প্রিন্ট এর তারিখঃ Feb 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 3, 2026 ইং
তারেক রহমানের সঙ্গে শিবির নেতাদের বৈঠক, ক্ষোভে ফুঁসছে ছাত্রদল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ডাকসুর নেতাদের বৈঠককে কেন্দ্র করে ছাত্র রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ১ জানুয়ারি তারেক রহমানের সঙ্গে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমসহ কয়েকজন ডাকসু নেতা সাক্ষাৎ করেন।
এই বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখাসহ তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ছাত্রদলের নেতাদের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মামলা, হামলা ও গ্রেফতারের শিকার হয়েও অনেক ত্যাগী নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ পাননি।
অথচ যারা অতীতে বিএনপির রাজনীতির বিরোধিতা করেছে, তারাই সহজেই সেই সুযোগ পাচ্ছে।
ছাত্রদলের একাধিক নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, সংগঠন টিকিয়ে রাখতে গিয়ে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় হারিয়েছেন তারা। এ ধরনের সাক্ষাৎ ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করছে এবং এতে কর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়ছে।
ঢাবি ছাত্রদলের সহ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আবু জর গিফারী মাহফুজ এক পোস্টে লেখেন, “জীবনের সোনালি সময় শেষ করেও তারেক রহমানের দেখা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই, অথচ সুবিধাবাদীরা ঠিকই সুযোগ পাচ্ছে।”
সূর্যসেন হল ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবিদুর রহমান বলেন, আদর্শিকভাবে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থানে। অতীতে ছাত্রশিবিরের রাজনৈতিক ভূমিকা ইতিহাসের কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।
এদিকে সমালোচনার জবাবে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের একটি পোস্টে দাবি করেন, তারা ডাকসুর প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিতই বৈঠক করেন। পরে তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন।
এ বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য না এলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সন্তুষ্টির সংকটকে নতুন করে সামনে এনেছে। পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হয়, তার ওপর ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা অনেকটাই নির্ভর করবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বিসিএন চ্যানেল