কালো পলিথিন দিয়ে মোড়ানো ছিল মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো।
পরে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট এসে খণ্ডিত মরদেহের ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে। এ ঘটনায় নিহতের ছোট বোন মোছা. আনজিরা বেগম শাহবাগ থানায় বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় নিহত আশরাফুলের বন্ধু জরেজ মিয়াকে প্রধান আসামি করে এজাহার দায়ের করা হয়।
এজাহারে আনজিরা বেগম লিখেছেন, তার বড় ভাই আশরাফুল হক দিনাজপুরের হিলি বন্দর থেকে সারাদেশে পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, আলুসহ কাঁচামাল সরবরাহ করতেন। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে আসামি জরেজকে নিয়ে ঢাকায় আসেন তিনি।
এরপর থেকে আশরাফুলের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। স্বজনদের সন্দেহ, আসামি জরেজ তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আসামিদের সহযোগিতায় গত ১১ নভেম্বর রাত থেকে ১৩ নভেম্বর রাতের মধ্যে যে কোনো সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আশরাফুলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন।
হত্যার পর মরদেহ মোট ২৬টি খণ্ডে খণ্ডিত করে গুম করার উদ্দেশ্যে দুটি নীল রঙের ড্রামের ভেতর ভরে রেখে অজ্ঞাতস্থানে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
মন্তব্য করুন
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন একই সাথে গণভোট গ্রহণ করা হবে।
গণভোটের ব্যালটে চারটি প্রশ্ন থাকবে বলে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি জানান, জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত প্রস্তাবে থাকবে চারটি প্রশ্ন।
গণভোটের দিন এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে আপনি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে আপনার মতামত জানাবেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এখানে প্রশ্নটি যেভাবে থাকবে তা হলো ‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্ন লিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?’
ক. নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।
খ. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
গ. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।
ঘ. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, গণভোটের দিন এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে আপনি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে আপনার মতামত জানাবেন।
তিনি জানান, গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই প্রতিনিধিরা একইসাথে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে।
সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হবার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এর মেয়াদ হবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা অনুসারে সংবিধানে জুলাই জাতীয় সনদ অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন
মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানাধীন মানব পাচার মামলার এজাহারনামীয় আসামি মোঃ তায়েম উদ্দিন (১৯)’কে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
র্যাব-১০ এবং র্যাব-৭ এর যৌথ অভিযানে গত ১২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত ৪টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানাধীন বিবিরহাট বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখ সকালে মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানার চরমস্তপুর এলাকায় সংঘটিত মানব পাচার মামলার মূল আসামি ছিলেন তায়েম উদ্দিন। তিনি ও তার সহযোগীরা ভিকটিম মাসুদ মাতুব্বর (৩২)’কে ইতালিতে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২২ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রতারণা করেন।
পরবর্তীতে ভিকটিমকে দুবাই হয়ে লিবিয়া পাঠানো হয়। সেখানে মাফিয়া চক্রের সদস্যরা তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করে ভিডিও ধারণ করে এবং পরিবারের কাছে পাঠিয়ে ৮ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে বিভিন্ন সময়ে ভিকটিমের পরিবার নগদ ও ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ৯৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও ভিকটিমকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। উল্টো আসামিরা আরও ৭ কোটি টাকা দাবি করে।
এ ঘটনায় ভিকটিমের মা রাজৈর থানায় মামলা দায়ের করলে (মামলা নং-০৯, তারিখ-০৭/১১/২০২৫, ধারা-৬/৭/৮/১০ মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২) তদন্তকারী কর্মকর্তা র্যাব-১০ এর সহায়তা চান।
র্যাব-১০ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আসামির অবস্থান শনাক্ত করে এবং র্যাব-৭ এর সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে তায়েম উদ্দিনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানাধীন কাউছার খান (২০) হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি আক্কাশ শেখ (৪৫)’কে রাজধানীর দয়াগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। সন্ত্রাসবাদ, হত্যা, মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে র্যাব জনগণের আস্থা অর্জন করেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১০ গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করে মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানাধীন বাসাইল এলাকায় সংঘটিত কাউছার খান হত্যা মামলার আসামি আক্কাশ শেখ (৪৫)’কে গ্রেফতার করে।
র্যাব জানায়, বালু ভর্তি বাল্কহেড নিয়ে ব্রিজের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় ব্রিজের ক্ষতি হওয়াকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে আসামি আক্কাশ শেখসহ তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভিকটিম সাইউল ইসলাম, তার ছেলে কাউছার খান (২০) ও মামাতো ভাই অহিদুল (৩৫)-এর ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে সিরাজদিখান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং অবস্থার অবনতি হলে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ আগস্ট সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে কাউছার খান মারা যান।
ঘটনার পর নিহতের বাবা বাদী হয়ে সিরাজদিখান থানায় মামলা করেন (মামলা নং-০৬, তারিখ ০৭/০৮/২০২৫, ধারা ১৪৩/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৫০৬(২)/১১৪/৩৪/৩০২ পেনাল কোড, ১৮৬০)। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা র্যাবের সহযোগিতা কামনা করলে র্যাব-১০ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে।
পরবর্তীতে র্যাব-১০ এর একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১২ নভেম্বর ২০২৫ বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে ডিএমপি, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানাধীন দয়াগঞ্জ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামি আক্কাশ শেখ (৪৫)’কে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
গতকাল রাত থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সড়কে তেমন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দেখা যায়নি।
বরং রাজধানীর অফিসপাড়া খ্যাত মতিঝিল, দিলকুশা, পল্টন, দৈনিক বাংলা ও ফকিরাপুল এলাকায় স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাভাবিকভাবে লেনদেন চলছে।
সকাল থেকেই এসব এলাকার বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকদের উপস্থিতি দেখা গেছে। কর্মকর্তারা জানান, দিনের শুরুতে কিছুটা কম গ্রাহক এলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বাড়ছে। লেনদেনের পরিবেশ পুরোপুরি স্বাভাবিক।
ইসলামী ব্যাংকের দিলকুশা শাখায় চেক ভাঙাতে আসা গ্রাহক সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘ভাবছিলাম লকডাউনের কারণে ভিড় কম থাকবে, কিন্তু আসার পর দেখি সব স্বাভাবিক। খুব অল্প সময়েই কাজ শেষ হয়েছে।’
অন্যদিকে, সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ের গ্রাহক নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আজ টাকার প্রয়োজন ছিল, তাই এসেছি। শুরুতে পরিবার থেকে নিষেধ করেছিল, আমিও একটু শঙ্কিত ছিলাম। কিন্তু বাইরে এসে দেখি সব ঠিক আছে, সবাই নিজ নিজ কাজ করছে।’
লেনদেনের পরিস্থিতি সম্পর্কে সোনালী ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘কোথাও লকডাউনের প্রভাব নেই। গ্রাহকরা স্বাভাবিকভাবে ব্যাংকমুখী হচ্ছেন।
সকাল থেকে লেনদেন চলেছে, আর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকের উপস্থিতিও বাড়ছে। এককথায়, অন্যান্য দিনের মতোই লেনদেন কার্যক্রম চলছে।’
মন্তব্য করুন
তবে এ আগুনের ঘটনার খবর পায়নি বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। জানা গেছে, আগুন তেমন বড় নয়, কিছু ব্যানার ও ময়লার মধ্যে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা স্লোগান দিতে থাকেন—‘আওয়ামী লীগের আস্তানা ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘গোপালগঞ্জের গোলাপি আর কতকাল জ্বালাবি’, ‘যুবলীগের কালো হাত ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’।
আজ বৃহস্পতিবার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ডাকা ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি চলছে। এ কর্মসূচি ঘিরে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
এদিকে, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ১৭ নভেম্বর (সোমবার) তারিখ ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এদিন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল রায়ের এ তারিখ ঠিক করেন।
আলোচিত এ মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন রয়েছে পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আনসার-ভিডিপির সদস্যরা।
মন্তব্য করুন
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে তিনি ভাষণ শুরু করবেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি নিউজ এবং বিটিভি ওয়ার্ল্ড ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।
বুধবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান।
প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে জুলাই জাতীয় সনদ বা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ডাকা ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি চলছে। এ কর্মসূচি ঘিরে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
এদিকে, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ১৭ নভেম্বর (সোমবার) তারিখ ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল রায়ের এ দিন ঠিক করেন।
মন্তব্য করুন
ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানাধীন মাচ্চর আমীরাবাদ রেল স্টেশন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আনুমানিক ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা মূল্যমানের ১১ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০।
র্যাব জানায়, মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর ২০২৫) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
১️⃣ তিলকজান (৫০), স্বামী- মোঃ নবির মন্ডল, সাং- ভাগজতচর।
২️⃣ কহিনুর বেগম (৪৮), স্বামী- আসমত বেপারী, সাং- ক্রোফটনগর, উভয়েই দৌলতপুর, কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাগুরা ও কুষ্টিয়া জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করত।
গ্রেফতারকৃত তিলকজানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৪টি মাদক মামলা এবং কহিনুর বেগমের বিরুদ্ধে ২টি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
উদ্ধারকৃত মাদকসহ গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে।
র্যাব জানায়, মাদক সমাজের এক ভয়াবহ বিষফোঁড়া, যা যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। র্যাব-১০ “মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি” অনুসরণ করে আন্তরিকভাবে মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন
ঢাকা, ১১ নভেম্বর ২০২৫:
রাজধানীর সূত্রাপুরের শ্যামবাজার এলাকায় র্যাব-১০ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে বিএসটিআই অনুমোদনহীন ও নিষিদ্ধ কেমিক্যাল বিক্রয়ের প্রমাণ পাওয়ার পর এক ভ্রাম্যমাণ আদালত ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছেন।
পাশাপাশি আনুমানিক ৫০ টন অবৈধ কেমিক্যাল জব্দ করে একটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে।
অভিযানটি পরিচালনা করেন জনাব শরীফ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ঢাকা, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০ এবং বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সহায়তায়।
অভিযানে এস.কে. ট্রেডার্স নামের প্রতিষ্ঠানের গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল জব্দ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত ৩ জন কর্মচারীকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ হাজার টাকা জরিমানা এবং অপর ৩ জনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, উক্ত প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ কেমিক্যাল বিক্রি করে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে এবং মানব জীবনের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, জনস্বার্থে নিষিদ্ধ কেমিক্যালের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি অনুসরণ করে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন
সোমবার রাতে এই আচরণবিধি জারি করা হয়। এতে প্রথমবারের মতো নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার, ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এছাড়া, একজন প্রার্থী তার প্রচারণায় ২০টির বেশি বিলবোর্ডও ব্যবহার করতে পারবেন না। একমঞ্চে ইশতেহার ঘোষণা ও আচরণবিধি মানতে প্রার্থী ও দলকে অঙ্গীকারনামা দিতে হবে।
আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও দেড় লাখ জরিমানা এবং দলের জন্য দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও রয়েছে ইসির।
ইসির জারি করা নির্বাচনী আচরণবিধিতে প্রথমবারের মতো পোস্টার ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া হলো। এতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা কোনো প্রকার পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছিলেন, ‘আচরণবিধি আমরা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করে রেখেছিলাম। আরপিও জারি হওয়ায় আজ আচরণবিধি গেজেটে পাঠানোর জন্য দেওয়া হয়েছে।’
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও ২০০৮ সালের আচরণবিধির সঙ্গে সমন্বয় রেখে বেশ কিছু নতুন বিষয় যুক্ত করে এবার নতুন আচরণবিধি প্রণয়ন করা হলো।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ জারি হওয়ার আলোকে সোমবার আচরণবিধি গেজেট আকারে জারি করেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ। আচরণবিধিতে যেসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো–
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারণা
কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা পরিচালনা করতে পারবে না।
তবে এক্ষেত্রে প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট বা দল বা প্রার্থী প্রচার শুরুর আগেই সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইল আইডিসহ অন্যান্য শনাক্তকরণ তথ্যাদি রিটার্নিং অফিসারের নিকট দাখিল করতে হবে।
প্রচার-প্রচারণাসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করা যাবে না। ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ভুল তথ্য, কারও চেহারা বিকৃত করা ও নির্বাচন সংক্রান্ত বানোয়াট তথ্যসহ সব প্রকার ক্ষতিকর কনটেন্ট বানানো ও প্রচার করা যাবে না।
প্রতিপক্ষ, নারী, সংখ্যালঘু বা অন্য কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচনী স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার করা যাবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচন সংক্রান্ত সব কনটেন্ট শেয়ার ও প্রকাশের আগে সত্যতা যাচাই করতে হবে।রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি, ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে কিংবা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কোনো প্রার্থী বা ব্যক্তির চরিত্র হনন কিংবা সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে,
সাধারণভাবে বা সম্পাদন করে কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা কোনো মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, পক্ষপাতমূলক, বিদ্বেষপূর্ণ, অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ এবং মানহানিকর কোনো কনটেন্ট তৈরি, প্রকাশ, প্রচার ও শেয়ার করতে পারবেন না।
গুজব ও এআই অপব্যবহার বন্ধে নির্বাচনী অপরাধ বিবেচনায় শাস্তির বিধান রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে এবার নতুন ধারা যুক্ত করা হয়।
আচরণবিধিতে আরও যা রয়েছে–
কোনো দল বা প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদেশে জনসভা, পথ সভা, সভা-সমাবেশ বা কোনো প্রচারণা করতে পারবে না। ভোটের প্রচারে থাকছে না পোস্টারের ব্যবহার। একজন প্রার্থী তার সংসদীয় আসনে ২০টির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবে না; যার দৈর্ঘ্য হবে সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ১৬ ফুট আর প্রস্থ ৯ ফুট।
নির্বাচনের দিন ও প্রচারের সময় কোনো ধরনের ড্রোন, কোয়াডকপ্টার বা এ জাতীয় যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো প্রার্থী ও প্রতিষ্ঠান ভোটার স্লিপ বিতরণ করতে পারবে। তবে ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি, পদের নাম ও প্রতীক উল্লেখ করতে পারবে না।
বিলবোর্ডে শুধু যেগুলো ডিজিটাল বিলবোর্ড, সেগুলোতে আলোর ব্যবহার করা যাবে। বিদ্যুতের ব্যবহার করা যাবে। তাছাড়া আলোকসজ্জার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেটে পলিথিনের আবরণ নয়, প্লাস্টিক (পিভিসি) ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না।
সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির তালিকায় অন্তবর্তীকালীন/তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদেরও যোগ করা হয়েছে। ফলে তারা প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নামতে পারবেন না।
প্রচারে পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহারে জোর দেওয়া হয়েছে; প্রচার সামগ্রীতে পলিথিন, রেকসিনের ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। প্রচারের সময় শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলে রাখতে হবে। আচরণবিধি মেনে চলার ব্যাপারে প্রার্থী ও দলের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামাও দিতে হবে।
আচরণবিধির ‘গুরুতর’ অপরাধের ক্ষেত্রে আরপিওতে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রয়েছে। আগে আচরণবিধিতে আরপিও অনুচ্ছেদটি ছিল না, এবার যুক্ত করা হয়েছে।
নির্বাচনী অপরাধে আরপিও ৯১ ধারা অনুযায়ী প্রার্থিতা বাতিল করে থাকে ইসি। এ বিষয়টি আচরণবিধিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে।
গণমাধ্যমের সংলাপ ও সব প্রার্থীর এক মঞ্চে ইশতেহার ঘোষণার সুযোগ রাখা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট আসনে সব প্রার্থীকে নিয়ে একদিনে তাদের ইশতেহার বা ঘোষণাপত্রগুলো পাঠ করার ব্যবস্থা করবেন।
প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং পদ্ধতি চালু করা হয়েছে এবার। দেশের ভেতরে তিন ধরনের ব্যক্তি ও প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটাররা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন।
আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশ ও আচরণবিধি জারির মধ্যে দিয়ে নির্বাচনী আইনের সব ধরনের সংস্কার কাজ শেষ হলো।
ইতিমধ্যে ভোটার তালিকা আইন সংশোধন, নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ বিধান আইন সংশোধন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন সংশোধন, ভোটকেন্দ্র নীতিমালা, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষণ নীতিমালা, সাংবাদিক নীতিমালাসহ সব ধরনের আইন-বিধি সংস্কার করেছে ইসি।
মন্তব্য করুন
রাজবাড়ী সদর থানাধীন খানখানাপুর রাস্তাডাঙ্গা এলাকায় দোকানের টিনের চাল কেটে মোবাইল চুরির ঘটনায় ০৩টি মোবাইল উদ্ধারসহ একজন চোর চক্রের সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০।
র্যাব জানায়, গত ১৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ০২টা ৫৫ মিনিটে রাজবাড়ী জেলার খানখানাপুর রাস্তাডাঙ্গা এলাকার মোঃ আব্দুর রব শেখ (৪২)-এর মালিকানাধীন “মেসার্স আরাফ ট্রেডার্স” নামের মোবাইল শোরুমের টিনের চাল কেটে দুর্বৃত্তরা ১৭টি মোবাইল ফোন ও ৪টি এয়ারপড চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া পণ্যের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
ঘটনার পর রাজবাড়ী সদর থানায় মামলা নং-২৪, তারিখ-১৮/১০/২০২৫, ধারা-৪৫৭/৩৮০ পেনাল কোড, ১৮৬০ অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চুরি চক্রের সদস্যদের সনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব-১০, ঢাকা বরাবর অধিযাচনপত্র প্রেরণ করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গত ০৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ২২টা ২০ মিনিটে ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানাধীন পূর্ব গোয়ালচামট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চুরির ঘটনায় জড়িত আসামি মোঃ অনিক হোসেন (২৩), পিতা- লিটন খান, সাং- সজ্জনকান্দা, থানা ও জেলা- রাজবাড়ী’কে গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত অনিক হোসেন আন্তঃজেলা মোবাইল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি হওয়া ০৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
প্রতিবেদন:
রাজধানীর কোতয়ালীতে দূর্ধষ চুরির মামলার আসামি শ্রী উত্তম কুমার (২৮)’কে ঢাকার আজিমপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, ডিএমপি, ঢাকার কোতয়ালী থানাধীন রমাকান্ত নন্দী লেনের ৬ষ্ঠ তলা ভবনে অনিক সাহা (২৪)’এর বাসা থেকে চুরি যাওয়ার ঘটনায় মামলার এজাহারনামীয় আসামি উত্তম কুমারকে শনাক্তের পর গ্রেফতার করা হয়।
গত ২৩ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালের মধ্যে গাড়িচালক শ্রী উত্তম কুমার (২৮) বাসা বাড়া দেওয়ার কথা বলে অনিক সাহার বাসা থেকে আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ও পোশাকসহ আনুমানিক ৫০ লাখ ৪ হাজার টাকার মালামাল সরিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ডিএমপি, ঢাকার কোতয়ালী থানায় মামলা নং- ০৩, তারিখ- ০২ জানুয়ারি ২০২৫ খ্রি., ধারা- ৩৮১ পেনাল কোড, ১৮৬০ অনুযায়ী মামলা রুজু হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব-১০, ঢাকা বরাবর অধিযাচনপত্র প্রেরণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অদ্য ০৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ দুপুর ২টায় ডিএমপি’র লালবাগ থানাধীন আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামি উত্তম কুমারকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
র্যাব জানায়, “বাংলাদেশ আমার অহংকার” প্রতিপাদ্যে পরিচালিত এই বাহিনী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অপরাধ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, হত্যা, ছিনতাই, অপহরণ ও প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেফতার করে জনআস্থা অর্জন করেছে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদক উদ্ধার করে সংস্থাটি প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার (০৯ নভেম্বর ২০২৫) সকাল আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটে র্যাব-১০ এর একটি অভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পেশাদার অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার বাগবাড়ী রাজপাড়া এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে সকাল আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে মোঃ আবুল কালাম আজাদ (৪২) এর তিনতলা ভবনের ছাদের সিঁড়ির কোণায় তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ২টি বিদেশি পিস্তল ও ২টি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। তবে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্র ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রসমূহ আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-১০ জানায়, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে বাহিনীটি সব সময় সক্রিয় রয়েছে এবং জননিরাপত্তা বজায় রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এই অভিযানও তারই অংশ, যা এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।
মন্তব্য করুন
রাজধানীর শ্যামপুরে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত গাড়ির মেকানিক মোঃ সজীব পাঠান (৩৫) হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোঃ শাহীন (৩০)–কে রাজধানীর ধোলাইরপাড় এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সন্ত্রাসবাদ, হত্যা, মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১০ এই সফল অভিযানটি পরিচালনা করে।
র্যাব জানায়, গত ১৩ অক্টোবর ২০২৫ বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে শ্যামপুর থানাধীন জুরাইন মুন্সীবাড়ী এলাকায় পাওনা টাকা চাইতে গেলে আসামি শাহীন ধারালো সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে সজীব পাঠানকে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন বাদী হয়ে শ্যামপুর থানায় মামলা (নং-১০, তারিখ-১৪/১০/২০২৫, ধারা ৩০২ পেনাল কোড) দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র্যাব-১০-এর সহযোগিতা কামনা করলে, র্যাবের একটি চৌকস দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ (০৯ নভেম্বর ২০২৫) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে র্যাব-১০ এর আভিযানিক দল ডিএমপি, ঢাকার কদমতলী থানাধীন ধোলাইরপাড় কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি শাহীনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত শাহীন চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ থানার বলাখাল এলাকার মোঃ আলী আহমেদের ছেলে। তার বিরুদ্ধে শ্যামপুর থানায় আরও দুটি মাদক মামলা রয়েছে বলে র্যাব জানিয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
শনিবার (৮ নভেম্বর) রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষকরা সঙ্গে আনা পলিথিন, মাদুর ও বিছানার চাদর বিছিয়ে খোলা আকাশের নিচে শুয়ে আছেন। অনেকে দিনভর ঘটে যাওয়া নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন। অনেকে আবার ক্লান্ত-শ্রান্ত শরীর এলিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন।
‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’র নেতারাও শহীদ মিনারে অবস্থান করছেন। তারা আহত শিক্ষকদের মধ্যে যারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে শহীদ মিনারে ফিরে এসেছেন, তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন।
পটুয়াখালী থেকে আসা সহকারী শিক্ষক আনসারুল ইসলাম বলেন, ‘আমি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স পাস করে শিক্ষকতা পেশায় এসেছি। যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে এ চাকরি করছি। তাহলে আমাদের কেন দশম গ্রেড দেওয়া হবে না?
অথচ ১৬তম গ্রেডে চাকরিতে যোগ দেওয়া প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে দশম গ্রেডে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। আমাদের দশম গ্রেড দিতে হবে। অন্যথায় আমরা ঘরে ফিরবো না।’
নাজমুন নাহার এসেছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে। তিনি মাদুর বিছিয়ে খোলা আকাশের নিচে শুয়ে আছেন। সঙ্গে আরও কয়েকজন শিক্ষিকা। নাজমুন নাহার বলেন, ‘নারী হয়ে আমরা আজকে খোলা আকাশের নিচে কেন, তা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন।
শখ করে কেউ এখানে আসবে না। ১৩তম গ্রেডে আমাদের যে বেতন-ভাতা দেওয়া হয়, তা দিয়ে সংসার চালানো কষ্টসাধ্য। আমার অনেক সহকর্মী ঋণগ্রস্ত। শিক্ষকদের আর্থসামাজিক উন্নতি না হলে এ জাতিরও উন্নতি হবে না।’
রাতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন
এদিকে, শিক্ষকদের ওপর পুলিশের হামলা, পাঁচজন শিক্ষককে আটকের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাত ১২টা ১ মিনিটে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি করেন আন্দোলনরত প্রাথমিক শিক্ষকরা।
প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের অন্যতম নেতা ও বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, আজ রাত ১২টা ১ মিনিটে আমরা মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি পালন করবো। শাহবাগ থানায় আটক থাকা শিক্ষকদের মুক্তি ও আহতদের সুচিকিৎসা দেওয়ার দাবি এবং পুলিশি হামলার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি করা হবে।
রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি
তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন ও পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রোববার (৯ নভেম্বর) থেকে সারা দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সহকারী শিক্ষকরা।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি শামসুদ্দিন মাসুদ।
তিনি বলেন, ‘দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন ও পুলিশের হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল (রোববার) থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থানের পাশাপাশি সারাদেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি চলবে।’
আটক ৫ শিক্ষকের মুক্তি দাবি
তিন দফা দাবিতে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের চলমান কর্মসূচি থেকে পাঁচজন শিক্ষককে পুলিশ আটক করেছে বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। অবিলম্বে আটকদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
শনিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’র পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, শাহবাগ থেকে আটক শিক্ষকরা হলেন- জয়পুরহাটের সহকারী শিক্ষক ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক মু. মাহবুবুর রহমান, পটুয়াখালীর লিটন মিয়া, জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের আব্দুল কাদের, ধামরাইয়ের শরিফুল ইসলাম ও কুমিল্লার মো. সোহেল।
তবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবি
সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবিগুলো হলো—দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, ১০ বছর ও ১৬ বছরপূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধান ও শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা সাড়ে ৬৫ হাজারের বেশি। এসব বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক সংখ্যা তিন লাখ ৮৪ হাজার।
গত ২৪ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম থেকে দশম গ্রেডে এবং ১৩তম গ্রেডে থাকা শিক্ষকদের বেতন ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়। তবে এ পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নন সহকারী শিক্ষকরা।
শিক্ষকদের আন্দোলন অযৌক্তিক: গণশিক্ষা উপদেষ্টা
এদিকে, খুলনায় এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, দশম গ্রেডের দাবিতে সহকারী শিক্ষকদের এ আন্দোলন অযৌক্তিক।
তিনি বলেন, বেশিরভাগ সহকারী শিক্ষক মনে করেন দশম গ্রেডের এ দাবি যৌক্তিক নয়। প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষকদের সংখ্যা অনেক বেশি। ফলে তাদের দশম গ্রেডে আনা; এটি সম্ভব নয়।
একবারে ১৩ থেকে ১০ম গ্রেডে আনার কোনো যুক্তিই নেই। ‘তারা যেন ১১তম গ্রেড পেতে পারেন, সেজন্য আমরা কাজ করছি। তাদের এ মুহূর্তে আন্দোলনে যাওয়াটাও যৌক্তিক নয়।’ যোগ করেন বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
মন্তব্য করুন
শনিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর রাজারবাগস্থ বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা বলেন।
সভায় পুলিশপ্রধান উপস্থিত কর্মকর্তাদের পেশাদারত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
এসময় চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উপস্থিত কর্মকর্তারা তাদের নিজ নিজ এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং নির্বাচনের সময় সার্বিক পরিস্থিতি নির্বিঘ্ন ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেন।
সভায় ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন- র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক এ কে এম শহীদুর রহমান, স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রধান মো. গোলাম রসুল, পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম,
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. সরওয়ার; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস. এন. মো. নজরুল ইসলাম; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স ও প্রকিউরমেন্ট) হাসান মো. শওকত আলী;
ডিএমপির ডিবিপ্রধান মো. শফিকুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. জিললুর রহমানসহ ডিএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
মন্তব্য করুন
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ১০ হাজার ২১৯টি শূন্য পদের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে আজ শনিবার (৮ নভেম্বর)। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে চলবে আগামী ২১ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।
রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীরা dpe.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা, যা টেলিটক প্রি-পেইড নম্বরের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।
সহকারী শিক্ষক পদটি ১৩তম গ্রেডে, জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ১১,০০০–২৬,৫৯০ টাকা বেতন কাঠামো প্রযোজ্য। আবেদনকারীর বয়স ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ২১ থেকে ৩২ বছর হতে হবে।
প্রার্থীকে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি থাকতে হবে। কোনো স্তরে তৃতীয় বিভাগ বা সমমানের ফল গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রার্থীরা অনলাইনে ফরম পূরণ করে সাবমিট করলে একটি ড্রাফটস অ্যাপ্লিকেন্ট কপি পাবেন। তথ্য যাচাই করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ১১২ টাকা (ফি + সার্ভিস চার্জ + ভ্যাট) পরিশোধ করতে হবে। ফি পরিশোধের পর ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ফাইনাল অ্যাপ্লিকেন্ট কপি ডাউনলোড করতে হবে।
সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক—দুই ধাপের পরীক্ষা হবে।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিজ উপজেলা বা শিক্ষা থানায় নিয়োগ দেওয়া হবে।
📍 সূত্র: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE)
📅 আবেদন শুরু: ৮ নভেম্বর ২০২৫
⏰ শেষ তারিখ: ২১ নভেম্বর ২০২৫, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট
🌐 আবেদন: dpe.teletalk.com.bd
মন্তব্য করুন
এমনকি টিভি কমেডি থেকে শুরু করে স্ট্যান্ডআপ কমেডিতেও ঠাট্টা করে বলা হয়, মেয়েদের মূত্রথলি বুঝি খুবই ছোট। কিন্তু শারীরবৃত্তীয়ভাবে এই ধারণা কতটা সঠিক?
সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো, বিষয়টি এমন না। এই ব্যাপারটি মূলত শারীরবিদ্যা, শারীরিক কার্যপ্রক্রিয়া ও সামাজিক আচরণের এক জটিল বন্ধন।
নারীরা ঘনঘন বাথরুমে যাওয়ার তাগিদ বা প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে পারে ঠিকই।
কিন্তু নারী আর পুরুষের মূত্রথলির আকারে প্রকৃত অর্থে খুব বেশি তফাৎ নেই। আমাদের মূত্রথলি অনেকটা পেশিবহুল ফোলানো বেলুনের মতো, যা প্রসারিত হতে পারে। এর দু'টো গুরুত্বপূর্ণ অংশ রয়েছে। এক, ডিট্রুজার মাসল। দুই, ট্রানজিশনাল এপিথেলিয়াম।
ডিট্রুজার হলো মূত্রথলির দেয়ালে থাকা মসৃণ পেশি। এর বিশেষ এক ইলাস্টিক ক্ষমতা রয়েছে। অর্থাৎ, এটি অনেক বেশি সম্প্রসারিত হতে পারে। তাই, থলিতে মূত্র জমে গেলেও এটি সহজে মস্তিষ্কে এই সংকেত দেয় না যে "থলি ভর্তি" হয়ে গেছে।
যখন থলিতে অনেক বেশি মূত্র জমে যায়, তখন মাসল সংকুচিত হয়ে মূত্র বের করে দেয়।
মূত্রথলির ভেতরে যে আস্তরণ থাকে, তার নাম ট্রানজিশনাল এপিথেলিয়াম, যা অনেকটা ভাঁজের মতো। মূত্র জমা হলে এটি নিজের আকৃতি বদলায়। কখনো প্রসারিত হয়, কখনো লম্বা হয়ে যায়, যাতে করে মূত্রথলি বেশি করতে প্রস্রাব ধরতে পারে।
এই আস্তরণটি আবার প্রস্রাবে থাকা বিষাক্ত উপাদান থেকে ভেতরের টিস্যুগুলোকে রক্ষা করে।
মূত্রথলির এই ডিজাইনের জন্য মূত্রথলি কোনো প্রকার না ফেটে বা ঢিলেঢালা না হয়ে এবং অহেতুক প্রস্রাবের চাপ অনুভব না করিয়ে জীবনভর প্রসারিত ও সংকুচিত হতে পারে।
মন্তব্য করুন
নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি পূর্ব দক্ষিণপাড়া বাইতুল আমান এলাকায় গ্রাম্য আধিপত্য ও পূর্ব বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠকে নৃশংস হামলায় নিহত আবুল কাশেম (৫০) হত্যা মামলার দুই আসামিকে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো— মো: রাসেল মাহামুদ সজীব (২৫) ও কহিনুর বেগম (৪৫)।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ বিকালে স্থানীয়দের খেলাধুলা বিষয়ক বাগ-বিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে। পরবর্তীতে স্থানীয় মসজিদ কমিটির মাধ্যমে আপোষের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ২৪ অক্টোবর দুপুরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আসামিরা ভিকটিম আবুল কাশেমসহ কয়েকজনের উপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
হামলায় গুরুতর আহত আবুল কাশেমকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সোনাইমুড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে সোনাইমুড়ি থানায় মামলা নং-১৮, তারিখ-২৫/১০/২০২৫, ধারা-১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩০২/৩৭৯/৪২৭/৫০৬/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০ অনুযায়ী মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের গ্রেফতারের জন্য র্যাব-১০ এর সহযোগিতা চেয়ে অনুরোধ করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় অদ্য ০৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ দুপুরে র্যাব-১০ এর চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ডিএমপি’র কামরাঙ্গীরচর টেকেরহাট ও জন্নাতবাগ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে উক্ত হত্যা মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে যৌতুক মামলায় সাজা ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি মোঃ আতিকুর রহমান (৪২)’কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০।
র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অদ্য ২৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ১৮:৫০ ঘটিকায় ডিএমপি, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানাধীন পানির পাম্পের গলি নয়াপাড়া এলাকায় একটি পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ থানার সিআর মামলা নং-১০/৮, ধারা-৪ যৌতুক নিরোধ আইন ১৯৮০-এর সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি মোঃ আতিকুর রহমান (৪২), পিতা—আব্দুল রাজ্জাক সরকার, সাং—চরহোগলা, থানা—মেহেন্দিগঞ্জ, জেলা—বরিশাল’কে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি স্বীকার করে যে, সে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে ছিল। গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, সমাজ থেকে যৌতুক, মাদক ও নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূলে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন
বিসিএন চ্যানেল প্রতিবেদন:
মুন্সীগঞ্জ জেলার পদ্মা সেতু উত্তর এলাকা থেকে ০৪ বোতল বিয়ার, ০৪ বোতল দেশী মদ ও ০৩ বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, মাদকের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতিতে অটল থেকে র্যাব-১০ নিয়মিতভাবে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১০ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল গতকাল (০৫ নভেম্বর ২০২৫) রাত আনুমানিক ২১.০৫ ঘটিকার সময় মুন্সীগঞ্জ জেলার পদ্মা সেতু উত্তর থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে ০৪ বোতল বিয়ার, ০৪ বোতল দেশী মদ এবং ০৩ বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫১ হাজার টাকা। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ী মোঃ মৃদুল (২৩), পিতা- রেজাউল হোসেন কবিরাজ, সাং- খরিয়া, থানা- পদ্মা সেতু উত্তর, জেলা- মুন্সীগঞ্জ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পলাতক আসামি মোঃ মৃদুল (২৩)’কে আসামি করে এবং উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজুর লক্ষ্যে পদ্মা সেতু উত্তর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, মাদক সমাজের এক ভয়াবহ ব্যাধি, যা যুবসমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে, পারিবারিক বন্ধন নষ্ট করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। র্যাব-১০ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, মাদক নির্মূলে “জিরো টলারেন্স” নীতির বাস্তবায়ন ছাড়া একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত সমাজ গঠন সম্ভব নয়। ভবিষ্যতেও র্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন
সহকারী শিক্ষক পদে অনলাইনে আবেদন শুরু হবে আগামী ৮ নভেম্বর (শনিবার), যা চলবে ২১ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। এতে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়সসীমা
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদটি ১৩তম গ্রেড। জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী এ পদের বেতন ১১০০০-২৬৫৯০ টাকা।
সহকারী শিক্ষক পদটিতে আবেদন করতে ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রার্থীর ন্যূনতম বয়স হতে হবে ২১ বছর এবং সর্বোচ্চ বয়স হবে ৩২ বছর।
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, প্রার্থীকে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্যূন দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ (৪ স্কেলে ন্যূনতম ২.২৫ ও ৫ স্কেলে ন্যূনতম ২.৮) স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি অর্জন করতে হবে।
তবে শিক্ষাজীবনের কোনো স্তরে তৃতীয় বিভাগ অথবা সমমানের জিপিএ অথবা তৃতীয় শ্রেণি অথবা সমমানের সিজিপিএ গ্রহণযোগ্য হবে না।
আবেদনকারীর জন্য আরও যেসব শর্ত
বিবাহিত নারী প্রার্থীরা আবেদনে তাদের স্বামী অথবা পিতার স্থায়ী ঠিকানার যে কোনো একটিতে আবেদন করতে পারবেন। তবে এ দুটি স্থায়ী ঠিকানার মধ্যে তিনি যেটি আবেদনে উল্লেখ করবেন, তার প্রার্থীতা সেই উপজেলা/শিক্ষা থানার জন্য বিবেচিত হবে।
অসত্য/ভুয়া তথ্য সংবলিত/ত্রুটিপূর্ণ/অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র কোনো কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে বাতিল বলে গণ্য হবে। প্রার্থী কর্তৃক দাখিলকৃত/প্রদত্ত কোনো তথ্য বা কাগজপত্র নিয়োগ কার্যক্রম চলাকালে যে কোনো পর্যায়ে বা নিয়োগপ্রাপ্তির পরও অসত্য/ভুয়া প্রমাণিত হলে তার দরখাস্ত/নির্বাচন/নিয়োগ বাতিল করা হবে এবং মিথ্যা/ভুয়া তথ্য সরবরাহ করার জন্য তার বিরুদ্ধে আইনগত/প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা/শিক্ষা থানাভিত্তিক নিয়োগ করা হবে। প্রার্থী যে উপজেলা/ শিক্ষা থানার স্থায়ী বাসিন্দা তিনি সে উপজেলা/শিক্ষা থানার শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিবেচিত হবেন। আবেদনে নিজ জেলা, থানা/উপজেলা ভুল করলে তার প্রার্থিতা বাতিল বলে গণ্য হবে।
নির্বাচিত প্রার্থীকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী নিজ উপজেলা/শিক্ষা থানায় চাকরি করতে হবে। তার বদলি নিজ উপজেলা/শিক্ষা থানার বিদ্যালয়সমূহের মধ্যে সীমিত থাকবে।
ধূমপানসহ যে কোনো ধরনের মাদক গ্রহণের অভ্যাস থাকলে তাদের আবেদন করার প্রয়োজন নেই বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যাবে যেভাবে
এদিকে রাতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও তা বৃহস্পতিবারের (৬ নভেম্বর) জাতীয় পত্রিকায় পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান।
তিনি বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বৃহস্পতিবার পাওয়া যাবে। বুধবার আমরা সব প্রস্তুত করে পত্রিকা অফিসে পাঠিয়েছি। তবে রাত ১২টার পর থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটেও বিজ্ঞপ্তিটি পাওয়া যাচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো শিক্ষক সংকটে ধুঁকছে। প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য। আবার প্রায় ৩২ হাজার সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাদেরকে পদোন্নতি দেওয়া হলে সহকারী শিক্ষকের আরও ৩২ হাজার পদ শূন্য হবে।
তবে নানা জটিলতায় শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছিল না। নারী, মুক্তিযোদ্ধাসহ ৬০ শতাংশ কোটা পদ্ধতি ছেঁটে ফেলতে আগের বিধিমালাটি বাতিল করা হয়। এরপর গত ২৮ আগস্ট ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’ প্রকাশ করা হয়।
নতুন এ বিধিমালায় সংগীত শিক্ষক পদ সৃষ্টি করা হয়। এ নিয়ে বিধিমালা প্রকাশের পরই বিতর্ক শুরু হয়। ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন দল, ধর্মীয় সংগঠনসহ বিভিন্ন পক্ষ তীব্র বিরোধিতা শুরু করে। এতে বাধ্য হয়ে বিধিমালাটি সংশোধন করা হয়। সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা পদ বাতিল করে ২ নভেম্বর সংশোধিত বিধিমালা প্রকাশ করা হয়। এতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে সব বাধা কেটে যায়।
সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার পদ্ধতি
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। লিখিত পরীক্ষা হবে চারটি বিষয়ে। সেগুলো হলো- বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞান, সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি)। এ চারটি বিষয়ে মোট ৯০ নম্বরের পরীক্ষা হবে।
বাংলা ও ইংরেজিতে ২৫ নম্বর করে মোট ৫০ নম্বর এবং গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞান এবং সাধারণ জ্ঞানে (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি) ২০ নম্বর করে মোট ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে নির্বাচিত প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। মৌখিক পরীক্ষা হবে ১০ নম্বরের।
এদিকে ৯০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর (মোট নম্বরের ৫০ শতাংশ) হবে ৪৫ নম্বর। আর মৌখিক পরীক্ষায় পাস নম্বর (১০ এর মধ্যে ৫০ শতাংশ হিসাবে) হবে ৫ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় ৯০ মিনিট সময় দেওয়া হবে। মৌখিক পরীক্ষার জন্য সময় নির্ধারিত নয়।
মন্তব্য করুন
ঢাকা, ০৫ নভেম্বর ২০২৫ঃ
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০ এর আভিযানিক দল রাজধানীর দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থেকে একাধিক মাদক মামলার ০৬ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মোঃ মেহেদী হাসান @ মামুন ঘরামী @ গিট্টু মামুন (২৩)-কে গ্রেফতার করেছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-১০ এর একটি চৌকস দল আজ (০৫ নভেম্বর ২০২৫) দুপুর অনুমান ১৩.০০ ঘটিকায় ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন মিরেরবাগ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামি বরিশাল জেলার গৌরনদী থানার মামলা নং-১৭, জি.আর-৩২২/১৮, ধারা- ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এর ১৯(১) সারণির ০৯(ঘ) এবং জি.আর-২৬৪/১৯ (গৌরনদী), ধারা- ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) এর অধীন একাধিক মামলায় ০৬ বছরের সাজা প্রাপ্ত পলাতক আসামি।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে গৌরনদী থানায় আরও ০৫টি মাদক মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে ছিল।
পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন শনির আখড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ৬০ হাজার টাকা মূল্যমানের ০২ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, ০৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত অনুমান ০০.৩০ ঘটিকার সময় র্যাব-১০ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ী হলেন —
মোঃ মোকতার হোসেন (৩০), পিতা- মৃত গোলাম রসুল, সাং- বিয়াবটতল, আমানগন্ডা, থানা- চৌদ্দগ্রাম, জেলা- কুমিল্লা।
তদন্তে জানা যায়, মোকতার হোসেন একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছিলেন।
উদ্ধারকৃত মাদকসহ তাকে ডিএমপি, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, “মাদক সমাজের সবচেয়ে ভয়াবহ বিষফোঁড়া”, যা তরুণ সমাজকে ধ্বংস করছে এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। র্যাব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে —
👉 “মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তবায়ন ছাড়া সমাজে শান্তি ও উন্নয়ন সম্ভব নয়।”
মন্তব্য করুন
ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানাধীন মুন্সীবাজার এলাকায় র্যাব-১০ এর অভিযানে আনুমানিক ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা মূল্যমানের ৬ কেজি গাঁজাসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় অদ্য ০৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ০২:১০ ঘটিকার সময় র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানাধীন মুন্সীবাজার এলাকায় ঢাকা-টু-মাগুরা মহাসড়কে অভিযান পরিচালনা করে মাদক উদ্ধার ও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে।
অভিযানে গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীর নাম মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (৩৫), পিতা– মোঃ হযরত আলী, সাং– বেতছড়ি, থানা– দিঘিনালা, জেলা– খাগড়াছড়ি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা হতে অবৈধভাবে গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছিলেন।
উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে পূর্বেও খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
র্যাব জানিয়েছে, মাদক সমাজের জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপ, যা তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করছে এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। র্যাব “মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স” নীতিতে অবিচল থেকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন
ঢাকা জেলার কেরাণীগঞ্জে ৪২ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, মাদকের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতিতে অটল থেকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১০ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল গতকাল ০৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ বিকাল অনুমান ১৬.৩০ ঘটিকার সময় কেরাণীগঞ্জ মডেল থানাধীন ভাগনা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে প্রায় ১২ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যের ৪২ (বিয়াল্লিশ) পিস হালকা কমলা রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মোঃ ইমরান (৩০), পিতা- মোঃ আবু কালাম, সাং- দওপাড়া, থানা- শিবচর, জেলা- মাদারীপুর।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি স্বীকার করেছে যে, সে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করে কেরাণীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করত। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যসহ তাকে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে, যেখানে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
র্যাব-১০ বলছে, মাদক সমাজের ভয়াবহ ব্যাধি, যা যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। মাদক নির্মূলে “জিরো টলারেন্স” নীতির বাস্তবায়ন ছাড়া নিরাপদ সমাজ গঠন সম্ভব নয়। র্যাবের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন
ঢাকা: মাদক মামলায় সাজা ওয়ারেন্টভুক্ত দুই আসামিকে ঢাকার কেরাণীগঞ্জ থেকে পৃথক অভিযানে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ০৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল কেরাণীগঞ্জ মডেল থানা এলাকায় পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে প্রথমে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার মামলা নং– ৬(৫)১৯, ধারা– মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ৮(ক) অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোঃ আলী হোসেন (৩০), পিতা– মৃত নুরুল হক, সাং– ভাটেরচর, থানা– গজারিয়া, জেলা– মুন্সীগঞ্জ’কে দুপুর অনুমান ১৪.৩০ ঘটিকার সময় ভাগনা ঢাকা টাওয়ার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে আরেকটি অভিযানে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার মামলা নং– ২১(৯)২২, ধারা– মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোঃ আল আমিন (২৭), পিতা– মৃত সেলিম মিয়া, সাং– ভাগনা, থানা– কেরাণীগঞ্জ মডেল, জেলা– ঢাকা’কে সন্ধ্যা অনুমান ১৮.৩০ ঘটিকার সময় কদমতলী মোড় এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করে যে, তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিল। পরবর্তীতে তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন
বিস্তারিত প্রতিবেদন:
দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও ভেজাল নির্মূলে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। সমাজের বিভিন্ন অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে র্যাবের কার্যক্রম সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ (০৩ নভেম্বর ২০২৫) র্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং র্যাব-১০ এর সহযোগিতায় নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন শিমরাইল এলাকায় একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে বিএসটিআই অনুমোদনবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ, নকল ও ভেজাল প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মোঃ আমিনুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ীকে ১,০০,০০০/- টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ নকল প্রসাধনী সামগ্রী জব্দ করে প্রতিষ্ঠানটি সীলগালা করা হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রয়ের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে ফেলছিলেন। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, এ ধরনের অবৈধ ও প্রতারণামূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থে “ভেজাল ও প্রতারণার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি” অনুসরণ করে র্যাব ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
মন্তব্য করুন
ঢাকা জেলার দোহার এলাকায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এক পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে।
র্যাব জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতিতে অটল থেকে র্যাব নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ০২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ২০.১৫ ঘটিকার সময় দোহার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৭৮,৯০০ টাকা মূল্যের ২৬৩ পিস হালকা কমলা রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীর নাম আলহাজ মোল্লা (৫৪), পিতা—মৃত আতর আলী মোল্লা, সাং—ল²ীপ্রসাদ, থানা—দোহার, জেলা—ঢাকা।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করে দোহার ও আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করে আসছিলেন।
উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজুর লক্ষ্যে দোহার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, “মাদক সমাজের ভয়াবহ একটি ব্যাধি, যা যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, পারিবারিক বন্ধন নষ্ট করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।”
র্যাব-১০ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, মাদক নির্মূলে “জিরো টলারেন্স” নীতির বাস্তবায়ন ছাড়া একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত সমাজ গঠন সম্ভব নয়। ভবিষ্যতেও র্যাব-১০ এর এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।
মন্তব্য করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক || বিসিএন চ্যানেল অনলাইন ডেস্ক
ফরিদপুরে পিস্তল ঠেকিয়ে গৃহবধূর কানের দুল ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনার মূলহোতা ও ডাকাতি, খুন, চুরি, মাদকসহ মোট ১০টি মামলার আসামি মোঃ শরীফুল ইসলাম ওরফে ডন শরীফ (৩৮) এবং তার সহযোগী মোঃ রায়হান মোল্লা (২৫)-কে মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০।
র্যাব-১০, সিপিসি–৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৫) ফরিদপুর জেলার সালথা থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে মূল আসামি ডন শরীফ ও তার সহযোগী রায়হান মোল্লাকে গ্রেফতার করে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত খেলনা পিস্তল, সুইচ গিয়ার, ক্ষুর, কেচি, পাবনা জেলা হতে চুরিকৃত মোটরসাইকেল এবং ১.৫০০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
পরে আসামিদের দেওয়া তথ্যমতে ১ নভেম্বর সকালে র্যাব-৬ এর সহায়তায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের হরিণটানা থানা এলাকা থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
গত ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ ভোরে ফরিদপুর শহরের উত্তর শোভারামপুর এলাকায় গৃহবধূ মঞ্জু রানী দাস (৩৫) এর কাছ থেকে অস্ত্র ঠেকিয়ে কানের দুল ছিনিয়ে নেয় দুই ছিনতাইকারী।
ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় মামলা নং–৬৫, তারিখ–২২/১০/২০২৫, ধারা–৩৯২ দণ্ডবিধি ১৮৬০ অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়।
ঘটনার পর র্যাব-১০ এর একটি দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং সোর্সের তথ্য যাচাই করে তারা আসামিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
এরপর একাধিক অভিযান চালিয়ে অবশেষে মূলহোতা ডন শরীফ এবং সহযোগী রায়হান মোল্লা-কে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত শরীফুল ইসলাম ওরফে ডন শরীফ (৩৮) দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর শহর ও আশপাশ এলাকায় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে স্বর্ণালংকার, চেইন ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করে আসছিল।
তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, খুন, চুরি ও মাদকসহ মোট ১০টি মামলা রয়েছে।
তিনি ২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুরের ঝিলটুলী এলাকায় সংঘটিত স্টাফ নার্স অরুণিমা ভৌমিক হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন। ওই ঘটনায় ছিনতাইয়ের সময় হামলার শিকার হয়ে অরুণিমা ভৌমিক নিহত হন।
এছাড়া, ২০২৫ সালের আগস্টে পাবনার এডওয়ার্ড কলেজ এলাকায় মোটরসাইকেল ক্রয়ের নামে প্রতারণা করে এক যুবকের কাছ থেকে ইয়ামাহা আর–১৫ মোটরসাইকেল চুরি করে পালিয়ে যান তিনি।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিরা ভোরবেলা বা রাতের শেষ প্রহরে পথচারীদের টার্গেট করে মোটরসাইকেলে দ্রুত পালিয়ে যেতো, যাতে শনাক্ত করা না যায়। তারা স্থানীয়ভাবে মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের সাথেও জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।
র্যাব–১০ বলেছে—
“র্যাব সর্বদা দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সন্ত্রাস, ছিনতাই, মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে বদ্ধপরিকর। জনগণের সহযোগিতা ও তথ্য প্রদানই র্যাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করছে।
র্যাব বিশ্বাস করে— জনগণের নিরাপত্তাই র্যাবের অঙ্গীকার।”
মন্তব্য করুন
মাওলানা মুহাম্মাদ জুবায়েরের অনুসারী জুবায়েরপন্থি বা শুরায়ী নেজাম আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়েছে, বিগত বছরগুলোতে দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হলেও আগামী বছর সেটি এক পর্বে হবে।
যেখানে মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারী বা সাদপন্থিদের ইজতেমা আয়োজনের সুযোগ থাকবে না।
সোমবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ইজতেমা আয়োজন বিষয়ে কথা বলেন তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ বা শুরায়ী নেজামের শীর্ষ নেতা মুফতি কেফায়েতুল্লাহ আজহারি।
সাদপন্থিরা ইজতেমা আয়োজন করতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নে কেফায়েতুল্লাহ বলেন, সরকারের কাছে তারা লিখিত দিয়ে গতবার শেষবারের মতো ইজতেমার আয়োজন করেছিল। সেক্ষেত্রে তাদের আর ইজতেমা করার সুযোগ নেই।
তাছাড়া উল্লিখত তিন দফা বাস্তবায়ন হলে আমরা বিশ্বাস করি, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না।
যদিও গতকাল রোববার (২ নভেম্বর) তাবলিগের বিবদমান দুপক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, আগামী বছর তাবলিগ জামাতের দুপক্ষের আয়োজনে আলাদা আলাদা বিশ্ব ইজতেমা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা দুই গ্রুপকে নিয়ে আসন্ন ইজতেমার বিষয়ে আলোচনা করেছি। খুবই পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হয়েছে। যেহেতু সামনে নির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচন নিয়ে এখন ব্যস্ত, নির্বাচনের আমেজ শুরু হয়েছে।
ইজতেমা করতে গেলে অনেক মানুষের সমাগম, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জড়িত থাকার বিষয় আছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ইজতেমা হবে ইলেকশনের পর।’
এদিকে, সংবাদ সম্মেলনে মুফতি কেফায়েতুল্লাহ বলেছেন, তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ তাবলিগি এ মেহনতকে দ্বীনি মেহনত হিসেবে বিশ্বাস করে। দ্বীনি কাজের অংশ হিসেবে বর্তমান সরকারের অনুরোধ শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করে আমরা আগামী বিশ্ব ইজতেমা মার্চে আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়েছি।
আমরা বিশ্বাস করি, এ সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে সরকারের প্রতি সহযোগিতার শামিল। বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ৩টি অনুরোধ তুলে ধরা হয়।
সেগুলো হলো—
১. আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের আগেই ইজতেমার দিন-তারিখ ঘোষণা এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম শুরুর জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে অবহিত করার অনুরোধ করছি।
২. ইজতেমা যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানকে অস্থায়ীভাবে কেপিআই (কি পয়েন্ট ইন্সটলেশন) হিসেবে ঘোষণার অনুরোধ জানাচ্ছি।
৩. ইজতেমায় সারা বিশ্ব থেকে আসা বিদেশি অতিথিদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভিসা সহজীকরণ সংক্রান্ত পরিপত্র জারির অনুরোধ জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অন্যরা ইজতেমার প্রস্তুতি, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার বিষয়ে আলোকপাত করেন।
টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরবর্তী এলাকাজুড়ে আয়োজিত বিশ্ব ইজতেমায় প্রতিবছর বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েক লাখ মুসল্লি অংশ নেন। তুরাগ তীরের এই বিশ্ব ইজতেমাকে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম জমায়েত হিসেবে ধরা হয়।
মন্তব্য করুন
সাব-ইন্সপেক্টর অব পুলিশ (নিরস্ত্র) থেকে ইন্সপেক্টর অব পুলিশে (নিরস্ত্র) পদোন্নতি পেয়েছেন ১৪৮ জন, সাব-ইন্সপেক্টর অব পুলিশ (সশস্ত্র) থেকে ইন্সপেক্টর অব পুলিশে (সশস্ত্র) পদোন্নতি পেয়েছেন ৯৭ জন এবং পুলিশ সার্জেন্ট থেকে ইন্সপেক্টর অব পুলিশে (শহর ও যানবাহন) পদোন্নতি পেয়েছেন ২৮ জন কর্মকর্তা।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয় এ আদেশ জনস্বার্থে জারি করা হলো।
মন্তব্য করুন
ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার শোপরামপুর স্কুল সংলগ্ন বাজার এলাকা থেকে ১৪৭ পিস ইয়াবাসহ একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, মাদকের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতিতে অটল থেকে র্যাব নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল (২৮ অক্টোবর ২০২৫) রাত আনুমানিক ২০টা ১৫ মিনিটের সময় র্যাব-১০ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানাধীন শোপরামপুর স্কুল সংলগ্ন বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে আনুমানিক ৪৪,১০০ টাকা মূল্যের ১৪৭ পিস হালকা কমলা রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মোঃ টিটু জোয়াদ্দার (৩৫), পিতা– মোঃ জাহাঙ্গীর জোয়াদ্দার, সাং– পশ্চিম শোপরামপুর, থানা– কোতয়ালী, জেলা– ফরিদপুর।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে টিটু জোয়াদ্দার দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করে ফরিদপুর ও আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজুর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-১০ জানায়,
“মাদক সমাজের ভয়াবহ একটি ব্যাধি, যা যুবসমাজকে ধ্বংস করছে এবং পারিবারিক বন্ধনকে দুর্বল করছে। মাদক নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন ছাড়া একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠন সম্ভব নয়।”
সংস্থাটি আরও জানায়, মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
🟩 সম্পাদকীয় নোট (BCN Online)
র্যাব-১০ এর এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযান দেশের তরুণ সমাজকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মন্তব্য করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক | BCN Channel
ফরিদপুর: চোরাচালান মামলায় সাজা ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি সবুজ মল্লিক (৩৪)-কে ফরিদপুরের কোতয়ালী এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, ২৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী এলাকায় একটি পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর ২৫(বি)(২) ধারায় সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন পলাতক থাকা আসামি সবুজ মল্লিক (৩৪), পিতা—মৃত মিজান মল্লিক, সাং—ইষান গোপালপুর, থানা—কোতয়ালী, জেলা—ফরিদপুর-কে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, সবুজ মল্লিকের বিরুদ্ধে যশোর জেলার চৌগাছা থানায় দায়েরকৃত মামলা নং-১৪, তারিখ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ, বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীনে রয়েছে। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি স্বীকার করে যে, সে দীর্ঘদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
মন্তব্য করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক | BCN Channel
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে মানব পাচার মামলার এজাহারনামীয় আসামি নরেশ বিশ্বাস (৩১)-কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০।
র্যাব জানায়, গত ৩০ মে ২০২৪ তারিখ সকাল অনুমান ০৬.৩০ ঘটিকার সময় পিরোজপুর সদর উপজেলার মাছিমপুর এলাকায় সংঘটিত একটি মানব পাচার মামলার পর থেকে পলাতক ছিলেন নরেশ বিশ্বাস।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, আসামি নরেশ বিশ্বাসসহ অন্যান্য সহযোগীরা ভিকটিম সবুজ-কে মালয়েশিয়ায় একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে তিন বছরের জন্য কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। এ জন্য তারা ভিকটিমের কাছ থেকে ৭ লক্ষ টাকা গ্রহণ করে। পরবর্তীতে তিন মাসের ভিসা প্রদান করে ভিকটিমকে মালয়েশিয়া পাঠালেও বিমানবন্দরে কাউকে রিসিভ করার জন্য পাঠায়নি এবং চুক্তি অনুযায়ী কাজের ব্যবস্থা না করে ভিকটিমকে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেয়।
মালয়েশিয়ায় ভিকটিমকে সামান্য খাদ্য দিয়ে জোরপূর্বক শ্রম আদায় করা হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের বোন পিরোজপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং–২০, তারিখ–২৪/১০/২০২৫ খ্রি., ধারা–৬/৭/৯, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২।
পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র্যাব-১০-এর সহায়তা কামনা করলে, র্যাব-১০ তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারী জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল (২৮ অক্টোবর ২০২৫) বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে, র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার তারাবো এলাকায় অভিযান চালিয়ে মানব পাচার মামলার এজাহারনামীয় আসামি নরেশ বিশ্বাস (৩১), পিতা–নরেন বিশ্বাস, সাং–মরিচবুনিয়া, থানা–বানারিপাড়া, জেলা–বরিশাল-কে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
ফরিদপুর প্রতিনিধি | BCN Channel
ফরিদপুরের মধুখালীতে ৬৬ বোতল ফেনসিডিলসহ দুইজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়।
র্যাব-১০ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল সোমবার (২৯ অক্টোবর ২০২৫) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানাধীন মধুখালী বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় আনুমানিক ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা মূল্যের ৬৬ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
১️⃣ আলী হোসেন সরদার (৪৮), পিতা- মৃত ইমাম সরদার, সাং- রামভদ্রপুর, থানা- কলারোয়া, জেলা- সাতক্ষীরা।
২️⃣ মনিরুল ইসলাম মাসুম (৪০), পিতা- মৃত আঃ আজিজ মোল্লা, সাং- পশ্চিম আলীপুর, থানা- কোতয়ালী, জেলা- ফরিদপুর।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ করে আসছিল। উদ্ধারকৃত ফেনসিডিল ও মোটরসাইকেলসহ তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-১০ জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে তাদের অভিযান চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন
মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য নাফিসা কামালের অরবিটালস ইন্টারন্যাশনালসহ আট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, নাফিসা কামাল ও তার জনশক্তি রপ্তানি প্রতিষ্ঠান অরবিটালস ইন্টারন্যাশনাল ও কতিপয় সহযোগী সিন্ডিকেট সদস্য যথাক্রমে—হাফিযুল বারী মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, স্বত্বাধিকারী ইরভিং এন্টারপ্রাইজ; রফিকুল ইসলাম পাটোয়ারী, স্বত্বাধিকারী আমান এন্টারপ্রাইজ; জসিম উদ্দিন আহমেদ, স্বত্বাধিকারী আহাদ ইন্টারন্যাশনাল লি.;
মো. আকতার হোসাইন, স্বত্বাধিকারী আক্তার রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি; শিউলী বেগম, স্বত্বাধিকারী মালয়েশিয়া বাংলাদেশ হোল্ডিংস (প্রা.) লি.; কাউসার মৃধা, স্বত্বাধিকারী মৃধা ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন ও মোহাম্মদ বশির, স্বত্বাধিকারী রাব্বি ইন্টারন্যাশনালের সংঘবদ্ধভাবে সরকার নির্ধারিত ফি-এর বাইরে মোট ৩৩ কোটি ৪৪ লাখ ৬৩ হাজার ৬১০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, অভিযুক্তরা প্রতারণার মাধ্যমে ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ৩১১১ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠান। সরকার নির্ধারিত জনপ্রতি ফি ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার বিপরীতে অবৈধভাবে জনপ্রতি দেড় লাখ টাকা নেন।
এছাড়া সরকারিভাবে পাসপোর্ট খরচ, কোভিড-১৯ পরীক্ষা বাবদ, মেডিকেল ফি ও পোশাক সংক্রান্ত ফি-এর বাইরে প্রতি কর্মীর কাছ থেকে ৩৬ হাজার ৫০০ টাকা অতিরিক্ত গ্রহণ করার তথ্য পাওয়া যায়।
সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য নাফিসা কামাল ও তার প্রতিষ্ঠান অরবিটালস ইন্টারন্যাশনালসহ অপরাপর অভিযুক্তরা সরকার নির্ধারিত ফি-এর বাইরে জনপ্রতি অতিরিক্ত ১ লাখ ৭ হাজার ৫১০ টাকা এবং মোট ৩৩ কোটি ৪৪ লাখ ৬৩ হাজার ৬১০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়ায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করে সিআইডি।
জসীম উদ্দিন খান জানান, বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট পরিচালনা করছে। মামলাটির তদন্ত পরিক্রমায় অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির সন্ধান করা হচ্ছে।
অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অপরাপর সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করার স্বার্থে সিআইডির নিবিড় তদন্ত ও সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সিআইডির এ কর্মকর্তা।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক | BCN Channel | ২৫ অক্টোবর ২০২৫
মাদকের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি বাস্তবায়নে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) দেশব্যাপী ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে র্যাব-১০ এর একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার কেরাণীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ হেরোইনসহ একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার গদারবাগ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আনুমানিক ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ১৫০ গ্রাম হেরোইন, মাদক বিক্রয়ের ৪০ হাজার ৫০ টাকা নগদ অর্থ এবং একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মোঃ আব্দুল করিম (৩৬), পিতা মৃত আমির হোসেন, সাং- হাকিমপুর ক্লাবপাড়া, থানা- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, জেলা- চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
র্যাব জানায়, আব্দুল করিম একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করতেন। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা রয়েছে।
উদ্ধারকৃত মাদক ও অন্যান্য আলামতসহ গ্রেফতারকৃতকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।
র্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, মাদক সমাজের ভয়াবহ ব্যাধি হিসেবে যুবসমাজকে ধ্বংস করছে, পারিবারিক বন্ধন নষ্ট করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। “মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে র্যাবের জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে,” তিনি আরও বলেন।
📍র্যাব-১০ এর অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।
মন্তব্য করুন
রোববার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) মাসুমা আফরীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবশ্যিক বিষয়ের পরীক্ষাগুলো সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা বা ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। তিন থেকে চার ঘণ্টার এসব পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ২০০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে। ২৭ নভেম্বর বাংলা প্রথমপত্র বিষয় দিয়ে এ পরীক্ষা শুরু হবে। কারিগরি/পেশাগত এবং সাধারণ উভয় ক্যাডারের প্রার্থীদের জন্য এ বিষয় প্রযোজ্য।
পরীক্ষার হল, আসনবিন্যাস ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা পরে কমিশনের ওয়েবসাইটে www.bpsc.gov.bd এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ওয়েবসাইটে http://bpsc.teletalk.com.bd প্রকাশ করা হবে। প্রয়োজনে প্রকাশিত সূচিতে পরিবর্তন বা সংশোধনের অধিকার কমিশন সংরক্ষণ করে পিএসসি।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর ৪৭তম বিসিএসের প্রিলির ফল প্রকাশ করা হয়। এতে সাময়িকভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১০ হাজার ৬৪৪ জন প্রার্থী। তারাই লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগীয় শহরের ২৫৬টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা নেওয়া হয়। এতে অংশ নিতে আবেদন করেন ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭৪৭ জন চাকরিপ্রার্থী।
মন্তব্য করুন
আমি নতুন প্রজন্মের লোক, আমি মিডিয়া দিয়ে যাব। মিডিয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা নীতিমালা অনুসরণ করে দিচ্ছি।’
রোববার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা এ কথা বলেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ।
ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।
নতুন গণমাধ্যম দেওয়ার ক্ষেত্রে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বিভিন্ন অপ-উদ্যোগের কারণে যদি আমাকে সরে যেতে হয়, তাতেও নতুন গণমাধ্যম দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবো। এখানে ফ্রেশ ব্ল্যাড, ফ্রেশ পার্সপেক্টিভের দরকার আছে।’
নতুন গণমাধ্যম দেওয়ার উদ্যোগ ভেস্তে দিতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে- এমন ইঙ্গিত দিয়ে মাহফুজ আলম বলেন, ‘অধিকাংশ গণমাধ্যমের মালিক এখনো আওয়ামী লীগের। এখনো তারা গণমাধ্যম থেকে বেতন নিচ্ছেন। আমরা কোনো গণমাধ্যম বন্ধ করবো না, নতুন গণমাধ্যম দেব। আইন অনুযায়ী কাজ করবো।’
সাংবাদিকদের জন্য একটি প্রাথমিক বেতন প্রস্তাব করে যেতে চান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, আমরা বিজ্ঞাপনের হার বাড়াবো। অন্যদিকে প্রচারসংখ্যার বিষয়টি পুনর্নির্ধারণ করবো। এই সুযোগ শর্তসাপেক্ষে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিজ্ঞাপনের সুবিধা যাদের দেওয়া হবে সেসব প্রতিষ্ঠানকে ওই বেতন কাঠামো অনুসরণ করতে হবে।
মাহফুজ আলম বলেন, আমরা টেলিভিশন নীতিমালা করে দেওয়ার চেষ্টা করছি। টেলিভিশনের ডিজিটাইজেশন করবো। তাতে টিভির কয়েকশ কোটি টাকা রেভিনিউ বাড়বে।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক | BCN Channel
ফরিদপুর: আনুমানিক চার লক্ষ বিশ হাজার টাকা মূল্যমানের ১৪ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০।
র্যাব-১০ জানায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গতকাল (২৪ অক্টোবর ২০২৫) রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানাধীন কামারখালী টোল প্লাজার ফরিদপুর-মাগুরাগামী মহাসড়কে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদকসহ দুইজন সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
১। মোঃ ইকবাল হোসেন মজুমদার (৩৬), পিতা- মৃত নুরুল আলম মজুমদার, সাং- রামগড়, থানা- রামগড়, জেলা- খাগড়াছড়ি;
২। মোঃ শিহাব (৩১), পিতা- মৃত সিরাজুল ইসলাম মল্লিক, সাং- ফুরসন্দী লক্ষীপুর, থানা- ঝিনাইদহ সদর, জেলা- ঝিনাইদহ।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে আনুমানিক ৪,২০,০০০ টাকা মূল্যের ১৪ কেজি গাঁজা এবং ১৬,১৫০ টাকা নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাগুরা ও ঝিনাইদহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছিল।
উদ্ধারকৃত মাদক ও জব্দকৃত টাকা সহ গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজুর লক্ষ্যে মধুখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-১০ জানায়, মাদক সমাজের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ। এটি তরুণ সমাজকে ধ্বংস করছে এবং পরিবার ও সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। র্যাব “মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি” অনুসরণ করে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক | BCN Channel
ঢাকা: মাদক মামলায় সাজা ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি মোঃ সুজন জমাদ্দার (৩৮)’কে ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ২৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে র্যাব-১০ এর আভিযানিক দল দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন আগানগর চেয়ারম্যান মার্কেট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) এর ১০(ক) ধারায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মোঃ সুজন জমাদ্দার (৩৮), পিতা- আব্দুল হাফেজ জমাদ্দার, সাং- লস্করপুর, থানা- মেহেন্দীগঞ্জ, জেলা- বরিশাল’কে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি স্বীকার করেছে যে, সে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে ছিল।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে র্যাব জানায়।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক | BCN Channel
মাদক মামলায় সাজা ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি মোঃ হাসান কাজী (৩৫)’কে রাজধানীর অদূরে ঢাকা জেলার ধামরাই এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
র্যাব-১০ এবং র্যাব-৪ এর যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ দুপুর অনুমান ১টা ৩০ মিনিটের সময় ধামরাই এলাকায় পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি মোঃ হাসান কাজী (৩৫), পিতা মৃত খোরশেদ কাজী, সাং—চরযশোরদী, থানা—নগরকান্দা, জেলা—ফরিদপুর’কে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত হাসান কাজীর বিরুদ্ধে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানায় মামলা নং-১২, তারিখ ২৬ আগস্ট ২০২২, ধারা—মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) এর ১০(ক) অনুযায়ী সাজা পরোয়ানা জারি ছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি স্বীকার করে যে, সে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে ছিল। পরে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, সমাজ থেকে মাদক ও অপরাধ নির্মূলে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, ‘আগে পোস্টাল ভোটিং অকার্যকর পদ্ধতি ছিল, এখন আমূল পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রথমত পোস্টাল ভোটিংয়ের অ্যাপ্লিকেশন পদ্ধতিটা আমরা অনলাইনে নিয়ে গেছি। অ্যাপ্লিকেশনটা এই মুহূর্তে ট্রায়াল রানে আছে। আশা করছি, ১৬ নভেম্বর আপ্লিকেশনটা সবার জন্য উন্মুক্ত করবো।
প্রবাসীদের ব্যবহৃত ব্যালট ও আমাদের দেশে ব্যালট ডিফারেন্ট (ভিন্ন) হবে। আমাদের ব্যালটে না ভোটসহ ১১৬টি প্রতীক থাকবে। তফসিল ঘোষণার আগেই প্রবাসীদের ভোটের অ্যাপ্লিকেশন প্রসেস শুরু হবে।’
প্রবাসীদের ভোট অ্যাপ প্রসঙ্গে এই নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, ‘কোনো কোনো দেশে একবার নিবন্ধন করলেই বছরের পর বছর ভোট দেওয়া যায়। কোনো কোনো দেশে একটা সময়কালের জন্য বা কোনো কোনো দেশে একটা ভোটকে টার্গেট করে এটা করা হয়।
তবে আমরা শুধু একটা ভোটকে টার্গেট করেই এটা করেছি। এই বিশেষ প্রসেস (প্রক্রিয়া) আগে থেকেই করছি। পৃথিবীর যে কোনো স্থান থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা, যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) রয়েছে তারা নিবন্ধন করতে পারবেন।’
মন্তব্য করুন
ড. ইউনূস আরও বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে একত্রিত করে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করিয়ে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছে। এটি ছিল ঐক্য ও পরিবর্তনের প্রতি সম্মিলিত অঙ্গীকারের এক অনন্য মুহূর্ত, যা নির্বাচনের আগে পারস্পরিক বিশ্বাস গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
২১ অক্টোবর (মঙ্গলবার) বাংলাদেশে নবনিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোৎসে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্যসাক্ষাৎ করতে আসেন। সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন ড. ইউনূস। বুধবার (২২ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান।
বৈঠকের বরাত দিয়ে আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূত লোৎসকে বাংলাদেশে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং তার মেয়াদকালে বাংলাদেশ ও জার্মানির বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকালে জার্মান রাষ্ট্রদূত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সমর্থন জানান এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।
ড. রুডিগার লোৎসে বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে দেখা সত্যিই উৎসাহব্যঞ্জক। রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোৎসে অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালিত সংস্কার কার্যক্রম, বিশেষ করে জুলাই জাতীয় সনদের প্রশংসা করে বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনার টেবিলে বসতে এবং পরস্পরের সঙ্গে কথা বলতে দেখা একটি ইতিবাচক পরিবর্তন। নির্বাচন পরবর্তী সময়েও এসব সংস্কার উদ্যোগ অব্যাহত থাকা উচিত।’
আলোচনায় রাষ্ট্রদূত জার্মানিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। প্রধান উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রদূত উভয়েই দুই দেশের জনগণের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে স্বাগত জানান। এসময় তারা বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি এবং এই ইস্যুতে জার্মানির সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ইউরোপে জার্মানি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। আশা করি, নতুন রাষ্ট্রদূত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।
অধ্যাপক ইউনূস তরুণ প্রজন্মের শক্তি সম্পর্কেও কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে আজকের তরুণরা সহজেই নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারে, পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে এবং অন্যায় চিনে ফেলতে পারে। তবে ভুয়া তথ্যের ঝুঁকি সম্পর্কেও সতর্ক করেন ড. ইউনূস।
মন্তব্য করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে তাদের হাজির করে রিমান্ডের আবদেন করে রাজধানীর পল্টন থানা।
গত রোববার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি বাস স্টেশন সংলগ্ন হাজী পাড়া এলাকার ৬ তলা ভবনের একটি ফ্ল্যাট বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
জানা গেছে, গত ১৫ দিন আগে তারা বান্দরবান এসে ফল ব্যবসা করার কথা বলে ওই এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। এরপর থেকে তারা ওই বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। এলাকায় তাদের সঙ্গে কারও পরিচয় ছিল না। জরুরি কাজ ছাড়া তারা বাসা থেকে তেমন একটা বের ও হতেন না। সম্প্রতি তারা আলোচনায় আসার পর রোববার ঢাকার সিআইডির একটি দল বান্দরবান জেলা পুলিশের সহায়তায় রোযাংছড়ি বাস স্টেশন এলাকার সেই বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ জানায়, আলোচিত যুগল পর্ন ভিডিও বানিয়ে তা আন্তর্জাতিক পর্ন সাইডে আপলোড করতেন। ২০২৪ সালের মে মাসে তাদের নামে একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল খোলা হয়, যেখানে কয়েক হাজার সদস্য রয়েছেন। সেখানে নতুন ভিডিওর লিংক ও তাদের আয়ের স্ক্রিনশট শেয়ার করা হয়। তারা বিভিন্ন গ্রুপ খুলে সেখানে অন্যদেরও পর্ণ ভিডিও বানাতে উৎসাহিত করতেন।
মন্তব্য করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক | BCN Channel
ঢাকা: রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আনুমানিক সাড়ে চার লক্ষ টাকা মূল্যমানের ১৫ কেজি গাঁজাসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০।
রবিবার (২০ অক্টোবর ২০২৫) বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে ডিএমপি’র যাত্রাবাড়ী থানাধীন রহমান সুপার মার্কেট এলাকায় র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে প্রায় ৪,৫০,০০০ টাকা মূল্যের ১৫ কেজি গাঁজাসহ মোঃ এরশাদ হোসেন (২৬) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি কুমিল্লার কোতয়ালী থানার রাঙ্গুরী এলাকার কবির হোসেনের ছেলে।
র্যাব সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃত এরশাদ একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক সংগ্রহ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে পূর্বেও মাদক আইনে একটি মামলা রয়েছে।
উদ্ধারকৃত মাদকসহ গ্রেফতারকৃতকে যাত্রাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
র্যাব জানায়, মাদক সমাজের ভয়াবহ বিষফোঁড়া হিসেবে তরুণ সমাজকে ধ্বংস করছে, পরিবারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। র্যাব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, “মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স” নীতির বাস্তবায়ন ছাড়া সমাজে শান্তি ও উন্নয়ন সম্ভব নয়।
র্যাব-১০ মাদক নির্মূল, অস্ত্র, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতা নিয়ে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক | BCN Channel
ফরিদপুর: ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজের ছাত্র আসাদুজ্জামান নূর ওরফে তুরাগ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. ফারুক ওরফে চেরয়া ফারুক (৪০)কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০। র্যাব সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানাধীন গোবিন্দপুর এলাকায় মাদক ব্যবসার ভাগাভাগি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ঘটে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড। নিহত তুরাগ (২২) ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজের অনার্স শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর বিকেলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর কানা তুষার গ্রুপের সদস্যরা কৌশলে তুরাগকে গোবিন্দপুর এলাকার একটি কলাবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয় এবং তার এক হাত কেটে নিয়ে যায়। হত্যার পর লাশ গোপন করতে কলার পাতার নিচে চাপা দিয়ে রাখা হয় বলে জানায় র্যাব।
ঘটনার পর নিহতের পিতা ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৩২, তারিখ-১৩/১০/২০২৩, ধারা-১৪৩/৩২৬/৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০)।
মামলার তদন্তের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তা র্যাব-১০, ঢাকা’র অধিনায়ক বরাবর একটি অধিযাচনপত্র প্রেরণ করেন। অধিযাচনপত্রের ভিত্তিতে র্যাব-১০-এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ২০ অক্টোবর ২০২৫ রাত আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিটে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানাধীন আলীপুর কবরস্থান এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-১০। এ সময় হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. ফারুক ওরফে চেরয়া ফারুক (৪০), পিতা মৃত করিম শেখ, সাং-অম্বিকাপুর, থানা-কোতয়ালী, জেলা-ফরিদপুরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-১০।
মন্তব্য করুন
চলতি বছর নদীতে লাশের মিছিল বড় হয়েছে গত বছরের চেয়ে। প্রতিদিন দেশের কোথা না কোথাও থেকে আসছে মরদেহ উদ্ধারের খবর। গত ২৩ আগস্ট বুড়িগঙ্গা নদীর বুকে উদ্ধার করা হয় এক নারী ও এক শিশুর নিথর দেহ। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন বলছে- তাদের জীবনের বাতি নিভিয়ে দেওয়া হয়েছিল শ্বাসরোধ করে, এরপর নদীতে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়, যেন তারা কোনো মূল্যহীন বস্তু!
অপরাধীরা প্রমাণ নষ্ট করতে ও আইনের চোখ ফাঁকি দিতে হত্যার পর মরদেহ ফেলার জন্য নদী ও রেলপথ বেছে নেয়। মূলত সংঘবদ্ধ অপরাধের ক্ষেত্রে এ রকম ঘটে। অপরাধীরা হত্যার আগেই নির্ধারণ করে নদী এলাকার কোথায় মরদেহ ফেলা হবে।- অপরাধ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ওমর ফারুক
এ ঘটনায় সদরঘাট নৌ-থানায় দায়ের হয়েছে একটি হত্যা মামলা। কিন্তু সপ্তাহ কেটে গেলেও তারা কারা— সে প্রশ্নের উত্তর অজানা। মরদেহ দুটি পড়ে থাকলেও এখন পর্যন্ত কেউ দাবিও করেনি, খোঁজও নেয়নি। আঙুলের ছাপ মুছে গেছে পানিতে, তাই পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
পুলিশ বলছে, মরদেহ দুটির ডিএনএ সংরক্ষণ করা হয়েছে। কেউ যদি কখনো এসে বলে— এই তো, এ আমার মা, বা এ আমার সন্তান, তবে সেই ডিএনএ মেলানো হবে নিখুঁতভাবে। পাশাপাশি রাজধানীসহ বিভিন্ন থানায় করা নিখোঁজ ডায়েরির তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে নিহত নারী ও শিশুর পরিচয়।
মরদেহের হাত-পায়ে যদি পচন না ধরে সেক্ষেত্রে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া যায়। পচন ধরলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া যায় না। ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া গেলে এনআইডি সার্ভারের সঙ্গে ম্যাচ করে দেখা হয় মরদেহের নামে এনআইডি সার্ভারে ম্যাচ করে কি না।- নৌ-পুলিশ ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন
প্রতিদিন নতুন নতুন খবরের ভিড়ে হারিয়ে যায় এমন অনেক করুণ গল্প। নৌ-পুলিশ জানায়, নদী থেকে উদ্ধার মরদেহ শনাক্ত করতে প্রায়ই পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। এটি একটি নিয়মিত চ্যালেঞ্জ।
পুলিশ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত গ্রেফতার এড়াতে অপরাধীরা মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়। চলতি বছর প্রতি মাসে নৌ-পুলিশ গড়ে ৪৩টি মরদেহ উদ্ধার করে। গত বছর প্রতি মাসে এ সংখ্যা ছিল ৩৬টি।
নদী থেকে হাত-পা বাধা নারীর মরদেহ উদ্ধার
নৌ-পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশজুড়ে অন্তত ৩০১ নারী-পুরুষ ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জে সর্বোচ্চ সংখ্যক, ৩৪টি মরদেহ পাওয়া গেছে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ঢাকা ৩২টি। এর মধ্যে ২০৯ জনের পরিচয় জানা গেলেও ৯২ জন এখনো অজ্ঞাতপরিচয়।
গত বছর নদী থেকে অন্তত ৪৪০টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল, যার মধ্যে ১৪১ জনের পরিচয় এখনো শনাক্ত হয়নি। মরদেহ উদ্ধারের পর এ বছর বিভিন্ন থানায় অন্তত ৪১টি হত্যা মামলা হয়েছে। গত বছর ৫৩টি মামলা হয়েছিল।
নৌ-পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, মরদেহের অবস্থা ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণসাপেক্ষে সন্দেহজনক মনে হলে তারা হত্যা মামলা করেন। তবে হত্যার প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। গত ২৮ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যায় একটি মস্তকহীন মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সহায়তায় আঙুলের ছাপ মিলিয়ে দেখা যায়, নিহত ব্যক্তির নাম হাবিব (২৭)। তিনি সোনারগাঁ উপজেলার মধ্য কাঁচপুর এলাকার বাসিন্দা।
কাঁচপুর নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) আব্দুল মামুদ বলেন, এটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। নিহত ব্যক্তির পরিচয় যেন শনাক্ত করা সম্ভব না হয়, সে উদ্দেশ্যে হত্যাকারীরা শিরশ্ছেদের পর মাথা অন্যত্র লুকিয়ে রাখে। লাশটি বেশি পচে না যাওয়ায় এবং দ্রুত ভেসে ওঠায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা আরও বলেন, পানিতে দেহ পচে যায়, প্রমাণ নষ্ট হয়ে যায়। কখনো কখনো মাছের কামড় বা জাহাজের আঘাতে সৃষ্ট ক্ষতের কারণে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফরেনসিক চিকিৎসকরা বিভ্রান্ত হন।
প্রাথমিক তদন্তে হত্যা মনে না হলে মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ সাধারণত অস্বাভাবিক মৃত্যুর (ইউডি) মামলা করে। ময়নাতদন্তে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে পরে সেটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
অপরাধ বিশ্লেষক টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ওমর ফারুক বলেন, ‘অপরাধীরা প্রমাণ নষ্ট করতে ও আইনের চোখ ফাঁকি দিতে হত্যার পর মরদেহ ফেলার জন্য নদী ও রেলপথ বেছে নেয়। মূলত সংঘবদ্ধ অপরাধের ক্ষেত্রে এ রকম ঘটে। অপরাধীরা হত্যার আগেই নির্ধারণ করে নদী এলাকার কোথায় মরদেহ ফেলা হবে।’
তিনি বলেন, ‘অনেক মরদেহ পাওয়া যায় যেগুলো অনেক বেশি পচে গেছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তির ঠিকানা থেকে অনেক দূরের এলাকায় মরদেহ ফেলে দেয় অপরাধীরা। কখনো কখনো মরদেহ ভাসতে ভাসতে অনেক দূরে চলে যায়, পরে পরিবার খোঁজ পায় না। ফলে অজ্ঞাতপরিচয় থেকে যায়, তদন্তে অগ্রগতি হয় না এবং পরিবার ন্যায়বিচার বঞ্চিত হয়।
নৌ-পুলিশ ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘নদী থেকে কোনো মরদেহ পেলে আশপাশে কেউ চেনে কি না তা খোঁজ করা হয়। শনাক্ত না হলে পার্শ্ববর্তী থানাগুলোতে খোঁজ নেওয়া হ্য় নিখোঁজের কোনো জিডি রয়েছে কি না। তবুও শনাক্ত না হলে তৃতীয় ধাপে পিবিআই অথবা সিআইডিতে খবর দেওয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘পিবিআই অথবা সিআইডির টিম এসে ফিঙ্গারপ্রিন্ট (আঙুলের ছাপ) নেয়। মরদেহের হাত-পায়ে যদি পচন না ধরে সেক্ষেত্রে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া যায়। পচন ধরলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া যায় না। ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া গেলে এনআইডি সার্ভারের সঙ্গে ম্যাচ করে দেখা হয় মরদেহের নামে এনআইডি সার্ভারে ম্যাচ করে কি না। এছাড়া নিহতের পরনের পোশাকের পকেটে মানিব্যাগ, মোবাইল অথবা কোনো আইডি কার্ড রয়েছে কি না তা খোঁজ করা হয়।’
পুলিশ সুপার বলেন, ‘এরপরেও যদি পরিচয় শনাক্ত করা না যায় সেক্ষেত্রে হাসপাতালের মর্গে ফ্রিজিং করে রাখা হয়। মর্গে রাখাও সময়সাপেক্ষ। যখন কোনোভাবেই মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা যায় না তখন বেওয়ারিশ লাশ দাফন সংস্থা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এর মধ্যে মৃত ব্যক্তির ধর্ম শনাক্ত করা গেলে সেই ধর্মীয় রীতিতে দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়।’
আবদুল্লাহ আল মামুন আরও বলেন, ‘মরদেহ দাফনের জন্য আঞ্জুমান মফিদুলের কাছে হস্তান্তরের আগে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়। কারণ যদি কোনো স্বজন দাবি করেন তখন আদালতের অনুমতি নিয়ে ডিএনএ নমুনা ম্যাচ করা হয়।’
নারায়ণগঞ্জ নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘চারদিন ধরে পানিতে কোনো মরদেহ থাকলে পচে যায়। তখন আর ফিঙ্গারপ্রিন্ট আসে না। শীতকালে মরদেহ পচতে সময় লাগে। আবার গরমের সময় দু-তিনদিনেই পচে যেতে পারে। ডাটাবেজে যাদের এনআইডি রয়েছে তাদের সহজেই শনাক্ত করা যায়।
কিন্তু যেগুলো ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া সম্ভব হয় না সেগুলো অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে দাফন করতে হয়।’
নৌ-পুলিশ প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি কুসুম দেওয়ান বলেন, ‘নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার হলে পরিচয় শনাক্ত করাই তদন্ত এগিয়ে নেওয়া ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক ক্ষেত্রে মরদেহ পচে যাওয়ায় শনাক্ত করা যায় না।
আবার অনেক ক্ষেত্রে মরদেহ এক জেলা থেকে অন্য জেলায় ভেসে যায় কিংবা প্রমাণ নষ্ট করতে অপরাধীরা অন্য কোথাও হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়। প্রতিটি মামলায় পরিচয় শনাক্ত করতে নৌ-পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।’
মন্তব্য করুন
সোমবার (২০ অক্টোবর) রাতে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জোবায়েদ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করা হয়েছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।
বংশাল থানা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত ছাত্রী ও সন্দেহভাজন মাহির রহমানসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। নিহত জোবায়েদ ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি।
গত এক বছর ধরে তিনি পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নুরবক্স লেনের রৌশান ভিলা এলাকায় ওই ছাত্রীকে পড়াতেন। গত রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাজধানীর বংশাল এলাকার নূরবক্স রোডের একটি বাসায় টিউশনির জন্য গেলে বাসার নিচেই ছুরিকাঘাতে হত্যার শিকার হন জুবায়েদ। আহত অবস্থায় সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠার চেষ্টা করলে তিনি তিনতলায় পড়ে যান এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় রাতেই জুবায়েদের ওই ছাত্রীকে আটক করে পুলিশ। ওই ছাত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ ৯ বছরের প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন আটক মাহির রহমান। সম্প্রতি সম্পর্কের অবসান ঘটান ওই ছাত্রী, যা নিয়েই শুরু হয় টানাপোড়েন।
ঘটনার দিন রোববার বিকেলে ওই ছাত্রীর বাসায় টিউশনে যাওয়ার পথে জোবায়েদের সঙ্গে দেখা হয় মাহিরের। এসময় দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কিছুক্ষণ পরেই জোবায়েদ ছুরিকাঘাতে নিহত হন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে রক্ত ভেজা হাত নিয়ে মাহির বাড়ি ফিরেন।
সোমবার সকালে চকবাজার থানায় নিজ হাতে ছেলেকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন মাহিরের মা।
এদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার দুপুরে জোবায়েদের প্রথম জানাজা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
বিদেশি বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে নয়, বরং দ্রুত সময়ে উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে এবং বন্দর ব্যবস্থাপনার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের শুল্ক বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আজ (১৫ অক্টোবর) থেকে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের হৃদপিণ্ড চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন শুল্ক হার কার্যকর হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্দরের পরিষেবা খরচ এক লাফে গড়ে ৪১ শতাংশ বেড়েছে।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনার খরচ কম হতে পারে, কিন্তু এখন সময় অনেক বেশি লাগছে। পোর্টে যানজট হচ্ছে, ডেমারেজ দিতে হচ্ছে—এটা ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে পোর্ট চার্জ কম নয়, কিন্তু কার্যক্রম খুব দ্রুত সম্পন্ন হয়। উদাহরণ হিসেবে, গার্মেন্টস শিল্পের উদ্যোক্তারা কমপ্লেইন করেন যে পণ্য দ্রুত পৌঁছায় না।
আপনার উৎপাদিত পণ্য যদি দ্রুত পৌঁছাতে পারে এবং শিপিং খরচ বাঁচানো সম্ভব হয়, তবে এতে মোট অর্থনীতিতে লাভ হয়। যদিও কিছু ক্ষেত্রে রেট বেশি দিতে হয়।’
‘বন্দরে দ্রুতগতির উন্নত সেবা নিশ্চিত করতেই শুল্ক বাড়ানো হয়েছে’ বলে জানান সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমার মতে, ব্যবসায়ীদের এই পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে বুঝতে হবে। যারা দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য সার্ভিস চায়, তাদের জন্য সার্ভিসের মান উন্নত করতে হবে।
এজন্য আমরা নতুন একটি টার্মিনাল তৈরি করছি। তবে টার্মিনাল ও সার্ভিস উন্নয়নে খরচ বিবেচনা করে সঠিক সার্ভিস চার্জ বা কস্ট প্রাইস নেওয়াই যুক্তিসঙ্গত। সুতরাং, ব্যবসায়ীদের স্বার্থের কারণে সঠিক চার্জ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।’
বর্তমান সমালোচনা হচ্ছে যে বিদেশি অপারেটরদের সুবিধা দেওয়ার জন্য সরকার এই পরিবর্তন করছে।
তবে এমন দাবি নাকচ করেছেন সরকারের দায়িত্বশীলরা। অর্থ সচিব ড. মোহাম্মদ খায়েরুজ্জামান মজুমদার দাবি করেন, শুল্ক বাড়ানো হয়নি বরং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে দীর্ঘ দিন পর তা সমন্বয় করা হয়েছে।
অর্থ সচিব বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, চার্জ বর্তমান প্রয়োজন অনুযায়ী আপগ্রেড করা হয়েছে। ৩০ বছর আগে যে শুল্ক হার তা সমন্বয় করা হয়েছে এবং তা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেই করা হয়েছে এবং অন্যান্য দেশের তুলনায় এখনও কম রাখা হয়েছে।
এটি ব্যবসায়ীদের কার্যক্রমে সময়োপযোগী সুবিধা নিশ্চিত করবে এবং সার্ভিস মান উন্নত করবে। এছাড়া, ফি বাড়ানোর মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থও বিনিয়োগ করা যাবে যা সার্ভিসের মান নিশ্চিত করবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, শুল্ক বাড়ানোয় পণ্য খালাসে হয়রানি কমবে। দিতে হবে না বাড়তি কোনো অর্থ। তবে অর্থ উপদেষ্টার এমন বক্তব্যে একমত নন ব্যবসায়ীরা। তাদের শঙ্কা, শুল্ক বাড়ানোর পরও ঘুষ-অনিয়ম বন্ধ হবে না।
সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘যেসব কন্ট্রাক্ট করা হয়েছে, সেগুলো মানা হচ্ছে। অতিরিক্ত পেমেন্ট বা বিনা খরচে অন্য কোনো সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই।’
তিনি বলেন, ‘কম খরচে কেউ সেবা দিতে পারবে না। ভালো মানের সেবা পেতে হলে কিছুটা বেশি ফি নেওয়াই বাস্তব। এটি সমস্যা নয়, বরং সার্ভিসের মান নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন।’
শুল্ক বৃদ্ধি নিয়ে অর্থ উপদেষ্টার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ)সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জাগো নিউজকে বলেন, ‘উপদেষ্টা বলেছেন শুল্ক বাড়লে দ্রুত সেবা কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। কিন্তু সেটা তিনি কিভাবে নিশ্চিত করবেন? যদি নিশ্চিত করতে পারেন তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’
‘দুর্নীতিবাজ কাস্টম কর্মকর্তাদের কারণেই ধীরগতি হয়। তাদের যদি টাকা দেওয়া হয়, তাহলে দ্রুত খালাস হয়। আর তা না হলে তারা মাইক্রোস্কোপ দিয়ে খুঁজে খুঁজে দীর্ঘ করার উপায় বের করে এবং অবৈধ অর্থ দাবি করেন। সুতরাং অর্থ উপদেষ্টাকে নিশ্চিত করতে হবে যে বর্ধিত হারে চার্জ দিলে দুর্নীতি থাকবে না অথবা যথাসময় কাজ সম্পন্ন হবে।’
বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, গত ৪০ বছরে কেন বাড়ানো হলো না শুল্কের হার? এখন হঠাৎ করে কেন একবারে ৪০ শতাংশ বা তার বেশি বাড়ানো হলো? এটা শিল্পের জন্য একটা বোঝা।
বছরে বছরে ক্রমান্বয়ে বাড়ালে এটা শিল্পের জন্য ভালো হতো। এবং সরকারের জন্য ভালো হতো। আমাদের দাবি যাতে করে শিল্পের ক্ষতি না হয় এবং এই বর্ধিত হারে শুল্ক দেওয়ার পরেও কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না করা হয়।’
মন্তব্য করুন
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে বহদ্দারহাট এলাকার নুরনগর হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে এ জাল নোট জব্দ করা হয়। র্যাব জানায়, উদ্ধার করা নোটগুলো শুটিংয়ের কাজে ব্যবহারের জন্য ছাপানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন গ্রেফতার তানজিম।
তিনি নগরের আন্দরকিল্লার অঙ্কুর প্রিন্টার্স থেকে প্রতি বান্ডেল ৩০ টাকায় ছাপিয়ে এনে ৬০০ টাকায় বিক্রি করেন। এতে ভালো লাভ হয়। অনুমতি না থাকায় একে জাল বলা যেতে পারে।’
এ বিষয়ে র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, সরকার কাউকেই টাকা ছাপানোর অনুমতি দেয়নি। এখানে আমরা সত্যিকারের জাল নোট পেয়েছি, যেগুলো অনলাইনের মাধ্যমে কেনাবেচা করা হতো।
র্যাব জানায়, সিলেটে এক অভিযানে জাল টাকাসহ আরেকজনকে গ্রেফতারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানে নামে র্যাব-৭। এরই মধ্যে যেখান থেকে নোটগুলো ছাপানো হয়েছে সেখানকার দুজনকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
মন্তব্য করুন
এরআগে হাইকোর্ট মোড় সংলগ্ন রাস্তায় কর্মসূচি ঘোষণা করেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী। বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় শিক্ষকরা ‘২০ শতাংশ বাড়িভাড়া দিয়ে দাও, দিতে হবে’, ‘অবিলম্বে প্রজ্ঞাপন দিতে হবে’, ‘হামলা করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘আগামীকাল শাহবাগ-ব্লকেড হবে ব্লকেড হবে’ স্লোগান দেন।
কর্মসূচি ঘোষণার পর অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, আমরা শহীদ মিনার থেকে আজ সচিবালয়ে এসেছি, কাল শাহবাগ যাবো। এরপরে যমুনার দিকেও হয়তো আমাদের যেতে হতে পারে।
আপনারা যদি আমাদের কষ্টকে দীর্ঘায়িত করেন, আমাদের পীঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। আমরা হয়তো যমুনা অভিমুখে মার্চের ঘোষণা দিতে বাধ্য হতে পারি। এরপরেও যদি সরকার আমাদের দাবি মেনে না নেয়, আমরণ অনশন কর্মসূচিরও চিন্তাভাবনা করছি।
মন্তব্য করুন
২০২৬ সালের হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তি, হজ এজেন্সি, হজ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সবার উদ্দেশ্যে সময় বাড়ানোর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশেষ বিবেচনায় সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমের হজযাত্রী নিবন্ধনের সময়সীমা আগামী ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলো।
এ সময়ের মধ্যে হজে গমনেচ্ছুদের নিবন্ধন করে তাদের হজ গমন নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করা হলো। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। চলতি বছর বাংলাদেশের হজের কোটা এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন।
সৌদি আরবের রোডম্যাপ অনুযায়ী হজযাত্রী নিবন্ধনের শেষ সময় ছিল রোববার। এ সময়ের মধ্যে ৬০ হাজারের মতো হজযাত্রী নিবন্ধিত হয়েছেন।
এখনও অনেক হজযাত্রী নিবন্ধনের জন্য অপেক্ষমান আছেন বলে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এর পক্ষ থেকে জানানো হয়। তারা নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর দাবি জানান।
সময় শেষ হওয়ার পরও এখনো কত সংখ্যক হজযাত্রী নিবন্ধনের জন্য অপেক্ষমান আছেন- এ বিষয়ে তথ্য জানানোর জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে হজ এজেন্সিগুলোর কাছে চিঠিও পাঠানো হয়। এজেন্সিগুলো মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত তথ্য পাঠায়। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ হাজারেরও বেশি হজযাত্রী এখনো অপেক্ষমান আছেন বলে এজেন্সিগুলো জানিয়েছে।
নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর বিষয়ে সোমবার (১৩ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, মঙ্গলবার সৌদি সরকারের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হবে। এই বৈঠকে হয়তো তারা আমাদের কাছে জানতে চাইবেন, কতজন কতজন নিবন্ধিত হয়েছেন কতজনের ভাউচার হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে আমরা আশাবাদী, সময় একটু বাড়তে পারে তারা যদি অ্যালাউ করেন। আমরা তাদের সময় বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করবো।
সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে গত ২৭ জুলাই থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর সরকারি এবং ৩০ সেপ্টেম্বর বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়।
উভয় ক্ষেত্রে তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিক নিবন্ধিত হজযাত্রীদের আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজের বাকি টাকা অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে।
মন্তব্য করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক | BCN Channel
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থেকে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি শামীম খান (৩০)’কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০।
র্যাব-১০ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অদ্য (০৩ অক্টোবর ২০২৫) রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটের সময় র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানাধীন ভাগ্যকুল এলাকায় পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) এর ৮(ক) ধারায় সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি শামীম খান (৩০), পিতা- ফজলু খান, সাং- ভাগ্যকুল, থানা- শ্রীনগর, জেলা- মুন্সীগঞ্জ—কে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত শামীম খান দীর্ঘদিন যাবৎ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে তার অপরাধের বিষয়টি স্বীকার করেছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব-১০ নিশ্চিত করেছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র্যাব সবসময় জনগণের পাশে রয়েছে।
📍 স্থান: ভাগ্যকুল, শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ
🗓️ তারিখ: ০৩ অক্টোবর ২০২৫
📰 সংবাদদাতা: BCN Channel নিউজ ডেস্ক
মন্তব্য করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক, BCN নিউজ
ফরিদপুর: ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার আলোচিত জাকু মাতুব্বর (৫৫) হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি উসমান খা (৩৫)’কে মাদারীপুরের কুনিয়ার হাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। র্যাব-১০ ও র্যাব-৮ এর যৌথ আভিযানিক দল এই অভিযান পরিচালনা করে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার সোনাখোলা এলাকায় কুতুব (৪৫) নামের এক ব্যক্তির ভ্যান নেওয়া সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে গ্রাম্য সালিশ বৈঠক বসে। সালিশ চলাকালে উসমান খা (৩৫)সহ অন্যান্য আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় জাকু মাতুব্বর (৫৫) গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় আহত হন আরও অন্তত ১০ জন, যাদের মধ্যে রয়েছেন— শাহালী মাতুব্বর (৬০), সুমন মাতুব্বর (৩০), রোমান মাতুব্বর (১৬), বিজয় মাতুব্বর (১৬), মেহেদী মাতুব্বর (২২), সাদ্দাম মাতুব্বর (২২), উজ্জল মাতুব্বর (২৩), সাহবুদ্দিন মোল্লা (৩৫), রাকিব মাতুব্বর (২৫) এবং ইলাহী মাতুব্বর (৪৫)।
ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং–১৪, তারিখ–২৯/০৯/২০২৫,ধারা–১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩০২/৫০৬(২)/১১৪ পেনাল কোড)। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের গ্রেফতারে র্যাব-১০ এর সহায়তা চান।
এরই ধারাবাহিকতায়, র্যাব-১০ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে। পরে গত ৪ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে র্যাব-১০ ও র্যাব-৮ এর যৌথ অভিযানে মাদারীপুর সদর থানার কুনিয়ার হাট এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের এজাহারনামীয় আসামি উসমান খা (৩৫), পিতা— বালা খা, সাং— সোনাখোলা, থানা— ভাঙ্গা, জেলা— ফরিদপুরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ফেসবুক ক্যাপশন:
🔴 ভাঙ্গায় জাকু মাতুব্বর হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার!
র্যাব-১০ ও র্যাব-৮ এর যৌথ অভিযানে মাদারীপুর থেকে ধরা পড়ল মূল আসামি উসমান খা।
#RAB10 #RAB8 #ভাঙ্গা #ফরিদপুর #BCN_News #হত্যা_মামলা
মন্তব্য করুন
সংবাদ প্রতিবেদন:
নিজস্ব প্রতিবেদক │ ফরিদপুর
নারী নির্যাতনবিরোধী অভিযানে আবারও সাফল্য দেখাল র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০। ফরিদপুরে আলোচিত গণধর্ষণ মামলার এজাহারনামীয় মূল আসামি মো. মশিউর রহমান পুলক (২৬)-কে গ্রেফতার করেছে সংস্থাটি।
র্যাব-১০ এর সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল ১২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ১১টা ২৫ মিনিটে ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানাধীন জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে এজাহারনামীয় আসামি মশিউর রহমান পুলককে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-১০ এর অধিনায়ক জানান, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যেই হোক, আইনের আওতায় আনা হবে।
জানা গেছে, গত ১ জুন ২০২৫ তারিখে ফরিদপুর শহরের নিউমার্কেট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আসামি পুলক প্রতারণার মাধ্যমে ভিকটিমকে হোটেলে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে। পরে পুলকসহ আরও কয়েকজন মিলে ভিকটিমকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
এ ঘটনায় ভিকটিম নিজেই ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং–০৬, তারিখ–০৫/০৬/২০২৫ খ্রি.), নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)-এর ৯(৩) তৎসহ দণ্ডবিধির ৩৪৩/৫০৬ ধারায়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব-১০ এর সহায়তা কামনা করে একটি অধিযাচনপত্র প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে র্যাব-১০ এর গোয়েন্দা দল আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেফতারে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি চালিয়ে সফল হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-১০।
র্যাব-১০ বলেছে, “মহিলা ও শিশু নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সমাজের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
মন্তব্য করুন
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ ছোট ভূমির একটি দেশ। আয়তনে ইতালির অর্ধেক।
মন্তব্য করুন
রোববার (১২ অক্টোবর) ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভোটার এলাকা স্থানান্তর হলেও আট মাসের মাথায় তা গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলো।
গুলশান থানা নির্বাচন কর্মকর্তা প্রতিভা বিশ্বাস জাগো নিউজকে বলেন, ‘স্যার (প্রধান উপদেষ্টা) মিরপুর থেকে গুলশান এলাকার ভোটার হয়েছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে গুলশান-২ এর ভোটার হয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। আসন্ন নির্বাচনে গুলশান থেকে ভোট দেবেন।’
আগামী রোজার আগে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হতে পারে। নির্বাচন সামনে রেখে চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ শুরু হয়। এসময় নতুন ভোটার যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি মৃতদের কর্তন ও স্থানান্তরের আবেদনও নেওয়া হয়।
বর্তমানে ১২ কোটি ৬৩ লাখেরও বেশি ভোটার রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে গুলশানা উপজেলা/ থানা অফিসারের কাছে এক ভোটার এলাকা থেকে অন্য ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন করেন প্রধান উপদেষ্টা। ১৭ ফেব্রুয়ারি ইসির এনআইডি উইং মহাপরিচালক তা অনুমোদন করেন এবং পরদিনই তা সংশোধন করে তথ্য হালনাগাদ করা হয়।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানায় ভোটার হয়েছিলেন। আগের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে এবার গুলশান-২ এর বাসভবনর ঠিকানায় গেলেন তিনি। নতুন ভোটার এলাকা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ নং ওয়ার্ডের আওতাধীন।
আজ রোববার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এখন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার। ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করলে ইসির এনআইডি উইং তা অনুমোদনের পর ভোটার তালিকার আগের ঠিকানা থেকে স্থানান্তরিত নতুন আবেদনের ঠিকানায় যুক্ত করা হয় ভোটারের নাম। স্থানান্তরিত নতুন ঠিকানায় ভোট দিতে পারবেন তিনি।
ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, ভোটার স্থানান্তর একটি চলমান প্রক্রিয়া।
এজন্য বিধির নির্ধারিত ১৩ নম্বর ফরম স্বহস্তে পূরণ করে প্রয়োজনীয় দলিলাদিসহ নির্বাচন অফিসে জমা দিতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন যাচাই করে এনআইডি উইংয়ের অনুমোদন পেলে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে এআইডি সংশোধন করে ইসি।
ভোটার হওয়ার সময় নাগরিকদের বর্তমান ঠিকানায় ভোটার তালিকাভুক্ত করা হয়। ভোটের সময় এ ঠিকানায় ভোট দিতে পারেন তিনি।
মন্তব্য করুন
২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়ার দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেওয়া শিক্ষকদের সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। রোববার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে পুলিশ শিক্ষকদের ওপর জলকামান নিক্ষেপ করে।
একই সময়ে সেখানে সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দও পাওয়া যায়। জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেডে শিক্ষকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়ার পর পুলিশ অ্যাকশনে যায়। শিক্ষকদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়। তবে শিক্ষকরা দফায় দফায় রাস্তায় ফিরে এসে অবস্থান নিচ্ছেন এবং স্লোগান দিচ্ছেন।
দুপুর সোয়া ২টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ সড়ক থেকে শিক্ষকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এর আগে, দুপুরে প্রেস ক্লাবে সামনের সড়ক থেকে সরে শহীদ মিনারে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের নেতারা।
শিক্ষক নেতাদের নেতৃত্বে একটি অংশ মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারের দিকে চলে যায়। তবে আরেকটি পক্ষ প্রেস ক্লাবের সামনের অবস্থান অব্যাহত রাখতে চান। একই সঙ্গে তারা সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ করার ঘোষণা দেন। এতে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
শিক্ষক নেতাদের নেতৃত্বে একটি অংশ শহীদ মিনারের দিকে চলে যাওয়ার পর দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান চালিয়ে যাওয়া শিক্ষকদের আরেকটি অংশকে সরাতে অ্যাকশনে যায় পুলিশ।
মন্তব্য করুন
এছাড়া নিবন্ধনের সুবিধার্থে আজ শনিবার ব্যাংক খোলা রাখা হয়েছে। শনিবার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় হজ পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ হাজার ৭৩৬ জন হজযাত্রী প্রাথমিক নিবন্ধন করেছেন। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৮২৮ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনা ১৫ হাজার ৯০৮ জন।
চলতি বছর বাংলাদেশের হজের কোটা এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। সে হিসাবে এখন পর্যন্ত ১৫ শতাংশের মতো হজযাত্রী নিবন্ধন করেছেন।
সৌদি সরকারের রোডম্যাপ অনুযায়ী হজের নিবন্ধন ১২ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা।
ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে হজ এজেন্সিগুলোর কাছে পাঠানো এক তাগিদপত্রে জানানো হয়েছে, সৌদি সরকার ঘোষিত হজের রোডম্যাপ অনুযায়ী ২০২৬ সালের হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় আগামী ১২ অক্টোবর শেষ হবে। কিন্তু তালিকার ৩২৯টি এজেন্সি কোনো হজযাত্রী নিবন্ধন করেনি।
‘হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন ২০২৬’ অনুযায়ী একটি এজেন্সি ন্যূনতম ৪৬ জন হজযাত্রী নিবন্ধন করবে। এজেন্সির যোগ্য তালিকা প্রকাশের পত্রে উল্লেখিত শর্ত মোতাবেক কোনো এজেন্সি হজ ২০২৬ মৌসুমে যৌক্তিক কারণ ছাড়া হজযাত্রীর নিবন্ধন (প্রাক-নিবন্ধন নয়) না করলে সেই এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্য চিঠিতে বলা হয়, ৪৮টি এজেন্সি কোনো হজযাত্রী প্রাক-নিবন্ধন ও প্রাথমিক নিবন্ধন করেনি। ‘হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন ২০২৬’ এর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি এজেন্সি ন্যূনতম ৪৬ জন হজযাত্রী নিবন্ধন করবে।
এজেন্সির যোগ্য তালিকা প্রকাশের পত্রে উল্লেখিত শর্ত মোতাবেক কোনো এজেন্সি হজ ২০২৬ মৌসুমে যৌক্তিক কারণ ছাড়া হজযাত্রীর নিবন্ধন (প্রাক-নিবন্ধন নয়) না করলে সেই এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে।হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) -এর মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, ওমরাহ করায় অনেকেই হজ পালনে আগ্রহী হচ্ছেন না। কারণ, মানুষের মধ্যে একটি ভুল ধারণা আছে যে ওমরাহ করলে হজ করা লাগবে না।
তিনি বলেন, আশা করছি শেষ মুহূর্তে নিবন্ধনের সংখ্যা বাড়বে। তাছাড়া সবকিছু এবার আগেভাগে হওয়ায় অনেকেই বুঝে উঠতে পারছেন না।
শনিবার ব্যাংক খোলা
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে হজে গমনেচ্ছুদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
হজে গমনেচ্ছুদের নিবন্ধনের সুবিধার্থে আজ শনিবার হজ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যাংকের শাখা খোলা থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
মন্তব্য করুন
ঢাকা, ৬ অক্টোবর ২০২৫ (নিজস্ব প্রতিবেদক):
রাজধানীর ডেমরায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০ এর অভিযানে ৫ লক্ষ টাকারও বেশি মূল্যের ইয়াবাসহ তিনজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার (০৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা অনুমান ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে ডিএমপি’র ডেমরা থানাধীন পশ্চিম বক্সনগর ব্যাংক কলোনি এলাকায় র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ১,৬৬৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ লক্ষ ১০০ টাকা।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
১। মোঃ নুর আলম (৫০), পিতা- মৃত সামছুল হক, সাং- বালুমোড়া, থানা- হাজিগঞ্জ, জেলা- চাঁদপুর।
২। মোঃ জসিম উদ্দিন স্বপন (৪৫), পিতা- হাজী আবুল কাশেম, সাং- পশ্চিম বক্সনগর, থানা- ডেমরা, ডিএমপি, ঢাকা।
৩। মোঃ কাউছার পারভেজ (২৫), পিতা- মোঃ সিদ্দিক, সাং- কচুবনিয়া, থানা- টেকনাফ, জেলা- কক্সবাজার।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিলেন।
উদ্ধারকৃত ইয়াবা ও অন্যান্য আলামতসহ গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তাদের ডেমরা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-১০ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “মাদক সমাজের ভয়াবহ বিষফোঁড়া। এটি যুব সমাজকে ধ্বংস করছে এবং পরিবার ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।” র্যাব মাদক নির্মূলে “জিরো টলারেন্স” নীতি অনুসরণ করে দৃঢ়ভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, ভবিষ্যতেও মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন
“বাংলাদেশ আমার অহংকার” এই স্লোগান নিয়ে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই দেশের অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, হত্যা, ছিনতাই, অপহরণ ও প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে র্যাব সাধারণ জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে র্যাব দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশংসনীয় অবদান রেখেছে। এছাড়াও, সময়োপযোগী অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও আইনের আওতায় এনে সংস্থাটি ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০ ও র্যাব-৪ এর একটি বিশেষ যৌথ অভিযানে ঝিনাইদহ জেলার বহুল আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মিরাজুল ইসলাম হত্যা মামলায় আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন পলাতক থাকা আসামি মো. লিয়াকত শেখ @ লিয়া (৪২), পিতা- মো. রহমত শেখ, সাং- নিমতলা, থানা- রাজবাড়ী সদর, জেলা- রাজবাড়ী’কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ২৩ আগস্ট রাতে ঝিনাইদহ জেলা শহরের বাস মালিক সমিতি অফিসের সামনে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে একটি পরিত্যক্ত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তে জানা যায়, উক্ত মোটরসাইকেলটি ডাকবাংলা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিরাজুল ইসলাম এর মালিকানাধীন। তবে ঘটনাস্থলে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়, যা বিষয়টিকে আরও রহস্যজনক করে তোলে।
পরবর্তী অনুসন্ধানে জানা যায়, ওইদিন সন্ধ্যায় ইফতারের পর এসআই মিরাজুল ইসলাম প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাগজপত্র, সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিনসহ নিজ মোটরসাইকেলে করে কর্মস্থল ডাকবাংলা পুলিশ ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু কর্মস্থলে তিনি আর পৌঁছাননি এবং এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন।
পরদিন, ২৪ আগস্ট সকালে ঝিনাইদহ ভেটেরিনারি কলেজের পূর্ব পাশের একটি পানি ভর্তি ডোবা থেকে পুলিশ তাঁর পোশাক পরিহিত হাত-পা বাঁধা মৃতদেহ উদ্ধার করে। সন্ত্রাসীরা তার কাছে থাকা অস্ত্র, গুলি, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য সরকারি মালামাল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ৭ জুলাই ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, প্রথম আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালত মামলার আসামি মো. লিয়াকত শেখ @ লিয়া’কে দণ্ডবিধির ৩৯৬ ধারা অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। র্যাবের গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমের মাধ্যমে পলাতক এই সাজাপ্রাপ্ত আসামি লিয়াকত হোসেন শেখ @ লিয়া (৪২)’কে চিহ্নিত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
অদ্য ০৭/১০/২০২৫ তারিখ রাত অনুমান ০২.৩০ ঘটিকায় র্যাব-১০ এর আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় এবং র্যাব-৪ এর সহযোগীতায় ঢাকা জেলার ধামরাই থানাধীন চরডাউটিয়া এলাকা হতে উক্ত মৃত্যুদন্ড সাজা পরোয়ানাভূক্ত পলাতক আসামি লিয়াকত শেখ @ লিয়া (৪২)’কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামি লিয়াকত শেখ @ লিয়া এর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ডাকাতি মামলা সহ ০৬ টি মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। র্যাব সন্ত্রাস, হত্যা ও চাঞ্চল্যকর মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন মাতুয়াইল এলাকায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০ এর অভিযানে ১০৫০ পিস ইয়াবাসহ দুইজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা।
র্যাব জানায়, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গতকাল ০৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ২৩টা ৩৫ মিনিটে ডিএমপি, ঢাকার মাতুয়াইল এলাকায় র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এসময় মাদক ব্যবসায়ী দুইজনকে ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
১. হাফিজুল্লাহ (২২), পিতা- হাবিবুল্লাহ, সাং- মহেশখালীয়া পাড়া, থানা- টেকনাফ, জেলা- কক্সবাজার।
২. মো. শিহাবুল হাসান (২৪), পিতা- মো. জিল্লুর রহমান, সাং- মদনপুর, থানা- মনিরামপুর, জেলা- যশোর।
র্যাব জানায়, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সংগ্রহ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজুর জন্য তাদেরকে যাত্রাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, “মাদক সমাজের ভয়াবহ বিষফোঁড়া, যা তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।” র্যাব “মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স” নীতিতে অবিচল থেকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সাথে মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন
গণধর্ষণ মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. অসীম শেখ (২২)-কে ফরিদপুরের নিউমার্কেট এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০। র্যাব জানায়, গত ১ জুন ২০২৫ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটের দিকে ফরিদপুর শহরের নিউমার্কেট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে প্রতারণার মাধ্যমে এক নারীকে আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে পালাক্রমে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভিকটিম নিজে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি নথিভুক্ত হয় থানা মামলা নং-০৬, তারিখ-০৫/০৬/২০২৫, ধারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯(৩) তৎসহ ৩৪৩/৫০৬ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুসারে।
পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গণধর্ষণে জড়িত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-১০ এর অধিনায়ক বরাবর একটি অধিযাচনপত্র প্রেরণ করেন। এরই প্রেক্ষিতে র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।
এর ধারাবাহিকতায় গত ৭ অক্টোবর ২০২৫ রাত আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানাধীন নিউমার্কেট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উল্লেখিত মামলার আসামি মো. অসীম শেখ (২২), পিতা- আব্দুল সালাম শেখ, সাং- মৃগী, থানা- কোতয়ালী, জেলা- ফরিদপুর-কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র
মন্তব্য করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলায় পৃথক দুইটি অভিযানে আনুমানিক ২১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা মূল্যমানের ৭১ কেজি গাঁজাসহ দুইজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০।
র্যাব জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের “জিরো টলারেন্স” নীতির অংশ হিসেবে র্যাব নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১০ এর একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৮ ও ৯ অক্টোবর রাতে দুইটি সফল অভিযান পরিচালনা করে।
প্রথম অভিযান: সিদ্ধিরগঞ্জে ২৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার
গতকাল (০৮ অক্টোবর ২০২৫) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সানারপাড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ২৫ কেজি গাঁজাসহ একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতের নাম মো. ফারুক (৪৫)। তিনি কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার শঙ্কুচাইল গ্রামের মৃত আব্দুল গণির ছেলে।
দ্বিতীয় অভিযান: কেরাণীগঞ্জে ৪৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার
পরবর্তীতে আজ (০৯ অক্টোবর ২০২৫) রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে ঢাকা জেলার কেরাণীগঞ্জ মডেল থানাধীন কালিন্দী এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে র্যাব।
এ অভিযানে প্রায় ১৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ৪৬ কেজি গাঁজা উদ্ধারসহ আরও একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতের নাম মো. আল আমিন (৩৩)। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার ভাগ্যকুল গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। তারা বিভিন্ন উৎস থেকে গাঁজাসহ অন্যান্য মাদক সংগ্রহ করে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের জেলায় সরবরাহ করত।
উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে র্যাব জানায়।
র্যাব-১০ জানায়, মাদক সমাজের ভয়াবহ ব্যাধি হিসেবে যুবসমাজকে ধ্বংস করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই মাদক নির্মূলে “জিরো টলারেন্স” নীতির বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতেও র্যাবের এ ধরনের অভিযান চলবে।
মন্তব্য করুন
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। মাদকদ্রব্যের ভয়াল ছোবল থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষার লক্ষ্যে র্যাবের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে।
অভিযানের বিবরণ:
গতকাল ০৮/১০/২০২৫ তারিখ বিকাল আনুমানিক ১৬.১০ ঘটিকায়, র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএমপি, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাজলারপাড় এলাকায় পাকা রাস্তার উপর চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশী কার্যক্রম পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় হানিফ পরিবহণের একটি বাস হতে মোঃ আয়াছ (৩২), পিতা- সৈয়দ হোসেন, সাং- উত্তর নোয়াপাড়া, থানা- টেকনাফ, জেলা- কক্সবাজার’কে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানায়, সে বিশেষ পদ্ধতিতে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবনপূর্বক পেটের ভিতর বহন করছিল। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এক্স-রে করান। এক্স-রে রিপোর্টে পেটের মধ্যে বস্তু সদৃশ কিছু দেখা যায়।
চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে বিশেষ পদ্ধতিতে আসামিকে মলত্যাগ করানো হলে, সাদা স্বচ্ছ কসটেপে মোড়ানো এবং স্বচ্ছ জিপার ব্যাগে রক্ষিত মোট ২,৯০০ (দুই হাজার নয়শত) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮,৭০,০০০/- (আট লক্ষ সত্তর হাজার টাকা)।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রকাশ:
গ্রেফতারকৃত মোঃ আয়াছ একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। সে দীর্ঘদিন ধরে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছিল।
র্যাবের মন্তব্য:
মাদক সমাজের সবচেয়ে ভয়াবহ বিষফোঁড়া, যা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করছে, পারিবারিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছে এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
র্যাব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে—
“মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন ছাড়া সমাজে শান্তি ও উন্নয়ন সম্ভব নয়।”
র্যাব-১০ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতা নিয়ে মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখবে।
মন্তব্য করুন
বুধবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদসহ স্টেকহোল্ডারদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ কথা বলেন গভর্নর।
বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ক্যাশ ফ্লো বৃদ্ধির কারণে প্রতিবছর টাকা ছাপাতে ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। ক্যাশলেস লেনদেন হলে এ খরচ কমে আসবে বলে মন্তব্য করেন আহসান এইচ মনসুর।
মন্তব্য করুন
সোমবার (৬ অক্টোবর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক কার্যক্রম দমনে দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় নৌবাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাশেখানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে রিপনকে গ্রেফতার করে নৌবাহিনী ও পুলিশ।
এসময় গ্রেফতার রিপনের বাড়ি তল্লাশি করে একটি ৭.৬ মিমি পিস্তল, ৫ রাউন্ড তাজা গোলা, একটি ম্যাগজিন এবং তিনটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। রিপন খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ ও মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি।
অভিযান শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জব্দ করা অস্ত্র এবং গ্রেফতার রিপনকে দিঘলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে আইএসপিআর।
জনজীবনের নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা নিশ্চিতে নৌবাহিনীর এ ধরনের আভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন
২০২৪ সালে সেপ্টেম্বর মাসে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৩৮০ কোটি ডলার। রোববার (৫ অক্টোবর) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত রপ্তানির হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাস (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ২৩১ কোটি ডলারের পণ্য। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল এক হাজার ১৬৫ কোটি ডলার।
প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এছাড়া কৃষি পণ্যে ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং প্লাস্টিক পণ্যে ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির দেখা পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে আলোচ্য সময়ে প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ। সেই সঙ্গে কার্পেট রপ্তানি ২১ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং হিমায়িত মাছ রপ্তানি ১২ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
পোশাকে শুল্কের ধাক্কা-
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ধাক্কার প্রভাবে গত সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়েও প্রতিফলিত হয়েছে।
এ ব্যবসায়ী নেতা জানান, তৈরি পোশাক খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে, কারণ বেশির ভাগ ক্রেতাই নতুন করে কোনো ক্রয়াদেশ দিচ্ছেন না। তারা এখন অতিরিক্ত ২০ শতাংশ রেসিপ্রোক্যাল শুল্কের একটি অংশ বাংলাদেশি সরবরাহকারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
রপ্তানিকারকদের পক্ষে এ অতিরিক্ত চাপ বহন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কারণ তারা এরই মধ্যে প্রাথমিক শুল্ক সমন্বয় এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবসহ বিভিন্ন ধরনের চাপে রয়েছেন।
এছাড়া, বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং অন্যান্য বাজারেও কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে। কারণ চীনা ও ভারতীয় প্রস্তুতকারকরা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এসব বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে, যোগ করেন বিকেএমইএ সভাপতি।
হাতেম বলেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি, এ ধীরগতি আগামী দুই থেকে তিন মাস অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা নতুন শুল্ক কাঠামোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারলে, আমাদের রপ্তানি আবারও পুনরুদ্ধার হবে বলে আশা করছি। এ সময়টায় রপ্তানিকারকদের ধৈর্য্য সহকারে ক্রেতাদের যেকোনো ধরনের চাপ মোকাবিলা করতে হবে।’
মন্তব্য করুন
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, গত ২ অক্টোবর রাতে গাজীপুরের ধীরাশ্রমে মো. আব্দুল সোবহানের বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল প্রবেশ করে। ধারালো রামদা, চাপাতি, কিরিচ, ছোরা, লোহার রড ও বড় কাটারসহ অস্ত্র নিয়ে ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের বেঁধে রেখে প্রায় অর্ধঘণ্টা তাণ্ডব চালায়।
তারা স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোনসহ আনুমানিক ২২ লাখ ৭৬ হাজার টাকার মালামাল লুট করে। এসময় বাড়ির কয়েকজন সদস্য ও ভাড়াটিয়াকে শারীরিকভাবে আঘাতও করা হয়। এ ঘটনায় গাজীপুর সদর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
সিআইডি ছায়া তদন্তের অংশ হিসেবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মনিরকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, ছয়টি ককটেল, ১১টি টর্চলাইট ও একটি কাটার উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনির ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
তদন্তে জানা গেছে, মনিরের বিরুদ্ধে আগে থেকেই দুটি মামলা রয়েছে, ২০০৭ সালে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানায় চুরি মামলার অভিযোগ ও ২০১৭ সালে ঢাকার সবুজবাগ থানায় ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক ধারায় মামলা।
বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন আরও জানান, গ্রেফতার মনিরের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সিআইডি গাজীপুর জেলা ও মেট্রো ইউনিট বলছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে তারা সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মন্তব্য করুন
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আইএসপিআর জানায়, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে দেশব্যাপী পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করে চলেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
এরই ধারাবাহিকতায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন ও স্বতন্ত্র ব্রিগেডের অধীনস্থ ইউনিটগুলো কর্তৃক অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশকিছু যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এসব যৌথ অভিযানে চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী, দুস্কৃতিকারী, অস্ত্রধারী, অস্ত্র ব্যবসায়ী, শিশু পাচারকারী, জুয়াড়ি, নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য, মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদকাসক্তসহ মোট ৬৯ জন অপরাধীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারদের কাছ থেকে ১০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, দুটি ম্যাগাজিন, তিনটি ককটেল, ২৭ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ ও সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার দেশি-বিদেশি ধারালো অস্ত্র, মাদকদ্রব্য, মোবাইলফোনসহ বিভিন্ন চোরাই মালামাল ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারদের প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ এবং আইনি কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইএসপিআর আরও জানায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের ৬২টি জেলায় সার্বক্ষণিক টহলের মাধ্যমে প্রায় ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে পূজা অর্চনার প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এছাড়াও, শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছে।
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সাধারণ জনগণকে যে কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপের বিষয়ে নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে তথ্য প্রদান করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে আইএসপিআর।
মন্তব্য করুন
#চাঁদার টাকায় কেনা হচ্ছে অস্ত্র, চলছে সদস্য প্রশিক্ষণ
#ভারতের অভ্যন্তরে ৬টি ক্যাম্প রয়েছে ইউপিডিএফের
#ভারতে বসেই সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রসীত বিকাশ খিসা)
সবুজ চাদরে ঢাকা শান্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম মাঝেমধ্যেই অশান্ত হয়ে ওঠে। বিভেদ আর অবিশ্বাসের ঘেরাটোপে পড়ে প্রায়ই সংঘর্ষ, হানাহানিতে জড়িয়ে পড়েন বাঙালি আর পাহাড়িরা। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর বিভিন্ন ইস্যুতে বারবার অশান্ত হয়েছে পাহাড়, ঝড়েছে রক্ত।
সরবশেষ গত ২৮ সেপ্টেম্বর এক মারমা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির গুইমারা এলাকায় ডাকা অবরোধে সংঘর্ষ-গোলাগুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পুলিশ, সেনাসদস্যসহ অনেকেই।
এ ঘটনায় পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টকে (ইউপিডিএফ) দায়ী করছে প্রশাসন।
প্রশাসন বলছে, পার্শ্ববর্তী একটি দেশের পরোক্ষ সহযোগিতায় তিন পার্বত্য জেলাকে অস্থিতিশীল করতে ষড়যন্ত্র করছে ইউপিডিএফ। তাদের মূল শক্তি হচ্ছে চাঁদাবাজি। চাঁদাবাজি বন্ধ করা গেলে শক্তি খর্ব হবে তাদের।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাতিল করে সেনাবাহিনীকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে নিলে পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদে শান্তি ফিরবে। আর চাঁদাবাজি বন্ধ করা গেলে শক্তি খর্ব হবে ইউপিডিএফের।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, তিন পার্বত্য জেলায় চাঁদাবাজির মাধ্যমে বছরে ৩৫০ কোটি টাকার বেশি সংগ্রহ করে ইউপিডিএফ। চাঁদাবাজির টাকায় অস্ত্র সংগ্রহের পাশাপাশি দলের সশস্ত্র সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। খাগড়াছড়ির সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের অভ্যন্তরে ইউপিডিএফের ছয়টি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প রয়েছে।
৪৫০ জনের মতো সশস্ত্র প্রশিক্ষিত সদস্য রয়েছে সংগঠনটির। তারা চার কোম্পানিতে বিভক্ত হয়ে পাহাড়জুড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। চাঁদাবাজির শিকার বেশিরভাগ সাধারণ বাঙালি ও পাহাড়ি। আর ভারতে বসেই তিন পার্বত্য অঞ্চলে ইউপিডিএফকে নিয়ন্ত্রণ করেন দলের প্রধান প্রসীত বিকাশ খিসা।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, তিন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি এবং বান্দরবানে বছরে ৩৫০ কোটি টাকার মতো চাঁদাবাজি করে ইউপিডিএফ। অনেকক্ষেত্রে রসিদ দিয়ে চাঁদা আদায় করে। দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক, বার্ষিক কিংবা এককালীন চাঁদা আদায় করে ইউপিডিএফ।
সাধারণ মানুষ, বাজার, রিসোর্ট মালিক, ব্যবসায়ী, যানবাহন, সরকারি প্রকল্পের ঠিকাদার বাদেও অপহরণ করে মুক্তিপণের মাধ্যমেও চাঁদা আদায় করা হয়।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, রাঙামাটিতে বছরে ২৪১ কোটি, খাগড়াছড়িতে ৮৬ কোটি এবং বান্দরবানে ২১ কোটি টাকার মতো চাঁদাবাজি করে ইউপিডিএফ। সবচেয়ে বেশি চাঁদা আদায় করে সরকারি প্রকল্পের ঠিকাদারদের কাছ থেকে। বিগত ১৬ বছরে তিন পার্বত্য জেলায় পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের দ্বারা ২৭৮ বারেরমতো অপহরণের ঘটনা ঘটে। এতে ৩৩২ জন অপহরণের শিকার হন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাগড়াছড়িতে সরকারি প্রকল্পের কাজ করা এক ঠিকাদার বলেন, ‘পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের বেশি চাঁদাদাবির কারণে আমার প্রকল্পের কাজ অনেকদিন বন্ধ রেখেছি। পরে বাধ্য হয়ে চাঁদা দিয়ে সমঝোতা করে কাজ উঠিয়ে এনেছি। ইউপিডিএফের লোকজন অস্ত্র দেখিয়ে এ চাঁদা আদায় করে।’
‘পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়ানো একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ। খাগড়াছড়ির ধর্ষণের ঘটনাকে পুঁজি করে পাহাড়কে অশান্ত করার পরিকল্পনা করছে ইউপিডিএফ। এ ব্যাপারে সব প্রমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে রয়েছে। ভিডিও রয়েছে। সব ধরনের অপপ্রচার ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে পার্বত্য এলাকাকে রক্ষায় আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’
-ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মাহমুদ, কমান্ডার, খাগড়াছড়ি রিজিয়ন
সাজেক এলাকার একজন রিসোর্ট ব্যবসায়ী বলেন, ‘ইউপিডিএফকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে এখানে ব্যবসা করি। এখানে ইউপিডিএফের চাঁদাবাজিটা ওপেনসিক্রেট। সাজেকের আশপাশে অনেক গহিন এলাকা আছে যেখানে সেনাবাহিনী ছাড়া অন্য কোনো সরকারি সংস্থার লোক যেতে পারেন না। এসব জায়গাজুড়ে ইউপিডিএফের ঘাঁটি রয়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছি জানলে আমাদের ক্ষতি হয়ে যাবে।’
বিগত ১৬ বছরে তিন পার্বত্য জেলায় ইউপিডিএফ এবং জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বে দেড় শতাধিক মানুষ নিহত হন। এরমধ্যে ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ৮৯ বার আঞ্চলিক হত্যাকাণ্ডে উভয়পক্ষের মোট ১২৪ জন নিহত ও ৪২ জন আহত হন।
একই সময়ে ২৯৬ বার গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে ২৮ জন নিহত হন। একই সময়ের মধ্যে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ২৬ বার গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে ১৪ জন সেনাসদস্যসহ ২১ জন আহত হন। নিহত হন ১৬ জন।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাসংলগ্ন ভারতের অভ্যন্তরে ছয়টি ক্যাম্প রয়েছে ইউপিডিএফের। এরমধ্যে পাঁচটি রয়েছে ভারতের ত্রিপুরার ধলাই জেলায়। এছাড়া খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি ও দীঘিনালা সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে রতন নগর, টুইচামা, নারায়ণপুর, পঞ্চ রতন, নারিকেল বাগান ও পূর্ব সাবরুম ক্যাম্প।
এসব ক্যাম্প থেকে প্রশিক্ষিত সদস্যরা দীঘিনালা থেকে সাজেক, মহালছড়ি থেকে কাউখালী, লক্ষ্মীছড়ি থেকে রামগড়, খাগড়াছড়ি থেকে মাটিরাঙ্গা পর্যন্ত ইউপিডিএফের কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
তাদের সামরিক শাখায় সশস্ত্র কার্যক্রমের জন্য রয়েছে এলাকাভিত্তিক চারটি বিশেষ কোম্পানি। স্পেশাল-ফুয়াইত কোম্পানি, ফ্যান্টম-হাইল্যান্ডস ড্রাগন কোম্পানি, রেঞ্জার-জাগুয়ার কোম্পানি এবং পাইওনিয়ার কোম্পানি।
‘ইউপিডিএফের কার্যক্রম পুরোপুরিই চাঁদাবাজিনির্ভর। চাঁদার টাকায় তারা তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের যে সামরিক শক্তি রয়েছে, তাতে আমাদের প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীর কাছে কিছুই না। মূলত তারা (ইউপিডিএফ) ভারতের ইন্ধনে পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে যুক্ত।’ -অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান নাসির
ইউপিডিএফের বর্তমান সামরিক প্রধান হলেন উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমা। সংগঠনের অন্যদের মধ্যে রয়েছেন অর্থ সম্পাদক অর্কিড চাকমা, সাংগঠনিক সম্পাদক সচিব চাকমা, সাধারণ সম্পাদক রবি সংকর চাকমা এবং সভাপতি প্রসীত বিকাশ খীসা।
পার্বত্য চট্টগ্রামে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান নাসিরের। ২০১১ সালে তিনি অবসরে যান। ১৯৯৩-৯৪ সালে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা রিজিয়নে পদায়িত ছিলেন তিনি।
ইউপিডিএফের কার্যক্রমের বিষয়ে হাসান নাসির বলেন, ‘ইউপিডিএফের কার্যক্রম পুরোপুরিই চাঁদাবাজিনির্ভর। চাঁদার টাকায় তারা তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের যে সামরিক শক্তি রয়েছে, তাতে আমাদের প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীর কাছে কিছুই না। মূলত তারা (ইউপিডিএফ) ভারতের ইন্ধনে পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে যুক্ত।’
হাসান নাসির আরও বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট পরবর্তীসময়ে সব দিকে ফেল করে পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল করার জন্য ইউপিডিএফকে দিয়ে লাস্ট কার্ডটা খেলে দিয়েছে ভারত। এতদিন তারা (ভারত) ইউপিডিএফকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। মূলত ১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তি চুক্তি কাজে লাগিয়ে সেনাবাহিনীকে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বের করে দিয়ে ইউপিডিএফকে শক্তিশালী করেছে।’
পাহাড়ে শান্তি ফেরাতে কিছু উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে জানিয়ে সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসান নাসির বলেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তিটি বাতিল করে পাহাড়ে সেনাবাহিনীকে আগের নেতৃত্বে ফিরিয়ে নিতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডে সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসিকে দায়িত্ব দিতে হবে।
পার্বত্য অঞ্চলকে ভারতের হুমকি থেকে রক্ষা করতে হলে পাহাড়ে বাঙালি উপস্থিতি বাড়াতে হবে। সেনাক্যাম্পগুলো আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলের সব সরকারি প্রকল্পে বাঙালিদের শতভাগ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সংগঠনের সশস্ত্র সদস্যদের ধরে মূলোৎপাটন করতে হবে।
এ বিষয়ে কথা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘খাগড়াছড়ির সীমান্তের অনেক পাহাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনী বাদে অন্য বাহিনীগুলো যেতে পারেন না। বিশেষ করে সাজেক, লক্ষ্মীছড়ির আশপাশের নির্জন পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ইউপিডিএফের ঘাঁটি রয়েছে। তারা সীমান্ত দিয়ে অবাধে ভারতে যাওয়া-আসা করে। ত্রিপুরায় জায়গা-জমি, বাড়িঘর রয়েছে ইউপিডিএফ নেতাদের। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকেও বিষয়গুলো আলোচনা হয়।
মাঝেমধ্যে সে দেশের পুলিশের হাতে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অস্ত্রসহ আটক হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।’ উদাহরণ টেনে ওই সেনা কর্মকর্তা বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারতের অরুন্ধতীনগরে ইউপিডিএফের সশস্ত্র কমান্ডার সমাজপ্রিয় চাকমা, অরুণাচল প্রদেশে একে-৪৭ রাইফেলসহ ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্য রাজু চাকমা আটক হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সেনা কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ইউপিডিএফের প্রত্যক্ষ আয়ের কোনো উৎস নেই। তারা পার্বত্য অঞ্চলে চাঁদাবাজি করে নিজেদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। চাঁদাবাজির টাকায় অস্ত্র সংগ্রহ করে। ইউপিডিএফ সদস্যরা সাধারণ পাহাড়িদের সঙ্গে মিশে থাকে, যে কারণে তাদের শনাক্ত করা কিছুটা কষ্টসাধ্য। পাহাড়ে আমাদের শক্ত গোয়েন্দা জাল রয়েছে। এরমধ্যে অনেক অভিযানে অসংখ্য অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।’
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলে নিয়মিত চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ জানাতে আসে না। যে কারণে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। তবে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকে। অনেক ঘটনায় মামলা হয়, অনেকে গ্রেফতারও হয়। বেশকিছু মামলায় অনেকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়েছে।’
সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত বিষয়গুলো নিয়ে সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল কালাম রানা গণমাধ্যমকে বলেন, সশস্ত্র সন্ত্রাসী যেসব সংগঠন রয়েছে, বিশেষ করে ইউপিডিএফ পার্বত্য এলাকাকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। গুইমারা এলাকায় সব ধরনের সশস্ত্র কার্যকলাপ এবং পাহাড়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির পেছনে যারাই দায়ী সবসময় তাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযান পরিচালিত হয়।
অস্ত্রসহ তাদের গ্রেফতার করে এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
খাগড়াছড়ি রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়ানো একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ। খাগড়াছড়ির ধর্ষণের ঘটনাকে পুঁজি করে পাহাড়কে অশান্ত করার পরিকল্পনা করছে ইউপিডিএফ। এ ব্যাপারে সব প্রমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে রয়েছে। ভিডিও রয়েছে। সব ধরনের অপপ্রচার ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে পার্বত্য এলাকাকে রক্ষায় আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’
এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা বলেন, ‘খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জন্য দ্বৈতনীতি চলছে। একটি ধর্ষণের ঘটনায় জুম্ম ছাত্র-জনতা যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল আমরা তাতে সমর্থন দিয়েছিলাম। কিন্তু ঘটনার আড়ালে তিনজনকে হত্যা করে ঘটনার দায় ইউপিডিএফের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’
চাঁদাবাজির বিষয়ে অংগ্য মারমা বলেন, ‘চাঁদাবাজি কিংবা ভারতে ট্রেনিং ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নেওয়ার ঘটনা সত্যি নয়। তবে দল চালাতে টাকা লাগে।
আমরা আমাদের শুভার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দল চালাই। দেশের অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও পার্টির লোকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সংগঠন পরিচালনা করে। তাহলে তাদেরগুলোকেও চাঁদাবাজি বলতে হবে।’
অংগ্য মারমা বলেন, পার্বত্য এলাকায় ধর্ষণের ঘটনার মেডিকেল রিপোর্ট কখনো পজিটিভ আসে না। এটি অলিখিত নির্দেশনা। পাহাড়ে ধর্ষণের ঘটনায় মেডিকেল রিপোর্ট পজিটিভ দেওয়ার জন্য আমরা আগে থেকেই বলে আসছি।’
উল্লেখ্য, খাগড়াছড়ির গুইমারায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে প্রাইভেট পড়ে বাসায় ফেরার পথে এক মারমা কিশোরী নিখোঁজ হয়। ওইদিন রাত ১১টার দিকে একটি ক্ষেত থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন স্বজনরা।
ওই কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে-এমন অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে জুম্ম-ছাত্র জনতার ব্যানারে গত শনিবার অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচি কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।
এরমধ্যে গত রোববার গুইমারার রামসু বাজারে দুষ্কৃতকারীদের হামলায় তিনজন নিহত হন। এ ঘটনায় ১৩ জন সেনাসদস্য, গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।
মন্তব্য করুন
এ অবস্থায় দেশের তিন বিভাগে নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যার আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) দুপুরে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া ও ফেনী নদীর পানি আগামী দুদিন বৃদ্ধি পেতে পারে। এ সময়ে মুহুরী, সেলোনিয়া ও ফেনী নদী ফেনী জেলায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী তিনদিন বৃদ্ধি পেতে পারে। এ সময়ে তিস্তা নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানি সমতল আগামী তিনদিন বৃদ্ধি পেতে পারে। এ সময়ে সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদী শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
মন্তব্য করুন
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কাফরুলের ইব্রাহিমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, প্রতারণার অভিযোগে রাজধানীর পল্টন থানায় করা একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জোছনা খাতুন। এর আগে চক্রের আরেক সদস্য মিলন মিয়াকে ফরিদপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
তদন্তে জানা গেছে, বিদেশে পাঠানোর নামে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নেওয়ার পর তাদের হাতে ভুয়া ভিসা ধরিয়ে দেওয়া হতো। অনেক ক্ষেত্রে পাসপোর্ট আটকে রেখে হয়রানি করা হতো।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান আরও বলেন, প্রতারক চক্রটির নেটওয়ার্ক নড়াইল, ফরিদপুর, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিস্তৃত। ইতিমধ্যে শতাধিক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বেশকিছু অ্যাকাউন্টে লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে।
পুলিশ কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন বলেন, গ্রেফতারের পর জোছনা খাতুন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া তার মাদক কারবারিতে জড়িত থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ পদোন্নতি দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব তৌসিফ আহমেদ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সিনিয়র সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর যোগদান পত্র দাখিল করবেন। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
মন্তব্য করুন
রাজধানী ঢাকায় আওয়ামী লীগের এমন ঝটিকা মিছিল নিয়ে বেশ বিপাকে পুলিশ। শুরুর দিকে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা কম থাকলেও যত দিন গড়াচ্ছে মিছিল তত বড় হচ্ছে। কৌশলও বদলাচ্ছে তারা। একদল মিছিল করলে আরেক দল থাকছে আটক হলে তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ থাকার পরেও খোদ ঢাকায় নিয়মিত এমন মিছিলে কিছুটা ‘বিব্রত’ অন্তর্বর্তী সরকার। মিছিল কেন্দ্র করে চাপে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ে দায়িত্বে অবহেলার কারণে প্রত্যাহার হয়েছেন ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের তিনজন কর্মকর্তা।
পুলিশ সূত্র জানায়, ডিএমপির কাছে গোপন তথ্য ছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকাজুড়ে ঝটিকা মিছিল বের করবেন।
ওই তথ্যের ভিত্তিতে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর নির্দেশনায় অপরাধ বিভাগের আটজন উপ-কমিশনার ও অন্য ইউনিটের উপ-কমিশনারের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা সকাল থেকে মাঠে তৎপর ছিলেন। পুলিশ বাধা দিলে মিছিলের পেছনে থাকা ব্যক্তিরা পুলিশের ওপর ককটেল ও বোমা নিক্ষেপ করবেন, ডিএমপির কাছে এমন গোয়েন্দা তথ্যও ছিল।
ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডিএমপির একাধিক অতিরিক্ত কমিশনার। তারা পুলিশ সদস্যদের তৎপর থাকতে বারবার ওয়াকিটকিতে দিকনির্দেশনা দেন। একপর্যায়ে একাধিক অতিরিক্ত কমিশনার মাঠপর্যায়ে তদারকিতে নামেন।
এরই অংশ হিসেবে ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম মোহাম্মদপুর থানা পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে তিনি পুলিশের দুটি টহল গাড়িসহ পাঁচটি গাড়ি থানা কম্পাউন্ডে দেখতে পান। অথচ এসব গাড়ি টহলে থাকার কথা। এ কারণে মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনারকে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত এবং মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) রাকিবুজ্জামান ও এসআই মাসুদুর রহমানকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপি হেডকোয়ার্টার থেকে সব থানায় বার্তা দেওয়া হয়েছে- নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা যেন কোনোভাবেই একত্র হতে না পারে। একত্র হওয়ার আগেই আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে, অন্যথায় সংশ্লিষ্ট থানা ও জোনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে না পারলে উল্টো পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জেনে ঢাকার ৫০ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এক প্রকার আতঙ্কে আছেন। ডিএমপির একটি সূত্র বলেছে, ঝটিকা মিছিলের ব্যাপারে বিভিন্ন থানার কর্মকর্তাদের গা-ছাড়া ভাব থাকায় ডিএমপি কমিশনার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ঝটিকা মিছিল সবচেয়ে বেশি হচ্ছে ঢাকায়। একদিনে তিনটি ঝটিকা মিছিলও হয়েছে। আর প্রতিটি মিছিলের পর আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগসহ তাদের অন্য সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফেসবুকে মিছিলের ভিডিও প্রকাশ করেন। আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের মাধ্যমেও সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর হাজারীবাগের বেড়িবাঁধ এলাকায় আওয়ামী লীগের একটি ঝটিকা মিছিল বের হয়। মিছিলের পর ১১ জনকে আটক করে পুলিশ। ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর পৌনে ২টার দিকে কারওয়ান বাজারে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের অনেক সদস্য জড়ো হন। তারা সরকারবিরোধী মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
সেখান থেকে ব্যানারসহ পটুয়াখালীর বাউফল থানা ছাত্রলীগের কর্মী মো. আবির হোসেনকে আটক করে পুলিশ।
এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শ্যামলী এলাকায় আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করলে মোটরসাইকেলে আরেকটি দল এসে পুলিশের সঙ্গে সংঘাতের চেষ্টা করে। পরে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। গত ৫ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাজধানীর ধানমন্ডি ও তেজগাঁওয়ে একযোগে জায়গায় ঝটিকা মিছিল বের করে।
শুধু দিনে নয়, রাতেও হচ্ছে এমন মিছিল। গত ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে মতিঝিলের দিলকুশা ডিবিএল ভবনের সামনে ঝটিকা মিছিল করেন আওয়ামী লীগ দলের নেতাকর্মীরা। পুলিশ সেখান থেকে পাঁচজনকে আটক করে। এর তিনদিন আগে ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে বাংলামোটর ও গুলশানে ঝটিকা মিছিল করার সময় ১১ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর মিরপুর দারুসসালাম এলাকায় ঝটিকা মিছিলের পর আওয়ামী লীগের ১৮ জনকে আটক করা হয়। ঢাকার বাইরে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতেও তাদের ঝটিকা মিছিল হচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন কৌশল ও অর্থের বিনিময়ে মাঠের শক্তি দেখানোর জন্য আওয়ামী লীগ এ ঝটিকা মিছিল করছে। মিছিল ঢাকায় হলেও এতে অংশ নেওয়া অধিকাংশ নেতাকর্মী ঢাকার বাইরের।
স্থানীয় লোকজন যাতে তাদের না চিনতে পারে এবং সহজে মিছিল করে চলে যেতে পারে, সেজন্য ঢাকার বাইরের নেতাকর্মীদের ঢাকায় আনা হচ্ছে।
হোয়াটসঅ্যাপে মিছিলের নির্দেশনা দিচ্ছেন বিদেশে পালানো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এরই মধ্যে গ্রেফতার অনেকেই পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে তাদের বিদেশ থেকে নির্দেশনা ও অর্থ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার কোনো থানা এলাকায় আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল হলে জবাবদিহি করতে হবে সেই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের। পরিদর্শকদের থানা থেকে প্রত্যাহারও করা হবে। ডিএমপির ৫০ থানার ওসি ও পরিদর্শককে এই কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্র বলছে, ডিএমপির কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর বার্তায় বলা হয়, ‘যেসব থানা এলাকায় ঝটিকা মিছিল হবে, সেই থানার ওসিসহ সবাইকে সে বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে। তাদের দায়িত্বে অবহেলা ও শিথিলতার কারণে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হবে।’
ডিএমপি কমিশনার ওই বার্তা দেওয়ার দিনই শেরেবাংলা নগর থানার দুই পরিদর্শককে প্রত্যাহার করা হয়। সূত্র বলছে, আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগর, ৬০ ফিট ও শ্যামলীতে একাধিকবার ঝটিকা মিছিল হওয়ার কারণে তাদের প্রত্যাহার করা হয়।
ডিএমপির একটি সূত্র বলছে, ঝটিকা মিছিলের ব্যাপারে বিভিন্ন থানার কর্মকর্তাদের গা-ছাড়া ভাব থাকায় ডিএমপি কমিশনার এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ১৪ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় রাজধানীতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল নিয়ে আলোচনা হয়।
কয়েকটি থানার কর্মকর্তা জানান, ডিএমপি কমিশনারের ওই বার্তার পর থানার পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ৫-১০ জন মিলে হঠাৎ কোনো সড়কে বা গলিতে কয়েক সেকেন্ডের মিছিল করলে খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ যাওয়ার আগেই তারা সটকে পড়ে। ফলে তাৎক্ষণিক কিছু করা যায় না। পরে ছবি-ভিডিও দেখে গ্রেফতার করা হচ্ছে। আবার এক এলাকায় মিছিল করছে অন্য এলাকার লোক।
এ কারণে তাদের আটক করাও সহজ হচ্ছে না। তারপরও তারা আওয়ামী লীগের মিছিল যেন না হয়, সেই চেষ্টা করছেন। পুলিশ সদস্যরা এখন সব সময় ঝটিকা মিছিল নিয়ে টেনশনে রয়েছেন।
ঝটিকা মিছিলসহ বেআইনি সমাবেশের বিষয়ে মনিটরিং (নজরদারি) জোরদারের কথা জানিয়েছিল সরকার। এছাড়া এর নেপথ্যে যারা সক্রিয় রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্তসহ আরও বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ঝটিকা মিছিলসহ বেআইনি সমাবেশের বিষয়ে মনিটরিং জোরদার করতে হবে। নেপথ্যে যারা সক্রিয় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ও ঝটিকা মিছিলের বিরুদ্ধে পুলিশের কোনো নিষ্ক্রিয়তা পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
ঝটিকা মিছিলের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ‘ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ায় ঢাকায় এ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে পাঁচ শতাধিক।
কোনো কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল ঢাকায় আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি যেন অবনতি না ঘটাতে পারে সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ও সিটিটিসি কাজ করছে। মিছিল-পরবর্তী সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে গ্রেফতার করা হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ধরিয়ে দিতে পারলে জনপ্রতি পুলিশ পাবে পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কার।
বিষয়টি কতটুকু সত্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি অনেকেই অনেকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন। স্বাভাবিকভাবে পুলিশ সদস্যরা ভালো কাজ করলে উৎসাহিত করা হয়। আর্থিকভাবে পুরস্কৃত করার প্রবিধান আইনিভাবে রয়েছে। কাজে উৎসাহিত করার জন্য তাদের বিভিন্নভাবে পুরস্কৃত করা হয়। তবে বিশেষভাবে কোনো একটি বিষয়ে কাজের জন্য পুরস্কৃত করার বিষয়টি জানা নেই।’
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি কয়েকটি মিছিলে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিনই ঢাকায় ঝটিকা মিছিলকেন্দ্রিক নেতাকর্মীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ইউনিফর্ম পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশও কার্যক্রম চালাচ্ছে।’
ডিবিপ্রধান বলেন, ‘মিছিলে ঢাকার স্থানীয় নেতাকর্মীদের কম ব্যবহার করা হচ্ছে। ঢাকার কয়েকজন নেতৃত্ব দিলেও অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী ঢাকার বাইরে থেকে আসছে, যাতে তাদের সহজে শনাক্ত করা না যায়।
যেমন- ধানমন্ডির মিছিলটি করেছেন চট্টগ্রামের নেতাকর্মীরা, আর তেজগাঁওয়ের মিছিল করেছে বাগেরহাট ও খুলনার একটি গ্রুপ। এখন পর্যন্ত যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের বেশিরভাগই ঢাকার বাইরের। তবে মিছিলগুলো অর্গানাইজ করছেন ঢাকা মহানগরের নেতারাই। আমরা সজাগ, যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।’
মন্তব্য করুন
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমিতি ঢাকার নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক ও ছাত্রবৃত্তি প্রদান উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ‘ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির ভূমি’ হিসেবে পরিচিত। আজকের অনুষ্ঠান সেই মর্যাদাই পুনরায় দৃঢ় করলো। শিক্ষায় বিনিয়োগ মানে শুধু শিক্ষার্থীকে সহায়তা করা নয়, বরং জাতির ভবিষ্যৎ গঠন করা।
ঢাকায় বসবাসরত ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর ঐক্য ও জ্ঞানের পথে এগিয়ে যাওয়ার দৃষ্টিভঙ্গি আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এখন চিকিৎসকরা ঢাকার বাইরে যেতে চান না।
অদূর কেরানীগঞ্জ থেকেও রাজধানীতে আসার জন্য তদবির আসে। ড. সালেহউদ্দিন বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এখনো অনুন্নত জেলা। এর উন্নয়নে জেলার প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদেরও এগিয়ে আসতে হবে।
এসময় জেলা সমিতিগুলোকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক না হয়ে কালেকটিভ স্বার্থ রক্ষায় কাজ করার আহ্বান জানান অর্থ উপদেষ্টা। নিজেদের মধ্যে মারামারি বন্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সবাইকে সচেতন হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমিতি ঢাকার সভাপতি এম এ খালেক বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া দীর্ঘদিন ধরে দেশকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, শিক্ষাবিদ ও শিল্পী উপহার দিয়ে আসছে।
আজ আমরা প্রতিজ্ঞা করছি- ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে তার মেধা ও অবদানের জন্যই চিনবে সবাই, কোনো নেতিবাচক ধারণার জন্য নয়। এই বৃত্তি এবং নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক ও শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা প্রদানের মাধ্যমে আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী হিসেবে নাগরিক গৌরবের বীজ রোপণ করছি, যা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
স্বাগত বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমিতি ঢাকার সাধারণ সম্পাদক মো. খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, আজকের এ সমাবেশ কেবল উদযাপন নয়, বরং একটি নতুন আন্দোলনের সূচনা।
আমরা একটি আন্দোলনের সূচনা করছি। বাংলাদেশ ও বিশ্বজুড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তোলার আন্দোলন। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক উন্নয়নে আমাদের সাফল্য সবাইকে জানাবো। এই অনুষ্ঠান স্মরণীয় করে তোলার জন্য দাতা, স্বেচ্ছাসেবক ও গণমাধ্যমের বন্ধুদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
অনুষ্ঠানে উচ্চশিক্ষায় কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোট ৩১২টি বৃত্তি দেওয়া হয়। এর মধ্যে অনার্স স্তরে ২৫টি, এইচএসসি স্তরে ১৮২টি এবং এসএসসি স্তরে ১০৫টি বৃত্তি দেওয়া হয়। এসব বৃত্তি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষায় উৎকর্ষ অর্জনে অনুপ্রেরণা দেবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য তুলে ধরা মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
মন্তব্য করুন
সৌদি আরবের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় বাকি আছে এক মাসেরও কম। অথচ এখনো হজ প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারেনি সরকার। প্যাকেজ ঘোষণা না হওয়ায় হজযাত্রী নিবন্ধনে সাড়া নেই।
সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদের প্রাথমিক নিবন্ধন গত ২৭ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে। দেড় মাসেরও বেশি সময়ে মাত্র এক হাজারের কিছু বেশি হজযাত্রী প্রাথমিক নিবন্ধন করেছেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূলত বিমান ভাড়া নির্ধারিত না হওয়ায় হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা যাচ্ছে না। বিমান ভাড়া নির্ধারণের জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের জন্য দরকষাকষি চলছে। দু-পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারলে ভাড়া নির্ধারণে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ চাওয়া হবে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের মে মাসের শেষ সপ্তাহে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনা মিলিয়ে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালন করতে পরবেন।
আগামী বছর হজে যেতে চার লাখ টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন গত ২৭ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে। হজ প্যাকেজ ঘোষণার পর বাকি টাকা জমা দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬৪১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪৪০ জন হজযাত্রী প্রাথমিক নিবন্ধন করেছেন।
হজ প্যাকেজ ঘোষণা না হওয়ায় অর্থাৎ কত খরচ হবে সেটি নির্ধারিত না হওয়ায় হজযাত্রীরা নিবন্ধনে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানিয়েছেন, বিমান ভাড়া নির্ধারণে গত বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক করেন ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।
গত বছর বিমান ভাড়া ছিল এক লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা। এবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজের খরচ কমাতে চায়, তাই বিমান ভাড়া দেড় লাখের নিচে নির্ধারণের অনুরোধ জানান তারা।
বিমান হজযাত্রীদের কাছ থেকে যে ভাড়া নেয় তা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। ধর্ম মন্ত্রণালয় হজযাত্রীদের কল্যাণে কাজ করে, তাই যৌক্তিক বিমান ভাড়া নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়েছি বিমানকে।
কিন্তু টাকার বিপরীতে রিয়ালের দাম বাড়াসহ বিভিন্ন কারণে ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় বিমান। বিমান এবার হজযাত্রীদের জন্য ভাড়া এক লাখ ৭১ হাজার (শুল্ক বাদে) এবং এক লাখ ৮০ হাজার (শুল্ক সহ) টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু এটা মেনে নেয়নি ধর্ম মন্ত্রণালয়।
বিমান ভাড়া এক হাজার ৩০০ ডলার নির্ধারণ করতে চায়, কিন্তু ধর্ম মন্ত্রণালয়ে চায় ৮০০ থেকে ১০০০ ডলারের মধ্যে। ধর্ম মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে বিমান উপদেষ্টাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে।
এ পর্যায়ে সমাধান না হলে প্রধান উপদেষ্টা মাধ্যমে বিমান ভাড়া নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার জাগো নিউজকে বলেন, এখনো বিমান ভাড়া নির্ধারণ না হওয়ায় প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারছে না ধর্ম মন্ত্রণালয়। আমরা বলেছি বিমান ভাড়া এক হাজার ডলারের মধ্যে রাখতে হবে। এর মধ্যে বিমান ভাড়া রাখতে না পারলে আমরা আন্দোলনে যাবো।
এরই মধ্যে সৌদি আরবের বেশিরভাগ খরচের হিসাব পাওয়া গেছে। যেগুলো পাওয়া যায়নি সেগুলো আনুমানিক ধরে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই হজ প্যাকেজ নির্ধারণ করার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে। এখন মূলত বিমান ভাড়ার জন্য অপেক্ষা করছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজ-১ মাধ্যমে খরচ হয়েছে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা। এছাড়া প্যাকেজ-২ এর মাধ্যমে হজ পালনে খরচ হয় ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮০ টাকা। বেসরকারিভাবে হজ পালনে সর্বনিম্ন খরচ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল ৪ লাখ ৮৩ হাজার ১৫৬ টাকা। এর ভিত্তিতে প্যাকেজ নির্ধারণ করে হজ এজেন্সিগুলো।
চলতি বছরের তুলনায় আগামী বছর হজের খরচ কিছুটা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
সৌদি আরবের রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী বছর হজে যেতে প্রাথমিক নিবন্ধন শেষ হবে ১২ অক্টোবর। এ সময় আর বাড়ানো হবে না বলে এরই মধ্যে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
মন্তব্য করুন
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভ্রমণ, কাজ বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা একটি অপরিহার্য নথি। যদিও বেশিরভাগ নাগরিক সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর্যটন ভিসা বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাজের ভিসার জন্যই আবেদন করেন।
তবে এবার বেশ কিছু দেশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করলো আমিরাত। এই বিধিনিষেধের অর্থ হলো- পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই দেশগুলোর নাগরিকরা শ্রমিক, পর্যটক এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
দেশটির অভিবাসন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো হলো- আফগানিস্তান, লিবিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া, লেবানন, বাংলাদেশ, ক্যামেরুন, সুদান এবং উগান্ডা।
কেন এসব দেশের নাগরিকের ওপর ভিসা নিষিদ্ধ করা হয়েছে?
আরব আমিরাত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কারণ জানায়নি।
তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এর সম্ভাব্য কারণগুলো হলো-
নিরাপত্তা উদ্বেগ: সন্ত্রাসবাদ বা বেআইনি কার্যকলাপ থেকে আমিরাতের নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখা।
ভূরাজনৈতিক সম্পর্ক: উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন।
কোভিড-১৯ প্রতিরোধ: সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর প্রবেশ নীতিমালা প্রয়োগ।
এই নিষেধাজ্ঞা সাময়িক বলে মনে করা হচ্ছে এবং আরব আমিরাতের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য মূল্যায়ণের ওপর নির্ভর করে তা পর্যালোচনা করা হবে। তবে যারা বৈধ ভিসা নিয়ে এরই মধ্যে আমিরাতে বসবাস করছেন, তারা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছেন না।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জুলফিকার আলী হায়দার স্বাক্ষরীত আদেশ অনুযায়ী, সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামকে বদলি করে খুলনা সদর থানায় পাঠানো হয়েছে।
অপরদিকে খুলনা থানার ওসি হাওলাদার সানোয়ার হোসাইন মাসুমকে পদায়ন করা হয়েছে লবণচরা থানায়।
হরিণটানা থানার দায়িত্বে থাকা শেখ খায়রুল বাশারকে বদলি করে আড়ংঘাটা থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে লবনচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামানকে হরিণটানা থানায় এবং আড়ংঘাটা থানার দায়িত্বে থাকা মো. তুহিনুজ্জামানকে পদায়ন করা হয়েছে খানজাহান আলী থানায়।
খানজাহান আলী থানার ওসি কবির হোসেনকে বদলি করে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ওসি মীর আতাহার আলীকে খালিশপুর থানায় পাঠানো হয়েছে, আর খালিশপুর থানার ওসি মো. রফিক ইসলামকে বদলি করে দৌলতপুর থানায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
খুলনা মেট্টোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার খোন্দকার হোসেন আহম্মদ (মিডিয়া) জানান, নিয়মিত রদবদলের অংশ হিসেবে এ পদায়ন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে (ডাকসু) দায়িত্ব পালনকালে এক সাংবাদিকের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যাওয়া হয়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মারা যাওয়া ওই সাংবাদিকের নাম তরিকুল শিবলী (৪০)। তিনি চ্যানেল এস টেলিভিশনের সিটি রিপোর্টার ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
মন্তব্য করুন
র্যাব-২ এবং হাজারীবাগ থানার যৌথ অভিযানে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার অন্যরা হলেন— আব্দুল হাকিম (৫৬), মো. নূর ইসলাম (৩১), আসাদুজ্জামান (৩৫) এবং মো. শাহরিয়ার শেখ মুরাদ (৪২)। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ৯টি পাসপোর্ট, ১০টি স্মার্টফোন, একটি বাটনফোন এবং এক কোটি ৫৬ লাখ ২৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব বলছে, চক্রটি একজন ভুক্তভোগীকে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে মিশরে নিয়ে জিম্মি করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) র্যাব-২ এর সিনিইয়র সহকারী পুলিশ সুপার খান আসিফ তপু এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, মানবপাচারকারী চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ভিসা ও পাসপোর্ট জালিয়াতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত।
মূলত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাধারণ ও বেকার যুবকদের টার্গেট করে ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে চক্রটি প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করতো।
খান আসিফ তপু বলেন, মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঢাকার হাজারীবাগ এলাকার ভুক্তভোগী জাহিদ হোসেনকে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রধান আসামি আমিনুল ইসলাম তার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নেন।
পরে গত ১৩ জুলাই তাকে মদিনা হয়ে মিশরে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে অজ্ঞাত আসামিরা জাহিদকে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জাহিদ হোসেনের ভাই বাদী হয়ে হাজারীবাগ থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এই মানবপাচার চক্রটিকে দীর্ঘদিন ধরে নজরদারিতে রাখে এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই র্যাব ও পুলিশের এই সফল অভিযান পরিচালিত হয়।
গ্রেফতারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই করে চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাবের এই কর্মকর্তা।
মন্তব্য করুন
আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক হাজার ২০০ টন ইলিশ শর্তসাপেক্ষে ভারতে রপ্তানির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
প্রতি কেজি ইলিশের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৫২৫ টাকা। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখার উপসচিব এস এইচ এম মাগফুরুল হাসান আব্বাসীর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, আগ্রহী রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর অফিস চলাকালীন (১১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত) ইলিশ রপ্তানির জন্য আবেদন আহ্বান করা যাচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, ইআরসি, আয়কর সার্টিফিকেট, ভ্যাট সার্টিফিকেট, বিক্রয় চুক্তিপত্র, মৎস্য অধিদপ্তরের লাইসেন্সসহ সংশ্লিষ্ট দলিলাদি দাখিল করতে হবে।
প্রতি কেজি ইলিশের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য ১২ দশমিক ৫ মার্কিন ডলার বা এক হাজার ৫২৫ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) নির্ধারণ করেছে সরকার।
মন্তব্য করুন
বুধবার (২৭ আগস্ট) ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।
শফিকুল ইসলাম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা। সর্বশেষ তিনি হাইওয়ে পুলিশে ডিআইজি পদে কর্মরত ছিলেন। প্রায় সাড়ে চার মাস ধরে ডিবিপ্রধানের পদটি শূন্য ছিল। গত ১২ এপ্রিল তৎকালীন ডিবিপ্রধান রেজাউল করিম মল্লিককে সরিয়ে ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি করা হয়।
পেশাগত জীবন
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার সন্তান শফিকুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে ১৯৯৯ সালে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে যোগ দেন।
তিনি পেশাগত জীবনের শুরুতে লক্ষ্মীপুরে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) হন। ২০০২ সালে ঢাকায় বদলি হয়ে প্রায় পাঁচ বছর ডিবিতে কাজ করেন।
এরপর সারদা পুলিশ একাডেমিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রেনিং) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দিতে লাইবেরিয়ায় প্রেরিত হন। মিশন শেষে ২০১০ সালে চট্টগ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে ফের দায়িত্ব নেন। পরে দ্বিতীয় দফায়ও লাইবেরিয়া মিশনে যান তিনি।
২০১৩ সালে তিনি পুলিশ সুপার (এসপি) পদে পদোন্নতি পান এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হন। এক বছর পর আইভরি কোস্টে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেন। দেশে ফিরে হাইওয়ে পুলিশের এসপি হিসেবে দায়িত্ব পান।
২০১৯ সালে তাকে নৌ-পুলিশের এসপি করা হয়। ২০২১ সালে পদোন্নতি পেয়ে একই সংস্থার অতিরিক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন অ্যান্ড অপারেশন্স) হন। পরে ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেয়ে হাইওয়ে পুলিশে যোগ দেন।
মন্তব্য করুন
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গোয়ালীমান্দ্রা এলাকায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০ এর বিশেষ অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত এ অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা আসামি রাজু (৩৭) ও মো: হামিদুল (৩৪) ধরা পড়ে।
র্যাব সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামি রাজু (৩৭), পিতা- মেঘা, সাং- গোয়ালীমান্দ্রা, থানা- লৌহজং, জেলা- মুন্সীগঞ্জ। বিজ্ঞ আদালত তাকে পেনাল কোড, ১৮৬০ এর ৩৩২ ধারায় ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫,০০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে পেনাল কোড, ১৮৬০ এর ৩৫৩ ধারায়ও তাকে ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫,০০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
অপরদিকে আরেক আসামি মো: হামিদুল (৩৪), পিতা- মো: আ: মোতালেব, সাং- গোয়ালীমান্দ্রা, থানা- লৌহজং, জেলা- মুন্সীগঞ্জ। তিনি রমনা মডেল থানার মামলা নং- ১(৬)১৫ এর সাজাপ্রাপ্ত আসামি। মামলাটি ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) এর ৯(খ) ধারায় দায়েরকৃত।
র্যাব-১০ এর এ অভিযানে দীর্ঘদিনের পলাতক দুই আসামিকে গ্রেফতারের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে জানানো হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি নুর হোসেন জমাদ্দার ওরফে নুরু (৪৬) কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০।
র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আজ (১৮ আগস্ট ২০২৫) বিকেল অনুমান ৪টা ২০ মিনিটে ডিএমপি ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থানাধীন লোহার ব্রীজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামি শরীয়তপুর জেলার পালং মডেল থানার মাদক মামলা নং-১৫, তাং-১৩/০৫/২০১৮, ধারা- মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯০ এর ১৯(১) এর ৯(ক) অনুযায়ী সাজা পরোয়ানাভুক্ত আসামি। তিনি শরীয়তপুর জেলার পালং মডেল থানার বাহের চন্দ্রপুর গ্রামের আঃ রশিদ জমাদ্দারের ছেলে।
পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামিকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
র্যাব জানায়, গত ১৭ জুলাই রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন মুরাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩২০ পিস ইয়াবা ও ১৫ গ্রাম গাঁজাসহ মাজেদা (৪২) নামের এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৯৭ হাজার টাকা।
এরপর রাত প্রায় ৯টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর ডেমরা চৌরাস্তা এলাকায় অপর আরেকটি অভিযানে ৫৯ বোতল ফেন্সিডিল ও এক লিটার বিদেশী মদসহ মোঃ আরিফ মোল্লা (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে র্যাব। উদ্ধারকৃত মাদকের মূল্য প্রায় ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
র্যাব-১০ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছিল।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
👉 চাইলে আমি এর জন্য আরও আকর্ষণীয় শিরোনামের বিকল্প সাজিয়ে দিতে পারি। চাইবেন?
মন্তব্য করুন
রবিবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে যাত্রাবাড়ীর মীর হাজীরবাগ এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১০ এর একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
র্যাব জানায়, জান শরীফের বিরুদ্ধে পল্লবী থানার মামলা নং- ৮১(২)১২ ও জিআর মামলা নং- ৪২৭/২২ রয়েছে। তিনি ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) এর ৩(খ)/১৯(৪) ধারায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি।
গ্রেফতারের পর তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আপনি চাইলে আমি এটিকে আরও শিরোনাম + লিড + বিস্তারিত আকারে সাজিয়ে পুরোপুরি সংবাদপত্রের স্টাইলে বানিয়ে দিতে পারি। চাইবেন কি?
মন্তব্য করুন
নড়াইলের আলোচিত হাসিম মোল্যা হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ৩ আসামীকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০।
র্যাব জানায়, গত ১৫ মার্চ ২০২৫ সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে নড়াইলের কালিয়া থানার সিলিমপুর গ্রামে ঠান্ডু মোল্যা গ্রুপের সঙ্গে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জনি মোল্যা গ্রুপের সংঘর্ষ বাঁধে। এসময় প্রতিপক্ষের হামলায় জনি মোল্যা গ্রুপের সদস্য হাসিম মোল্যা (৩৮) গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর নিহতের পিতা বাদী হয়ে কালিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৪, তারিখ-১৯/০৩/২০২৫; ধারা-১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩০২/৫০৬/১১৪/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামীদের গ্রেফতারে র্যাব-১০ এর সহায়তা চান।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে র্যাব-১০ এর আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর শাহবাগ, পলাশী ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় পৃথক অভিযান চালায়। এসময় হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামী—
১। মোঃ সোহান শেখ (৩২), পিতা- আঃ রউফ শেখ, সাং- সিলিমপুর
২। মোহাম্মদ (৪৫), পিতা- মৃত শাহজান মোল্লা, সাং- সিলিমপুর
৩। মোঃ আল হাজ (২৮), পিতা- মোঃ আজাদ মোল্লা, সাং- চালিতাতলা, কালিয়া, নড়াইল
গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব জানায়।
মন্তব্য করুন
বিশেষ প্রতিবেদন
মন্তব্য করুন
ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) পরিচালিত ‘পালস সার্ভে ৩’-এর ফলাফলে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
সোমবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় আর্কাইভস মিলনায়তনে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম, সংস্কার, নির্বাচন ও রাজনৈতিক দলের জনপ্রিয়তা’ বিষয়ক এই জরিপের ফল প্রকাশিত হয়।
বিআইজিডি ও ভয়েস ফর রিফর্ম যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। জরিপের ফল তুলে ধরেন বিআইজিডির ফেলো অব প্র্যাকটিস সৈয়দা সেলিনা আজিজ।
জরিপে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, চলমান সমস্যা, সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে টেলিফোনে প্রশ্ন করে মতামত জানতে চাওয়া হয়। গত ১ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত সময়ে এই জরিপ চালানো হয়। এর আগে গত অক্টোবরের তথ্যের ভিত্তিতে ডিসেম্বরে বিআইজিডির দ্বিতীয় পালস সার্ভের ফল প্রকাশ করা হয়েছিল।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন, এই প্রশ্নে ১২ শতাংশ বিএনপি, ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ জামায়াতে ইসলামী এবং ২ দশমিক ৮০ শতাংশ মানুষ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কথা বলেছেন।
আট মাস আগে গত অক্টোবরে একই প্রশ্ন করা হলে ১৬ দশমিক ৩০ শতাংশ মানুষ বিএনপি, ১১ দশমিক ৩০ শতাংশ জামায়াত ও ২ শতাংশ মানুষ এনসিপিকে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছিলেন।
অর্থাৎ আট মাস পর বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থন কিছুটা কমেছে আর এনসিপির সমর্থন সামান্য বেড়েছে। এছাড়া কাকে ভোট দেবেন, তা বলতে চাননি ১৪ দশমিক ৪০ শতাংশ মানুষ। আর ভোট দেবেন না বলেছেন ১ দশমিক ৭০ শতাংশ।
জরিপে গত অক্টোবরে ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগকে (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ভোট দেওয়ার কথা বলেছিলেন। সেটি এখন কমে হয়েছে ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ।
এর বাইরে জাতীয় পার্টির ভোট শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ থেকে শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ, অন্যান্য ইসলামি দলের ভোট ২ দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে নেমেছে শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশে।
অবশ্য আপনার নির্বাচনী এলাকায় কোন দলের প্রার্থী জিতবে বলে মনে হয়—এমন প্রশ্নে ৩৮ শতাংশ মানুষ বিএনপির কথা বলেছেন। ১৩ শতাংশ মানুষ বলেছেন জামায়াত ও ১ শতাংশ এনসিপির কথা বলেছেন। আর আওয়ামী লীগের কথা বলেছেন ৭ শতাংশ মানুষ।
অনুষ্ঠানে জরিপের ফল তুলে ধরে বিআইজিডির ফেলো অব প্র্যাক্টিস সৈয়দা সেলিনা আজিজ জানান, জরিপের জন্য গ্রাম ও শহরের নানা শ্রেণি-পেশার ৫ হাজার ৪৮৯ জন মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে। তাদের ৫৩ শতাংশ পুরুষ, ৪৭ শতাংশ নারী, ৭৩ শতাংশ গ্রামের ও ২৭ শতাংশ শহরের।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন