সোমবার (১৭ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন—বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়। সেগুলো হলো—গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার ‘উসকানিমূলক বক্তব্য’ দেওয়া; হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ দেওয়া; রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ; রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার নির্দেশ দেওয়া।
শুরুতে এ মামলার একমাত্র আসামি ছিলেন শেখ হাসিনা। গত ১৬ মার্চ সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও এ মামলায় আসামি করা হয়। সবশেষ গত ১২ মে মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নাম আসে।
গত ১০ জুলাই এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। ওইদিনই (১০ জুলাই) সাবেক আইজিপি মামুন ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন। পরে তিনি রাজসাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। এর মধ্য দিয়ে হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার তিন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক। দুজনই এখন ভারতে অবস্থান করছেন। এ মামলায় চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন গ্রেফতার একমাত্র আসামি।
পলাতক থাকায় এ মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার।
তিনি জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনাল আইনে পরিষ্কার বলা আছে, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। তবে আপিলের সুযোগ নিতে হলে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে আত্মসমর্পণ করতে হয়।
অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হাতে গ্রেফতার হলেও আসামি আপিলের সুযোগ পান।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা জারি করেছে।
ডিএমপি জানায়, ২৫ ডিসেম্বর ভোর ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে, এভারকেয়ার হাসপাতাল হয়ে গুলশান বাসভবন পর্যন্ত রুটে অতিরিক্ত জনসমাগম ও যানজট এড়াতে বিভিন্ন সড়কে ডাইভারশন কার্যকর থাকবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে—
🔹 অভ্যর্থনাকারীরা কোনো ব্যাগ, লাঠি বহন করতে পারবেন না
🔹 গাড়ি বহরে যুক্ত হওয়া যাবে না
🔹 মোটরসাইকেল নিয়ে গুলশান-বনানী-এয়ারপোর্ট রুটে চলাচল নিষিদ্ধ
🔹 বিকল্প হিসেবে মেট্রোরেল ও ট্রেন ব্যবহারের অনুরোধ
🔹 জরুরি সেবার যানবাহন নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে
ডিএমপি নগরবাসীকে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পাশাপাশি যথেষ্ট সময় নিয়ে যাত্রা করার অনুরোধ জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাইয়ের অকুতোভয় বিপ্লবী যোদ্ধা শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির শাহাদাৎ উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে রাজধানী ঢাকার মগবাজারস্থ আল-ফালাহ মিলনায়তনে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় আয়োজিত এ দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শহীদ ওসমান হাদি শির উঁচু করে শাহাদাত বরণ করেছেন এবং তার পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন, সৎ জীবন দেশবাসীকে মুগ্ধ করেছে।
তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদির শাহাদাতের পর দেশবাসী তার বক্তব্য ও আদর্শ নতুন করে জানার সুযোগ পেয়েছে। তিনি বারবার শহীদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন এবং আল্লাহ তায়ালা তার সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছেন। তার শাহাদাত দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের বিষয়ে সরকারকে অবশ্যই সুস্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে খুনিরা কীভাবে দেশ ছাড়তে পারলো—তা তদন্ত করে জাতির সামনে প্রকাশ করার দাবি জানান তিনি।
দোয়া মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্যসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং শহীদ ওসমান হাদির বড় ভাই ওমর বিন হাদি। আলোচনা শেষে শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করা হয়।
#শহীদ_শরীফ_ওসমান_হাদি
#OsmanHadi
#ইনকিলাব_মঞ্চ
#শাহাদাৎ
#দোয়া_মাহফিল
#JusticeForOsmanHadi
#বাংলাদেশ_রাজনীতি
#জামায়াতে_ইসলামী
#শহীদের_স্বপ্ন
#ন্যায়ভিত্তিক_বাংলাদেশ
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
যুক্তরাজ্যে অবস্থান করলেও এবারের সফরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) পূর্ব লন্ডনের একটি ভেন্যুতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদকের প্রশ্নের উত্তরে ডা. শফিকুর রহমান জানান, তিনি মাত্র এক দিনের জন্য লন্ডনে অবস্থান করছেন। সময় পেলে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যেহেতু সাক্ষাতের সুযোগ নেই, তাই এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পতনের পর ডা. শফিকুর রহমান একাধিকবার যুক্তরাজ্য সফর করেছেন। চলতি সফরে তিনি ব্রিটিশ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে লন্ডনে এসেছেন বলে জানান।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে। এটি পেছানোর কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লন্ডনে নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে তিনি সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ পালন করতে যাবেন বলে জানা গেছে। আগামী ২১ ডিসেম্বর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
#তারেক_রহমান
#ডা_শফিকুর_রহমান
#জামায়াতে_ইসলামী
#বিএনপি
#বাংলাদেশ_রাজনীতি
#জাতীয়_নির্বাচন
#লন্ডন_সংবাদ
#রাজনৈতিক_সংবাদ
#বাংলাদেশ_নিউজ
#LatestBanglaNews
#PoliticalNewsBD
#UKBangladesh
মন্তব্য করুন
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
ইনকিলাব মঞ্চের এক সংগঠক তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চ ও ওসমান হাদির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণা শেষে রিকশায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন তিনি।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মন্তব্য করুন
দলীয় ও বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২০২০ ফ্লাইটে লন্ডন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। ফ্লাইটটি ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর ত্যাগ করবে। সবকিছু ঠিক থাকলে বোয়িং ৭৮৭-৯ মডেলের উড়োজাহাজটি ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।
এর আগে উড়োজাহাজটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় এক ঘণ্টার যাত্রাবিরতি করবে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ফ্লাইটটির বিজনেস ক্লাসে তারেক রহমানসহ মোট ছয়জনের টিকিট বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবায়দা রহমান, কন্যা জাইমা জারনাজ রহমান, মিডিয়া টিমের প্রধান আবু আবদুল্লাহ সালেহ, পারসোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট আব্দুর রহমান সানি এবং তাবাসসুম ফারহানা নামে আরেকজন।
টিকিটগুলো ইমরান ট্রাভেলস নামের একটি ট্রাভেল এজেন্সি থেকে বুকিং দেওয়া হয়েছে। এসব টিকিটের মোট মূল্য ৯ হাজার ৮৫৬ ব্রিটিশ পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬ লাখ টাকা।
বর্তমানে ডা. জুবায়দা রহমান ঢাকায় অবস্থান করলেও বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, তিনি ২০ ডিসেম্বর লন্ডনে ফিরবেন এবং সেখান থেকে তারেক রহমানের সঙ্গে দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
নথি অনুযায়ী, তারেক রহমান ছাড়া অন্য যাত্রীরা সবাই ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী। তারেক রহমানের পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য টিকিট বুকিংয়ে উল্লেখ নেই। জানা গেছে, তার কাছে বর্তমানে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নেই। ব্রিটিশ পাসপোর্ট রয়েছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ অবস্থায় তাকে দেশে ফিরতে হলে ট্রাভেল পাস ব্যবহার করেই আসতে হবে, যা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘদিন লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর নবায়ন পাননি বলেও জানা যায়।
সূত্র আরও জানায়, ফ্লাইটের সব যাত্রীর রিজার্ভেশন বর্তমানে কনফার্মড রয়েছে এবং নিরাপত্তা ও ডকুমেন্টেশন সংক্রান্ত সব তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষিত আছে।
মন্তব্য করুন
রাজধানীর জিগাতলা থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী জান্নাত আরা রুমির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ধানমন্ডি থানা সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে জিগাতলার পুরান কাঁচা বাজারসংলগ্ন জান্নাতী ছাত্রী হোস্টেল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রুমি পারিবারিকভাবে মানসিক চাপে ছিলেন।
এদিকে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা দাবি করেন, গত মাসে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে এক রাজনৈতিক উত্তেজনাকর ঘটনার সময় জান্নাত আরা একজন নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কর্মীকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এরপর থেকেই তিনি সাইবার বুলিং, হত্যা ও ধর্ষণের হুমকির শিকার হন বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
পোস্টে আরও দাবি করা হয়, এসব মানসিক চাপের কারণেই তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
#জান্নাত_আরা_রুমি
#NCP
#রাজনৈতিক_নেত্রী
#জিগাতলা
#ঢাকা_সংবাদ
#ঝুলন্ত_মরদেহ
#আত্মহত্যা_নাকি_হত্যা
#CyberBullying
#BreakingNews
#BangladeshPolitics
#BCN_Channel
মন্তব্য করুন
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমানে চিকিৎসা নিতে পারছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে লিভার, কিডনি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন খালেদা জিয়া। বাসায় অবস্থানকালে শ্বাসকষ্ট, কাশি ও জ্বরের মাত্রা বেড়ে গেলে গত ২৩ নভেম্বর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার ফুসফুস, হৃদযন্ত্র ও কিডনির তীব্র অবনতি ধরা পড়ে। এতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কেবিন থেকে সরিয়ে দ্রুত ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।
গত ২৭ নভেম্বর খালেদা জিয়ার একিউট প্যানক্রিয়েটাইটিস শনাক্ত হয়, যার চিকিৎসা এখনও চলমান। একই সঙ্গে শরীরে গুরুতর ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাল সংক্রমণ ধরা পড়ায় তাকে শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানান, কিডনির কার্যক্ষমতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ ও ডিআইসি (ডিসেমিনেটেড ইনট্রাভাসকুলার কোয়াগুলেশন) জটিলতার কারণে রক্ত ও রক্তের বিভিন্ন উপাদান ট্রান্সফিউশন প্রয়োজন হচ্ছে।
এছাড়া নিয়মিত ইকোকার্ডিওগ্রামে অ্যাওর্টিক ভাল্ভে সমস্যা ধরা পড়ায় টিইই পরীক্ষার মাধ্যমে ইনফেকটিভ এন্ডোকার্ডাইটিস শনাক্ত হয়। এরপর আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুসরণ করে তার চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে।
দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন শাখার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি মেডিকেল টিম প্রতিদিন তার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশাল যুব ম্যারাথন। “রাজপথে বিজয়ে, চলো একসাথে বাংলাদেশ গড়ি”—এই স্লোগানে আয়োজিত কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত প্রায় অর্ধলাখ তরুণ-যুবক অংশগ্রহণ করেন।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে যুব ম্যারাথনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। ম্যারাথনটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ–সাইন্সল্যাব হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়।
উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
“পুরোনো ব্যবস্থার রাজনীতি ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে নতুন ব্যবস্থার রাজনীতিতে আগামীর বাংলাদেশ পরিচালিত হবে। এই রাজনীতি হবে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, খুন, ধর্ষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে।”
তিনি বলেন, তারুণ্যের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত এই ম্যারাথন চলবেই। যত বাধা ও ভয়ভীতি আসুক, তরুণ সমাজ থেমে যাবে না। ইনশাআল্লাহ, জাতির স্বপ্নের একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো ধরনের কারিগরি ষড়যন্ত্র জনগণ মেনে নেবে না। কালো টাকার প্রভাব দিয়ে জনগণকে কেনার চেষ্টা ব্যর্থ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, আজকের যুব ম্যারাথন পুরোনো ও জরাজীর্ণ রাজনীতির বিপরীতে নতুন ধারার রাজনীতির বার্তা বহন করছে। তরুণ সমাজকে ভয় উপেক্ষা করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ও মহানগরী পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য করুন
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মির্জা ফখরুল জানান, বিএনপি আশা করছে আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফিরবেন। তাঁর আগমন দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে দলের বিশ্বাস।
তিনি বলেন, “যারা একসময় স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজ আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইছে। তবে বাংলাদেশের মুক্তিকামী ও গণতান্ত্রিক মানুষ সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা করবে।”
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, মহান বিজয় দিবসে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সব বীরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
তিনি জানান, গুরুতর অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্যও এদিন বিশেষ দোয়া করা হয়েছে। “গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আজীবন সংগ্রাম করা এই নেত্রীর সুস্থতা কামনা করছি,”—বলেন তিনি।
কর্মসূচিতে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাউদ্দিন আহমেদসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান ও আব্দুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক এবং দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ অনেকে অংশ নেন।
মন্তব্য করুন
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখা আয়োজিত আলোচনা সভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় যেখানে সারা দেশের মানুষ সমব্যথী, সেখানে সিইসির বক্তব্যে আমরা ক্ষুব্ধ। তাকে নিজের অবস্থান ও বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “একজন বিপ্লবী আহত হওয়ার পর সরকার নড়েচড়ে বসবে—এমন সরকার আমরা চাই না।” হামলাকারীদের এখনো গ্রেপ্তার না করায় সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগও দাবি করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “৫৪ বছর জাতির ভাগ্য চোরাবালিতে হারিয়ে গেছে। অভ্যুত্থানের ঐক্যকে আঁকড়ে ধরে সামনে এগোনোর সুযোগ এসেছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সব দলকে সরকারে নিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা হবে।”
এর আগে সকালে রাজধানীর গুলশানে এক অনুষ্ঠানে সিইসি বলেন, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয়নি; হাদির ওপর হামলার ঘটনাকে তিনি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখেন এবং নির্বাচন সামনে এলে এ ধরনের ঘটনা ঘটেই থাকে বলে মন্তব্য করেন।
মন্তব্য করুন
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) জাতীয় ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শরিফ ওসমান হাদির ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনায় এখনো হামলাকারীরা গ্রেফতার না হওয়া এবং দেশজুড়ে ক্রমাগত অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের ব্যর্থতাকেই স্পষ্ট করে। এ পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করে সংগঠনটি শাহবাগ ব্লকেড কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।
ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় শাহবাগে জমায়েত হয়ে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করবে জাতীয় ছাত্রশক্তি।
মন্তব্য করুন
ডেস্ক রিপোর্ট | বিসিএন চ্যানেল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির ওপর হামলার মতো ঘটনা সামনে আরও ঘটতে পারে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখন একটি নতুন অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছে এবং জনগণ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছে, ঠিক সেই সময়েই দেশের শত্রুরা আবারও হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতায় মেতে উঠেছে।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী পরিকল্পিতভাবে এ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার চেষ্টা করেছিল। একইভাবে বর্তমান সময়েও গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করতে নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালেও দেশে গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে, যা জাতির জন্য গভীর উদ্বেগজনক। ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিয়ে দলটি আশঙ্কা করছে।
এ সময় বিএনপির পক্ষ থেকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
প্রতিবেদন শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, জাতি চিরকাল তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
মন্তব্য করুন
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিএনপির উদ্যোগে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এই ধারাবাহিক কর্মশালার সপ্তমদিনে আজ বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন। তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যদি নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য কমিয়ে নিয়ে না আসি, আমরা যদি নিজেরা ঐক্যবদ্ধ না হই, এই দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।’
প্রতিবার দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে বিএনপি উদ্ধার করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কখনো শহীদ জিয়া, কখনো দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আস্তে আস্তে খাদের কিনারা থেকে দেশকে বের করে নিয়ে আসা হয়েছে।’
‘বিভিন্ন সূত্রের খবর বলছে, ষড়যন্ত্রগুলো এখনই থেমে থাকবে না। আরও খারাপও হতে পারে। তবে আমাদের ভয় পেলে চলবে না, আতঙ্কগ্রস্ত হলে চলবে না। মানুষকে সাহস দিতে হবে, নিজেদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, দেশের সাধারণ গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।
আমরা যত ঐক্যবদ্ধ হবো, যত সামনে এগিয়ে আসবো, যেকোনো মূল্যে নির্বাচন হবে, সেই পরিস্থিতি যত আমরা তৈরি করবো, ষড়যন্ত্রকারীরা তত পিছু হটতে বাধ্য হবে,’ যোগ করেন তিনি।
ষড়যন্ত্রকারীদের পিছু হটানোর ক্ষমতা ও শক্তি একমাত্র বিএনপির আছে বলে দাবি করেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। চট্টগ্রাম ও ঢাকায় দুই প্রার্থীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, এই ঘটনা দিয়ে কোনো ফায়দা লুটার প্রচেষ্টা অবশ্যই হচ্ছে।
তিনি খাল খনন, স্বাস্থ্য কার্ড, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, শিক্ষাব্যবস্থা, বেকার সমস্যা, তথ্য প্রযুক্তি, বায়ু ও পানিদূষণ রোধ প্রভৃতি বিষয়ে বিএনপি প্রণীত পরিকল্পনা এবং এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘এখন আমাদের সময় এসেছে- আমি কী পেলাম, এটা বাদ দিতে হবে। সময় এসেছে- আমি দেশ এবং জাতির জন্য কতটুকু করতে পারলাম। আজ সময় এসেছে নিজে কী পেলাম এটা ভুলে যাওয়ার। আজকে আপনি যদি দেশ এবং জাতির জন্য কিছু করেন কিংবা করতে পারেন, তাহলে আগামী দিনে আপনার সন্তান, আপনার নাতি-পুতি ভালো থাকবে।
আপনার ভবিষ্যৎ বংশধর ভালো থাকবে। আসুন আমাদের লক্ষ্য হোক দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করা।” বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘এখন আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই। দয়া করে আসুন, এই যুদ্ধে আমাদের জিততে হবে। এই যুদ্ধে জেতার সবচেয়ে বড় সহযোগী কে? বাংলাদেশের জনগণ।
বাংলাদেশের জনগণকে সাথে নিয়ে এই যুদ্ধে আমাদের জিততে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এই কর্মশালা দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল সঞ্চালনা করেন।
মন্তব্য করুন
মির্জা ফখরুল বলেন, যে বার্তা দেব এই বার্তা শুধু আপনাদের জন্য নয়, দেশের মানুষের জন্য একটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসবে। তিনি আরও বলেন, আমি আপনাদের অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, আমাদের কোটি কোটি মানুষের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ, যিনি দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর ধরে নির্বাসিত অবস্থায় রয়েছেন বিদেশে এবং বিগত প্রায় এক যুগ ধরে তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
আমাদের দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং আমাদের যে গণতান্ত্রিক উত্তরণের যে ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়ে আমাদেরকে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছেন। আমাদের সেই সংগ্রামী নেতা এই দেশের গণমানুষের অত্যন্ত প্রিয় মানুষ তারেক রহমান আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আগামী ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার মাটিতে, আমাদের মাঠে এসে পৌঁছবেন।
মহাসচিব বলেন, আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে এবং সবার পক্ষ থেকে তার এই আগমনকে শুধু স্বাগত নয়, আমরা আনন্দের সঙ্গে সমগ্র জাতিকে জানাতে চাইছি।
আজকে গণতন্ত্র উত্তরণের পথে যে সমস্ত বাধাগুলো সৃষ্টি হয়েছিল, আমরা মনে করি যে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব দেশে এসে পৌঁছালেই, সেই সমস্ত বাধা দূর হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা একটা বৈঠক লন্ডনে হয়েছিল।
লন্ডনে যে সভাটি হয়েছিল, সেই সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে ফেব্রুয়ারির মাসের মধ্যবর্তী সময় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে আমাদের নির্বাচন সম্পর্কে যতটুকু শঙ্কা ছিল সেটা চলে গিয়েছিল এবং বৃহস্পতিবার নির্বাচনের তাফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের যে রেল চলতে শুরু করেছে, দেশের মানুষের মধ্যে যে একটা আশা প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে সেটা বাস্তবায়িত হতে চলেছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আবারও আপনাদের জানাতে চাই যে, এই বিষয়টা আপনারা যথাযথ আপনার মূল্য দিয়ে জাতির সামনে তুলে ধরবেন এবং একই সঙ্গে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আগমন যেন অত্যন্ত সুন্দর সুষ্ঠভাবে হতে পারে সেই বিষয়ে আপনারা আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন।
তারেক রহমান ২০০৭ সালে এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর গ্রেফতার হন। ২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবার যুক্তরাজ্যে যান। এরপর থেকে তিনি সে দেশেই আছেন।
মন্তব্য করুন
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ডিসেম্বর বিজয়ের মাস উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন বিভাগীয় ইউনিটের হাজারের বেশি নেতা অংশ নেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে তারেক রহমানের ভাবনা ও দিকনির্দেশনাকে সামনে রেখে দল এগিয়ে যেতে চায়। আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে জয়লাভ করতেই হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অনেক বাধা আসবে, প্রচারণা চলবে, কিন্তু মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে। বিএনপি কোনোদিন পরাজিত হয়নি, পরাজিত হবে না।”
তিনি আরও বলেন, আজ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। এ নির্বাচন নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির সুযোগ এনে দিয়েছে। জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে, আর তার নেতৃত্বে থাকবেন তারেক রহমান।
আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলে জনগণের ভালোবাসা অর্জনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “মানুষের মন জয় করতে হবে, ভোটকেন্দ্রে আনতে হবে এবং বিএনপির পক্ষে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।”
মন্তব্য করুন
তারেক রহমানের স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু নিচে তুলে ধরা হলো:
দুর্নীতি কীভাবে বাংলাদেশকে পঙ্গু করে দিচ্ছে- তা বুঝতে দূরে যাওয়ার দরকার নেই। মেধার ভিত্তিতে চাকরি খুঁজতে বের হওয়া একজন গ্র্যাজুয়েটের সঙ্গে কথা বললেই বুঝবেন।
মাসের পর মাস ধরে একটি সাধারণ সরকারি সেবা পেতে হিমশিম খাওয়া কৃষকের দিকে তাকান। হাসপাতালে গিয়ে এক তরুণের পরিবার কীভাবে ভোগান্তিতে পড়ে, সেটা শুনুন। অথবা ব্যবসা বাঁচিয়ে রাখতে ঘুষ দিতে বাধ্য হওয়া উদ্যোক্তাদের ভোগান্তি দেখুন।
খাবারের দাম কেন বাড়ে, স্কুলে ভালো পড়াশোনা কেন মেলে না, রাস্তায় কেন নিরাপত্তা নেই- সব কিছুর পিছনে সেই একই কারণ: দুর্নীতি। এটা লাখো মানুষের প্রতিদিনের জীবনকে দমবন্ধ করে ফেলেছে।
বাংলাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই নতুন নয়, এটা বহু যুগের আলোচনার বিষয়।
আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস আমাদের সেই লড়াইয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়, আর মনে করিয়ে দেয় সেই সময়টাও, যখন বাংলাদেশ সত্যিকারের অগ্রগতি করেছিল। আর সেই সময়টা এসেছে মূলত বিএনপির আমলে।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরানো, পরিচ্ছন্য সরকারি সেবা আর অর্থনীতিকে মুক্ত করার কাজে হাত দিয়েছিলেন- যা অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার কমিয়ে দিয়েছিল।
তারপর প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে আধুনিকায়ন শুরু হয়; নতুন ক্রয় নীতিমালা, কঠোর আর্থিক আইন, শক্তিশালী অডিট ব্যবস্থা, আর পরিষ্কার নজরদারি।
সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ ছিল ২০০৪ সালে ‘দুদক’ গঠন; একটি স্বাধীন কমিশন, যেখানে সরকার চাইলে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। বিশ্বব্যাংক, এডিবি সবাই বলেছিল- এটা বাংলাদেশের জবাবদিহিতার বড় অগ্রগতি।
টিআইবি’র জরিপেও দেখা গেছে- ২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। মানুষ নিজেরাই বলেছে- দুর্নীতি কমেছে। এটা কোনো গল্প নয়, এটা তখনকার সংস্কারের প্রমাণ।
বিএনপি গর্ব করতে পারে কিছু বড় পরিবর্তনের জন্য:
১। শক্তিশালী অর্থ ব্যবস্থাপনা: বাজেট নিয়ন্ত্রণ, অডিট, ব্যাংকিং ও মানি লন্ডারিং-বিরোধী আইন।
২। স্বচ্ছ ক্রয় নীতি: প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র, নিয়মের মধ্যে সরকারি ক্রয়- যা পরবর্তীতে দেশের সবচেয়ে বড় স্বচ্ছতার আইনের ভিত্তি তৈরি করে।
৩। উন্মুক্ত বাজার: টেলিকম, মিডিয়া, বিমান পরিবহন; যেখানে প্রতিযোগিতা বাড়ায় দুর্নীতি কমে, সাধারণ মানুষের সুযোগ বাড়ে।
৪। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ: প্রশাসন কম জটিল, কম ইচ্ছাধীন, বেশি মানুষের কাছে জবাবদিহিতা।
তাই কথাটা স্পষ্ট- দুর্নীতি কমানোর ক্ষেত্রে ধারাবাহিক রেকর্ড একমাত্র বিএনপি’রই আছে।
আগামী দিনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও শক্তভাবে চালাতে বিএনপির পরিকল্পনা:
১। প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা: আদালত, দুদক, নির্বাচন কমিশন, সরকারি সেবা; কেউই যেন রাজনৈতিক চাপের মধ্যে না থাকে।
২। পুরোপুরি স্বচ্ছতা: উন্মুক্ত দরপত্র ব্যবস্থা, সম্পদ বিবরণী, রিয়েল-টাইম অডিট, শক্তিশালী তথ্য অধিকার আইন।
৩। বিচার ও আইনশৃঙ্খলা সংস্কার: পেশাদার পুলিশিং, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি, ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ।
৪। ই-গভর্ন্যান্স: লাইসেন্স, জমি, পেমেন্ট; সব অনলাইনে এনে ঘুষের সুযোগ কমানো (বিশ্বমান অনুযায়ী ৩০–৬০% দুর্নীতি কমতে পারে)।
৫। হুইসলব্লোয়ার সুরক্ষা: অনিয়ম ফাঁস করতে যারা সাহস দেখায়, তাদের নিরাপত্তা প্রদান।
৬। নৈতিক শিক্ষা: স্কুল–কলেজ থেকেই সততার চর্চা পাঠ্যসূচির অন্তর্ভূক্ত করা।
৭। শক্তিশালী আর্থিক নজরদারি: ডিজিটাল ব্যয় ট্র্যাকিং ও স্বাধীন অডিট, সংসদের কঠোর তদারকি।
বহু বছর অব্যবস্থাপনার পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই অবশ্যই কঠিন হবে।
কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসই প্রমাণ করে, যখন সৎ নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও জনগণের সমর্থন একসাথে আসে, তখন পরিবর্তন অসম্ভব নয়।
জনগণ যদি দায়িত্ব দেয়- বিএনপি আবারও সেই লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।
মন্তব্য করুন
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল প্রস্তুতির মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বসে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদল। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) নির্বাচন ভবনে এই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন গোলাম পরওয়ার।
সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন ছাড়াও অন্য নির্বাচন কমিশনাররা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য জাতি অপেক্ষা করছে।
তাই সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। গোলাম পরওয়ার জানান, কমিশনের কাছে ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
তফসিলের বিষয়ে ইসির অবস্থান স্পষ্টভাবে জানতে চায় জামায়াতে ইসলামী। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে ফলপ্রসূ কার্যক্রম দেখতে চায় জামায়াত।
জামায়াতের এই নেতা বলে, প্রবাসী ভোটিং পদ্ধতি সহজ করার বিষয়ে বলেছি। ভোট কেন্দ্রে সিসিটিভি ফুটেজ স্থাপনের বিষয়ে জোর দিয়েছি। এখনই সিরিয়াস না হলে তফসিল ঘোষণার পর ইসির অবস্থান কী হবে তা স্পষ্টভাবে জানতে এসেছি।
এবারের নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে। আশা করি এবারের নির্বাচন বিগত তিন নির্বাচনের মতো হবে না। অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।
মন্তব্য করুন
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) শাহজালাল বিমানবন্দর সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্র জানায়, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি মঙ্গলবার সকাল ৮টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি নিয়েছিল। কিন্তু তারা আজ সেই অনুমতি বাতিলের অনুরোধ করেছে।
বাতিলের অনুরোধটি সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাঠাবে।
এর আগে বেবিচকে রোববার জমা দেওয়া অপারেটরের প্রাথমিক আবেদনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ল্যান্ডিং ও একই দিন রাত ৯টার দিকে উড্ডয়নের অনুমোদন দিয়েছিল।
কাতার সরকার দীর্ঘ দূরত্বের চিকিৎসা পরিবহনের উপযোগী বিকল্প এয়ার অ্যাম্বুলেন্স নির্বাচন করার পর সেটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এফএআই এভিয়েশন গ্রুপকে চার্টার করে এই মেডিকেল ইভাকুয়েশন বিমানটি ব্যবস্থা করেছিল।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য জানান, মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শেই শুক্রবার বিকালে খালেদা জিয়ার এন্ডোসকপি সম্পন্ন হয়েছে। এন্ডোসকপির মাধ্যমে তার ইস্টোমার ভেতরের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। এন্ডোসকপির পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে পর্যাপ্ত সতর্কতার সঙ্গে।
এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নিতে কাতার সরকার জার্মানির একটি প্রতিষ্ঠানের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় পাঠাচ্ছে। এটি জর্জিয়ার তিবলিসি থেকে ঢাকায় আসবে।
এদিকে মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শুক্রবার লন্ডনে নেওয়ার কথা ছিল। তবে কাতারের আমিরের দেওয়া বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে কারিগরি ত্রুটি এবং খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কারণে তার লন্ডন যাত্রা পিছিয়ে গেছে।
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন খালেদা জিয়া। তার শারীরিক অবস্থা এখনো অপরিবর্তিত বলে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা।
এদিকে বিএনপির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় শুক্রবার নির্ধারিত সময়ে বিমানটি ঢাকায় পৌঁছাতে পারেনি। কাতারের আমিরের পক্ষ থেকে জার্মাানির তৈরি আরেকটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স শনিবার পৌঁছাতে পারে বলে জানা গেছে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে রোববার (৭ ডিসেম্বর) খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন নেওয়া হবে।
এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমান ইতোমধ্যে লন্ডন থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়াকে দেখেছেন।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকবেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্যসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের একটি দল—ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, ডা. ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ সিদ্দিকী, ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার, ডা. নূরউদ্দিন আহমদ, ডা. জাফর ইকবাল ও ডা. মোহাম্মদ আল মামুন।
পাশাপাশি থাকবেন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান সিঁথি, সহকারী আব্দুল হাই মল্লিক, একান্ত সচিব মো. মাসুদুর রহমান, গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম ও রুপা শিকদার এবং এসএসএফের দুজন সদস্য।
৮০ বছর বয়সি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। গত ২৩ নভেম্বর রাতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে।
অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়, এবং এরপর থেকে তিনি হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন।
অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়ার চিকিৎসা তদারক করছে। চীন ও যুক্তরাজ্য থেকেও কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
মন্তব্য করুন
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের বাইরে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা ইনশাআল্লাহ কাতার এয়ার লাইন্সের মাধ্যমে আজ মধ্যরাতের পর বা আগামীকাল সকালে উনাকে (খালেদা জিয়াকে) লন্ডনে নিয়ে যাবো।
দেশ-দেশের বাইরের বেশ কিছু চিকিৎসক উনার সঙ্গে যাবেন। তিনি দেশবাসীর কাছে খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া চেয়েছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং খালেদা জিয়ার পরিবার থেকে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। ঢাকাস্থ বিভিন্ন দূতাবাসকেও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
এদিকে, বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাতে বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান লন্ডন থেকে ঢাকায় আসছেন। খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
গত ২৩ নভেম্বর হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে খালেদা জিয়াকে দ্রুত রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি বর্তমানে ওই হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রয়েছেন।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খালেদা জিয়া ‘খুব ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে’ চলে গেছেন।
৮০ বছর বয়সী সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির সমস্যাসহ নানান শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।
মন্তব্য করুন

মন্তব্য করুন
রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় ঔষধ ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভায় দেশের ঔষধশিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের বাড়তি জনসংখ্যা কোনো বোঝা নয়; বরং এটি মানবসম্পদ। এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারলেই দেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব।”

আজ ২ ডিসেম্বর দুপুর ১টায় রাজধানীর মেহফিল কনভেনশন হলে ঢাকা-১৫ আসনের ঔষধ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিসিডিএস-এর কেন্দ্রীয় নেতা এ.এ.এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং সঞ্চালনায় ছিলেন বিসিডিএস-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাসুম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—পেশাজীবী জোনের সহকারী পরিচালক জিয়াউল হাসান, কাফরুল জোনের সহকারী পরিচালক মো. শহিদুল্লাহ, আসনের সদস্য সচিব শাহ আলম তুহিনসহ কাফরুল এলাকার বিভিন্ন থানা ও জোনের দায়িত্বশীলরা।
জামায়াত আমীর বলেন, জনসংখ্যা বেশি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের মানুষই দেশের উন্নয়নের মূল শক্তি। শক্তিশালী ও কর্মক্ষম জনশক্তি তৈরি করতে হলে সুস্থ জনগোষ্ঠীর কোনো বিকল্প নেই। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী শারীরিক ও ঈমানী উভয় দিক দিয়েই সবল মানুষ দেশকে নেতৃত্ব দিতে পারে।

তিনি চিকিৎসা সেবায় অনৈতিক প্রবণতার সমালোচনা করে বলেন, “একশ্রেণির চিকিৎসক ঔষধ কোম্পানির অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করে রোগীর স্বার্থের বদলে কোম্পানির স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন। এটি নীতি-নৈতিকতাবিরোধী এবং মানুষের জীবনের প্রতি দায়িত্বহীনতার পরিচয়।”
ঔষধশিল্প প্রসঙ্গে ডা. শফিক বলেন, একসময় বিদেশি কোম্পানিনির্ভর বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাত এখন ৩৮টি দেশে রপ্তানিযোগ্য শক্তিশালী শিল্পে পরিণত হয়েছে। তবে এই অগ্রগতিকে আরও টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে নৈতিকতা, পেশাগত দায়বদ্ধতা এবং গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগ বাড়ানোর উপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “সব চিকিৎসক খারাপ নন; কিন্তু কিছু চিকিৎসক ও কিছু কোম্পানির অনৈতিক দৌরাত্ম্য রোগীর ক্ষতির কারণ হচ্ছে। মানবতার সেবায় সবাইকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।”
সভা শেষে তিনি চিকিৎসক, ঔষধ ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি পেশাগত নৈতিকতা বজায় রেখে জনগণের সেবা করার আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন
ফরিদপুর, ২ ডিসেম্বর:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মজলুম জননেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, “জামায়াতে ইসলামী জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে দেশে কোনো দুর্নীতি থাকবে না। বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থে দরিদ্র দেশ নয়; দুর্নীতি করেই দেশকে দরিদ্র করে রাখা হয়েছে।”
মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় ফরিদপুরের অম্বিকা মিলনায়তন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে শহীদ আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ ও শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার কবর জিয়ারতের পর এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, “যারা নিজেদের স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি দাবি করত তারা আজ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। যারা সত্যিকার দেশপ্রেমিক তারা পালায় না। সাবেক শিল্পমন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে এক পয়সা দুর্নীতির অভিযোগও কেউ প্রমাণ করতে পারেনি।”
দেশ এখনো প্রকৃত স্বাধীনতা পায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “৪৭ পর থেকে বাংলাদেশ কেবল ভৌগোলিক স্বাধীনতা পেয়েছে। দুর্নীতিবাজ স্বপক্ষের শক্তিরাই দেশকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে।”

নারীদের অধিকার নিয়ে অপপ্রচারের জবাবে এ টি এম আজহার বলেন, “অনেকে দাবি করে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে নারীরা ঘরে আবদ্ধ থাকবে। অথচ আমাদের নারীরা ঘরের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।”

সমাবেশে তিনি ফরিদপুর-১, ফরিদপুর-২, ফরিদপুর-৩ ও ফরিদপুর-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।
ফরিদপুর জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা বদর উদ্দিনের সভাপতিত্বে জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে জনগণকে অন্ধকারে রেখে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না জামায়াতে ইসলামী। কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বসে পরামর্শ করা হবে।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় একটি রেস্টুরেন্টে ওষুধ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা জানান।
জামায়াত ইনসাফের ভিত্তিতে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে চায় জানিয়ে দলটির আমির বলেন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে ধনী-গরিব সবাই উপকৃত হবে। অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে জামায়াতের কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।
ওষুধ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে কিছু চিকিৎসক মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশি চিকিৎসকদের জন্য হালাল পন্থায় বেঁচে থাকার যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা রয়েছে।
একসময় বাংলাদেশ ওষুধ শিল্পে বিদেশিদের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও বর্তমানে বহু দেশে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি হয়।
মন্তব্য করুন
বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে,দেশে-বিদেশে নানান ষড়যন্ত্র আভাস মিলছে। গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সাম্প্রতিক বৈঠকে নাকি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে আসন্ন নির্বাচনে ‘সুযোগ করে দেওয়ার’ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন। রাশেদ খানের দাবি, রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় তুলেছে, যদিও সংশ্লিষ্ট কোনো রাষ্ট্রীয় পক্ষ এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য কিংবা নিশ্চয়তা দেয়নি।
বাংলাদেশের জনগণের রায় নিয়ে নয়, বরং পর্দার আড়ালের বৈঠকের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে আবারো ক্ষমতায় আনার চেষ্টা চলছে।
দিল্লি ও ঢাকার শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
যেখানে আ’লীগের জন্য রাজনৈতিক সুবিধা তৈরির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের ভেতরে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করা এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক কার্যক্রম সীমিত করার মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই আলোচনায় ভারতকে ব্যবহার করা হচ্ছে আঞ্চলিক নিরাপত্তার যুক্তিতে, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের শামিল।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বৈঠক হওয়া নতুন বিষয় নয়।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো প্রায়ই সীমান্ত, সন্ত্রাস দমন, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক নীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে পারস্পরিক আলোচনা করে থাকে। তাই নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গে এই বৈঠকের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সরকারের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগের নেতারা বরাবরের মতোই দাবি করে আসছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে সংবিধান ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে, এবং কোনো বিদেশি রাষ্ট্র বা শক্তির প্রভাব এতে থাকবে না।
এদিকে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের অনেকেই রাশেদ খানের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণের দাবি করেছেন।
তাদের মতে, নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো ধরনের বিদেশি প্রভাব বা অস্বচ্ছ উদ্যোগ গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
মন্তব্য করুন
সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
তা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সালাউদ্দিন। সেখানেই এই কথা বলেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অন্যান্য বৈঠকের মতো নিয়মিত বৈঠক হয়েছে স্থায়ী কমিটির।
তবে নতুন করে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। খালেদা জিয়া স্বাস্থ্য নিয়ে ডা: এ জেড এম জাহিদ কথা বলবেন।’
সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনের প্রস্তুতিসহ নানা বিষয় উঠে আসে এই বৈঠকে। বিষয়টি জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
এর আগে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, তারেক রহমানের দেশে আসতে কোনো বাধা নেই। এক দিনেও ট্রাভেল পাস দেয়া সম্ভব বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন
আন্দোলনরত ৮ দলের ৫ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ইসলামি দলগুলোর মধ্যে যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এ ঐক্য আমাদের জাতীয় সংসদ পর্যন্ত নিয়ে যাবে। প্রয়োজনে আরও একবার ৫ আগস্ট সংঘটিত হবে।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে আন্দোলনরত ৮ দলের উদ্যোগে খুলনা নগরীর শিববাড়ী মোড়ে বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা ৮ দলের বিজয় চাই না, আমার বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। আমরা দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, তাঁবেদারি নয়- স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যেতে চাই।
৫ আগস্ট বিপ্লবের পরদিন থেকে একটি গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তারের জন্য জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে।তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি অরাজকতা অব্যাহত আছে।
ক্ষমতায় না গিয়েও অনেকে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছে। প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে। মানুষ বলতে বাধ্য হচ্ছে, আগে ভালো ছিলাম না, এখন আরও খারাপ আছি। তবে এ সময় কোনো ইসলামি দলের গায়ে চাঁদাবাজের তকমা লাগেনি।
যারা বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি তাদের উদ্দেশ্য করে জামায়াতের আমির বলেন, এবার তোমাদের ভোট নিয়ে কেউ ছিনিমিনি করতে চাইলে আমরা তা হতে দেব না। সেদিন আমারও যুবক হয়ে তোমাদের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করব।
তরুণ ভোটারদের উদ্দেশ্য করে বলেন, তোমাদের হাতে আমার দেশটা তুলে দিতে চাই। সেজন্য নিজেদের প্রস্তুত করো। তোমরা চাকরি করবে না, চাকরি দেবে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী ৫৪ বছরে জনগণের লালিত স্বপ্ন অনেকাংশেই বাস্তবায়ন হয়নি। দৃশ্যমান কিছু উন্নয়ন হলেও এটা প্রকৃত উন্নয়ন নয়। দেশ ও জাতির মধ্যে ন্যায়বিচার ও সামাজিক সুশাসন আছে কিনা সেটা বিবেচ্য।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা দুই ধারায় চলমান উল্লেখ করে আমির বলেন, এক ধারায় রয়েছে মাদ্রাসাশিক্ষা। অন্য ধারায় স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা। মাদ্রাসায় খুনোখুনি হয় না। অস্ত্রবাজি হয় না। জ্ঞানের চর্চা হয়। পক্ষান্তরে ৫৪ বছরে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্তানদের লাশ পড়েছে। মদ-গাঁজার আসর বসেছে।
মেয়েদের ইজ্জত লুট হয়েছে। অস্ত্রের ঝনঝনানি হয়েছে। সভ্য হতে হলে আমাদের দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে। কিছু দল ও ব্যক্তি দফায় দফায় দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করে ভাবমূর্তি বিনষ্ট করেছে।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, অনেক স্থানে আমাদের ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। তবে জনগণ এখন আর পোস্টার দেখে ভোটের সিদ্ধান্ত নেয় না। তারা আমাদের ভালোবেসে বুকের মধ্যে স্থান দিয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির পীরসাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করিম বলেন, অনেকে বলেন আমার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত নই। কিন্তু আমার নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। কিন্তু তারাই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে হিসাব নিকাশ করে দেখেছেন তাদের পায়ের তলে মাটি সরে গেছে।
এবার নির্বাচন নিয়ে আপনারাই ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। গুন্ডামি করে, সেন্টার দখল করে, সন্ত্রাসী চালিয়ে ক্ষমতার চেয়ারে বসবেন। সেদিন ভুলে যান। সে সুযোগ আর আপনারা পাবেন না।
সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে দেখতে পাচ্ছি, বাংলাদেশ আজ দুই ভাগে বিভক্ত। ৭২ বাকশালপন্থি আর এক ভাগ ২০২৪ সালের বিপ্লবপন্থি শক্তি।
তিনি আরও বলেন, রক্তের সাগর পেরিয়ে ২৪-এর জুলাই বিপ্লবের পর যেই ফ্যাসিবাদ বিতাড়িত করা হয়েছে, সেই ফ্যাসিবাদ বাংলার মাটিতে আসবে না। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি কার্যকরে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম।
জুলাই সনদকে চূড়ান্ত আইনি ভিত্তি দিতে গণভোটের আয়োজন করতে হবে। একসঙ্গে তালগোল পাকিয়ে এ মাহাত্ম্যকে নষ্ট করবেন না। জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন করা হোক।
মামুনুল হক বলেন, ব্যর্থ হলে ইন্টেরিম সরকার ইতিহাস আপনাদের ক্ষমা করবে না। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। কলঙ্ক নিয়ে আপনাদেরও বিদায় নিতে হবে। বাংলার মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ।
দলীয় প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি হ্যাঁ ভোটের বাক্স ভরতে হবে। নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা দেখা দিলে সরকারকে তার দায় নিতে হবে।
তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় থেকে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করেছে।
তারা চেয়েছিল ৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে। ৮ দল ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজ থাকবে না। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, এটাকে কেউ ভাঙতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।
বাংলাদেশ নেজামী ইসলামী পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহার বলেন, খান জাহান আলীর শহর খুলনা, রূপালী শহর খুলনা। যারা সংস্কারের বিরুদ্ধে থাকবে, আগামী নির্বাচনে জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে।
যারা এদেশে শরীয় আইন চায়না তাদের লাল কার্ড দেখাবে। সিসা ঢালা এই ঐক্য ধরে রেখে আমরা ইসলামী সংসদ গড়ে তুলব।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদেক হক্কানী বলেন, এ দেশের সংবিধান হবে আল্লাহর কোরআন। সংসদে হবে কোরআনের আইন। যে কোনো ষড়যন্ত্র আমরা মোকাবিলা করব। মানুষকে বোঝাতে হবে আল্লাহর আইন ছাড়া শান্তি সম্ভব না।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেছেন, যারা বলেছিলেন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিবকে খুলনায় আসতে দেবে না। তারা এসে দেখে যান বাবরী চত্বর ইসলামি দলে ভরে উঠেছে। জাতীয় নির্বাচন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে।
জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে। ৫ আগস্টে জনগণ দেখেছে এ দেশের জনগণ হিন্দুত্ববাদ কায়েম করতে চায় না। বাংলাদেশের জনগণ চাঁদাবাজি দেখতে চায় না। গণভোটের প্রশ্নে তিনি বলেন, গণভোটকে হ্যাঁ বলুন, ৮ দলের প্রতীকে সিল মারুন।
বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টি বিডিপির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন বলেন, আমরা দেশদ্রোহীদের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়েছি। এদেশের মানুষ অন্য দেশের দালালি করতে চায় না। মানুষ দালালি নয়, মুক্তি চায়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির পীরসাহেব চরমোনাই মুফতী সৈয়দ মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন- খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহার।
খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদেক হক্কানী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টি বিডিপির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল আউয়াল ও মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমাদ।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আজাদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন ও খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন।
মন্তব্য করুন
তিনি বলেন, মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অনেকগুলো সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। এসব কমিশনের মাধ্যমে আমরা সংস্কারের সনদ স্বাক্ষর করেছি। বর্তমানে দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মতো পরিস্থিতি ও পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যেই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতিও চলছে। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী যে দেশের মানুষ এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে তাদের প্রতিনিধিত্বশীল পার্লামেন্ট গঠন করবেন।
সেই পার্লামেন্টের মাধ্যমে তারা জনগণের গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করবেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে এটুকু বলতে পারি—বিএনপি যদি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তাহলে অবশ্যই দেশে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক এবং সমৃদ্ধশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।’
বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘চেয়ারপার্সন বর্তমানে অত্যন্ত অসুস্থ এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সারা দেশের মানুষ তার সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন। আমরা তার জন্য দোয়া চাইছি, আল্লাহ তা’আলা যেন তাকে দ্রুত সুস্থ করে আমাদের মাঝে ফেরত আনেন এবং দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ দেন।’
সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তার মেডিকেল বিষয়গুলো ডা. জাহিদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তিনি নিশ্চয়ই বিস্তারিত তথ্য দিতে পারবেন।
আমি শুধু এটুকু বলতে পারি যে তিনি অসুস্থ, এবং আমাদের চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। দেশি-বিদেশি সব চিকিৎসককে যুক্ত রেখেই চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে।’
মন্তব্য করুন
একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও অন্য ১৪ জন অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে কারা ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঢাকার বিশেষ জজ-৪ এর বিচারক রবিউল আলম এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, শেখ রেহানার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত ১৩ জানুয়ারি মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন।
মামলায় শেখ রেহানা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও শেখ হাসিনাসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে ১০ মার্চ আরও দুই আসামি যুক্ত হয়ে মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন,
রাজউক-এর সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ এবং পরবর্তীতে যুক্ত হওয়া দুই আসামি-সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন ও সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এই মামলায় ৩২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
রায় ঘোষণার পরে মামলাটির সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর মঈনুল হাসান তাৎক্ষণিকভাবে বলেন, আমরা সব সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি।
মন্তব্য করুন
বিসিএন নিউজ প্রতিবেদন
রাজশাহীতে ৫ দফা দাবিতে ৮ দলের বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত
“আগামীর সংসদ হবে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত কোরআনের সংসদ”—অধ্যাপক মুজিবুর রহমান
রাজশাহী বিভাগের ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে ৮ দলের উদ্যোগে ৫ দফা দাবিতে এক বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত আয়োজিত এ সমাবেশে কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতারা বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ৮ দলের সহকারী সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লব কোনো একক দলের ছিল না। নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট দিতে হবে। দেশের মালিক ১৮ কোটি মানুষ—কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়।”
“আগামীর সংসদ হবে কোরআনের সংসদ”—জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য
জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন,
“আগামীর সংসদ হবে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত। অতীতের চাঁদাবাজদের আর জায়গা নেই। সচিবালয়, সংসদ, বিচারালয়—সব চলবে কোরআনের বিধান অনুযায়ী।”
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন,
“৮ দলের জাগরণ নতুন আশা তৈরি করেছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট দিতে হবে—এখনও গেজেট সংশোধনের সুযোগ আছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং নারীকর্মীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান।
নির্বাচন ও গণভোট একদিনে নয়—বক্তাদের দাবি
জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন,
“ইতিহাসে কোনোদিন নির্বাচনের দিনে গণভোট হয়নি। এটি একটি দলের কুপরামর্শ। জনগণ বুলেটের জবাব ব্যালটে দেবে।”
ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও অন্যান্য দলের নেতারা বলেন,
“পরিবর্তন চান দেশের মানুষ। সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ চাই। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আগে নির্বাচন নয়।”
আরও অংশগ্রহণকারী নেতা
মুফতি নুরুন্নবী, মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন, শেখ সালাউদ্দিন, অধ্যক্ষ রোকনুজ্জামান, ড. কেরামত আলী, ডা. জাহাঙ্গীর এবং রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমানসহ বিভিন্ন দলের নেতারা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ইমাজ উদ্দিন মন্ডল ও মুফতি ইমরান।
মন্তব্য করুন
তবে দলীয় প্রধানের অসুস্থতার কারণে বিজয় দিবস উপলক্ষে পহেলা ডিসেম্বর থেকে পনেরই ডিসেম্বর পর্যন্ত 'মশাল রোড শো'সহ বিজয় দিবসের সব কর্মসূচি স্থগিত করে মিসেস জিয়ার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে তার দল বিএনপি।
আগামী পহেলা ডিসেম্বর চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মশাল রোড শোর মাধ্যমে বিএনপির বিজয়ের মাস উদ্যাপন কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ছিল।
১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রোড শো শেষ হওয়ার কথা ছিল।
দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মিসেস জিয়ার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে এবং নতুন করে অবনতি হয়নি বলে তারা জানতে পেরেছেন।
"উনার শারীরিক অবস্থা অবনতিশীল হয়নি। তাই বলে খুব একটা উন্নতি হয়েছে এরকমও খবর পাইনি। তার মানে উনার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে," বলেছেন মি. রিজভী।
অন্যদিকে চিকিৎসকদের একটি সূত্র বলছে, ডাকলে মাঝে মধ্যে সাড়া দিতে শুরু করেছেন হাসপাতালে চিকিৎসকদের 'নিবিড় পর্যবেক্ষণে' থাকা খালেদা জিয়া । এ পরিস্থিতিকে চিকিৎসকরা গত তিন দিনের চেয়ে আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী নতুন করে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে গত রোববার জরুরি ভাবে হাসপাতালে নেয়ার পর থেকেই চিকিৎসাধীন আছেন ।
মন্তব্য করুন
রোববার (৩০ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: পরিবর্তনশীল বিশ্বে একটি প্রাসঙ্গিক ভূমিকা নির্ধারণ’ শীর্ষক সেশনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলে তিনি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থতার কারণে বিদেশে যেতে চাইলে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা করা হবে।
মন্তব্য করুন
সব মিলিয়ে তার পথচলাটা বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর হঠাৎ সংঘাতে পড়ে পরিবার এবং রাজনৈতিক দল বিএনপি। সে সময় দুই ছেলেকে নিয়ে ঢাকা সেনানিবাসে বসবাস করছিলেন খালেদা জিয়া।
স্বামীর মৃত্যুতে শোকাহত এই নারী রাজনীতিতে আসতে একেবারেই অনিচ্ছুক ছিলেন।
পরিবার থেকেও তেমন সমর্থন ছিল না।
কিন্তু বিএনপির শীর্ষ নেতারা আশঙ্কা করছিলেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ছাড়া দলটি ভেঙে পড়তে পারে। দলকে টিকিয়ে রাখতে তারা তাকে রাজনীতিতে আসার অনুরোধ জানাতে শুরু করেন।
অবশেষে ১৯৮২ সালে খালেদা জিয়া বিএনপির দলীয় সদস্যপদ গ্রহণ করেন। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তিনি নির্বাচিত হন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। এরপর ১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দায়িত্ব নেন।
এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তার নেতৃত্ব এবং দৃঢ় অবস্থান দ্রুতই তাকে দেশব্যাপী জনপ্রিয় করে তোলে।
বহু রাজনৈতিক লড়াই, আন্দোলন ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে বিএনপি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে। আর এভাবেই বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বেগম খালেদা জিয়া।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি যেসব নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তার কোনোটিতেই পরাজিত হননি। যা তাকে গণতান্ত্রিক নেতৃত্বে একটি শক্ত অবস্থান এনে দেয়।
তবে তার রাজনৈতিক পথচলা কখনোই সহজ ছিল না। ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর নানা বিতর্ক, মামলা ও ষড়যন্ত্রের মুখে পড়েন তিনি।
২০১৮ সালে মিথ্যা দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দী হন।
২০২০ সালে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেও বিদেশে চিকিৎসা ও সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণেও নিষেধাজ্ঞা ছিল।
সবশেষে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর একে একে সব মামলায় খালাস পান খালেদা জিয়া। বহু প্রতিকূলতা, কারাজীবন, আন্দোলন–সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তিনি এখনো অবিচল।
তার দৃঢ়তা, সহনশীলতা এবং নেতৃত্ব তাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুধু ক্ষমতার প্রতীক নয়, বরং আপোষহীন, সংকল্প আর স্থিতির প্রতীক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।
‘গৃহবধূ থেকে প্রধানমন্ত্রী—খালেদা জিয়ার জীবনগাথা আজও অনেকের কাছে প্রেরণার উৎস।’
মন্তব্য করুন
জানা গেছে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন।
সংবাদ সম্মেলনে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও চলমান দলীয় অবস্থান তুলে ধরা হতে পারে।
এ ছাড়া খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা, দলের অবস্থান ও সর্বশেষ পরিবেশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
ডা. শফিকুর রহমানকে শপথ করান জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম।
এসময় দলটির কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরীর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিশ্বস্ত সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি তাড়াহুড়ো করে দুটি আইন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার পাশ করাতে চাইছেন। একটি সংশোধিত পুলিশ কমিশন আইন এবং অন্যটি এনজিও সংক্রান্ত আইন।
আমরা মনে করি, নির্বাচনের আগে এই আইনগুলো পাশ করার পেছনে সরকারের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে, যা গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে বাধাগ্রস্ত করবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া তড়িঘড়ি করে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আইন পাশ করা সমীচীন হবে না।
আমরা মনে করি উপরোক্ত বিষয়ে আইনগুলো পরবর্তী জাতীয় সংসদে যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়ে প্রণয়ন করা সঠিক হবে। সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য।’
মন্তব্য করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ নভেম্বর ২০২৫
রাজধানীতে অবস্থিত অস্থায়ী কার্যালয়ে জাতীয় ঐক্য জোটের অর্গানাইজিং কমিটির সভায় সংগঠনটি বাউল সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘অমুসলিম’ ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জোটের জাতীয় প্রধান সমন্বয়কারী আলহাজ্ব মাওলানা আলতাফ হোসাইন মোল্লা, পরিচালনা করেন বাংলাদেশ মুসলিম সমাজের চেয়ারম্যান ও জোটের মুখপাত্র মোঃ মাসুদ হোসেন।
সভায় নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, বাউল সম্প্রদায়ের কিছু অনুসারী ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে কটুক্তি করছেন এবং কোরআন–হাদিসের অপব্যাখ্যা দিচ্ছেন। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, বিভিন্ন বাউল আখড়ায় নৈতিক অবক্ষয়ের ঘটনা ঘটে থাকে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে জোটের নেতারা রাষ্ট্রীয়ভাবে বাউলদের অমুসলিম ঘোষণা করার দাবি জানান।
সম্প্রতি বাউল শিল্পী আবুল সরকারের একটি মন্তব্যকে ‘কটুক্তি’ আখ্যা দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তি দাবি করেন জোটের নেতারা।
সভায় সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ৫ ডিসেম্বর ২০২৫, শুক্রবার, বাদ জুমা, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে জাতীয় নির্বাচনের আগে ‘গণভোটের দাবিতে’ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করা হবে।
সভায় বক্তব্য রাখেন—
জাতীয় ঐক্য জোটের মিডিয়া সমন্বয়কারী সিদ্দিকুর রহমান,
সমন্বয়কারী মাওলানা ওবায়দুল হক,
মাওলানা আজহারুল ইসলাম ইঞ্জিনিয়ার,
তাইফুর রহমান রাহি,
শাহ আলম তাহের,
মোস্তফা আল ইহযায,
মোঃ ইসমাইল হোসেন খান ও
ফয়জুল্লাহ পাঠান প্রমুখ।
মন্তব্য করুন
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম চরগড়গড়ির যগির মোড়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বিকেলে পাবনা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু তালেব মণ্ডল দেড় শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে সাহাপুর ইউনিয়নের রহিমপুর বটতলা থেকে চরগড়গড়ি আলহাজ মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। যগির মোড় এলাকায় জামায়াতের মিছিল পৌঁছালে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুহা. সাইদুল ইসলাম জানান, বুধবার (২৬ নভেম্বর) চরগড়গড়ি গ্রামের জামায়াতের রুকন (সদস্য) ডা. ইকবাল হোসেনকে মারধর করেন পাবনা-৪ আসনের বিএনপির প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমানের হাবিবের সমর্থক সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি মক্কেল মৃধা ও তার লোকজন।
এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে চরগড়গড়ি এলাকায় জামায়াত ইসলামী বিক্ষোভ সমাবেশে আয়োজন করে। সমাবেশে যাওয়ার পথে চরগড়গড়ির যগির মোড়ে মক্কেল মৃধার লোকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
তিনি আরও জানান, হামলায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু তালেব মণ্ডলসহ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। এসময় হামলাকারীরা প্রার্থী আবু তালেবের গাড়ি ভাঙচুর ও চারটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেন।
সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রমজান আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জামায়াতের মোটরসাইকেল বহর থেকে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়।
এসময় জামায়াতের নেতাকর্মীরা ৪০ রাউন্ডের বেশি গুলিবর্ষণ করেন। এ ঘটনায় বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।
রূপপুর গ্রিন সিটি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখি আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কয়েকটি পুড়ে যাওয়া মোটরসাইকেল দেখতে পাই।’
এ বিষয়ে জানতে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুর নূরের ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
মন্তব্য করুন
বুধবার (২৬ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার বারবার এই অভিযোগ করা হয়।
প্রসিকিউটর গাজি এমএইচ তামিম, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মন্তব্য করুন
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে গণমাধ্যমে সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী প্রেরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি করেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ভন্ড বাউল আবুল সরকার প্রকাশ্যে আল্লাহকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও মিথ্যাচার করে স্থানীয় সচেতন মুসলমানদের প্রতিবাদের মুখে গ্রেফতার হয়েছেন, যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি কাম্য নয়।
ধর্ম অবমাননার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় প্রশাসনের কেউ স্থানীয় প্রতিবাদী আলেম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ জনতাকে হয়রানি করলে তার পরিণতি ভালো হবে না বলে আমরা কঠোরভাবে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছি।
মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের দায়ে আমরা উসকানিদাতা আবুল সরকারের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এভাবে ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টিকারী বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভিডিওতে সচেতন বাউল শিল্পীরাও আবুল সরকারের ইসলামবিরোধী কথাবার্তার সমালোচনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে দাবি করে আল্লামা সাজেদুর রহমান বলেন, আবুল সরকারের ইসলাম অবমাননার বিষয়টি আড়াল করার সুযোগ নেই।
আমাদের প্রশ্ন- ভন্ড বাউল আবুল সরকারের পক্ষে দাঁড়ানো সেক্যুলার প্রগতিশীলরা কি সমাজে ধর্ম অবমাননা করার অধিকার চান?
তাসাউফ বা সুফিবাদ ইসলামের আত্মদার্শনিক রূপ জানিয়ে হেফাজত মহাসচিব বলেন, কিন্তু বাউলবাদের আড়ালে কারো ইসলাম বিকৃতি ও অবমাননা সমর্থনযোগ্য নয়।
কথিত বাউল আবুল সরকারের সুস্পষ্ট ধর্ম অবমাননা সত্ত্বেও তার পক্ষে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদী মুসলমানদের কলঙ্কিত করা এ দেশে ইন্ডিয়ার স্বার্থ রক্ষার শামিল।
এ ঘটনায় ইন্ডিয়াপন্থি উগ্র বামরাও সরব হয়েছে। জুলাই বিপ্লব বানচাল করতে ইন্ডিয়ার চক্রান্তে দেশে যেকোনো অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা প্রতিহত করা হবে।
মন্তব্য করুন
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে নতুন ইতিহাস রচিত হবে।
শনিবার (২২ নভেম্বর) বেলা ১১টায় ঝালকাঠির নেছারাবাদ মাদ্রাসা ময়দানে মুছলিহিনের জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বিগত দিনের মতো যদি কেউ ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং বা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে, তবে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
জামায়াতের আমির আরও বলেন, সব জুলুম, ফ্যাসিবাদ ও জাতিকে বিভক্ত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। কারো রক্তচক্ষু তোয়াক্কা না করেই ইসলামের পক্ষে সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।
তিনি বলেন, ইসলামী দলগুলো এক হতে পারলে এবং আগামী নির্বাচনে সম্মিলিতভাবে ভোটের বাক্স দিতে পারলে দেশে নতুন ইতিহাস রচিত হবে।
এছাড়া বক্তব্য দেন— খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিদ আজাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামালসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করা সম্ভব। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, দেশ কোন পথে এগোবে, সেটি নির্ধারণ করবে জনগণ এবং ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী শক্তিগুলো।
নেছারাবাদী হুজুর মুছলিহিনের আমির মাওলানা খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
জামায়াতের নির্বাচনি টিম বর্তমানে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্তকরণের কাজ করছে যাতে থাকছে বড় চমক।
ইতঃপূর্বে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনায় দলীয় একটি সমাবেশে বলেছিলেন, সব ইসলামপন্থিদের এক ছাতার নিচে আনতে জামায়াত প্রয়োজনে ১০০ আসন ছাড় দেবে।
তবে ৮ দল এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তারা এখন একমত যে, যাকে যে আসনে মনোনয়ন দিলে বিজয়ী হবে তাকে সেখান থেকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। তিনি শরিকদের মধ্যে যে দলেরই হন। সবাই তার জন্য কাজ করবেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, ৮ দলের শরিকরা কেউই এখন আসন সংখ্যার ভাগাভাগিতে নেই, তারা এখন বিজয়ী হতে চান এবং ইসলামকে বিজয়ী করতে চান।
যাকে যেখান থেকে মনোনয়ন দিলে জিতবে তাকেই চূড়ান্ত করবে ৮ দল। ইসলামপন্থিদের বাক্স হবে একটি। শুধু ৮ দল নয়, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চান তারা।
সূত্রমতে, জামায়াতের ইতঃপূর্বে ঘোষিত তালিকায় বড় পরিবর্তন আসবে শরিকদের জন্য। এর পাশাপাশি অন্তত চারজন সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) জামায়াতের মনোনয়ন পেতে পারেন।
সম্প্রতি সমাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের নির্বাচিত তিনজন ভিপি এবং দুজন জিএসসহ কয়েকজন ছাত্র প্রতিনিধিকে জামায়াত মনোনয়ন দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে। যাদের সবাই জুলাই আন্দোলনে ছিলেন সম্মুখসারির নেতা।
এক উপদেষ্টাসহ আরও কয়েকজন সম্মুখসারির জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতার জন্য ওইসব আসন ছাড় দিতে পারে জামায়াত। তাদের সঙ্গে জোট করার চিন্তা-ভাবনা থাকলেও যদি জোট না হয় তারপরও কয়েকজনের জন্য আসন ছাড় দিতে পারে জামায়াত।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর অমুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে জামায়াত ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে-মন্দির পাহারা, পূজার নিরাপত্তা বিধান করাসহ নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে। তাদের ধর্মীয় উপাসনালয় এবং জানমালের হেফাজতের জন্য জামায়াতকে তারা বিশ্বাসী মনে করে।
এজন্য অমুসলিম সম্প্রদায় থেকে একাধিক প্রার্থী দিতে পারে দলটি। সেক্ষেত্রে একজন উপজাতি প্রার্থীও হতে পারেন বলে জানা গেছে।
জামায়াতের ইতঃপূর্বে ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় কোনো নারী ছিলেন না।
জানা গেছে, চূড়ান্ত তালিকায় বেশ কয়েকজন নারী প্রার্থী হিসাবে যুক্ত হতে পারেন। এসব নারীরা অধিকাংশই উচ্চশিক্ষিত ও সুপরিচিত।
মন্তব্য করুন
সোমবার (১৭ নভেম্বর) মিরপুর পুরোনো পল্লবী থানার পেছনে সি ব্লক এলাকায় এ গুলির ঘটনা ঘটে। পরে লোকজন তাকে উদ্ধার করে একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
জানা যায়, আজ সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে পল্লবী সেকশন-১২ এ অবস্থিত বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারির দোকানে বসে থাকা অবস্থায় পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়াকে মোটরসাইকেলযোগে তিনজন দুর্বৃত্ত ভেতরে ঢুকে মাথা, বুকে ও পিঠে পিস্তল ঠেকিয়ে ৭ রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থল থেকে ৭ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। রাতে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজুর রহমান বলেন, গোলাম কিবরিয়া পল্লবী থানা যুবদলের নেতা ছিলেন। তবে কে বা কারা গুলি করেছে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
বিবিসি বাংলা বলছে, এর সহজ উত্তর হলো– সেই চিঠি পাওয়ার পর বছর ঘুরতে চললেও ভারত সেটি নিয়ে এতদিন একেবারে চুপচাপ বসেছিল। কিন্তু এবারে হয়তো মুখ খোলার জন্য তাদের ওপর চাপ বাড়বে।
প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে একটি কূটনৈতিক পত্র বা ‘নোট ভার্বাল’ পাঠানো হয়েছিল গত বছরের ডিসেম্বরে।
তার মাত্র দুদিনের মধ্যে সেই নোট ভার্বালের প্রাপ্তি স্বীকার করা হলেও এরপর তারা সেই অনুরোধ নিয়ে কী ভাবছে বা কী অবস্থান নিচ্ছে, ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিয়ে আজ পর্যন্ত একটি শব্দও খরচ করেনি।
তবে একান্ত আলোচনায় ভারতের পররাষ্ট্র বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বারবারই বলেছেন, প্রত্যর্পণ চুক্তির হাজারটা ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে এই হস্তান্তরের অনুরোধ নাকচ করার বা দিনের পর দিন ঝুলিয়ে রেখে কালক্ষেপণ করার অজস্র সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজন হলে ভারত যেকোনো সময় সেই রাস্তাও নিতে পারে।
পরিস্থিতি কতটা পাল্টালো?
গত বছরের ডিসেম্বরে যখন প্রথম শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ জানিয়ে নোট ভার্বাল পাঠানো হয়, তখন তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা সবে শুরু হয়েছে।
তখনও রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন করেননি, রায় ঘোষণা তো অনেক দূরের কথা।
এরই মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে আওয়ামী লীগ নেতা-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা শুরু হয়ে গেছে। আদালত প্রাঙ্গণে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মণিকে হেনস্তা বা আনিসুল হক-সালমান এফ রহমানকে কিল-ঘুসি মারার ঘটনাও ঘটেছে।
সেসব ঘটনার দৃষ্টান্ত দিয়ে ভারতের কর্মকর্তারা তখন অনানুষ্ঠিকভাবে সব সময়ই বলতেন, শেখ হাসিনাকে বিচারের জন্য বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হলে তিনি যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হবেন না বা তিনি ন্যায় বিচার পাবেন, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এ কারণেই ঢাকার অনুরোধে সাড়া দেওয়া দিল্লির পক্ষে সম্ভব নয়।
তবে গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় আজকের পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা। কারণ শেখ হাসিনা এখন বাংলাদেশের আদালতে গণহত্যার অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত একজন অপরাধী।
এমন একজন অন্য দেশের পলাতক ও দণ্ডিত অপরাধীকে ভারত কেন দিনের পর দিন ধরে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে, সেই কৈফিয়ত দেওয়ার জন্য ভারতের ওপর অবশ্যই এখন চাপ বাড়বে।
ফলে ধারণা করা যেতেই পারে, আজই না হোক – খুব শিগগির ভারতকে আবার এই ব্যাখ্যা দিতে হবে যে, কেন তারা শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে এবং তাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার অনুরোধ উপেক্ষা করে যাচ্ছে।
সেই বিবৃতি বা বক্তব্য যখনই আসুক, তাতে অবশ্য এই প্রশ্নে ভারতের মৌলিক অবস্থান একেবারেই পাল্টাচ্ছে না।
অন্যভাবে বললে, শেখ হাসিনাকে আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য ভারতকে হয়তো এখন নানা সাফাই বা কৈফিয়ত দিতে হবে। কিন্তু তারপরেও শেখ হাসিনাকে আদৌ বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হবে না।
প্রত্যর্পণ চুক্তির ফাঁকফোকর
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা আছে। সেটি হলো- যার হস্তান্তরের জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগটা যদি ‘রাজনৈতিক প্রকৃতি’র হয় তাহলে সেই অনুরোধ খারিজ করা যাবে।
তবে, কোন কোন অপরাধের অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক’ বলা যাবে না, সেই তালিকাও বেশ লম্বা। এর মধ্যে হত্যা, গুম, অনিচ্ছাকৃত হত্যা ঘটানো, বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো ও সন্ত্রাসবাদের মতো নানা অপরাধ আছে।
এখন বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে সব মামলা দায়ের হয়েছিল তার মধ্যে হত্যা, গণহত্যা, গুম ও নির্যাতনের অভিযোগও আছে। ফলে আপাতদৃষ্টিতে এগুলোকে ‘রাজনৈতিক’ বলে খারিজ করা কঠিন।
তার ওপর ২০১৬ সালে যখন মূল চুক্তিটি সংশোধন করা হয়, তখন এমন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছিল, যা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে বেশ সহজ করে তুলেছিল।
সংশোধিত চুক্তির ১০(৩) ধারায় বলা হয়েছিল, কোনোও অভিযুক্তের হস্তান্তর চাওয়ার সময় অনুরোধকারী দেশকে সেই সব অভিযোগের পক্ষে কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পেশ না করলেও চলবে।
শুধু সংশ্লিষ্ট আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা পেশ করলেই সেটিকে বৈধ অনুরোধ হিসেবে ধরা হবে।
কিন্তু এরপরেও চুক্তিতে এমন কিছু ধারা আছে, যেগুলো প্রয়োগ করে অনুরোধ-প্রাপক দেশ তা খারিজ করার অধিকার রাখে।
যেমন, অনুরোধ-প্রাপক দেশেও যদি ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো ‘প্রত্যর্পণযোগ্য অপরাধ’র মামলা চলে, তাহলে সেটা দেখিয়ে অন্য দেশের অনুরোধ খারিজ করা যায়।
শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে অবশ্য এটা প্রযোজ্য নয়। কারণ ভারতে তার বিরুদ্ধে কোনও মামলা হচ্ছে না বা অচিরে হওয়ারও লক্ষণও নেই।
দ্বিতীয় ধারাটি হলো, যদি অনুরোধ-প্রাপক দেশের মনে হয় ‘অভিযোগগুলো শুধু ন্যায় বিচারের স্বার্থে, সরল বিশ্বাসে আনা হয়নি’– তাহলেও তাদের সেটি নাকচ করার ক্ষমতা থাকবে।
অভিযোগগুলো যদি ‘সামরিক অপরাধ’র হয়, যা সাধারণ ফৌজদারি আইনের পরিধিতে পড়ে না, তাহলেও একইভাবে অনুরোধ নাকচ করা যাবে।
ফলে ভারত এখনো অনায়াসেই বলতে পারে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে সঠিক ও সুষ্ঠু বিচার পেয়েছের বলে তারা মনে করছে না এবং সে কারণেই তাকে হস্তান্তর করা সম্ভব নয়।
অর্থাৎ ‘অভিযোগগুলো শুধু ন্যায় বিচারের স্বার্থে, সরল বিশ্বাসে আনা হয়নি’– এই ধারাটি ব্যবহার করেই তখন প্রত্যর্পণের অনুরোধ নাকচ করা যাবে বলে মনে করছেন দিল্লির অনেক পর্যবেক্ষক।
মন্তব্য করুন
আর পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন—বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির অপরাধ প্রমাণিত। দুটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একটি অভিযোগে আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। এর মধ্য দিয়ে হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কার্যক্রম শুরু হয়। ৪৫৩ পৃষ্ঠার এই রায়ে ছয়টি অংশ রয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার এ মামলার রায়ের জন্য আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) দিন ঠিক করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনাল-১–এর এজলাস থেকে রায় ঘোষণার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা এটিই প্রথম মামলা, যার রায় আজ ঘোষণা করা হলো। একই সঙ্গে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো প্রধানমন্ত্রী মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচার শেষে সাজার মুখোমুখি হয়েছেন।
গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে প্রথম মামলার কার্যক্রম শুরু হয় গত বছরের ১৭ অক্টোবর। সেদিন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রথম মামলা (মিসকেস বা বিবিধ মামলা) হয়। একই দিনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।
এ মামলায় প্রথমে শেখ হাসিনাই ছিলেন একমাত্র আসামি। এরপর চলতি বছরের ১৬ মার্চ শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও এ মামলায় আসামি করা হয়। একাধিকবার সময় বাড়ানোর পর চলতি বছরের ১২ মে এই মামলায় চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
এ মামলায় আসামি হিসেবে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নাম প্রথমবারের মতো আসে তদন্ত প্রতিবেদনে। ১২ মে থেকে এ মামলায় আসামি হন তিনজন শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে গত ১ জুন ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের দাখিল করা অভিযোগপত্রটি ছিল ১৩৫ পৃষ্ঠার। এর সঙ্গে আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার বিভিন্ন নথি ও তথ্যপ্রমাণ জমা দেওয়া হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার জানে আলম খান ও মো. আলমগীর।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দমনে এক হাজার ৪০০ জনকে হত্যা ও ২৫ হাজার মানুষকে অঙ্গহানির উসকানি, প্ররোচনা ও নির্দেশ দান, ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’সহ মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়। পাঁচটি অভিযোগ হলো উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান;
প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ; রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা; রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনরত ছয়জনকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা করা।
ফরমাল চার্জ দাখিলের মাধ্যমে ‘মিসকেস’ আনুষ্ঠানিকভাবে মামলায় রূপ নেয়। এ মামলায় গত ১০ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। সেদিনই সাবেক আইজিপি মামুন ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হওয়ার আবেদন করেন।
গত ৩ আগস্ট এ মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এর মধ্য দিয়ে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। সূচনা বক্তব্য টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সূচনা বক্তব্যের পর এই মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুরুতর আহত হওয়া খোকন চন্দ্র বর্মণ।
তার সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
এ মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ মোট ৫৪ জন সাক্ষী জবানবন্দি দেন। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয় ৮ অক্টোবর।
এরপর যুক্তিতর্ক শুরু হয় ১২ অক্টোবর। এটি শেষ হয় ২৩ অক্টোবর। সর্বশেষ ১৩ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল জানান, ১৭ নভেম্বর (আজ) এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
‘মিসকেস’ থেকে এ মামলার রায় ঘোষণা পর্যন্ত সময় লেগেছে ৩৯৭ দিন। মামলার তিন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক। দুজনই এখন ভারতে অবস্থান করছেন।
এ মামলায় গ্রেফতার একমাত্র আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন নিজের দোষ স্বীকার করে ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন।
এ বছরের শুরুর দিকে শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যের অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে তাকে বলতে শোনা যায়—‘২২৬ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গেছি’। তার এ বক্তব্য বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা উল্লেখ করে আদালত অবমাননার মামলা করেছিল প্রসিকিউশন।
আদালত অবমাননার ওই মামলায় গত ২ জুলাই শেখ হাসিনাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
মন্তব্য করুন
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে এ কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। ‘নারীর ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও অসম্মান: প্রতিরোধে প্রস্তুত সচেতন নারী সমাজ’ শীর্ষক এই মৌন মিছিল ও সমাবেশের আয়োজক নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট হবে একই দিনে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এই সিদ্ধান্ত জানান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে সই হয়েছে, তা প্রতিপালনে বিএনপি অঙ্গীকারাবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন দলটির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর বাইরে চাপিয়ে দেওয়া, জবরদস্তিমূলক কোনো প্রস্তাব যদি দেওয়া হয়, তা জনগণ বিবেচনা করবে। জাতীয় সংসদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিএনপি সোচ্চার থাকবে বলে উল্লেখ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সার্বভৌমত্ব কোনোভাবে ক্ষুণ্ন হোক, তা আমরা চাই না। সে জন্য কোনো আরোপিত আইন দিয়ে, আদেশ দিয়ে, জবরদস্তিমূলক প্রস্তাব দিয়ে জাতীয় সংসদের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ আমরা করতে দেবো না।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। তিনি জানান, তারা ভেবেছিলেন, গত ১৭ বছর নারীরা যেভাবে খুন-ধর্ষণের শিকার হতো, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে। নারীরা তাদের মর্যাদা ফিরে পাবেন।
কিন্তু দুঃখের বিষয়, দেশে আজ আবার নারীরা অন্ধকারে ফিরে যাচ্ছেন। নারীদের ঘরে ফিরিয়ে দিতে কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। কাজেই অধিকার আদায়ে নারীদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। মর্যাদা ফিরে পেতে নারীদের সমস্বরে আওয়াজ দিতে হবে।
সমাবেশ সঞ্চালনা করেন নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সদস্য সচিব নিপুণ রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, আজ আমরা এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সংকেত দিয়ে গেলাম যে, নারীর অধিকার নিয়ে কোনো সংকট তৈরি করা হলে দেশের পুরো নারী সমাজ জেগে উঠবে। এ সময় তিনি স্লোগান দেন, পাঁচ নয় আট, তুমি বলবার কে।
নারী কাজ করবে না ঘরে থাকবে- এটা একান্তই নারীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। তিনি বলেন, নারী অধিকার হলো মানুষের অধিকার। নারীর কোনো দান, দয়া, দাক্ষিণ্যের প্রয়োজন হয় না। নারীরা ঘর সামলাবেন না বাইরে থাকবেন, সেটা একান্তই নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়। নারীদের সিদ্ধান্ত নারীদেরই নিতে দিন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরীন ইসলাম খান বলেন, পুরুষ আমাদের সহযোদ্ধা। পুরুষ আমাদের শত্রু নয়। তাই নারীর পাশাপাশি যে পুরুষকে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে হয়, আমি তাঁর পক্ষে দাঁড়াই।
যে জুলাই সনদে নারীর কথা নেই, সেই জুলাই সনদ নারীরা প্রত্যাখ্যান করছেন বলে মন্তব্য করেন নাহরীন ইসলাম খান। তিনি বলেন, দেশের প্রবৃদ্ধি প্রকৃত উন্নয়ন নয়। প্রকৃত উন্নয়ন হচ্ছে সেই উন্নয়ন, যেখানে রাত্রিবেলায় নারী নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে এখনো সোচ্চার নয় বলে মন্তব্য করেন মায়ের ডাকের সমন্বয়কারী সানজিদা ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা পরিবর্তন দেখেছি গণঅভ্যুত্থানে; কিন্তু পরবর্তী সময়ে এসে আমাদের এমন এমন সব সামাজিক অবস্থায় পড়তে হচ্ছে, যেখানে এখন শুনতে হয়, আমাদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে পাঁচ ঘণ্টায় নিয়ে আসা হবে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে হোক, পারিবারিক ক্ষেত্রে হোক বা যে কোনো ক্ষেত্রে হোক, যখনই তারা কথা বলতে গিয়েছেন, তখনই দেখেছেন, বিভিন্নভাবে নারীদের হ্যারাস করা হয়েছে। হয়তো নারীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে, অথবা কোনো মতাদর্শ নিয়ে, অথবা পোশাক নিয়ে। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে নারীকে কথা বলতে হবে।
কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম, নিলুফা চৌধুরী, শিরিন সুলতানা, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানসুরা আলম, সহসভাপতি রেহানা আক্তার প্রমুখ।
মন্তব্য করুন
একই দিন নির্বাচন ও গণভোট হলে সংকট তৈরি হবে। প্রত্যেকটি নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা হয়, কেন্দ্রে ঝামেলা হলে গণভোটের কি হবে।
তিনি বলেন, আমরা এই সংকট নিরসনের জন্য দাবি ও আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু সংকট রয়েই গেছে। আমাদের সমমনা দলগুলোও পর্যবেক্ষণ করে প্রতিক্রিয়া জানাবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের ওপর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই ব্রিফিং হয়।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, সন্ধ্যার পর নির্বাহী পরিষদের মিটিং হবে। সেখানে লিগ্যাল এক্সপার্টরা থাকবেন। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ৯ মাস সংস্কার নিয়ে আলোচনা চলছিল। আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি, উপদেষ্টা জনগণের অভিপ্রায় বুঝবেন। কিন্তু সেটা হলো না।
মন্তব্য করুন
পুলিশ জানায়, ১৩ নভেম্বর কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের কথিত লকডাউন উপলক্ষে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ছিল রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটনের।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
ডিবির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, নাশকতার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাজধানীর পল্টনে গণসমাবেশ করবে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া আট দল। এ সমাবেশে হাজার হাজার নয়, বরং লক্ষ লক্ষ মানুষের জমায়েত হবে বলে দলগুলো আশা করছে।
সমাবেশ সামনে রেখে সোমবার (১০ নভেম্বর) পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কার্যালয়ে বৈঠক করেন আট দলের নেতারা। বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আশার কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি বলেন, ‘আগামীকাল হাজার হাজার নয়, লক্ষ লক্ষ মানুষের জমায়েত হবে। লোকে লোকারণ্য হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। রাজধানী এবং আশপাশের মানুষই এতে যুক্ত হবে। আমরা দেশব্যাপী সমাবেশের ডাক দিতে পারতাম। তবে আগামীকাল শুধু রাজধানী ও আশপাশের জনবল নিয়েই সমাবেশ হবে।
এতে যদি সরকার বুঝতে পারে, তাহলে আশা করি এই সমাবেশেই একটা বড় ধরনের মতামত উঠে আসবে।’
পাঁচ দফা দাবি আদায়ে নিজেদের কর্মসূচি প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের চতুর্থ পর্ব শেষ হয়ে পঞ্চম পর্ব চলমান। গত ৬ তারিখ আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি। একই সঙ্গে ১১ নভেম্বর আমরা গণসমাবেশ ঘোষণা করেছিলাম।
আমরা জনগণের কিছু মৌলিক দাবি নিয়ে আন্দোলন করছি। এটা কোনো জোট নয়, এটা আন্দোলনের একটা প্ল্যাটফর্ম।’
তিনি জানান, তারা জনদুর্ভোগ সবসময় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন। সমাবেশ ঘিরে দুর্ভোগের কথা তারা বিবেচনা করেছেন। তাদের কর্মসূচির সময় দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের আলোচনা নিয়ে এ নেতা বলেন, ‘তারা জামায়াতের ডাকে সাড়া দেবেন না, ওনারা এটা প্রকাশ্যে বলে দিয়েছেন। আমরাও প্রকাশ্যে বলে দিলাম, ওনারা আমাদের ডাকুক, আমরা অবশ্যই সাড়া দেব। আমরা আলোচনা এবং আন্দোলন উভয় চেষ্টা অব্যাহত রাখবো।’
ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা বিফলে গেছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আলোচনা ভেস্তে যায়নি। আলোচনার মাধ্যমে একটি সনদ তৈরি এবং স্বাক্ষরিত হয়েছে। মূলত সনদ নিয়ে নয়, সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে।’
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘গণভোট সংবিধানে ছিল, ফ্যাসিস্টরা বাদ দিয়েছে। যারা সংবিধানে গণভোট নেই বলে বলছেন, তারা ফ্যাসিস্টের কাজকে সমর্থন করছেন।
সংবিধানে পাঁচ বছর পর নির্বাচনের কথা আছে। তাহলে কি সংবিধান অনুযায়ী ২৬ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা? বর্তমান সরকারও তো সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা পায়নি।’
মন্তব্য করুন
শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘হিন্দু প্রতিনিধি সম্মেলন ২০২৫’-এ ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এ আলোচনা সভার আয়োজন করে মাতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোট।
তারেক রহমান বলেন, বিতাড়িত স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সময়, দেশের সবচেয়ে জনসমর্থিত ও জনপ্রিয় দল হওয়া সত্ত্বেও বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কমপক্ষে দেড় লাখ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ৭০০’র বেশি নেতাকর্মী গুম, অপহরণ ও খুন করা হয়েছিল এবং অকারণে রাতের বেলা আদালত বসিয়ে রায় ঘোষণা করা হতো। মূল কারণ ছিল দেশে আইনের শাসনের অভাব।
তিনি বলেন, পলাতক স্বৈরাচারের শাসনামলে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান— ডান বা বাম, বিশ্বাসী বা অবিশ্বাসী কেউই নিরাপদ ছিল না। উদাহরণ টেনে বলেন, ২০১২ সালে রামুর বৌদ্ধ মন্দিরে এবং ২০১৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ঘটে যাওয়া হামলার মতো কোনো ঘটনার বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত বা বিচার হয়নি।
গত দেড় দশকে তিনি ও তার নেতারা দেশের সুশীল সমাজ এবং সর্বদলীয় ও সর্বধর্মীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি নাগরিক তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছিলেন, যাতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উপাসনালয় বা বাসাবাড়িতে সংঘটিত প্রতিটি হামলার নেপথ্য ঘটনা উদ্ঘাটন করে সুষ্ঠু বিচার হয়। তবে সেই দাবির কোনো বাস্তবায়ন হয়নি, কোনো বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত কমিশনও গঠন করা হয়নি।
এ কারণেই বিএনপি মনে করে— ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন ছাড়া সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু— কোনো নাগরিকেরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একমাত্র ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনই দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।’
তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা একটি বড় সুযোগ।
তবে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের কিছু সহযোগীর কর্মকাণ্ড দেশের অনেক মানুষের অধিকার ও সুযোগ ক্ষুণ্ণ করছে। দেশ অস্থিতিশীল হলে অতীতে পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনরায় উত্থানের পথ সুগম হতে পারে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের শাসনামলে বিরোধীরা যেভাবে গুপ্ত কৌশল অবলম্বন করেছিল বাঁচার জন্য, আজ পতিত ও পরাজিত ফ্যাসিবাদী অপশক্তিও একইভাবে গুপ্ত কৌশল অবলম্বন করে গণতন্ত্রের উত্তরণের পথ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করতে পারে।
এজন্য তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পতিত ও পরাজিত অপশক্তি যেন কোনো দলের আড়ালে গুপ্ত কৌশল প্রয়োগ করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব। সরকারের কাজ কোনো দলের স্বার্থ বাস্তবায়ন করা নয়।
তিনি বলেন, জনগণের রায় অনুযায়ী বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ পিছিয়ে থাকা পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করবে। পাশাপাশি প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে ফার্মার্স কার্ড প্রদানের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এছাড়া, দেশের বৃহৎ সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো যুব সমাজের বেকারত্ব।
এই বেকারত্ব দূর করতে তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে তাদেরকে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়া হবে, যাতে তারা দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হয়ে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।
মন্তব্য করুন
শেখ হাসিনার সঙ্গে কে কত ঘণ্টা কথা বলেছে, কে কত টাকা লেনদেন করেছে—সব তথ্য-প্রমাণ আমাদের কাছে আছে, সময়মতো প্রকাশ করব।
শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে আড়াই মিনিটের একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
ভিডিওতে তিনি আরও বলেন, দেশ এখন নির্বাচনমুখী। বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, ২৩৭ জন প্রার্থীর প্রাথমিক তালিকা। কিন্তু আমরা জানি, যেসব প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে ৫ আগস্টের পর তাদের অনেকেই শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলে কেউ বিএনপির মনোনয়ন নিতে পারে না। যারা এমন মনোনয়ন দিয়েছেন, তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন।
হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের বঞ্চনার অভিযোগ তুলে সুরঞ্জন ঘোষ বলেন, হিন্দুদের ভোট চান, কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের মনোনয়ন দেন না- এটা অন্যায়।
নব্বই ও আশির দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপি ও ছাত্রদল গঠনে অনেক হিন্দু ছাত্র নেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, আন্দোলন করেছি, এরশাদকে উৎখাত করেছি। আজ আমাদের বঞ্চিত করে ভোট চাইছেন—তা হতে পারে না।
তার ফেসবুক ভিডিওর বক্তব্য নিয়ে জানতে চাইলে সুরঞ্জন ঘোষ জানান, এটাই আমার বক্তব্য। আমি কারও নাম উল্লেখ করিনি।
উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা (পদ স্থগিত) আলোচিত-সমালোচিত অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে।
মন্তব্য করুন
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’- এর সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে নয়াপল্টনে আজ (শুক্রবার) দুপুর থেকেই ঢল নামে বিএনপির নেতা-কর্মীদের।
কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিকেল নাগাদ পুরো এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে। র্যালি পূর্ব আলোচনা সভাকে ঘিরে ব্যানার-ফেস্টুন আর স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে নয়াপল্টন চত্বর।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন দিক থেকে মিছিল আসতে থাকে নয়াপল্টনে। ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মীরা দলীয় পতাকা, প্ল্যাকার্ড, গাড়ি ও ট্রাকে সাজানো প্রদর্শনী নিয়ে যোগ দেন অনুষ্ঠানে।
দুপুর আড়াইটার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল শাহিন ও সহ-যুববিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে আসেন।
জনতার ভিড়ে নানা ধরনের প্রতীকী প্রদর্শনও দেখা যায়। জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের একটি ছোট পিকআপে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রতীকী মডেল তৈরি করা হয়।
সেখানে কয়েদির পোশাকে ছয়জনকে রাখা হয়, যাদের শরীরে লেখা ছিল নানা ধরনের ব্যঙ্গাত্মক বার্তা। আরেকটি ভ্যানে লোহার খাঁচায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি রাখা হয়, যা জনতার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
মন্তব্য করুন
আপনাদের নেতৃত্বের মাধ্যমে পাওয়া যাবে নতুন মানচিত্র। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচিত প্রতিনিধি সংবর্ধনা-২৫ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, অতীতের কলুষিত ছাত্ররাজনীতিতে আমরা শুনতাম, দেখতাম, ছাত্রসংসদে যারা নির্বাচিত হতো, তারা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে জড়াতো, অসৎ উপায়ে রুজি করতো।
তাই বর্তমান ছাত্রসংসদগুলোতে সততার পরীক্ষায় শতভাগ উন্নীত দেখতে চাই। এখানে এক ভাগ ফেলও এই জাতি দেখতে চায় না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছাত্রসংসদ নির্বাচনে সব দলের যারা অংশগ্রহণ করেছেন প্রত্যেককে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের কাছে জাতির অনেক প্রত্যাশা। আপনাদের দায়িত্ব শুধু ক্যাম্পাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
জাতির স্বপ্নসারথি হিসেবে এই স্বপ্নকে ধারণ করতে হবে, বাস্তবায়ন করতে হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবীদের প্রতি জাতির পাওনা আছে। আশা করি আপনারা সেই প্রতিদান দেবেন।
জামায়াত আমির প্রত্যাশা রেখে বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এই ভারী, পর্বতসমান দায়িত্ব আপনারা অতিক্রম করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, তরুণরা আগামীর বাংলাদেশ কীভাবে গড়বে, তার রিহার্সেল হচ্ছে ছাত্রসংসদের মাধ্যমে। সেই তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশ দেখতে চাই।
জামায়াত আমির ছাত্রসংসদ নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, প্র্যত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়কে সেন্টার অব একাডেমিক এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তোলার জন্যে প্রথম প্রায়োরিটি হবে ছাত্রসংসদ। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা নাই হয়ে যাচ্ছে।
ছাত্রসংসদকে এটা নিয়ে কাজ করতে হবে। শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। যুবকদের নিয়ে জাতির যে আশা তৈরি হয়েছে, কারও কারও ভুলের মাধ্যমে সেখানে কিছু ভাটা পড়েছে। আমি চাই, এই ছাত্রসংসদ যেন সেটা পূরণ করেন।
ছাত্রসংসদ নেতাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে ভবিষ্যতের বৃহৎ নেতৃত্বের জন্য নিজেকে তৈরি করতে হবে। তোমাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিতে চাই। দেশের ককপিটে তোমাদের বসাতে চাই। তোমরা ককপিটে বসে দেশ পরিচালনা করবা। পেছন থেকে আমরা তোমাদের জন্য দোয়া করবো, শক্তি জোগাবো।
ভুল করলে কানে কানে তোমাদের বলে সংশোধন করাবো। কথা না শুনলে হাতে ধরে বকা দেবো। যদি তাও না শুনো তাহলে সম্মানের সঙ্গে আসন থেকে জাতিকে সঙ্গে নিয়ে তোমাদের সরিয়ে দেবো। রাগ করো না। তোমাদের সেইভাবেই প্রস্তুত হতে হবে।
আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি, তোমরা পারবা, পেরেছো। একটা হস্তিকে তোমরা এই সমাজ থেকে তাড়াতে পেরেছো। তোমাদের নেতৃত্বে সেটা সফল হয়েছে। তোমাদের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, যোগ করেন জামায়াত আমির।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত এমপিপ্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এসময় গুলিতে সরওয়ার বাবলা নামের এক বিএনপিকর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে বায়েজিদ থানার চাইলত্যাতলীতে গণসংযোগকালে এ ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান এ তথ্য জানান।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, মনোনয়ন পেয়ে হামজারবাগ এলাকায় গণসংযোগ করছিলেন এরশাদ উল্লাহ। এসময় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
তবে কারা তাকে গুলি করেছে তাৎক্ষণিকভাবে সে তথ্য জানা যায়নি। এসময় আরও দু-তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানান বিএনপির এক নেতা।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী বেলাল বলেন, নগরীর তিন নম্বর পাঁচলাইশ ওয়ার্ডে নির্বাচনি সভা করছিলেন এরশাদ উল্লাহ। সভা শেষ করে তিনি সেখানে একটি মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়েন। মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর তিনি হেঁটে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা অতর্কিত গুলি করে।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ আছে। আমি হাসপাতালে যাচ্ছি। তবে কারা গুলি করেছে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক কিছু জানা যায়নি।
এরশাদ উল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক পদে রয়েছেন। এরশাদ উল্লাহর ওপর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করছেন।
মন্তব্য করুন
আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। শাপলা কলি মার্কায় ইনশাআল্লাহ আমরা ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবো। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আপনার-আমার সবার দল।’ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধনের জন্য এনসিপি মনোনীত হওয়ায় মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাতে এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন তিনি।
ভিডিও বার্তায় নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যারা নতুন করে রাজনীতি করতে চান, বাংলাদেশটাকে নতুন করে গড়তে চান- আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আমরা সব জেলায়, সব আসনে সৎ, যোগ্য এবং দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব দেখতে চাই। সারাদেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম হচ্ছে। এ মাসের মধ্যেই আমরা আমাদের প্রার্থিতার তালিকা চূড়ান্ত করবো।
শাপলা কলি প্রতীকে বাংলাদেশের প্রতিটি আসনে আমরা যোগ্য এবং দেশপ্রেমিক প্রার্থী দেবো। আমরা মানুষের কাছ থেকে যে সাড়া এবং সমর্থন পেয়ে এসেছি, আগামী নির্বাচনে সেটি পাবো বলে প্রত্যাশা করি।’
তিনি বলেন, ‘অনেক দিনের চেষ্টার মাধ্যমে আজ আমরা নিবন্ধন পেয়েছি। এনসিপি এখন থেকে একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। শাপলা কলি প্রতীকে আমরা নিবন্ধন পেয়েছি। নিবন্ধন পাওয়ার পেছনে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় এবং তৃণমূলের কর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। সেজন্য আপনাদের জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।’
এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষ একটি নতুন বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেছিল, সেই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নাগরিক পার্টি প্রতিষ্ঠা করি। প্রতিষ্ঠার পর মার্চ মাস থেকে আমরা নিবন্ধনের কার্যক্রম শুরু করি এবং জুন মাসে আমাদের নিবন্ধনের সব কাগজপত্র জমা দেই।
নির্বাচন কমিশনে সবকিছু জমা হওয়া সত্ত্বেও আমাদের প্রত্যাশিত মার্কা শাপলা দিতে গড়িমসি করে। তারপর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আমাদের এক ধরনের লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
সারাদেশে আমাদের যেসব অফিস রয়েছে, নেতাকর্মী রয়েছেন, কমিটি রয়েছে- সেগুলোতে নির্বাচন কমিশন তাদের অবজারভেশন করে এবং দেড় মাস আগে আমরা জানতে পারি আমরা নিবন্ধন পেতে যাচ্ছি। তবে আমাদের প্রতীক আটকে ছিল।
অবশেষে আমরা শাপলা কলি প্রতীকে নিবন্ধন পেয়েছি। সেজন্য আন্তরিকভাবে আবারও ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। যারা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যারা আমাদের সমর্থন দিয়েছেন- এই পুরোটা সময় আমরা মানুষের পাশে থেকে মানুষের জন্য কাজ করেছি। জুলাই পদযাত্রায় মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি, মানুষের অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি।’
মন্তব্য করুন
সোমবার (৩ নভেম্বর) রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন— স্বেচ্ছাসেবক দলের চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা সভাপতি আলাউদ্দিন মনি, সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন বাবর, সীতাকুন্ড পৌরসভার আহ্বায়ক মামুন, যুবদলের সোনাইছড়ীর সাধারণ সম্পাদক মমিন উদ্দিন মিন্টু।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার সন্ধ্যার পরে দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে তারা (বহিষ্কৃতরা) চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সীতাকুন্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কদমরসুল, ভাটিয়ারী বাজার, জলিল গেট এলাকায় সহিংসতা, হানাহানি ও রাস্তা অবরোধসহ নানাবিধ জনস্বার্থ বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়।
এসব কর্মকাণ্ডের জন্য দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে এই চার নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
যেহেতু আমরা একা ইলেকশন করব না, আরও অনেককে আমরা ধারণ করব দেশ এবং জাতির স্বার্থে সব দিক বিবেচনা করেই চূড়ান্তভাবে যথাসময়ে ইনশাল্লাহ প্রার্থী ঘোষণা করব। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) যুক্তরাজ্য থেকে ভোরে দেশে ফেরেন ডা. শফিকুর রহমান।
পরে সকাল ৬টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি গেটে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে তিনি ১৯ অক্টোবর সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফরের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করেন।
এ সময় নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, কমপক্ষে আরও ১৫ দিন সময় বাড়িয়ে দেওয়া হোক। যে জটিলতাগুলো আছে তা সহজ করা হোক। যেসব শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে তা শিথিল করা হোক। একজন নাগরিকের প্রমাণের জন্য তার এনআইডি যথেষ্ট। পাশাপাশি যদি একটা ভ্যালিড পাসপোর্ট থাকে তাহলে তো আর কিছুর প্রয়োজন হয় না। এগুলো সহজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।
লন্ডনে অবস্থানকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের কথা শোনা গেছে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি শুনেছেন, আমি শুনিনি।
ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতানৈক্য দেখা গেছে। এটি কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, মতানৈক্য হোক কিন্তু মতবিরোধ যেন না হয়। মতের ভিন্নতা থাকবে। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমরা সবার মতকে শ্রদ্ধা করি।
সব দলের তো ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। এর মানে এই নয় যে, মতানৈক্যের কারণে বিরোধ বা অনৈক্যে দেশ অস্থির হয়ে গেছে, তা মানতে রাজি নই।
এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনা করে সরকারকে জানানোর আহ্বান প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, সরকার সময় বেধে দেননি, অনুরোধ করেছেন। রাজনৈতিক দলগুলো বসে যদি একটা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে তাহলে তা সরকারের জন্য ভালো। আমরাই সবার আগেই আহ্বান জানিয়েছি, নায়েবে আমির তাহের খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে দেশ ও জাতির স্বার্থে সমাধানে পৌঁছার আহ্বান জানিয়েছেন। আশা করি অন্যরা এ আহ্বানে সাড়া দেবেন।
জামায়াতের পুন:নির্বাচিত এই আমির বলেন, জাতীয় সংসদসহ সরকার পরিচালনা, দেশ গঠনে পিআর সিস্টেমেই প্রবাসীরা অংশগ্রহণ করবেন। হয়তো সময় লাগবে, তবে এটা নিশ্চিত করা হবে ইনশাল্লাহ। এটা আমাদের স্বপ্ন। আমেরিকা সফর শেষে যুক্তরাজ্য ও তুরস্ক সফর করে আজ দেশে ফিরেছি। দুনিয়ার সবার সঙ্গেই আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতার ভিত্তিতে সম্মানজনক সম্পর্ক চাই। আমরা যত জায়গায় গেছি সবার আগ্রহ সম্মান পেয়েছি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও মাওলানা আ.ন.ম শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, মাওলানা আব্দুল হালিম, রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ,
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাইফুল আলম খান মিলন, মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ কেন্দ্রীয় উত্তরার আঞ্চলিক জামায়াত নেতারা।
মন্তব্য করুন
সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তালিকা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, এ প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকরা উপস্থিত রয়েছেন। দিনাজপুর-৩ খালেদা জিয়া।
মন্তব্য করুন
তার আগে আবার সবকিছু এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। আমরা আবার ঠিকঠাক করে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়ে বৃষ্টির মধ্যে ছাতা ধরে সেখানে স্বাক্ষর করলাম। কিন্তু যখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে সেটা উপস্থাপন করা হলো, তখন দেখা গেলো অনেক পার্থক্য।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা যে কমিশন তৈরি করেছেন, সেই কমিশন প্রায় এক বছর আট-নয় মাস ধরে ঐকমত্যের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে। সংস্কার ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা অনেক ক্ষেত্রে একমত হয়েছিলাম। কয়েকটি বিষয়ে মতভেদ থাকায় আমরা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছিলাম। অর্থাৎ, আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও মূল বিষয়ে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছেছিলাম, এটাই নিয়ম।
তিনি বলেন, যখন আমরা নির্বাচনে যাবো, তখন ম্যানিফেস্টোতে এই বিষয়গুলো থাকবে। জনগণ যদি আমাদের ভোট দেয়, তাহলে আমরা সেসব বিষয় সামনে আনবো, পার্লামেন্টে পাস করে দেশের পরিবর্তন ঘটাবো। আর যদি ভোট না দেয়, তাহলে সেটি বাদ পড়বে।
অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের সঙ্গে তারা প্রতারণা করেছে। আমরা যে বিশ্বাসযোগ্যতা আশা করেছিলাম, তারা তা রাখেনি। বিশেষ করে আমরা যে ‘নোট অব ডিসেন্ট’গুলো দিয়েছিলাম, সেগুলো উল্লেখ করা হয়নি।
তাই আমরা বলেছি, ‘ইটস অ্যা ব্রিচ অব ট্রাস্ট’। অথচ তারা সেই আস্থার সেতু ভেঙে দিয়েছে। জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তাই বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের দায় অন্তর্বর্তী সরকারের।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পিআর আমি নিজেই বুঝি না। দেশটাকে বাঁচান, বিভাজন সৃষ্টি করবেন না। গণভোট আর পিআর ছাড়া নির্বাচন হবে না, এসব দাবি দাওয়া- মিছিল করে তারা নির্বাচন ভণ্ডুল করতে চায়।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের গোপালপুর স্কুল মাঠে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, পিআর নিয়ে তর্ক-বিতর্ক পার্লামেন্টে গিয়ে হবে। যে-সব মতে দলগুলো একমত সেগুলো জুলাই সনদে সাক্ষর হবে। বাকী মতের জন্য গণভোট হবে। দয়া করে নির্বাচনটা দিয়ে এসব অস্থিরতা কাটান।
আর হিংসার রাজনীতি চাই না। হিন্দু-মুসলিমের বিভেদ চাইনা। সবাই মিলে শান্তিতে থাকতে চাই।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, অতীতে সরকারে ছিলাম কিভাবে পরিচালনা করতে হয় জানি। বিএনপি নির্বাচিত হলে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। প্রত্যকটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য-শিক্ষা খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কৃষকদের সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়া হবে। নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণ যাকে ভোট দেবে তিনি নির্বাচিত হবেন। আর ভাগাভাগি করবেন না, দেশটার ক্ষতি করবেন না। একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চাই। সৌহার্দ্য আর ভ্রাতৃত্বের মধ্যে থাকতে চাই।
এসময় বিএনপির জেলা সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিনসহ দলটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
রাজধানীর মিরপুরে পোশাককারখানা ও রাসায়নিক গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ১৬ জন নিহতের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। জামায়াত আমির মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাতে ক্ষতিগ্রস্ত পোশাককারখানা ও রাসায়নিক গুদাম পরিদর্শন করেন।
তিনি কারখানার বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এছাড়া তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করেন। পরিদর্শনকালে শফিকুর রহমান নিহত ও আহতদের বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে এক লাখ টাকা করে অনুদান ঘোষণা করেন।
একই সঙ্গে এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংগঠনের দায়িত্বশীলদের নির্দেশ দেন।
জামায়াত আমির হতাহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘এ দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব।’
তিনি হতাহতদের পরিবারের সহায়তায় সরকার, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংস্থা, সংগঠন ও জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের নায়েবে আমির আবদুর রহমান মুসা, ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) এবং ঢাকা-১৬ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুল বাতেন।
জামায়াত আমির এর আগে এক বিবৃতিতে নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন ও আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
এছাড়া শফিকুর রহমান নিহতদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে ও আহতদের সর্বাত্মক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান।
মন্তব্য করুন
তিনি বলেন, সরকার এখন পর্যন্ত তাদের পাঁচ দফা দাবি মেনে না নেওয়ায় জামায়াতের পক্ষ থেকে তৃতীয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হচ্ছে। বিবৃতি অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর (মঙ্গলবার) রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব বিভাগীয় শহর এবং ১৫ অক্টোবর (বুধবার) সব জেলা শহরে মানববন্ধন হবে।
ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতের যৌথ উদ্যোগে ১৪ অক্টোবর যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে মৎস্য ভবন হয়ে গাবতলী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিভিন্ন পয়েন্টে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরীর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
ঢাকাবাসীসহ সারাদেশের জনগণ এবং জামায়াতের সব জনশক্তিকে এ কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে সফল করার আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল জানান, তাদের পাঁচ দফা দাবি আদায়ে গত ১ থেকে ৯ অক্টোবর সারা দেশে গণসংযোগ, ১০ অক্টোবর ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহরে গণমিছিল এবং ১২ অক্টোবর জেলা প্রশাসকদের কাছে স্মারকলিপি পেশের কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এসব কর্মসূচি সফল করায় তিনি দেশবাসীকে আন্তরিক মুবারকবাদ জানান। গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এসব কর্মসূচিতে জনগণের সর্বাত্মক অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে, জামায়াতের দাবিগুলোর প্রতি দেশবাসীর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। সরকারের উচিত জনগণের মতামতকে শ্রদ্ধা করে অবিলম্বে জামায়াতের পাঁচ দফা দাবি মেনে নিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ সুগম করা।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত দেশের জনগণ রাজপথ ছাড়বে না।’ ঘোষিত পাঁচ দফা দাবি হলো-
•
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশের মাধ্যমে গণভোট দিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন করা।
•
আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতিকে জুলাই জাতীয় সনদের অন্তর্ভুক্ত করে গণভোট দেওয়া।
•
অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
•
ফ্যাসিস্ট সরকারের সব জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা।
•
স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।
মন্তব্য করুন
তিনি বলেন, গণভোট জাতীয় নির্বাচনের দিন হওয়ার সুযোগ নেই।
যারা সত্যিকার অর্থে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি চায় না তারাই জুলাই সনদ নিয়ে টালবাহানা করছে। তারা প্রথমে স্পষ্ট বলেছেন তারা জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির বিপক্ষে। পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার চাপে তারা গণভোটের পক্ষে সমর্থন দিলেও গণভোট নিয়ে দ্বিচারিতা করছেন।
রোববার (১২ অক্টোবর) জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলার উদ্যোগে ‘জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচনসহ ৫ দফা’ দাবিতে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদানপূর্বক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, যারা ভোট চুরি করে ক্ষমতায় বসে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চায়- তারাই গণভোট সংসদ নির্বাচনের দিন চায়।
কারণ তারা তাদের সন্ত্রাসী, লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে ব্যালট ছিনতাই করে গণভোটে ‘না’ প্রস্তাবে সিল মারার চক্রান্ত করছে। তারা চায় না জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়া হোক। কারণ জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়া হলে তারা দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, লুটপাট, দখল আর ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে পারবে না।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সতর্ক করে জামায়াতের এ নেতা বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না দিলে নিজেরা নিজেদের পায়ে কুড়াল মারার শামিল হবে। জনগণকে আবারও ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার দিকে ঠেলে না দিয়ে ৫ দফা দাবি মেনে নিতে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে দলীয় চাঁদাবাজি বন্ধ হবে মন্তব্য করে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, মনোনয়নের নামে দলীয় যে চাঁদাবাজি হয় সেটির সুযোগ থাকবে না। ফলে নির্বাচনে কালো টাকার ছড়াছড়ি বন্ধ হবে। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। জনগণ সুষ্ঠুভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। প্রতিটি ভোট মূল্যায়িত হবে।
প্রচলিত পদ্ধতিতে দেখা যায় মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে একজন প্রার্থী বিজয়ী হন, অপরদিকে এক ভোটের ব্যবধানে লাখ-লাখ ভোট নষ্ট হয়েছে। লাখ লাখ ভোটারের মতামতের কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকে না।
তাই প্রচলিত নির্বাচন পদ্ধতিতে সত্যিকারের জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচিত হয় না, জনগণের সরকার গঠিত হয় না। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা জেলা আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন।
এতে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা-১ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম, ঢাকা জেলা নায়েবে আমির শাহিনুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, ইসলামি ছাত্রশিবিরের ঢাকা জেলা উত্তরের সভাপতি আবু সুফিয়ান, ইসলামি ছাত্রশিবিরের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম প্রমুখ।
মন্তব্য করুন
ফেসবুক পোস্টে সারজিস আলম বলেন, বিগত এক মাসে পঞ্চগড় জেলায় এনসিপি তিনটি প্রোগ্রাম আয়োজন করেছে। প্রতিটি প্রোগ্রামে যখন আমি বক্তব্য দেওয়া শুরু করি, তার এক-দুই মিনিট পরে বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রথমবার যখন হয়েছিলো, কিছু বলিনি। মনে হয়েছিলো এটা হতেই পারে।
দ্বিতীয়বার যখন একই ঘটনা ঘটে, তখনও কিছু বলিনি, কিন্তু তাদের ইনটেনশন (উদ্দেশ্য) নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিলো। গতকাল আবার একই ঘটনা। প্রোগ্রামের আগে-পরে নয়, অন্য কারো বক্তব্যের সময় নয়। ঠিক আমি যখন কথা বলা শুরু করি, তখন আবার বিদ্যুৎ চলে যায়। ফেসবুকে সারজিস লেখেন, কথা বলা শেষ হলে বিদ্যুৎ চলে আসে।
সব মিডিয়া এটার সাক্ষী। তিনটি প্রোগ্রাম তিন দিন ভিন্ন সময় হয়েছে। তারপরও এই ধরনের ঘটনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সেক্টরের কিছু কর্মকর্তা এই ধরনের ছোটলোকি কিংবা অন্য দলের দালালিমূলক আচরণ করে থাকে। একজনকে ডিস্টার্ব করতে পারলে তাদের রাজনৈতিক সফলতা মনে করে।
সারজিস বলেন, প্রত্যেকবারই প্রোগ্রামের আগে তাদেরকে প্রোগ্রাম সম্পর্কে বলে রাখা হয়। প্রোগ্রামের পরেও ভদ্র ভাষায় বলা হয়েছে। কিন্তু তারপরও যখন একই চিত্র দেখা যায়, তখন তাদের সঙ্গে সুশীলতা প্রদর্শন করার প্রয়োজন মনে করি না।
তবে ক্ষোভ ঝাড়তে গিয়ে যে উপমা ব্যবহার করেছি, সেটা করা উচিত হয়নি বলে মনে করি। চাঁদাবাজি, দখলদারি, সিন্ডিকেট, দুর্নীতি ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে এনসিপির পক্ষ থেকে লং মার্চে ১০ ঘণ্টা ধরে প্রায় দুই হাজার মানুষ মোটরসাইকেলে করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তুলতে পুরো পঞ্চগড় জেলার ১৫০ কিলোমিটার অতিক্রম করেছি।
আশা করি মিডিয়ার ফোকাস সেদিকেও থাকবে, ফেসবুক পোস্টে যুক্ত করেন সারজিস আলম।
গত শনিবার (১১ অক্টোবর) সারজিস আলমের নেতৃত্বে পঞ্চগড় শহর থেকে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত লং মার্চ হয়। সেই লং মার্চের সমাপ্তি বক্তব্য দেন রাত সাড়ে ৯টার দিকে।
পঞ্চগড় জেলা শহরের শেরেবাংলা পার্কসংলগ্ন জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে এই আয়োজনে সারজিস আলম বক্তব্য দেওয়ার সময় বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
ওই বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এর আগেও পঞ্চগড়ে এনসিপির প্রোগ্রাম চলাকালে বিদ্যুৎ গেছে। নেসকোর যে মালিক তাকে এবং তার বাপকে জবাব দিতে হবে, প্রোগ্রাম চলাকালে, এটা হয় কেন? এক দিন হইতো, দুই দিন হইতো কিচ্ছু বলতাম না, তিন দিনের তিন দিনই এটা হইছে। যারা এটা করছে, তারা হচ্ছে রাজনৈতিক ***।
এই রাজনৈতিক দেউলিয়াদের আমরা দেখে নেব তাদের কলিজা কত বড় হইছে। কলিজা ছিঁড়ে রাস্তায় ফেলে রাখবো।’ সারজিস আলমরে এই বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
মন্তব্য করুন
এসময় জার্মান রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন আনজা কারস্টেন এবং পলিটিক্যাল ও প্রেস অফিসার শারলিনা নুজহাত কবির। বৈঠকটি আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হয়।
আলোচনার শুরুতে রাষ্ট্রদূত আমিরে জামায়াতের শারীরিক খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন। বৈঠকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে জার্মানির সহযোগিতা ও কারিগরি সহায়তা কামনা করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নারী সমাজের অধিকার সুরক্ষা, কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সার্বিক উন্নয়নে জার্মানির অব্যাহত সমর্থনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
এছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি, বাকস্বাধীনতা, টেকসই গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়।
উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বেগবান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জামায়াত আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, আমিরে জামায়াতের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের মেডিকেল থানা জামায়াতের আমির ডা. এসএম খালিদুজ্জামান।
মন্তব্য করুন
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, “শ্রমিকবান্ধব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ইসলামি শক্তিকে ক্ষমতায় আনতে হবে।”
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ইসলামকে ক্ষমতায় আনার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতির বাস্তবায়ন জরুরি। চরমোনাই পীর বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সুষ্ঠু প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই পিআর পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হতে হবে।
বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠতাভিত্তিক নির্বাচনী পদ্ধতিতে জনগণের প্রকৃত মতামত সংসদে প্রতিফলিত হয় না। এর ফলে জাতীয় রাজনীতিতে বৈষম্য, অস্থিরতা ও অন্যায় প্রভাব বিস্তার পায়। তিনি আরও বলেন, “জনগণের ভোটের অনুপাতে রাজনৈতিক দলগুলোর আসন বণ্টনই গণতান্ত্রিক ও ন্যায়সঙ্গত পদ্ধতি। এতে ভোটের মূল্য সংরক্ষিত থাকবে, ছোট ও নতুন রাজনৈতিক দলগুলোও প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাবে এবং জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতা বাড়বে।”
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, দলটি শুরু থেকেই পিআর পদ্ধতির দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। এখন সময় এসেছে এই দাবিকে জাতীয় ঐক্যের প্ল্যাটফর্মে রূপ দেওয়ার। নির্বাচনী সংস্কারের অংশ হিসেবে অবিলম্বে পিআর পদ্ধতি প্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম (শায়খে চরমোনাই)। তিনি বলেন, “ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়ন ছাড়া কখনোই শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করতে চায় যেখানে মানুষ ও কুকুর খাদ্যের জন্য লড়াই করবে না, মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্ব থাকবে না, সবাই মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে।”
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন ও অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমাদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সহকারী মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি হাফেজ সিদ্দিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল কে এম বিল্লাল হোসাইন, যুগ্ম সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল উদ্দিন আহম্মেদ প্রমুখ।
মন্তব্য করুন
জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনসহ ৫ দফা দাবিতে রাজধানীতে সমাবেশ ও গণমিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।শু ক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকাল ৩টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের যৌথ উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেট থেকে এই গণমিছিল শুরু হয়।
বিশাল মিছিলটি গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট, পল্টন মোড়, বিজয়নগর হয়ে কাকরাইলে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশ নেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের নেতারা, বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল সদস্য এবং কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ জনতা।
গণমিছিল শুরুর আগে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।
দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশ পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। জামায়াতে ইসলামী জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজন, দলের রাজনীতি করার বৈধতা পুনর্বহালসহ পাঁচ দফা দাবি জানায়।
মন্তব্য করুন
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিবন্ধন প্রথা চালু হয়। ২০০৮ সালে প্রথমবার আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতসহ ৩৯টি দলকে নিবন্ধন দেয় তৎকালীন ইসি।
তখন অনেক দলকে সংবিধান, আইন, বিধি মেনে গঠনতন্ত্র সংশোধন করতে হয়। জামায়াতকেও কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এরই মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচনের আগে নিবন্ধন বাতিল হয় দলটির।
২০১৩ সালে নিবন্ধন বাতিল হওয়ার আগে সর্বশেষ আয়-ব্যয়ের হিসাব দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চলতি বছর তারা নিবন্ধন ফিরে পায়।
সেই বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী এক যুগ পর ৩১ জুলাই ফের আয়-ব্যয়ের হিসাব দেয় দলটি। কিন্তু জামায়াতের ব্যাংক হিসাব নম্বর জমা দেয়নি। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে চিঠি দেয় ইসি সচিবালয়।
এ ধারাবাহিকতায় বুধবার দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দিন সরকার জামায়াতের দুটি বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য সংক্রান্ত চিঠি ইসিতে জমা দেন।
কাউন্সিল করে গঠনতন্ত্র সংশোধন ও ইসলামী বাংকে দলের হিসাব পরিচালনার বিষয়টি তুলে ধরে ইসির চিঠির ব্যাখ্যা দেন জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল। চিঠিতে বলা হয়, ২০১৩ সালে নিবন্ধন বাতিল হওয়ার পর থেকে কোনো ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করতে পারেনি জামায়াত।
একই সঙ্গে জানানো হয়, ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জামায়াতের গঠনতন্ত্রের ২২তম সংশোধনী যথাযথ প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের অনুমোদিত হয়েছে। এটাই সবশেষ সংশোধনী, গেলো ২৫ জুলাই গঠনতন্ত্রের সংশোধিত কপি জমা দেওয়া হয়।
ইসি তাগাদা দেওয়ায় বুধবার আরেকটি কপিও জমা দেয় প্রতিনিধি দল। পরে ইসির অতিক্তি সচিব কেএম আলী নেওয়াজ জানান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ব্যাংক হিসাব নম্বর ও সংশোধিত গঠনতন্ত্র জমা দিয়েছে।
মন্তব্য করুন
যানবাহন আমদানির অনুমোদনের জন্য নথি জমা
দেশজুড়ে নির্বাচনী সফরে অংশ নেবেন খালেদা জিয়া
সঙ্গে থাকবেন নিরাপত্তা কর্মকর্তা, ব্যক্তিগত চিকিৎসক
চলছে প্রচারণার সূচি, ভ্রমণপথ ও জনসভাস্থল নির্ধারণের কাজ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও সক্রিয় হচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দীর্ঘ ১০ বছর পর তিনি সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে যাচ্ছেন—এমন ইঙ্গিত মিলেছে দলীয় সূত্রে।
বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার নির্বাচনী সফরের জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি বুলেটপ্রুফ মিনিবাস জাপান থেকে আনা হচ্ছে। তার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিবেচনায় যানবাহনটি কাস্টম ডিজাইনে প্রস্তুত করা হয়েছে।
রোববার (৫ অক্টোবর) বিএনপির পক্ষ থেকে ওই যানবাহনটির আমদানির অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্যও জাপান থেকে আরেকটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি আনা হবে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা জানান, এই মিনিবাসেই খালেদা জিয়া দেশজুড়ে নির্বাচনী সফরে অংশ নেবেন।
তার সঙ্গে থাকবেন নিরাপত্তা কর্মকর্তা, ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও সহকারী দল। সফরে বিভিন্ন জেলায় যাত্রাবিরতি ও জনসভায় যোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে চলছে প্রচারণার সূচি, ভ্রমণপথ ও জনসভাস্থল নির্ধারণের কাজ। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই খালেদা জিয়ার নির্বাচনী যাত্রার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
প্রাথমিকভাবে ফেনী-১ আসনে খালেদা জিয়া প্রার্থী হতে পারেন বলে দলের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, সশরীরে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে; তবে শারীরিক অসুবিধার কারণে যদি তা সম্ভব না হয়, প্রযুক্তির সহায়তায় খালেদা জিয়া প্রচারণায় অংশ নেবেন।
বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিজেই মাঠে থাকতে চান। তার মাঠে নামা মানেই কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণ ফিরে আসবে।
২০১৫ সালে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রচারে অংশ নেওয়ার পর এবারই প্রথম খালেদা জিয়াকে পূর্ণমাত্রায় প্রচারণায় দেখা যাবে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ও নিরাপত্তা বিবেচনায় প্রতিটি পদক্ষেপে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে চলছে প্রচারণার সূচি, ভ্রমণপথ ও জনসভাস্থল নির্ধারণের কাজ। দলীয় প্রচার কমিটি জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই খালেদা জিয়ার নির্বাচনী যাত্রার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
গত ৩০ জুলাই ফেনী জেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু সাংবাদিকদের বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া ফেনী থেকে প্রার্থী হবেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘ইতোমধ্যে দলের স্থায়ী কমিটি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেছেন।
এটা মূলত নির্বাচনী প্রক্রিয়ারই প্রাথমিক ধাপ। তফসিল ঘোষণার পর বিষয়টি পূর্ণমাত্রায় শুরু হবে। তখন দলের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত হবে, তিনি (খালেদা জিয়া) কোন প্রক্রিয়ায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন।’
‘নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া ম্যাডামের নিজের সিদ্ধান্ত। শারীরিকভাবে ফিট থাকলে তিনি অবশ্যই মাঠে নামবেন।’- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান
শায়রুল কবির খান আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে বিভিন্ন আসন নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও সাংগঠনিক নেতা ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। তফসিল ঘোষণার পর প্রচারণাসহ অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘ম্যাডামের শরীর-স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করবে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন কি না—এখনই সেটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া ম্যাডামের নিজের সিদ্ধান্ত। শারীরিকভাবে ফিট থাকলে তিনি অবশ্যই মাঠে নামবেন।’
‘একজন কর্মী হিসেবে বিশ্বাস করি বা বিশ্বাস করতে চাই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে যেই প্রত্যাশিত, জনপ্রত্যাশিত যে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, উনার (খালেদা জিয়া) শারীরিক সক্ষমতা যদি অ্যালাও করে উনাকে নিশ্চয়ই উনি কিছু না কিছু ভূমিকা রাখবেন।’ -তারেক রহমান
এদিকে নির্বাচনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা কী হবে তা নিয়ে বিবিসি বাংলার সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং আপনাদের দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কি এ নির্বাচনে কোনো ভূমিকায় থাকবেন? তাকে কি আমরা নির্বাচনে কোনো ভূমিকায় দেখতে পাবো?
বিবিসি বাংলার এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনি এমন একজন মানুষের কথা বলেছেন, যেই মানুষটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, যতবার গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে, প্রতিবার উনি অবদান রেখেছেন। সেই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত বা পুনরুদ্ধার করার জন্য।’
এবারও আপনাদের সবার চোখের সামনেই ঘটেছে যে কীভাবে স্বৈরাচারের সময় তার ওপরে অত্যাচারের খড়্গহস্ত নেমে আসে। কিন্তু উনি আপস করেননি। এরকম একজন ব্যক্তি আজ অসুস্থ। কেন কীভাবে উনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হলেন, মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তাকে জেলখানায় নিয়ে যাওয়া হলো।
আমরা দেখেছিলাম একজন সুস্থ মানুষ গেছেন। কিন্তু যখন বেরিয়ে এসেছেন একজন অসুস্থ মানুষ বেরিয়ে এসেছেন। তাকে চিকিৎসার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। এসবই ঘটনা দেশবাসী জানেন। তারপরেও যে মানুষটির এত বড় অবদান রয়েছে বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করার।
‘আমি সেই দলের একজন কর্মী হিসেবে বিশ্বাস করি বা বিশ্বাস করতে চাই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে যেই প্রত্যাশিত, জনপ্রত্যাশিত যে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, উনার (খালেদা জিয়া) শারীরিক সক্ষমতা যদি অ্যালাও করে উনাকে নিশ্চয়ই উনি কিছু না কিছু ভূমিকা রাখবেন।’
সেটা কি নির্বাচনে অংশগ্রহণ হতে পারে? বিবিসি বাংলার এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, ‘এটি আমি এখনো বলতে পারছি না। আমি মাত্রই বললাম যে উনার শারীরিক বা ফিজিক্যাল অ্যাবিলিটির ওপরে বিষয়টি কিছুটা হলেও নির্ভর করছে।’
মন্তব্য করুন
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ সাংবিধানিকভাবে পাকাপোক্ত করতে গণভোটের আয়োজন করতে হবে। জাতীয় সংসদের আগে এ গণভোট আয়োজন করা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।
এজন্য নভেম্বর ডিসেম্বরের দিকেই গণভোট আয়োজন করা যেতে পারে বলে জানায় জামায়াত।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আইনি ভিত্তির জন্য জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে গণভোট হতে পারে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
গণভোট কবে হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জনগণ গণভোটে অভ্যস্ত না। আমরা মনে করি, এটি যাতে জাতীয় নির্বাচনকে কোনো ধরনের সমস্যায় না ফেলে, নভেম্বর অথবা ডিসেম্বরেই এটা করা যায়। তফসিলের আগেও করতে পারেন। গণভোট হয়ে গেলে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতে কোনো ধরনের বাধা নেই।
জনগণকে একটা জটিল অবস্থায় না ফেলে বা মহাপরীক্ষায় না ফেলে সহজভাবে এগিয়ে গেলে আমরাও বাঁচি, জাতিও বাঁচে। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি রচনার জন্য যদি গণভোটে যায়, তাহলে এটা হবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। এটা কখনো চ্যালেঞ্জ করতে গেল তা টিকবে না।
পার্লামেন্টও এটাকে প্রত্যাখ্যান করতে পারবে না।
বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের কোনো দূরত্ব নেই জানিয়ে এ জামায়াত নেতা বলেন, গণভোটের রেজাল্ট যদি আমাদের বিপক্ষেও যায়, আমরা এখানে ছাড় দেব।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংস্কারের বিষয়ে আমরা সবসময় সোচ্চার ছিলাম। সনদ বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তির জন্য গণভোটের পক্ষে সবাই মত দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন
শফিকুর রহমান দলটির নেতৃত্বে আসার পর থেকে তার দূরদর্শিতায় দলের অবস্থা ভালো হয়েছে। তার সংস্কারমুখী ও যুগোপযোগী চিন্তা-ভাবনা ও কথা-কাজের কারণে ছোট-বড় সব শ্রেণির মানুষের কাছেই তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন এবং তাদের কাছে দলের জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। এবারও বৃহৎ স্বার্থে দলটির রুকনরা (সদস্য) তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
শফিকুর রহমানের মেয়াদ শেষ হবে ডিসেম্বরে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ওই সময়ের মধ্যে নতুন আমির নির্বাচন করবে দলটি। জানা যায়, ‘আমির’ জামায়াতে ইসলামীর সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পদ।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছরের জন্য তিনি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্যদের পরামর্শক্রমে নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলসহ নির্বাহী দায়িত্বশীল পদগুলোতে দলের নেতাদের দায়িত্ব দিয়ে থাকেন আমির।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সংগঠনগুলোর মেয়াদ তিন বছর। এ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী তিন বছরের জন্য কেন্দ্রীয় সংগঠনের নির্বাচনগুলো সম্পন্ন হয়।
সেই নির্বাচনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘আমিরে জামায়াত’ নির্বাচন। আরও আছে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা নির্বাচন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের নির্বাচন এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের নির্বাচন।’
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘আমাদের ৫ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন আছে। তারা আশা করছেন, অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত আমিরে জামায়াত এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা—এই দুইটা গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন করতে পারবেন।পরে শপথসহ অন্য বিষয়গুলো আমরা ডিসেম্বরের মধ্যে করব।’
ব্রিটিশ উপনিবেশকালে ভারতের লাহোরে (বর্তমানে পাকিস্তান) মাওলানা মওদূদীর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় জামায়াতে ইসলামী। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ও বর্তমান বাংলাদেশে আমির নির্বাচিত হয়েছেন ৬ জন নেতা।
তাদের মধ্যে ১৯৫৬ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত মাওলানা আবদুর রহিম, ১৯৬০ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত এবং ১৯৯২ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত অধ্যাপক গোলাম আযম, ১৯৭৯ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত আব্বাস আলী খান (ভারপ্রাপ্ত), ২০০০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মতিউর রহমান নিজামী, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মকবুল আহমদ এবং সর্বশেষ ডা. শফিকুর রহমান ২০১৯ ও ২০২২ সালে টানা দুইবারের মতো নির্বাচিত হয়ে এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
মন্তব্য করুন
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। সংস্থাটির নির্বাচন সহায়তা শাখার উপ-সচিব মো. রফিকুল ইসলাম এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি নামের দলটি নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে, যা প্রাথমিক পর্যালোচনায় বিবেচিত হয়েছে। আবেদনপত্রে প্রতীক হিসেবে পছন্দের ক্রমানুযায়ী শাপলা, কলম ও মোবাইল ফোন উল্লেখ করা হয়, যা পরবর্তীসময়ে পরিবর্তন (শাপলা, লাল শাপলা বা সাদা শাপলা) করা হয়।
তবে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ৯(১) মোতাবেক প্রার্থীর প্রতীক ‘শাপলা’ অন্তর্ভুক্ত নেই। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার বিধান উল্লেখ করে চিঠিতে আরও বলা হয়, এ আদেশ বা বিধিমালার অধীন অনুষ্ঠিত কোনো নির্বাচনে কোনো দল কর্তৃক মনোনীত সব প্রার্থীর জন্য নির্ধারিত প্রতীক থেকে পছন্দকৃত যে কোনো একটি প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।
এইভাবে বরাদ্দকৃত প্রতীক দলটির জন্য সংরক্ষিত থাকবে, যদি না তা পরবর্তীকালে নির্ধারিত প্রতীকগুলোর মধ্য থেকে অন্য কোনো প্রতীক লাভের জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করে।
এ অবস্থায় দলের নিবন্ধনের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ৯ (১) এ উল্লেখিত প্রতীকের তালিকা থেকে বরাদ্দ হয়নি- এমন একটি প্রতীক পছন্দ করে নির্বাচন কমিশনকে আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে চিঠিতে।
যেসব প্রতীক থেকে এনসিপিকে তাদের মার্কা পছন্দ করতে বলা হয়েছে সেগুলো হলো- আলমিরা, খাট, উটপাখি, ঘুড়ি, কাপ-পিরিচ, চশমা, দালান, বেগুন, চার্জার লাইট, কম্পিউটার, জগ, জাহাজ, টিউবওয়েল, টিফিন ক্যারিয়ার, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেলিফোন, ফ্রিজ, তবলা, বক, মোরগ, কলম,
তরমুজ, বাঁশি, লাউ, কলস, চিংড়ি, থালা, বেঞ্চ, লিচু, দোলনা, প্রজাপতি, বেলুন, ফুটবল, ফুলের টব, মোড়া, বালতি, কলা, বৈদ্যুতিক পাখা, মগ, মাইক, ময়ূর, মোবাইল ফোন, শঙ্খ, সেলাই মেশিন, সোফা, স্যুটকেস, হরিণ, হাঁস ও হেলিকপ্টার।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টি প্রথমে শাপলা, কলম ও মোবাইল ফোনের যে কোনো একটি প্রতীক তাদের দেওয়ার জন্য আবেদন জানায়। তার কিছুদিন পর সে আবেদনে সংশোধন এনে শাপলা, সাদা শাপলা বা লাল শাপলা দেওয়ার জন্য আবেদন করে।
এ নিয়ে ইসি গণমাধ্যমকে জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার তফসিলে যে ১১৫টা প্রতীক আছে সেখানে শাপলা, সাদা শাপলা বা লাল শাপলা নেই। তাই শাপলা প্রতীক এনসিপি পাবে না।
মন্তব্য করুন
কর্মশালার শুরুতেই দারসুল কোরআন পেশ করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম।
অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশবাসীর নিকট ৫ দফা দাবি তুলে ধরেছে।
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৫ দফা গণদাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কর্মসূচি পালন করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, ৫ দফা গণদাবি আদায়ের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী দ্বিতীয় ধাপে ৩ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এরই মধ্যে আমাদের এই ৫ দফা গণদাবি জনগণের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। দেশের জনগণ এ দাবির প্রতি সমর্থন দিয়ে রাজপথে নেমে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছে।
বর্তমান সরকারের উচিত অবিলম্বে জনগণের ৫ দফা দাবি মেনে নিয়ে জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। সরকার যদি জনগণের যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করে এবং বিদ্যমান সমস্যার দ্রুত সমাধান না করে, তাহলে দেশের জনগণ তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য কঠোর হতে বাধ্য হবে।
কর্মশালায় বিভিন্ন বিষয়ের ওপর দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এবং সদস্য মোবারক হোসাইন। পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষক কর্মশালায় ডেলিগেটরাও বক্তব্য দেন।
মন্তব্য করুন
জুলাই-গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং অফিসার তার জবানবন্দি পেশ করবেন আগামীকাল বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর)। তার এ জবানবন্দি সরাসরি (লাইভ টেলিকাস্ট) সম্প্রচার করা হবে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, মামলার গুরুত্বপূর্ণ এ সাক্ষীর জবানবন্দি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে সরাসরি (লাইভ টেলিকাস্ট) সম্প্রচার করা হবে। স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং অফিসারের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
যদিও জানা গেছে, স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং অফিসার প্রসিকিউটর তানভীর জোহা। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেলে এ জবানবন্দি পেশ করবেন তিনি।
ট্রাইব্যুনালে অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মন্তব্য করুন
ত্রিশটি আসন না দেওয়ায় পিআর নিয়ে বিএনপির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে জামায়াত’ শিরোনামে প্রকাশিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য অসত্য ও প্রতিহিংসাপরায়ণ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন তিনি।
বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘সম্প্রতি ভারতের কলকাতা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘এই সময়’র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
এ ধরনের বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য, অমর্যাদাকর ও প্রতিহিংসাপরায়ণ। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো প্রবীণ রাজনীতিবিদ এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন তা বিশ্বাস করতে আমাদের কষ্ট হয়। এ বক্তব্যের সঙ্গে সত্য ও শিষ্টাচারের কোনো মিল নেই। যদি এ বক্তব্য তার হয়ে থাকে, তবে বাধ্য হয়ে আমরা তার প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করছি।
পাশাপাশি এ বক্তব্য যদি তার হয়ে থাকে- তাহলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কার কাছে এ আসনগুলো দাবি করেছে- তার প্রমাণ জাতির কাছে উপস্থাপন করার জন্য দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে আহ্বান জানাচ্ছি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী স্বাভাবিকভাবে তার মূল নেতৃত্বের অধীনে পরিচালিত হয়। কারও কাছে আসন চাওয়ার রাজনীতির সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান সময়ে দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই।
তিনি যদি তার বক্তব্যের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন, তাহলে আমরা আহ্বান জানাবো সত্যকে মেনে নিয়ে তিনি তার বক্তব্যের জন্য ন্যূনতম পক্ষে জনগণের সামনে দুঃখ প্রকাশ করবেন।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি এবং সংগঠনের মর্যাদা সম্পর্কে তিনি যে তাচ্ছিল্যের ভাষায় কথা বলেছেন, তার বিচারের ভার জনগণের আদালতের ওপর ছেড়ে দিলাম। প্রিয় জনগণের ওপর আমাদের যথেষ্ট আস্থা রয়েছে।
আমাদের কার্যক্রম দেশ ও জনগণের জন্য। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। আমাদের ভরসার মূল জায়গা মহান রবের করুণা ও সাহায্য। ভবিষ্যতে এ ধরনের অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
মন্তব্য করুন
বিনিয়োগকারীরা আগামী নির্বাচনের অপেক্ষায় বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।
এদিন বিকেল ৫টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়। দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন, শ্রম আইন সংশোধনসহ ব্যবসাখাতে নানান সমস্যা নিয়ে ব্যবসায়ীরা আলোচনা করেন।
বৈঠকের পর সন্ধ্যায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। ব্রিফিংয়ে খসরু বলেন, অর্থনীতি রক্ষার জন্য সবাই মিলে কাজ করতে হবে। ভবিষ্যৎ অর্থনীতি, বিনিয়োগের সম্ভাবনা রক্ষা করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণ স্থগিত করা প্রয়োজন। এ বিষয় পর্যবেক্ষণের জন্য সরকারকে জাতিসংঘে চিঠি দেওয়ার পরামর্শ দেন তিন।
বাংলাদেশ এলডিসি গ্রাজুয়েশনের (উত্তরণ) জন্য এখনো প্রস্তুত নয় বলেও মন্তব্য করেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিজনেস কমিউনিটিতে যারা জড়িত তাদের প্রায় সবাই আজ এখানে উপস্থিত। দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি যেসব বড় বড় ব্যবসায়ী, তাদের সবাই আজ এখানে আছেন।
তাদের আসার পেছনে দুটো কারণ আছে। একটা হচ্ছে আমাদের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন এবং আরেকটা লেবার ইস্যু। এটা কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য-বিনিয়োগে আগামী যে সম্ভাবনা আছে সেটাকে প্রটেক্ট করার জন্য, রক্ষার জন্য আমাদের কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা ওনাদের বিস্তারিত কথা শুনেছি, ওনারা ওনাদের সুবিধা ও অসুবিধাগুলো বলেছেন। এখান থেকে যেটা প্রতীয়মান হয় যে, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনে যাওয়া এই মুহূর্তে বাংলাদেশের বর্তমান এবং আগামীদিনে ব্যবসা-বাণিজ্য-বিনিয়োগের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে না। কারণ দেশে বড় ধরনের একটা আপরাইজিংয়ের পর আমরা এখন কিন্তু দেশটার অর্থনীতি রক্ষার জন্য সবাই মিলে কাজ করছি, এটা সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছি।
বিগত দিনে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পরিপ্রেক্ষিতে যে পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছিল সেগুলো প্রশ্নবিদ্ধ। এই বিএনপি নেতা বলেন, সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য যদি আমরা অব্যাহতভাবে এগিয়ে নিতে চাই, যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখছি, তাহলে এই মুহূর্তে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন স্থগিত রাখার বিষয়ে আমরা সবাই আলোচনা করেছি, এটা স্থগিত রাখার প্রয়োজনীয়তা আছে।
ব্যবসায়ীরা এটাও মতামত দিয়েছেন যে, বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে এই মুহূর্তে এলডিসির বিষয়ে রেডি আছে কি না সে বিষয়ে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে জাতিসংঘকে চিঠি দেওয়া দরকার? বর্তমান সরকারকে অনুরোধ করা হচ্ছে তারা যেন একটা চিঠি দেয় এবং জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা এখানে এসে সরেজমিনে দেখে বাংলাদেশের প্রস্তুতিটা আছে কি না এটা প্রত্যক্ষভাবে দেখার প্রয়োজনীয়তা আছে।’ বলেন খসরু।
এ সময় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, এলডিসি উত্তরণ স্থগিত নয় বরং অন্তত তিন বছর পেছানো প্রয়োজন। এই মুহূর্তে এলডিসি উত্তরণের জন্য প্রস্তুত নয় বাংলাদেশ। এছাড়া ২০ জন শ্রমিক আবেদন করলেই ট্রেড ইউনিয়ন করা যাবে, এমন কিছু কার্যকর হলে ইউনিয়নের অপব্যবহার হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান বিজিএমইএ সভাপতি। বৈঠকে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী আহসান খান চৌধুরী, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান তানভিরুর রহমান, সাবেক সভাপতি তপন চৌধুরী ও নাসিম মনজুর, এফবিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, বিকেএমইএ সভাপতি এম এ হাতেম, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বিজেএমইএ মহাসচিব রশিদ আহমেদ হোসাইনী, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ ছাড়াও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এসএম ফজলুল হকসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
আজকে এই বাহানা, কালকে ওই বাহানা, পরশু আরেক বাহানা দিয়ে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চাচ্ছেন কেন? উদ্দেশ্য কি সেটা তো আমরা জানি।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাকরাইল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘তারুণ্যের রাষ্ট্রচিন্তার তৃতীয় সংলাপ-মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন’ বিষয়ক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ আলোচনা সভার আয়োজন করে অপর্ণ আলোক সংঘ।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কালকে কয়েকটা সমাবেশ হয়েছে সারাদেশে, বিভিন্ন বিভাগ পর্যায়ে। পত্রিকায় আজ হেডলাইন দেখলাম, কোথাও বলছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করবে, বিএনপি বিরোধী দলে যাবে।
তো ভাইসাব আপনারা কি নির্ধারণ করে দিয়েছেন, বিএনপি বিরোধী দলে যাবে নাকি জনগণ করবে? কিন্তু আমার জবাব হলো আপনারা যখন এত বেশি আত্মবিশ্বাসী, যে সরকারি দল হবেন।
তাহলে নির্বাচনে আসেন না কেন? আজকে এই বাহানা, কালকে এই বাহানা, পরশু আরেক বাহানা দিয়ে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চাচ্ছেন কেন? উদ্দেশ্য কি সেটা তো আমরা জানি।
সব রাজনৈতিক দল এবং দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আসুন, আমরা কোনো সংকট সৃষ্টি না করি এবং সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকি।
আমাদের ফ্যাসিস্টবিরোধী যে জাতীয় ঐক্য গঠিত হয়েছে, সেটাকে আমরা সমুন্নত রাখবো এবং এটাকেই শক্তিতে পরিণত করব ইনশাআল্লাহ। গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখতে পারবো এবং তাহলেই আমরা সফলকাম হবো।
সালাহউদ্দিন বলেন, ঐকমত্য কমিশনে যদি ঐতমত্য পোষণ না হয় তাহলে যেভাবে প্রচলিত বিধিবিধানসম্মত হবে সেভাবেই হবে। এখানে যেন আমরা পরস্পর জবরদস্তি না করি।
যে পরিবর্তনগুলো আমরা সামনের দিনে আনতে চাচ্ছি সেটা রাতারাতি হবে না। সেটার জন্য সময় দরকার পর্যায়ক্রমভাবে যাওয়া দরকার। একটা গণতন্ত্রবিহীন অবস্থা থেকে আমরা যে জায়গায় আসতে পেরেছি, ইনশাআল্লাহ এই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির চর্চার মধ্য দিয়ে আমরা একটা শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে বিনির্মাণ, শহীদের প্রত্যাশা পূরণ, জনপ্রত্যাশা পূরণ করতে পারবো। আমাদের যে আকাঙ্ক্ষা আছে একটা বৈষম্যহীন, সাম্যভিত্তিক ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার সেই আকাঙ্ক্ষা আমরা পূরণ করতে পারবো।
সরকারে ছাত্র প্রতিনিধি যাওয়া ঠিক হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ছাত্র প্রতিনিধি সরকারের দায়িত্বে আসাটা আমার মনে হয় এটি সঠিক বিবেচনার সিদ্ধান্ত হয়নি। আজ প্রেশার গ্রুপ হিসেবে জাতিকে নির্দেশক হিসেবে তারা থাকতে পারতো। যেটা প্রশ্ন এখনো ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে যারা সরকারে বসে আছে, প্রতিদিনই তাদের লাইবিলিটির (দায়) কাদা নিতে হচ্ছে, হবে।
জাতীয় পার্টির নেত্রী রওশন এরশাদের মন্তব্য তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, রওশন এরশাদ বলেছিলেন, মাননীয় স্পিকার আপনি বলে দেন, আমি সরকারি দল না বিরোধী দল। এরকম কোনো চর্চা যেন আমরা ভবিষ্যতে না করি।
বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠের আন্দোলনের সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন বলেন, আলোচনা টেবিলে চলমান থাকা অবস্থায় মাঠে আন্দোলন করাটা স্ববিরোধী।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অনেকে বলছে, এ সরকার পুরোপুরি সাংবিধানিকও না আবার বলছে এটা পুরাপুরি বিপ্লবী সরকারও না বলছে এটা মাঝামাঝি সরকার।
আমি বললাম এটা নির্ধারণ হওয়া দরকার, এক বছর পরে এসে তারা কেন এ প্রশ্ন তুলছে, তার পেছনে একটা উদ্দেশ্য থাকতে পারে, এ ধরনের প্রশ্নের মধ্য দিয়ে সাংবিধানিক সংকট যদি সৃষ্টি হয়, তাহলে বেনিফিশিয়ারি কে হবে? কোন অসাংবিধানিক শক্তি। বেনিফিশিয়ারি হবে পতিত স্বৈরাচার।
নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা রাষ্ট্রকে সেই জায়গায় নিয়ে যাচ্ছি কেন? প্রশ্নগুলো তুলে এই সংবিধানকে এই সরকারকে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার সরকার কি না সেই প্রশ্ন যদি আজ উত্থাপন করা হয় তাহলে তাদের মতলব আলাদা।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন