ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির প্রাথমিক চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উন্মোচন করেছে। পথটি সংকীর্ণ হলেও এটি ১৯৯৩ ও ১৯৯৫ সালের অসলো চুক্তির পর থেকে টেকসই শান্তির সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা।
এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অসলো-পরবর্তী অচল ধারণা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি মানচিত্র আর দুই রাষ্ট্রের তাত্ত্বিক অন্তহীন আলোচনার পরিবর্তে বাস্তবভিত্তিক একটি পথ দেখায়। গাজা যখন পুনর্গঠিত হবে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাবমুক্ত হবে, তখন ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিরা বুঝবে—সহাবস্থান ধ্বংসের চেয়ে বেশি লাভজনক।
এই সাফল্য কোনো হোয়াইট হাউজের আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ, পশ্চিম তীরে সহিংস ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের নিয়ন্ত্রণ, রকেট হামলার হুমকি হ্রাস এবং মানুষদের মধ্যে শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতি ক্রমবর্ধমান বিশ্বাসের প্রতিফলন।
এই শান্তিচুক্তি ট্রাম্পের চাপ প্রয়োগমূলক ও বাস্তববাদী কূটনীতির এক বড় সাফল্য। মিশরের শার্ম আল-শেখে উভয় পক্ষ যখন আলোচনায় ব্যস্ত ছিল তখন যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীরা চাপ প্রয়োগ করছিলেন।
যদিও সব বিবরণ প্রকাশ পায়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, হামাস অবশিষ্ট ২০ জন জীবিত ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে, বিনিময়ে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি বন্দিদের ছেড়ে দেবে, মানবিক সহায়তা প্রবাহিত হবে এবং ইসরায়েলি সেনারা গাজার প্রধান শহরগুলো থেকে আংশিকভাবে সরে যাবে।
ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরবর্তী ধাপে হামাস-বিহীন একটি সরকার গাজা পুনর্গঠন করবে, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী নিরাপত্তা দেবে, আর ট্রাম্প নিজে তদারকি বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকবেন যতদিন না ফিলিস্তিনিরা পূর্ণ দায়িত্ব নিতে সক্ষম হয়। চূড়ান্ত লক্ষ্য—ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মধ্যে চিরস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা।
তবে চ্যালেঞ্জও বিশাল। হামাসের নিরস্ত্রীকরণসহ নানা বিষয়ে উভয় পক্ষের মতভেদ রয়ে গেছে। গাজা প্রায় ৭৮ শতাংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় পুনর্গঠন কঠিন হবে। সবচেয়ে বড় বাধা হলো—ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে শান্তির প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে যাওয়া।
অসলো চুক্তির তিন দশক পর এবং ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর অধিকাংশ ইসরায়েলি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও ঘৃণার এক ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে দেখে। ২০১২ সালে যেখানে ৬১ শতাংশ ইসরায়েলি দুই রাষ্ট্র সমাধানকে সমর্থন করেছিল, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র এক-চতুর্থাংশে।
অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিদের বড় অংশ ইসরায়েলকে দখলদার ও দমনমূলক রাষ্ট্র হিসেবে দেখে। মে মাসের এক জরিপে দেখা গেছে, ৫০ শতাংশ ফিলিস্তিনি ৭ অক্টোবরের হামলাকে সমর্থন করেছে এবং ৮৭ শতাংশ হামাসের নৃশংসতা অস্বীকার করেছে।
তবু আশার আলো রয়েছে। যুদ্ধের অবসান দুই পক্ষেই নেতৃত্ব পরিবর্তনের সুযোগ এনে দিতে পারে।
ইসরায়েলে এক বছরের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে, যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনঞ্জামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান ঘটাতে পারে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিস্থিতি অনুকূল। বিশ্ব এখন শান্তির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। ট্রাম্প, যিনি ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে দ্বিধা করেন না, এই মুহূর্তে একটি প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারী।
ইরান ও তার প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর দুর্বল অবস্থানও অঞ্চলে স্থিতিশীলতার সুযোগ বাড়িয়েছে। উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলো গাজার পুনর্গঠন ও শান্তি প্রক্রিয়ায় অর্থনৈতিক সহায়তা দিতে রাজি—এটি বিশাল ইতিবাচক পদক্ষেপ।
তবে উভয় পক্ষের উগ্র মনোভাব নিয়ন্ত্রণ করতে বাইরের শক্তিদের সক্রিয় থাকতে হবে। ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ রোধ, ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং সহিংসতা দমন করা জরুরি। অন্যদিকে, আরব রাষ্ট্রগুলোকে ফিলিস্তিনিদের অহিংসার পথে আনতে ও প্রশাসনিক সংস্কার ত্বরান্বিত করতে হবে।
দীর্ঘমেয়াদে লক্ষ্য হতে পারে একটি নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো—যেখানে ইসরায়েল ও আরব রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা গভীরতর হবে, ২০২০ সালের আব্রাহাম চুক্তির ভিত্তিতে। এটি সিরিয়া ও লেবাননের সঙ্গেও নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে, যারা ইরানের প্রভাব থেকে ক্রমে মুক্ত হচ্ছে।
সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হলো গাজা। বিশ্ব দেখবে, ইসরায়েল কি সত্যিই আন্তর্জাতিক সহায়তায় গাজার নতুন প্রশাসন গঠনে রাজি হয়, এবং গাজার ফিলিস্তিনিরা কি আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সশস্ত্রগোষ্ঠীমুক্ত শাসন দেখাতে পারে।
ট্রাম্প যেভাবে যুদ্ধবিরতি আনতে সক্ষম হয়েছেন—চাপ, তাগিদ ও চরম বাস্তববোধে ভর করে—সেই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় যথেষ্ট নাও হতে পারে। তবুও, এক অবিরাম রক্তপাতের অঞ্চলে এটি এক বিরল মুহূর্ত, একটি ক্ষীণ হলেও বাস্তব সম্ভাবনা, নতুন সূচনার।
সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে স্টিফেন ডুজারিক বলেন, তরুণ নেতা শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনায় জাতিসংঘ মহাসচিব নিন্দা জানান এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী দ্রুত, নিরপেক্ষ, পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান আন্তোনিও গুতেরেস।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। সেই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকা, উত্তেজনা কমানো এবং সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরোনো পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা।
তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ওসমান হাদির মরদেহ ঢাকায় আনা হয়। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ-সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে দাফন করা হয় চট্টগ্রামেও গাইবি জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।
#ওসমান-হাদি
# ইনকিলাব-মঞ্চ
#হত্যা
#জাতিসংঘ-মহাসচিব
#আন্তোনিও-গ্রিজম্যানমন্তব্য করুন
মিয়ানমারের সাবেক নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চির স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার ছেলে কিম আরিস। তার এমন উদ্বেগের পরই মিয়ানমারের সামরিক জান্তা দাবি করেছে, কারাবন্দি সু চি সুস্থ আছেন।
মঙ্গলবার সেনাবাহিনী পরিচালিত মিয়ানমার ডিজিটাল নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত গণতন্ত্রপন্থি এই নেত্রী বর্তমানে ভালো আছেন। তবে বিবৃতিতে সু চির শারীরিক অবস্থার কোনো প্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন কিংবা সাম্প্রতিক ছবি প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে কিম আরিস বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ৮০ বছর বয়সী মায়ের স্বাস্থ্য সম্পর্কে তিনি খুবই অল্প তথ্য পেয়েছেন। তার আশঙ্কা, মায়ের মৃত্যুর খবরও হয়তো তাকে জানানো হবে না।
জান্তার বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় বুধবার রয়টার্সকে আরিস বলেন, “সেনাবাহিনী বলছে, আমার মা সুস্থ আছেন। কিন্তু তারা কোনো প্রমাণ, সাম্প্রতিক ছবি, চিকিৎসা যাচাইকরণ কিংবা পরিবার, ডাক্তার অথবা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশাধিকার দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি সত্যিই তিনি সুস্থ থাকেন, তাহলে তারা সেটার প্রমাণ দিক।” তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে মিয়ানমার সরকারের এক মুখপাত্র কোনো সাড়া দেননি।
এর আগে গত অক্টোবরে এশিয়া টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিম আরিস বলেন, তার মাকে অন্তত দুই বছর ধরে কেউ দেখেনি। রাজধানী নেইপিদোর একটি নির্জন কারাগারে তাকে রাখা হয়েছে এবং অন্য বন্দিরাও তাকে দেখেননি বলে তার ধারণা।
সেই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, হৃদরোগ, হাড় ও মাড়ির সমস্যাসহ সু চির দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতার খবর তিনি কেবল খণ্ডিত ও পরোক্ষ সূত্রে পেয়েছেন। আইনজীবী বা পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগের সুযোগও নেই।
আরিস বলেন, “আমার জানা মতে, তিনি এরই মধ্যে মারা গেছেন—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”
মন্তব্য করুন
স্থানীয় সময় সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে এই মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বিবিসির জনপ্রিয় ডকুমেন্টারি সিরিজ ‘প্যানারোমা’–তে প্রচারিত একটি এডিটেড ভিডিও প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদনে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটাল হিলে হামলার জন্য ট্রাম্প সরাসরি তার সমর্থকদের উসকানি ও নির্দেশ দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেন জয়ী হলেও ট্রাম্প শুরু থেকেই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ করে আসছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ট্রাম্প সমর্থকরা মার্কিন কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটাল হিলে হামলা চালায়, যাতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।
এই হামলার জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করা হলেও তিনি বরাবরই সেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
ট্রাম্পের দাবি, বিবিসির ওই ভিডিও প্রতিবেদনে বিভিন্ন ক্লিপ কৌশলে সম্পাদনা করে বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যার ফলে তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
ঘটনার পর বিবিসি আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, ভিডিওটি এমনভাবে এডিট করা হয়েছিল, যাতে মনে হয়েছে ট্রাম্প সরাসরি হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তারা দাবি করে, ভিডিওটি যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রচার করা হয়নি।
এই বিতর্কের জেরে বিবিসির একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন বলেও জানা গেছে। চলতি বছরই বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প, যার বাস্তব রূপ এবার দেখা গেল।
মন্তব্য করুন
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
আইএসপিআর জানায়, সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতাধীন কাদুগলি লজিস্টিক বেসে শনিবার স্থানীয় সময় আনুমানিক বিকেল ৩টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী ড্রোন হামলা চালায়। হামলায় দায়িত্বরত ৬ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী শহীদ হন এবং ৮ জন আহত হন।
শহীদ শান্তিরক্ষীরা হলেন, কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, (নাটোর), সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম, (কুড়িগ্রাম), সৈনিক শামীম রেজা, (রাজবাড়ি), সৈনিক শান্ত মন্ডল, (কুড়িগ্রাম), মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (কিশোরগঞ্জ) ও লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া (গাইবান্ধা)
আহত শান্তিরক্ষীদের নাম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান, সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন, কর্পোরাল আফরোজা পারভিন ইতি, ল্যান্স কর্পোরাল মহিবুল ইসলাম, সৈনিক মো. মেজবাউল কবির, সৈনিক মোসা. উম্মে হানি আক্তার, সৈনিক চুমকি আক্তার, অর্ডন্যান্স ও সৈনিক মো. মানাজির আহসান, বীর (নোয়াখালী)।
আইএসপিআর আরও জানায়, আহত ৮ জন শান্তিরক্ষীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে সৈনিক মো. মেজবাউল কবিরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় এরইমধ্যে তার সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। অপর আহত ৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারযোগে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তারা সবাই শঙ্কামুক্ত।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। শহীদ শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকারের এক উজ্জ্বল ও গৌরবময় নিদর্শন হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শহীদদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয় এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয় বলেও জানিয়েছে আইএসপিআর।
মন্তব্য করুন
থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সুরাসান্ত কংসিরি জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো থেকে ইতোমধ্যে ৪ লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেনা ও পুলিশ স্থানীয়দের স্থানান্তরে কাজ করছে।
এদিকে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যালি সোচিয়েতা জানান, দেশটির পাঁচটি প্রদেশ থেকে মোট ১ লাখ ১ হাজার ২২৯ জন নাগরিককে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যার ‘এমারেল্ড ট্রায়াঙ্গেল’ বা পান্না ত্রিভূজ অঞ্চলই উত্তেজনার কেন্দ্র। প্রাচীন মন্দিরসমৃদ্ধ এ এলাকা উভয় দেশই নিজেদের দাবি করে আসছে। ফরাসি ঔপনিবেশিক আমল থেকে শুরু হওয়া এই বিরোধ শত বছরের পুরোনো।
২০২৪-এর মে মাস থেকে উত্তেজনা আবার বাড়তে থাকে। গত জুলাইয়ের শেষদিকে দুই দেশের সেনাদের পাঁচ দিনের সংঘর্ষে ৪৮ জন নিহত হন ও ৩ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়।
চার মাস শান্ত থাকার পর গত রোববার (৭ ডিসেম্বর) আবারও থাই সি সা কে প্রদেশে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন নিহত ও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন।
মন্তব্য করুন
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস–২০২৫ উপলক্ষে আজ রাজধানীর কেন্দ্রীয় অফিসে আলোচনা সভা ও সচেতনতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশে বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি, নাগরিক স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যবিরোধী সংগ্রামের ওপর বক্তারা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি কমরেড বদরুল আলম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন জায়েদ ইকবাল খান।
সভায় বক্তব্য রাখেন—
রেডিমেড গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি লাভলী ইয়াসমিন,
বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি রেহানা বেগম,
সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আঁখি আক্তার,
কিষাণী সভার নেত্রী আশামনি,
সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল হাসান নয়ন,
বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি জাকির হোসেন প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে কমরেড বদরুল আলম বলেন, “মানবাধিকার কোনো রাষ্ট্রীয় অনুগ্রহ নয়, এটি মানুষের জন্মগত ও অবিচ্ছেদ্য অধিকার। নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলাই আজকের সময়ের প্রধান দাবি।”
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় সেবায় বৈষম্য দূর করা, মত প্রকাশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং প্রান্তিক মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, নিপীড়নের অভিযোগ, বিচারহীনতার প্রভাব এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার সুরক্ষায় নাগরিক উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিটি ঘটনায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তাঁরা।
অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানান, মানবাধিকার দিবসের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আগামী বছরজুড়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অধিকার পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট প্রকাশ, আইনগত সহায়তা কার্যক্রম এবং দেশব্যাপী সচেতনতা প্রচার অভিযান পরিচালনা করা হবে।
মানবাধিকার রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
মন্তব্য করুন
গত সোমবার (৮ ডিসেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সব ধরনের মিলিয়ে মোট ৮৫ হাজার ভিসা বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর মধ্যে অন্তত আট হাজার স্টুডেন্ট ভিসা রয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, গত এক বছরে যত ভিসা বাতিল হয়েছে, তার প্রায় অর্ধেকের কারণ ছিল হামলা ও চুরির মতো অপরাধ। তবে বাকি ভিসা বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি।
অতীতে ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া ও ‘সন্ত্রাসে সমর্থন’র অভিযোগও ভিসা বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রশাসন।
যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে সক্রিয় বিদেশি শিক্ষার্থীদের টার্গেট
গাজা যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষী আচরণ ও সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের অভিযোগ তুলে স্টুডেন্ট ভিসা বাতিল করায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
গত অক্টোবর মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, যেসব বিদেশি শিক্ষার্থী চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ড নিয়ে ‘উল্লাস’ করেছে বলে অভিযোগ, তাদের কিছু ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।
নিরবচ্ছিন্ন ভেটিং: নজরে সাড়ে পাঁচ কোটি ভিসাধারী
আগস্টে পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, বৈধ ভিসাধারী ৫ কোটি ৫৫ লাখ প্রবাসীকে ‘নিরবচ্ছিন্ন ভেটিং’র আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অপরাধ, অতিরিক্ত অবস্থান, জননিরাপত্তা ঝুঁকি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কিংবা সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা—এ ধরনের যে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ভিসা বাতিল করা হবে।
তিনি বলেন, ভিসা ইস্যুর পর নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে বা পুলিশ ও ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত রেকর্ডে সম্ভাব্য অযোগ্যতার ইঙ্গিত থাকলে তা বাতিলের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।
বাড়তি নজরদারির আওতায় এইচ–১বি ভিসা
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ভিসা যাচাইয়ের মানদণ্ড আরও কঠোর করা হয়েছে। রয়টার্স জানায়, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক বার্তায় বলা হয়েছে, ফ্যাক্ট চেকিং, কনটেন্ট মডারেশনসহ বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ছিলেন যেসব বিদেশি, তাদের এইচ–১বি ভিসা বাড়তি যাচাইয়ের মাধ্যমে বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে।
এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘোষণা দেন, ‘আমেরিকানদের সেন্সর’ করেন, এমন বিদেশিদের ভিসা সীমিত করা হবে।
গত জুনে দেওয়া নতুন নির্দেশনায় আরও বলা হয়, স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনকারীদের ‘আমেরিকার নাগরিক, সংস্কৃতি, সরকার, প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠাতা নীতির প্রতি বৈরী মনোভাব’ আছে কি না তা যাচাই করতে হবে।
আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল পাবলিক করতে বলা হয়েছে, কারণ ‘অনলাইন কার্যক্রম লুকানোর চেষ্টা’ হিসেবেও সীমিত অ্যাক্সেস দেখা হতে পারে।
ভিসা বাতিলের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অভিযানও তীব্র
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ধরপাকড় ও দেশ ছাড়ার অভিযান চালাচ্ছে।
বাইডেন প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্রে যেসব শরণার্থী প্রবেশ করেছিল, তাদের সবাইকে পুনর্বিবেচনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রায় স্থবির করে দেওয়া হয়েছে শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচিও।
মন্তব্য করুন
ভারতের সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই) স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, শনিবার মধ্যরাতে রাজ্যের আরপোরা এলাকার একটি ক্লাবে আগুন লাগে। এতে বেশ কয়েকজন পর্যটকও নিহত হয়েছেন।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লেখেন, ‘আজ গোয়ার সবার জন্য খুব বেদনাদায়ক একটি দিন। আরপোরায় একটি বড় অগ্নিকাণ্ডে ২৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।’
তিনি লেখেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। যারা দায়ী সাব্যস্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের প্রমোদ সাওয়ান্ত বলেন, তিনজন দগ্ধ হয়ে এবং বাকিরা ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে তিন থেকে চারজন পর্যটক রয়েছেন।
পুলিশের বরাত দিয়ে পিটিআইয়ের খবরে বলা হয়েছে, মধ্যরাতে ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ নামের ওই ক্লাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এএনআই সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, আগুন এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। গোয়ার পুলিশ মহাপরিচালক অলোক কুমার এএনআইকে বলেন, নিহত সবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তে ফের ব্যাপক গোলাগুলি হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়।
গোলাগুলির ঘটনা নিশ্চিত করেছে দুই দেশই। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। খবর আল জাজিরার।
আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেছেন, পাকিস্তান প্রথমে তাদের কান্দাহার প্রদেশের বোলদাকে হামলা চালায়। জবাবে পাকিস্তান জানিয়েছে, আফগানিস্তানের সেনারা প্রথমে চামান সীমান্তে ‘বিনা উস্কানিতে’ গুলি ছুড়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘পাকিস্তান পুরোপুরি সতর্ক আছে। আমরা আমাদের ভৌগলিক অখণ্ডতা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিশ্রুতবদ্ধ।’
দুইদিন আগে সৌদি আরবে আবারও শান্তি আলোচনায় বসেছিল ইসলামাবাদ ও কাবুল। কিন্তু এতে কোনো ব্রেকথ্রু আসেনি। এরপরও দুই দেশ নিজেদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি অক্ষুন্ন রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এরমধ্যেই সীমান্তে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটল।
গত অক্টোবরে দুই দেশের মধ্যে প্রথম সরাসরি সংঘাত হয়। এরপর কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় এটি থামে। কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত ছিল। এরপর তারা সৌদি আরবে বৈঠকে মিলিত হয়। কিন্তু এ বৈঠকের দুইদিন না পেরুতেই আবারও সংঘর্ষে জড়ালো তারা।
পাকিস্তানে গত কয়েকদিনে আরও কয়েকটি আত্মঘাতী ও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটি দাবি করেছে, আফগানিস্তানের নাগরিকরা তাদের নিজ দেশের মদদে এসব হামলা চালিয়েছে।
তবে আফগানিস্তান এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী হামলার জন্য তাদের দায়ী করা যায় না।
মন্তব্য করুন
ইউক্রেনের ‘গ্রেইন ফ্রম ইউক্রেন’ কর্মসূচির আওতায় এ তেল সরবরাহ করা হয়েছে। সহায়তাটি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেতৃত্বে ডব্লিউএফপি ও অন্যান্য মানবিক সংস্থার কাজে ব্যবহার হবে।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর ) এ তথ্য জানিয়েছে ডব্লিউএফপি। সংস্থাটি জানায়, ২০২২ সালে ইউক্রেন সরকারের চালু করা মানবিক খাদ্য উদ্যোগের একটি ‘গ্রেইন ফ্রম ইউক্রেন’। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ইউক্রেনের খাদ্যপণ্য সংকটাপন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়া এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
রোহিঙ্গাদের জন্য দেওয়া সূর্যমুখী ইউক্রেনে উৎপাদিত। এর ক্রয় ও পরিবহন খরচ ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। আর এ অর্থ দিয়েছে সুইডেন সরকার।
কক্সবাজারের উখিয়ার মধুরছড়া লজিস্টিক হাবে সহায়তা হস্তান্তরের জন্য এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব মোস্তফিজুর রহমান, রোহিঙ্গা ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া উইংয়ের পরিচালক এ কে এম মহিউদ্দিন কায়েস, ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ড. ওলেক্সান্দ্র পলিশচুক, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস, ডব্লিউএফপি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর সিমোন পার্চমেন্ট এবং ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোস্তফিজুর রহমান বলেন, ‘এ সাহায্য রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা জোরদার করবে। এ উদ্যোগ মানবতা, সহমর্মিতা ও বৈশ্বিক দায়িত্ববোধের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।’
রোহিঙ্গা ত্রাণ কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, ‘এই উদ্যোগ মানবিকতার এক যৌথ বিশ্বাসকে তুলে ধরে— যা ইউক্রেন, সুইডেন, ফ্রান্স, ডব্লিউএফপি ও বাংলাদেশ সরকারকে একত্র করেছে।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহিউদ্দিন কায়েস বলেন, ‘এ সহায়তা শুধু মানবিক উদ্যোগ নয়, এটি রোহিঙ্গাদের প্রতি বন্ধুত্ব ও সংহতির প্রকাশ।’
ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ড. পলিশচুক বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের নেতৃত্ব প্রশংসনীয়। ডব্লিউএফপি ও মানবিক সংস্থাগুলোর কাজ সত্যিই উদাহরণযোগ্য।’
সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিশ্বকে সচেতন রাখতে হবে। এই উদ্যোগ সংহতি ও মানবতার জন্য একটি বাস্তব পদক্ষেপ।’
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা ডব্লিউএফপির খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। রোহিঙ্গারা এ কেন্দ্র থেকে ই-ভাউচার ব্যবস্থার মাধ্যমে সূর্যমুখী তেলসহ অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করেন। প্রতি ব্যক্তি মাসে ১২ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ খাদ্য কিনতে পারেন।
১৯টি ই-ভাউচার আউটলেটে তারা চাল, ডালসহ মৌলিক খাদ্য ছাড়াও স্থানীয় বাজার থেকে সংগ্রহ করা তাজা শাকসবজি, মাছ ও মুরগি নিতে পারেন। এসব পণ্য সরবরাহে স্থানীয় ক্ষুদ্র কৃষকরাও যুক্ত রয়েছেন।
রোহিঙ্গা সংকট এখন নবম বছরে। তহবিল সংকট তীব্র হয়ে উঠছে। ২০২৬ সালে প্রায় ১২ লাখ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে ডব্লিউএফপির ১৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঘাটতি রয়েছে। নতুন অর্থায়ন না হলে আগামী বছরের এপ্রিল থেকে খাদ্য সহায়তায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটবে।
মন্তব্য করুন
বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে তার বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জামাতা তথা অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের বৈঠকের পর তার এ ধারণা হয়েছে।
তার ভাষায়, ‘তাদের ধারণা খুব স্পষ্ট— পুতিন যুদ্ধ শেষ করতে চান, তিনি একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চান।’
গত মঙ্গলবার মস্কোতে পুতিনের সঙ্গে উইটকফ ও কুশনারের বৈঠক হয়। এর পরদিন ট্রাম্প এ মন্তব্য করলেন। পুতিনের সঙ্গে সেই বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি নিয়ে ওয়াশিংটনের সংশোধিত খসড়া শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।
ট্রাম্প জানান, তিনি মঙ্গলবার রাতেই কুশনার ও উইটকফের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘তারা পুতিনের সঙ্গে যথেষ্ট ভালো একটি বৈঠক করেছেন। এরপর কী হয়, তা আমরা দেখব’। ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, তিনি প্রেসিডেন্ট থাকলে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুই হতো না।
তার ভাষায়, ‘পুতিনের সঙ্গে জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের খুব ভালো বৈঠক হয়েছে। তবে এটা দু’পক্ষের ব্যাপার— সমঝোতা হলে দু’পক্ষকেই রাজি হতে হবে।’
অন্যদিকে বুধবার রুশ প্রেসিডেন্টের সহযোগী ইউরি উশাকভ বলেন, ইউক্রেন সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে রাশিয়ার মতামত বিবেচনায় নিতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরিবেশ ইতিবাচক। মার্কিনরা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে পৌঁছাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে প্রস্তুত— এমন সমাধান, যা আমাদের লক্ষ্য পূরণেও সহায়তা করে।’
এর আগে বুধবার এক প্রতিবেদনে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে পাঁচ ঘণ্টার বৈঠকের পরও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও সমঝোতা হয়নি বলে রাশিয়া জানিয়েছে।
মস্কোর ক্রেমলিনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ দূতদের আলোচনার পর বুধবার এ তথ্য জানানো হয়।
মন্তব্য করুন
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, মিশর সীমান্তের কাছে দক্ষিণ রাফায় হামাস তাদের যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের চার সেনাকে আহত করার পর এই হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে রাফাহ সীমান্ত খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরাইল। তবে ক্রসিং দিয়ে কেবল গাজার বাসিন্দারা উপত্যকা ত্যাগ করতে পারবেন বলে জানিয়েছে তেল আবিব। এই সীমান্ত দিয়ে কোনো ত্রাণ বা সহায়তা প্রবেশ করবে না।
তবে মিশর এটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের শান্তি পরিকল্পনার পরিপন্থি ও একতরফা সিদ্ধান্ত আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনায় ছিলো, রাফাহ সীমান্ত উভয় দিকের চলাচলের জন্য খুলতে হবে।
এর মধ্যেই যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী আরও এক ইসরাইলি জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর করেছে হামাস। স্থানীয় সময় বুধবার বেইত লাহিয়ায় সংগঠনটির সদস্যরা রেডক্রসের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে। পরে মরদেহ পৌঁছে দেওয়া হয় ইসরাইলে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন মতে, বুধবার ইসরাইলি বাহিনী অভিযোগ করে, রাফা সীমান্তের কাছের একটি এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় তাদের সেনাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। তেল আবিবের দাবি, হামাস সদস্যদের হামলায় কয়েকজন সেনা আহত হয়েছেন। এর কড়া জবাবের হুঁশিয়ারি দেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
এরপরই বেশ কয়েকটি জায়গায় হামলা চালানো হয়। হামলায় উত্তর গাজা শহরের জেইতুন উপকণ্ঠে ইসরাইলি বন্দুকধারীদের গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি এবং দক্ষিণ আল-মাওয়াসি ক্যাম্পে হামলায় পাঁচজন নিহত হন বলে জানান চিকিৎসকরা।
আল-মাওয়াসিতে বোমা হামলায় আগুন লেগে বেশ কয়েকটি তাঁবু পুড়ে যায়। গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, আল-মাওয়াসিতে ‘ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই শিশুসহ পাঁচজন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।’ কুয়েতি হাসপাতালের সূত্র জানিয়েছে, নিহত শিশুদের বয়স আট ও ১০ বছর।
ফিলিস্তিনি ওয়াফা সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছিলেন। হামাস আল-মাওয়াসিতে ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানিয়ে এটাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ইসরাইল অব্যাহতভাবে ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি অবজ্ঞা’ প্রদর্শন করছে বলেও মন্তব্য করেছে গোষ্ঠীটি।
ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটি মধ্যস্থতাকারী মিশর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর লাগাম টানার দাবি জানিয়েছে।
এদিকে গাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি বাহিনী কমপক্ষে ৫৯১ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে, যার ফলে কমপক্ষে ৩৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৯২২ জন আহত হয়েছে।
মন্তব্য করুন
রাফাহ সীমান্ত দিয়ে ফিলিস্তিনিদের বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে চায় ইসরাইল। তবে ক্রসিংটি এখনও বন্ধ আছে।
গাজা উপত্যকার রাফাহ এলাকায় অবস্থানরত ফিলিস্তিনিদের দেশ ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে রাফাহ সীমান্ত খুলে দিতে চায় ইসরাইল। দখলদার দেশটির সামরিক দপ্তর কোগাত জানিয়েছে, মিশরের সঙ্গে সমন্বয় করেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
খবর বিবিসি’র
তবে এমন দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও একতরফা বলছে মিশর। রাফাহ সীমান্ত খোলা নিয়ে ইসরাইলের সঙ্গে কোনো কথাই হয়নি বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের প্রতিবেশি দেশটি। তবে মিশরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির চুক্তি মেনে সীমান্ত খোলা হলে তারা সাড়া দেবে।
ইসরাইলের সামরিক দপ্তর কোগাত জানায়, নিরাপত্তা অনুমোদনের পর এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের তদারকির পর তারা মিশরের সঙ্গে কথা বলেছে। এরপর তারা গাজাবাসীদের বেরিয়ে যেতে এই প্রস্থান প্রক্রিয়া পরিচালিত করবে। ইসরাইলের দাবি, জানুয়ারির যুদ্ধবিরতির সময় যে ব্যবস্থায় ক্রসিং খোলা হয়েছিল, এবারও সেই ব্যবস্থাই অনুসরণ করা হবে।
একজন ইসরাইলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, এটি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির প্রতি ইসরাইলের সমর্থনের প্রতিফলন। সাত সপ্তাহ ধরে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।
তবে বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে মিশর। দেশটির স্টেট ইনফরমেশন সার্ভিস জানায়, যদি ক্রসিং খোলার বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়, তবে তা হবে দুই দিকেই চলাচলের জন্য। সেটি হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার ভিত্তিতে।
ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, রাফাহ ক্রসিং উভয়মুখী খোলা হলেও তা জানুয়ারির যুদ্ধবিরতির মতো একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে। তবে ২০২৪ সালের মে মাস থেকে রাফাহ ক্রসিং প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। ওই সময় গাজার এই অংশ দখলে নেয় ইসরাইল।
এর আগে এটি ছিল গাজাবাসীদের জন্য মূল বহির্গমন পথ এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশের অন্যতম প্রধান রুট। তবে তা এখন ইসরাইল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ১৬,৫০০ গুরুতর অসুস্থ বা আহত ফিলিস্তিনি জরুরি চিকিৎসার জন্য গাজা ছাড়ার অপেক্ষায় আছেন। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর এই পর্যন্ত মাত্র ২৩৫ জন রোগী দেশটি ছাড়তে পেরেছে।
ইসরাইলের পত্রিকা হারেৎজ জানিয়েছে, রাফাহ ক্রসিং পুনরায় খুললে সেটি পরিচালনায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ পিএ’র সদস্যরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বার্ডার অ্যাসিস্ট্যান্স মিশনের সঙ্গে কাজ করবে।
আগের যুদ্ধবিরতির সময়ও একইভাবে তারা কাজ করেছিল। তবে ইসরাইলের আপত্তির কারণে তারা কোনো অফিশিয়াল পরিচয়চিহ্ন ব্যবহার করেনি।
তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগে থেকেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন, গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসনে পিএ-এর কোনো ভূমিকা থাকবে না।
মন্তব্য করুন
তবে কয়েক সপ্তাহ ধরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না পরিবার বা দলের কেউ, সরকারও যেন মুখে কুলুপ এটেছে। এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইমরান খানের ছেলে কাসিম খান।
তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আদিয়ালা কারাগারের বাইরে ইমরানের বোনেরা, পিটিআই নেতারা ও সমর্থকরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। আদালতের নির্দেশে সাপ্তাহিক সাক্ষাতের অনুমতি থাকলেও এতদিন ইমরান খানের সঙ্গে পরিবারের কোনো সরাসরি দেখা কিংবা যাচাইযোগ্য যোগাযোগ হয়নি বলে জানিয়েছেন কাসিম।
তিনি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, এ পরিস্থিতি পরিবারকে আরও আতঙ্কিত করে তুলেছে।
কাসিম বলেন, ‘আপনার বাবা নিরাপদ কি না, আহত কি না, এমনকি তিনি জীবিত কি না—এটা না জানা মানসিক নির্যাতনের মতো।’ গত কয়েক মাস ধরেই কোনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত যোগাযোগ না থাকায় পরিবারের শঙ্কা বাড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
‘আজ আমরা তার অবস্থা সম্পর্কে কোনো যাচাইযোগ্য তথ্যই পাচ্ছি না। আমাদের সবচেয়ে বড় ভয়—তার সম্পর্কে অপ্রত্যাবর্তনীয় কিছু লুকানো হচ্ছে।’
ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসককে দীর্ঘদিন ধরে তার শারীরিক পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ পরিবারের। এক বছর ধরে চিকিৎসক প্রবেশাধিকার পাচ্ছেন না।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি। তবে এক কারা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ইমরান খান সুস্থ আছেন এবং তাকে আরও উচ্চ নিরাপত্তার স্থানে স্থানান্তরের কোনো পরিকল্পনার কথা তিনি জানেন না।
৭২ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে কারাগারে রয়েছেন। রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রির অভিযোগে তোষাখানা মামলায় তার প্রথম দণ্ড হয়। এরপর সাইফার মামলা এবং আল কাদির ট্রাস্ট মামলায়ও দীর্ঘমেয়াদি সাজা হয়। এগুলোকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
পিটিআইয়ের অভিযোগ, এই মামলাগুলো ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে ইমরানকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্যই সাজানো হয়েছিল।
বিচ্ছিন্নতায় বাড়ছে উদ্বেগ
কাসিম বলেন, দীর্ঘদিনের অপ্রকাশ্যতা ও যোগাযোগহীনতা পরিবারকে আরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ‘এই বিচ্ছিন্নতা ইচ্ছাকৃত। তারা তাকে আড়ালে রাখতে চায়,’ দাবি করেন ইমরান খানের পুত্র। ‘তিনি পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা।
গণতান্ত্রিকভাবে তাকে পরাজিত করা সম্ভব নয় বলেই তাকে আলাদা করে রাখা হচ্ছে।’ কাসিম জানান, তিনি ও তার বড় ভাই সুলাইমান ইসা খান রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও বাবার কারাবন্দি অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেষ্টা করছেন।
তিনি জানান, তারা সর্বশেষ বাবার সঙ্গে দেখা করেছিলেন ২০২২ সালের নভেম্বরে, যখন তিনি হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন। ‘তার সেই অবস্থার ছবি আজও স্মৃতিতে ভাসে। এখন কয়েক সপ্তাহ ধরে কোনো যোগাযোগ নেই, কোনো প্রমাণ নেই তিনি ঠিক আছেন কি না—সেই স্মৃতি আজ আলাদা ভার তৈরি করছে।’
এদিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, ইমরানের ছেলেরা চাইলে বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারে। এর জবাবে ইমরানের সাবেক স্ত্রী জেমাইমা গোল্ডসমিথ বলেন, ‘তারা তার সঙ্গে ফোনে কথা বলতেও পারছে না। কেউই পারছে না।’
মানবাধিকার কমিশনের উদ্বেগ
পাকিস্তান মানবাধিকার কমিশন (এইচআরসিপি) ইমরান খানের বন্দিত্বের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, পরিবার, ঘনিষ্ঠজন ও আইনজীবীদের সাক্ষাতের সুযোগ না দেওয়া গুরুতর অভিযোগ এবং আটক ব্যক্তির মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন।
সংস্থাটি লিখেছে, বন্দির সঙ্গে নিয়মিত ও নির্বিঘ্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করা এক ধরনের সুরক্ষা, যা বিচ্ছিন্ন করে রাখার অপব্যবহার রোধ করে।
তারা পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার এবং পাঞ্জাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সাংবিধানিক অধিকার ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী আচরণের আহ্বান জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্নীতি মামলা চলার মধ্যে নেতানিয়াহু ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জোগের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমার আবেদন জমা দিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুর্নীতির মামলায় নেতানিয়াহুকে হার্জোগের ক্ষমা করা উচিত- এমন কথা বলার কয়েকদিন পরেই এ পদক্ষেপ নিলেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী।
২০১৯ সালে দায়ের করা দুর্নীতির তিনটি পৃথক মামলা রয়েছে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে। তার মধ্যে ঘুস, জালিয়াতি এবং বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে।
হার্জগের কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রেসিডেন্টের কার্যালয় অবগত যে, নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে একটি অনুরোধ তার কাছে এসেছে- যার উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে।
প্রাসঙ্গিক সমস্ত মতামত পাওয়ার পর, প্রেসিডেন্ট দায়িত্বশীলতা এবং আন্তরিকতার সঙ্গে অনুরোধটি বিবেচনা করবেন।
এর আগে নভেম্বরের শুরুতে ট্রাম্পের কাছ থেকে হার্জোগ একটি চিঠিও পেয়েছিলেন, যেখানে তাকে ক্ষমার বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
এদিকে, অক্টোবরে ট্রাম্পের ইসরাইল সফরের সময়, তিনি ইসরাইলি পার্লামেন্টে দেয়া ভাষণে হার্জোগকে নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করার জন্য অনুরোধ করেন।
মন্তব্য করুন
রুশ মুখপাত্র বলেন, ‘ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী ২৪ ঘণ্টায় ২৩০ জনেরও বেশি সৈন্য হারিয়েছে। এ সময়ে রুশ যৌথ বাহিনীর ইউনিট এবং আক্রমণকারী ড্রোন ইউনিটগুলো ইউক্রেনের পাঁচটি সাঁজোয়া যুদ্ধযান (যার তিনটি পশ্চিমা নির্মিত), ১৯টি অটোমোবাইল, চারটি ফিল্ড আর্টিলারি গান, একটি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্টেশন এবং চারটি গোলাবারুদ ও জ্বালানির গুদামও ধ্বংস করেছে।’
এদিকে সেভেরস্ক দিকের ড্রোন ইউনিটগুলো ইউক্রেনের দুটি ইউএভি নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, একটি স্টারলিংক টার্মিনাল এবং ছয়টি যোগাযোগ অ্যান্টেনা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে বলেও উল্লেখ করেন ভাদিম আস্তাফিয়েভ।
তিনি আরও জানান, ক্রামাতোরস্ক দিকের ড্রোন ইউনিটগুলো ইউক্রেনীয় বাহিনীর একটি স্থলভিত্তিক রোবোটিক কমপ্লেক্স ধ্বংস করে, একটি আর-১৮ অক্টোকপ্টার ভূপাতিত করে, একটি ইউএভি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, একটি স্টারলিংক টার্মিনাল, তিনটি এফপিভি ড্রোন অ্যান্টেনা ও তিনটি যোগাযোগ অ্যান্টেনায় আঘাত হানে।
এছাড়া, কনস্তানতিনোভকার দক্ষিণাঞ্চলের ড্রোন ইউনিটগুলো শত্রুপক্ষের তিনটি স্থল রোবোটিক সিস্টেম, একটি অস্থায়ী ঘাঁটি এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর ছয়টি ডাগআউট ধ্বংস করেছে বলেও জানান আস্তাফিয়েভ।
এদিকে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাশিয়া সবসময় শান্তির পক্ষে থাকলেও সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য দেশটি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ক্রেমলিনের প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ।
শুক্রবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল ওয়ান-কে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পেসকভের এই বক্তব্য আসে বেলজিয়ামে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ডেনিস গনচারের এক মন্তব্যের পর।
গনচার সতর্ক করে বলেছেন, ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন আশ্চর্যজনকভাবে রাশিয়ার সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
যুদ্ধ বা শান্তি—কোনটি প্রত্যাশা করা উচিত—এমন প্রশ্নে পেসকভ বলেন, ‘অবশ্যই আমাদের শান্তিই কামনা করা উচিত। কিন্তু যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে। সর্বোচ্চ ভালো ফলাফলের আশা করতে হবে, তবে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি রাখা জরুরি।’
ক্রেমলিন বরাবরই বলে আসছে যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কূটনৈতিক সমাধানই তাদের প্রথম পছন্দ; তবে পশ্চিমা জোটগুলোর সামরিক প্রস্তুতি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে বলে রাশিয়ার অভিযোগ।
মন্তব্য করুন
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সামা টিভির অনুষ্ঠান ‘মেরে সওয়াল উইথ আবসার আলম (আবসার আলমের সঙ্গে আমার প্রশ্ন)’- তে সানাউল্লাহ বলেন, ‘পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা সবসময়ই লং মার্চ এবং অস্থিরতা বাড়ানোর ডাক দিয়ে এসেছেন।’
ইমরান খানকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, ‘তিনি চার বছর দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তখন কোনো সংলাপে যেতে চাননি। এখনো তিনি বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আছেন।’
সানাউল্লাহ জানান, কারা কর্তৃপক্ষ বলেছে, পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার স্বাস্থ্যের অবস্থা ভালো।
পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (পিআইএ) বেসরকারিকরণ ইস্যুতে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার পিআইএ বেসরকারিকরণে মনোযোগী। প্রধানমন্ত্রী কঠোর পরিশ্রম করছেন। পাকিস্তান অর্থনৈতিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসবে।’
এদিকে, ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইমরান খানকে আদিয়ালা কারাগারে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে।
তারা দাবি করেছে, তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়েছে এবং কঠোরভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছে।
পরিবারের সদস্য বা আইনজীবীদের সাথে তার কোনো অর্থবহ যোগাযোগ নেই বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ইমরান খান পাকিস্তান
মন্তব্য করুন
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠককালে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়নার (এক্সিম ব্যাংক) ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়াং দোংনিং এ আগ্রহের কথা জানান।
তার সঙ্গে ছিলেন চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটির প্রেসিডেন্ট ড. মা জুন। ইয়াং দোংনিং বলেন, বাংলাদেশে চীনের দীর্ঘদিনের অবকাঠামো বিনিয়োগের পাশাপাশি এখন তারা উৎপাদন খাতে মনোযোগ দিচ্ছে।
এর মধ্যে রয়েছে রুফটপ সোলার প্যানেল এবং দেশের ‘সোনালি আঁশ’ পাটকে কেন্দ্র করে জ্বালানি, বায়োসার ও প্লাস্টিকের বিকল্প তৈরির বড় প্রকল্প। এসব সরাসরি উৎপাদন বিনিয়োগে এক্সিম ব্যাংকও অর্থায়নে আগ্রহী।
ড. মা জুন বলেন, ঐতিহ্যবাহী পাটশিল্প চীনা বিনিয়োগকারীদের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয়।
তারা স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে চায়। চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো সবুজ জ্বালানি, সার ও প্লাস্টিকের বিকল্প তৈরির জন্য বছরে ১০ লাখ টন পর্যন্ত পাট ব্যবহার করতে প্রস্তুত।
তাই, চীনা অর্থায়নে পাটভিত্তিক যৌথ উদ্যোগের বড় সুযোগ রয়েছে।’
চীনের এই আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘চীনা বিনিয়োগকারীরা চাইলে বাংলাদেশকে উৎপাদনশীল পণ্য রপ্তানির একটি হাবে রূপান্তর করা সম্ভব—যা উন্নত দেশসহ চীনে রপ্তানির সুযোগ বাড়াবে। তিনি ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবাকে চীনা বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত করেন।
ড. ইউনূস বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় সৌরশক্তি উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে চীন রুফটপ সোলারসহ সবুজ জ্বালানি খাতে বাংলাদেশকে সহায়তায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে উৎপাদন কারখানা স্থানান্তরে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, দেশের বিপুল তরুণ কর্মশক্তি ও বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো যৌথ উদ্যোগে ব্যবহারের বড় সুযোগ তৈরি করেছে।
এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা। আমরা এটাকে স্বাগত জানাই। আমরা চাই এগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে যাক।
ইয়াং দোংনিং জানান, এআই ও ই-কমার্স খাতেও বিনিয়োগের সুযোগও চীন বিবেচনা করছে—যে দু’টি ক্ষেত্রে চীন ইতিমধ্যে বৈশ্বিক নেতৃত্বে রয়েছে।
মন্তব্য করুন
সে একজন তৃতীয় শ্রেণির সাংবাদিক; ভেতর ও বাইর—উভয় দিক থেকেই কুৎসিত।’
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে তথ্য-উপাত্তভিত্তিক একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। আর এতেই চটেছেন ৭৯ বছর বয়সি ট্রাম্প।
বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’–এ দেওয়া এক পোস্টে ওই প্রতিবেদনের সহলেখক এক নারী সাংবাদিককে ‘কুৎসিত’ বলে আক্রমণ করেন তিনি।
এর মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই আরেক নারী সাংবাদিককে ‘চুপ করো, পিগি’ বলে ধমক দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই রেশ না কাটতেই আবারও নারী সাংবাদিককে লক্ষ্য করে তার এই কটুকাটব্য জেন্ডার–সংবেদনশীল আচরণ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার সকালে ট্রাম্প বলেন, ‘ব্যর্থ হতে চলা নিউইয়র্ক টাইমসের ওই জঘন্য লোকগুলো আবারও তাদের কাজ শুরু করেছে।’
প্রতিবেদনটি লিখেছিলেন দুজন—পত্রিকাটির এআই ইনিশিয়েটিভ টিমের ডিলান ফ্রেডম্যান এবং হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি কেটি রজার্স। ট্রাম্প তার পোস্টে পুরুষ সাংবাদিক ডিলানের নাম উল্লেখ না করলেও ব্যক্তিগত আক্রমণের লক্ষ্য বানিয়েছেন নারী সাংবাদিক কেটিকে।
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘প্রতিবেদক কেটি রজার্সকে নিয়োগই দেওয়া হয়েছে আমার সম্পর্কে কেবল বাজে কথা লেখার জন্য। সে একজন তৃতীয় শ্রেণির সাংবাদিক; যে ভেতর ও বাইর—উভয় দিক থেকেই কুৎসিত।’
ওই পোস্টে ট্রাম্প এ বছর তিনি কত কঠোর পরিশ্রম করেছেন, তারও ফিরিস্তি দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, জনমত জরিপে তিনি এখন সর্বকালের সেরা অবস্থানে আছেন। যদিও দাবিটি ভুয়া; বরং দ্বিতীয় মেয়াদের সর্বোচ্চ অবস্থানের তুলনায় এখন তার জনসমর্থন অনেকটাই কমেছে।
নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এমন একটা দিন আসবে, যখন আমারও শক্তি ফুরিয়ে আসবে, এটা সবার ক্ষেত্রেই ঘটে। কিন্তু আমার জন্যে সেই সময়টা এখনো আসেনি নয়।’
সম্প্রতি বিভিন্ন শারীরিক ও কগনিটিভ টেস্টে তিনি দারুণ ফল করেছেন বলেও দাবি করেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্টোবরের শুরুর দিকে ট্রাম্প একবার এমআরআই স্ক্যান করিয়েছিলেন।
কিন্তু কী কারণে সেই পরীক্ষা করানো হয়েছিল, তা এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। পত্রিকাটি জানিয়েছে, ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে তারা বিস্তারিত প্রশ্ন পাঠিয়েছিল, কিন্তু কোনো জবাব পায়নি।
এর বদলে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে উলটো বাইডেনকে কটাক্ষ করে দাবি করেন, ট্রাম্প ও তার প্রশাসন সব সময়ই ‘খোলামেলা ও স্বচ্ছ’।
নিজের পোস্টে নিউইয়র্ক টাইমসকেও একহাত নিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি পত্রিকাটিকে ‘শিগগিরই বন্ধ হতে চলা’ প্রতিষ্ঠান বলে আখ্যা দেন। যদিও পত্রিকাটি এখন বেশ লাভজনক অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের ডিজিটাল গ্রাহকসংখ্যাও বাড়ছে।
মানহানির অভিযোগে নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে একটি মামলাও করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মামলাটির ভিত্তি বেশ দুর্বল এবং এটি খারিজ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
এ দিকে ট্রাম্পের কুরুচিকর মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। বুধবার পত্রিকাটির একজন মুখপাত্র সাংবাদিক কেটি রজার্স ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দ্য টাইমসের প্রতিবেদনটি নির্ভুল এবং সরাসরি তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। বাজে নামে ডাকা বা ব্যক্তিগত আক্রমণ—কোনো কিছুই সত্যকে বদলাতে পারবে না। ভয়ভীতি দেখানোর এমন কৌশলের মুখেও আমাদের সাংবাদিকেরা বর্তমান প্রশাসনের সংবাদ সংগ্রহে বিন্দুমাত্র পিছপা হবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেটি রজার্সের মতো দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকেরাই প্রমাণ করেন যে কীভাবে একটি স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে তাদের সরকার ও নেতাদের আরও ভালোভাবে বুঝতে সহায়তা করে।’
মন্তব্য করুন
এর আগে বুধবার ইমরান খানের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তার বোনেরা তারতার সঙ্গে বারবার দেখা করতে চাইলেও অনুমতি দেওয়া হয়নি। সেই সঙ্গে আদিয়ালা কারাগারের বাইরে তাদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংস হামলার পর রহস্য আরও ঘনীভূত হয়।
এমন অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ইমরান খান কারা হেফাজতে মারা গেছেন। এই খবর তার সমর্থকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যার প্রেক্ষিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো পাকিস্তান।
আদিয়ালা কারাগার এলাকায় জড়ো হয়েছেন হাজার হাজার পিটিআই নেতাকর্মী। এই পরিস্থিতিতে ইমরান খানের মৃত্যুর গুজব উড়িয়ে দিয়ে এক বিবৃতিতে আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘আদিয়ালা থেকে তাকে অন্যত্র সরানোর খবর সত্য নয়।
তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন। তার অসুস্থতার খবর ভিত্তিহীন এবং তার সুস্থতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, কারাগারে ইমরান খানকে সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, তিনি কারাগারে থেকে যে সুবিধা পেতেন ইমরান খান এরচেয়েও বেশি পাচ্ছেন।
খাজা আসিফ বলেন, ‘তার জন্য যে খাবার আসে সেটির মেন্যু দেখুন। এগুলো পাঁচ তারকা হোটেলেও নেই। কারাগারে তার কাছে টেলিভিশনও আছে। তিনি নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী যে কোনো চ্যানেল দেখতে পারেন। তার সঙ্গে ব্যায়ামের সরঞ্জামও আছে।
এছাড়া সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর জন্য ডাবল বেডের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে দাবি করেন খাজা আসিফ।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারান ইমরান খান। এরপর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন মামলা দেওয়া হয়। এছাড়া সেনাবাহিনীর সদরদপ্তরে হামলা, রাষ্ট্রের গোপন নথি ফাঁসের অভিযোগও আনা হয় তার বিরুদ্ধে।
এরপর ২০২৩ সালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। একবার ছাড়া পেলেও পরবর্তীতে আবার গ্রেফতার করা হয় এরপর ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে জেলেই আছেন তিনি।
মন্তব্য করুন
রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মতে, বিদেশীরা আবাসিক, বাণিজ্যিক, কৃষি এবং শিল্প সম্পত্তি কিনতে পারবেন, পাশাপাশি উন্নয়নের জন্য জমি অধিগ্রহণ করতে পারবেন।
রিয়েল এস্টেট বাজারে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। একে দেশটির জাতীয় নীতিতে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে জারি হওয়া রাজকীয় ডিক্রি নং এম/১৪ এর ভিত্তিতে এ বিধান কার্যকর হবে, যা নির্দিষ্ট অঞ্চলে বিদেশিদের সম্পত্তি মালিকানার সুযোগ তৈরি করে দেবে।
জেনারেল রিয়েল এস্টেট অথরিটি (আরইজিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদ, জেদ্দা, মক্কা ও মদিনার কোন কোন অংশ বিদেশি ক্রেতাদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, তা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
আইন চূড়ান্ত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে অঞ্চলগুলো প্রকাশ করা হবে। অনুমোদিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে প্রত্যাশিত মালিকানা সীমা ৭০ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। এর সীমা নির্ভর করবে- নগর পরিকল্পনা ও স্থানীয় বাজারের অবস্থার উপর।
এই সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ মক্কা ও মদিনায় ঐতিহাসিকভাবে বিদেশিদের সম্পত্তি মালিকানা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। এ পরিবর্তনের পাশাপাশি সউদী আরব ভগ্নাংশ বা টোকেনাইজড সম্পত্তি মালিকানা (ফ্রাকশনাল ওনারশিপ) চালু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশে না গিয়েই সম্পত্তির শেয়ার কিনতে পারবেন।
সিটিস্কেপ গ্লোবালে (১৭–২০ নভেম্বর, রিয়াদে) বক্তৃতাকালে রিয়েল এস্টেট রেজিস্ট্রি অথরিটির সিইও মোহাম্মদ আল-সুলিমান বলেন, এই ব্যবস্থা বিনিয়োগকারীদের দূর থেকেই সউদী রিয়েল এস্টেট বাজারে অংশগ্রহণের সুযোগ দেবে এবং তারা সেই অঞ্চলের শক্তিশালী অর্থনীতির সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
এই পরিবর্তনের ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, ভিশন ২০৩০ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ, অর্থনীতি বৈচিত্র্যময় করা, রিয়েল এস্টেট খাত আধুনিকীকরণ ও আন্তর্জাতিক মূলধন আকর্ষণের জন্য বৃহত্তম প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের আগে চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক প্যাকেজ প্রকাশ করা হবে, যেখানে যোগ্যতার শর্ত, সম্পত্তি কেনার পদ্ধতি, সম্মতি ও আইনি বাধ্যবাধকতা উল্লেখ থাকবে। সূত্র: ব্লুমবার্গ।
মন্তব্য করুন
এছাড়া পৃথক হামলায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
মঙ্গলবার তালেবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ জানান, খোস্ত প্রদেশের গোরবুজ জেলায় মধ্যরাতে এই হামলা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘পাকিস্তানের আগ্রাসী বাহিনী স্থানীয় বাসিন্দা ওয়ালিয়াত খানের বাড়ি বোমা মেরে ধ্বংস করে দিয়েছে।’
তিনি আরও দাবি করেন, ‘হামলায় ৯ শিশু (পাঁচ ছেলে এবং চার মেয়ে) ও এক নারী নিহত হয়েছেন।’
মুজাহিদ জানান, এর পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুনার ও পূর্বাঞ্চলের পাকতিকা প্রদেশেও আরও কয়েকটি বিমান হামলা হয়েছে। সেখানে অন্তত চারজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।
মন্তব্য করুন
ডন জানিয়েছে, গেল ২০ নভেম্বর জারি করা টিসিপি টেন্ডার অনুসারে, মূল্য প্রস্তাব জমা দেয়ার শেষ তারিখ আগামী ২৮ নভেম্বর বেলা ১১টা ৩০ মিনিট।
প্রতিবেদন অনুসারে, করাচি বন্দর দিয়ে ‘ব্রেক বাল্ক কার্গো আকারে বাংলাদেশে রফতানির জন্য’ এক লাখ টন লম্বা দানার সাদা চাল (IRRI-6) কেনার জন্য কোম্পানি, অংশীদারিত্ব এবং একক মালিকদের কাছ থেকে ‘পৃথক সিল করা দরপত্র’ আহ্বান করা হয়েছে।
দরপত্র অনুসারে, চাল ‘পাকিস্তানে উৎপাদিত সবশেষ ফসলের মজুদ’ থেকে সরবরাহ করতে হবে এবং কোনো অপ্রীতিকর গন্ধ, ছত্রাকের চিহ্ন, বিষাক্ত আগাছার বীজ, পোকামাকড় এবং আক্রমণ ছাড়াই মানুষের ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত হতে হবে।
পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ফেব্রুয়ারিতে ৫০ হাজার টন চাল আমদানির মাধ্যমে সরাসরি (সরকার পর্যায়ে) বাণিজ্য শুরু করে।
কয়েক দশকের অস্থির সম্পর্কের পর, ২০২৪ সালের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে ইসলামাবাদ এবং ঢাকার মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
মন্তব্য করুন
এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) ক্যামেরন হাইল্যান্ডস এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৭৪ বাংলাদেশিসহ ৪৬৮ জনকে আটক করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ (অপ জেম্পুর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চারটি জোনে অভিযান চালায়। যেখানে ব্যবসায়িক এলাকা, নির্মাণ সাইট এবং সবজি চাষের খামার অন্তর্ভুক্ত ছিল। অভিযানে ৫৪৭ জন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা অংশ নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অধিকাংশ বিদেশি তখন সবজি প্যাকিংয়ের কাজে ব্যস্ত ছিলেন এবং কর্মকর্তাদের উপস্থিতি সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না। তখন অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান বলেন, স্থানীয় কমিউনিটির অভিযোগের ভিত্তিতে এক মাস আগে থেকেই এ অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, কাজের সন্ধানে থাকা অভিবাসীদের কাছে এ জেলা বেশ আকর্ষণীয়। আশপাশের কৃষি কার্যক্রমেও তাদের সম্পৃক্ততা বেড়েছে। উচ্চভূমির ভৌগোলিক অবস্থান, শহর থেকে দূরত্ব এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের চাহিদার কারণে এ এলাকা এখন বিদেশি শ্রমিকদের হটস্পটে পরিণত হয়েছে।
অভিযানে মোট এক হাজার ৮৮৬ জন বিদেশির কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন— মেয়াদোত্তীর্ণ পাস, বৈধ ভ্রমণ নথির অভাবসহ বিভিন্ন কারণে ৪৬৮ জনকে আটক করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে পাওয়া টেম্পোরারি ওয়ার্ক ভিজিট পাস নকল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আটকদের মধ্যে মিয়ানমারের ১৭৫, বাংলাদেশের ১৭৪, ইন্দোনেশিয়ার ৬৭, নেপালের ২০, পাকিস্তানের ১৬, ভারতের ১১ এবং ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, চীন ও কম্বোডিয়ার একজন করে নাগরিক রয়েছেন। তাদের বয়স ২০ থেকে ৫৪ বছরের মধ্যে। ৩৮৮ জন পুরুষ, ৭৬ জন নারী ও চারজন শিশু।
তাদের কেলান্তান, পেরাক ও সেলাঙ্গরে ডিটেনশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে। ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৮৩ হাজার ৯৯৪ জন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে।
অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়াই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
মন্তব্য করুন
বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকাস্থ আঞ্চলিক অফিসের পরিচালক মি. জঁ ডেনিস পেসমে এর নেতৃত্বে তার সঙ্গে ছিলেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা ডিভিশনের অর্থ উপদেষ্টা মিস. মেহরিন এ মাহবুব ও অপারেশন ম্যানেজার এমএস গায়েল মার্টিন।
জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মিজানুর রহমান ও সাবেক সিনিয়র সচিব মুহাম্মাদ সফিউল্লাহ এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।
বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থিকখাতের অবকাঠামোগত সংস্কার ও উন্নয়ন, টেকসই অর্থনীতি, করব্যবস্থা ও সামাজিক খাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।
মন্তব্য করুন
রেড অ্যালার্ট
সৌদি আরবের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম) মক্কার কিছু এলাকায় ‘রেড অ্যালার্ট’ (লাল সতর্কতা) জারি করেছে। সংস্থাটি জানায়, ওই অঞ্চলে প্রবল বর্ষণ, শিলাবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে, যা রাত পর্যন্ত চলতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, দক্ষিণ মক্কার ডিফা‘কসহ বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন জলাবদ্ধ রাস্তায় দিয়ে চলাচল করছে। এসব এলাকায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো প্রবল বৃষ্টি হয়েছে।
এনসিএমের মুখপাত্র হুসাইন আল-কাহতানি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত সৌদি আরবের অধিকাংশ অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এসময় তিনি নাগরিকদের সতর্ক থাকতে, নিচু এলাকা এড়িয়ে চলতে এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান।
দেশজুড়ে বৃষ্টির পূর্বাভাস
সর্বশেষ আবহাওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মক্কা, মদিনা, রিয়াদ, আসির, আল বাহা, জাজান, কাসিম, হাইল, তাবুক, আল জৌফ, উত্তর সীমান্ত অঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চলের কিছু অংশে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, প্রবল দমকা বাতাস, শিলাবৃষ্টি, উঁচু ঢেউ ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। তাই জনগণকে সরকারি সূত্রে নিয়মিত তথ্য নিতে ও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
চলাচলে সতর্কতা
মক্কা প্রদেশের সংকট ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র নাগরিক ও চালকদের পানি জমতে পারে এমন উপত্যকা, টানেল ও নিচু এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
এছাড়া, মক্কা, জেদ্দা ও তাইফের মধ্যবর্তী সড়কে যাতায়াতকারী চালকদের কম দৃশ্যমানতা ও পিচ্ছিল রাস্তার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
মজলিস ওয়াহদাতুল মুসলেমিন প্রধান আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস এক বিবৃতিতে বলেন, পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো আজ পঙ্গু হয়ে পড়েছে। জাতিকে এখনই ২৭তম সংশোধনীর বিরুদ্ধে উঠতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এই সংশোধনীর মাধ্যমে ক্ষমতাবানদের হাতে আরও বেশি ক্ষমতা তুলে দিতে চায়।
পিডব্লিউএম ছাড়াও এই বিরোধী জোটে রয়েছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ, পশতুনখোয়া মিলি আওয়ামী পার্টি, বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টি- মেঙ্গাল এবং সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিল।
পিকেএমএপি প্রধান মাহমুদ খান আচাকজাই জানিয়েছেন, আন্দোলন রোববার (৯ নভেম্বর) রাত থেকে শুরু হবে।
তিনি বলেন, রাত থেকেই আমাদের স্লোগান হবে— ‘গণতন্ত্র অমর হোক, স্বৈরতন্ত্র ধ্বংস হোক’। তৃতীয় স্লোগান হবে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবিতে।
তিনি আরও বলেন, এই আন্দোলনের মাধ্যমে টিটিএপি দেখিয়ে দেবে যে, পাকিস্তানের জনগণের ইচ্ছাই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
আচাকজাই বলেন, সংবিধান রাষ্ট্র ও নাগরিক উভয়ের জন্যই অপরিহার্য। আমরা নিশ্চিত করবো যে সংবিধানের সর্বোচ্চ মর্যাদা বজায় থাকে।
সরকারের পদক্ষেপের পর টিটিএপি-এর সামনে আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকারের এই সংশোধনী সংবিধানের ভিত্তি নাড়িয়ে দিচ্ছে। ফেডারেল সরকার শুক্রবার সিনেটে ২৭তম সাংবিধানিক সংশোধনী বিল উপস্থাপন করে। বিলটি এখন সংসদের আইন ও বিচারবিষয়ক স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে আলোচনার জন্য।
প্রস্তাবিত সংশোধনীর আওতায় ধারা ২৪৩ পরিবর্তন করে চেয়ারম্যান জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ কমিটি পদটি বিলুপ্ত করে নতুন পদ চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস চালু করার প্রস্তাব রয়েছে।
এছাড়া প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে—ফেডারেল সাংবিধানিক আদালত গঠন করা হবে, উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হবে, সুপ্রিম কোর্টের কিছু ক্ষমতা কমিয়ে নতুন সাংবিধানিক আদালতে স্থানান্তর করা হবে এবং রাষ্ট্রপতির জন্য আজীবন ফৌজদারি মামলা থেকে অব্যাহতি নিশ্চিত করা হবে।
এই সংশোধনীটি শাসক দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ ও তার জোটসঙ্গীদের সমর্থনে আনা হয়েছে, যা এখন দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
মন্তব্য করুন
তবে এ থেকে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়নি। খবর আল জাজিরার।
সাম্প্রতিক সময়ে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বেড়ে গেছে। হিজবুল্লাহর যোদ্ধা এবং সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে বলে দাবি ইসরায়েলের।
এক বছরের যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। হিজবুল্লাহ ইসরায়েলকে লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিভাজন কাজে লাগানো এবং নিরাপত্তা অভিযানের অজুহাতে আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে ইসরায়েল লেবাননের ওপর আক্রমণ তীব্রতর করতে পারে।
লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের বিনতে জ্বাইল এলাকায় একটি হাসপাতালের কাছে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ইসরায়েল ও লেবাননের ইরান সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর রয়েছে, তবুও ইসরায়েলি সেনারা এখনো দক্ষিণ লেবাননের অন্তত পাঁচটি এলাকায় অবস্থান করছেন ও নিয়মিত হামলা চালাচ্ছেন।
গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর ২০২৩ সালের অক্টোবরে সীমান্তে রকেট হামলা শুরু করে হিজবুল্লাহ। এতে উত্তর ইসরায়েলের হাজারো বাসিন্দাকে কয়েক মাস ধরে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়। টানা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে উত্তেজনা চলার পর দুই মাসব্যাপী খোলা যুদ্ধের মুখে পড়ে দুই পক্ষ, যার অবসান ঘটে গত বছরের যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে।
তবে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েল লেবাননে বিমান হামলা বন্ধ করেনি। বরং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তা আরও বেড়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইসরায়েল এক বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর দীর্ঘদিনের নেতা হাসান নাসরুল্লাহকে হত্যা করে। এসময় সংগঠনের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন।
যুদ্ধবিরতির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র লেবানন সরকারকে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার জন্য চাপ দিচ্ছে। যদিও গোষ্ঠীটি ও তাদের মিত্ররা এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করছে।
লেবানন সরকার জানিয়েছে, দেশজুড়ে অস্ত্রের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে ও এর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে দক্ষিণাঞ্চল থেকে।
মন্তব্য করুন
জোহরানের মা মীরা নায়ার ভারতের বিখ্যাত নির্মাতা। তিনি ‘সালাম বম্বে’, ‘মনসুন ওয়েডিং’, ‘মিসিসিপি মসালা’সহ বহু আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত সিনেমা বানিয়েছেন। তার স্বামী প্রখ্যাত গুজরাটি লেখক ও অধ্যাপক মাহমুদ মামদানি। তিনি উগান্ডা থেকে আগত ভারতীয় বংশোদ্ভূত একজন প্রভাবশালী চিন্তাবিদ।
মায়ের কারণে বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে বেড়ে ওঠা জোহরান ছোটবেলাতেই মায়ের চলচ্চিত্রজগৎ ঘনিষ্ঠভাবে দেখেছেন। এমনকি বাঙালি পরিবারের আমেরিকায় পাড়ি দেয়ার গল্পে নির্মিত ‘নেমসেক’ সিনেমা বানানোর সিদ্ধান্তেও ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
২০০৭ সালে যখন মীরা নায়ারের কাছে ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স’ পরিচালনার লোভনীয় প্রস্তাব আসে, তখন তিনি দ্বিধায় পড়েন। বিশ্বখ্যাত সিরিজ না নিজের হৃদয়ের কাছের গল্প? ঠিক তখনই কিশোর জোহরান নিজে হ্যারি পটারের ভক্ত হয়েও মাকে বলেছিলেন ‘নেমসেক’ বানাতে।
মায়ের কাছে সেই কথাই ছিল মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া অনুপ্রেরণা। আর সেই ‘নেমসেক’-ই আজও বাঙালি দর্শকের মনে এক বিশেষ জায়গা দখল করে আছে।
এখন সেই অনুপ্রেরণাদায়ী কিশোরই মার্কিন রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস লিখলেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। জোহরানের বিজয়ের পর মীরা নায়ার ইনস্টাগ্রামে ছেলের ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘সে শুধু আমার ছেলে নয়, সে আমাদের সময়ের আশার প্রতীক।’
এ যেন সিনেমার বাইরে আরেক বাস্তব ‘নেমসেক’-এর গল্প। যেখানে মায়ের স্বপ্নের পথ ধরে ছেলেই এখন এক নতুন ইতিহাসের নায়ক।
প্রসঙ্গত, মীরা নায়ারের জন্ম ভারতের ওড়িশাতে বাঙালি অধ্যুষিত শহর রাউরকেল্লাতে। আর তিনি বড় হয়েছেন ওই রাজ্যের রাজধানী ভুবনেশ্বরে। সেখানে জনসংখ্যার একটা বড় অংশ বাঙালি।
তাই তার জীবন ও কর্মে বাংলা ও বাঙালি বড় প্রভাব রেখেছে। ছেলে মামদানিকেও তিনি বাংলা ভাষা শিখিয়েছেন। পরিচয় করিয়েছেন বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গেও
মন্তব্য করুন
এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী এবং বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় এক কিশোরসহ দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
অপরদিকে গাজা শহরে তল্লাশি অভিযানের পর আরও তিন বন্দির মরদেহ হস্তান্তর করেছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস। এর আগে যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে আরও ৩০ ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দেয় ইসরায়েল। এদের মধ্যে অনেকের দেহেই নির্যাতনের চিহ্ন দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের মরদেহ ফেরত পাঠানো হয়।
অক্টোবরের শুরুর দিকে স্বাক্ষরিত বন্দি-বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে নিহত ফিলিস্তিনি বন্দিদের মরদেহ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সর্বশেষ হস্তান্তরের পর মোট মৃতদেহের সংখ্যা ২২৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
এতে বলা হয়েছে যে, মেডিকেল টিমগুলো স্ট্যান্ডার্ড প্রোটোকল অনুসারে মরদেহগুলো শনাক্ত করছে এবং নথিভুক্ত করার আগে পরিবারগুলোকে অবহিত করা হয়েছে।
বিভিন্ন চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, বন্দিদের মধ্যে অনেক মরদেহেই নির্যাতনের চিহ্ন ছিল, অনেকের চোখ বাঁধা এবং হাতকড়া পরানো ছিল। অনেকের দেহ পচে গেছে বা পুড়ে গেছে, আবার অন্যদের দেহে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা দাঁত নেই।
ইসরায়েল হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে কারাগারে আটকে রেখেছে। অনেকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের না করেই আটকে রাখা হয়েছে। ইসরায়েল তাদের কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের নির্যাতন করে বলে বছরের পর বছর ধরেই খবর প্রচলিত এবং গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তা আরও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধের জন্য চুক্তির আওতায় হামাস ২০ জন জীবিত বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে এবং এর বিনিময়ে ইসরায়েল প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী গাজার নগর কেন্দ্রগুলো থেকে আংশিক প্রত্যাহারও সম্পন্ন করেছে।
হামাসের হামলার জবাবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল। দখলদার বাহিনীর আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৬৮ হাজার ৮৫৮ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৬৪ জন আহত হয়েছে।
মন্তব্য করুন
ডিভি ২০২৬-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, এ বছর ডিভি লটারিতে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশ অংশ নিতে পারবে না। বাদ পড়ার তালিকায় রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোও। যুক্তরাষ্ট্রে এসব দেশ থেকে অভিবাসনের হার বেশি হওয়ায় তারা এবার আবেদন প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, এশিয়ার ৩১টি দেশ ও অঞ্চল ২০২৬ সালের ডিভি লটারিতে আবেদন করতে পারবে। এর মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, বাহরাইন, ভুটান, ব্রুনাই, বার্মা (মিয়ানমার), কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, জাপান, জর্ডান, কুয়েত, লাওস, লেবানন, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, উত্তর কোরিয়া, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, সিরিয়া, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, পূর্ব তিমুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেন।
ডিভি লটারি কী?
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর প্রতিবছর ‘ডাইভারসিটি ভিসা’ (ডিভি) প্রোগ্রামের মাধ্যমে সীমিতসংখ্যক অভিবাসন ভিসা প্রদান করে। কম হারে অভিবাসন হয়ে থাকে এমন দেশগুলোর নাগরিকরা এ কর্মসূচির আওতায় আবেদন করতে পারেন। প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পান।
বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক অভিবাসী পাঠানোর কারণে এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ফলে যারা ডিভি লটারির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আশা করেছিলেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাসটিতে মোট ৫৭ জন যাত্রী ছিলেন। বাসটি জয়সালমের থেকে যাত্রা শুরু করেছিল বিকেল ৩টার দিকে।
যাত্রাপথে জয়সালমের-যোধপুর হাইওয়েতে বাসের পেছনের অংশ থেকে হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। চালক সঙ্গে সঙ্গে বাসটি থামিয়ে দেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ও পথচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। খবর দেওয়া হয় দমকল ও পুলিশকে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, দুর্ঘটনায় পড়া বাসটি মাত্র পাঁচ দিন আগে কেনা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা মঙ্গলবার রাতেই জয়সালমেরে পৌঁছান এবং ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি পরিদর্শন করেন।
বাসে থাকা ১৫ জন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। অনেকের শরীরের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গেছে। তাদের প্রাথমিকভাবে জয়সালমেরের জওহর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যোধপুর পাঠানো হয়।
জয়সালমের জেলা প্রশাসন জানায়, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়। জেলা কালেক্টর প্রতাপ সিং আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি জারি করা হয় হেল্পলাইন নম্বর।
আহতদের দ্রুত স্থানান্তরের জন্য জাতীয় সড়ক ১২৫-তে তৈরি করা হয় ‘গ্রিন করিডোর’। পুলিশের সহায়তায় আটটি অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগীদের পাঠানো হয়। জেলা প্রশাসক নিশ্চিত করেছেন যে বাসটি পুরোপুরি পুড়ে গেছে এবং অনেক মরদেহ চেনার অযোগ্য হয়ে গেছে।
যোধপুর থেকে ডিএনএ ও ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে মরদেহ শনাক্তে সহায়তার জন্য। জেলা কালেক্টর বলেন, আহমেদাবাদের বিমান দুর্ঘটনার মতোই ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে এবং তারপরই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স-এ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পোস্ট করে বলা হয়েছে, রাজস্থানের জয়সালমেরে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় আমি মর্মাহত। এই দুঃসময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি আমার সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।
মন্তব্য করুন
এই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে চলতি সপ্তাহে কাবুলে পাকিস্তানের কথিত বিমান হামলার পর। এটি নিয়ে দুই দেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়েছে।
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আফগান বাহিনীর হামলার জবাবে তারা ভারী অস্ত্রে পাল্টা গুলি চালিয়েছেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনী আর্টিলারি, ট্যাংক, হালকা ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে নিশ্চিত করেছে সামরিক সূত্র।
পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেছেন, দেশের জনগণের জীবন রক্ষায় আমরা যা যা প্রয়োজন, তা করছি এবং করবো। আফগানিস্তানকে অনুরোধ করছি, যেন তাদের ভূখণ্ড পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে ব্যবহৃত না হয়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইমতিয়াজ গুল বলেন, গত কয়েক মাস ধরে টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) ঘাঁটিতে পাকিস্তানের ধারাবাহিক অভিযান এবং আফগান সরকারের নিষ্ক্রিয় অবস্থানের ফলে এই সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। পাকিস্তান অনেকদিন ধরেই ধৈর্য ধরে ছিল, কিন্তু এবার সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আফগানিস্তানের জবাব
সীমান্তে সংঘর্ষের জেরে পাকিস্তানকে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আফগান তালেবান। আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলার প্রতিশোধ নিতে আফগান বাহিনী ‘তীব্র সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে’ বলেও জানিয়েছে তারা।
শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত অভিযান চলেছে বলে জানিয়েছেন তালেবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এনায়াত খোয়ারাজম। তিনি বলেন, ‘অভিযান সফলভাবে শেষ হয়েছে, তবে যদি পাকিস্তান আবারও আমাদের ভূখণ্ডে হামলা চালায়, আমরা কঠোর জবাব দেবো’
কতদিন চলবে সংঘাত?
ওয়াশিংটনভিত্তিক দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেছেন, ‘সীমান্তে ক্রমবর্ধমান হামলা, পাকিস্তানের অস্বাভাবিকভাবে তীব্র পাল্টা অভিযান এবং তালেবানের প্রতিশোধমূলক হামলা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। আফগানিস্তান যেহেতু দৌরান্দ রেখাকে স্বীকৃতি দেয় না, তার সঙ্গে ভুয়া তথ্যের ছড়াছড়ি পুরো সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।’
তার মতে, তালেবান সরাসরি পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে মোকাবিলায় সক্ষম নয়। জনমতের চাপে তারা হয়তো কিছুদিন প্রতিশোধ নিতে পারে, তবে তা স্থায়ী হবে না।
২০২১ সালের পর থেকে আফগান ভূখণ্ডে প্রশিক্ষণ নেওয়া তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) পাকিস্তানে শত শত সেনা হত্যা করেছে বলে অভিযোগ ইসলামাবাদের। কাবুল সবসময় এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
কুগেলম্যান বলেন, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক হামলাগুলো টিটিপিকে আরও উসকে দিতে পারে। এর প্রতিশোধ নিতে গিয়ে তারা নতুন হামলা চালালে পাকিস্তান আবারও পাল্টা অভিযান শুরু করবে—এই সংঘাতচক্রই এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
মন্তব্য করুন
তবে সেনা প্রত্যাহার করা হলেও গাজার ৫০ শতাংশের বেশি এলাকা ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। গাজার বাসিন্দারা স্থানীয় সংবাদদাতাদের জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী গাজা সিটির উত্তর-পশ্চিম প্রান্ত থেকে পূর্ব দিকে সরে গিয়েছে।
এ বিষয়ে ইসরায়েলি গণমাধ্যমও নিশ্চিত করেছে যে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গাজা উপত্যকার কিছু অংশ থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সেনারা এমন স্থানে ফিরে যাবে যেখানে ইসরায়েলের গাজা উপত্যকার প্রায় ৫৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক পোস্টে বলেছেন, “একটি নির্ধারিত সীমারেখা পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার করা হবে। কোন কোন এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে তা নিয়ে গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউস একটি মানচিত্র প্রকাশ করে। এ মানচিত্রে হলুদ রেখা দিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের প্রাথমিক প্রত্যাহারের সীমারেখা দেখানো হয়েছিল।
তখনই জানানো হয়েছিল, এটি সেনা প্রত্যাহারের তিন ধাপের প্রথম ধাপ। ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার আহত হয়েছেন বলে তথ্য প্রকাশ করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
ইউনিসেফের তথ্য মতে, এ যুদ্ধে ২০ হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে ৪২ হাজারের বেশি শিশু; যাদের মধ্যে অন্তত ২১ হাজার শিশু স্থায়ীভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
মন্তব্য করুন
কমিটি জানিয়েছে, মাচাদোকে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে ভেনেজুয়েলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার অবিচল ও সাহসী ভূমিকা এবং স্বৈরশাসন থেকে ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তর ঘটানোর জন্য তার দীর্ঘ লড়াইয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ।
ঘোষণায় বলা হয়েছে, গণতন্ত্রের জন্য তার অবিচল সংগ্রাম ও অহিংস প্রতিরোধের মাধ্যমে মারিয়া কোরিনা মাচাদো শুধু ভেনেজুয়েলায় নয়, বরং সারা বিশ্বের গণতন্ত্রকামী জনগণের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছেন।
গত বছর (২০২৪) নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিল জাপানের অ্যান্টি-নিউক্লিয়ার সংগঠন নিহন হিদানকিয়ো, যা হিরোশিমা ও নাগাসাকির পরমাণু বোমা হামলার বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের এক তৃণমূল আন্দোলন।
এর আগে, ২০২৩ সালে শান্তিতে নোবেল পেয়েছিলেন ইরানের নার্গিস মোহাম্মাদি । ইরানি নারীদের নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই ও সবার জন্য মানবাধিকার ও স্বাধীনতার প্রচারের জন্য তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
২০২২ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান বেলারুশের মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী আলেস বিলিয়াতস্কি, রুশ মানবাধিকার সংস্থা মেমোরিয়াল ও ইউক্রেনীয় মানবাধিকার সংস্থা সেন্টার ফর সিভিল লিবার্টিজ।
২০২১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন ফিলিপাইনের সাংবাদিক মারিয়া রেসা এবং রাশিয়ার সাংবাদিক দিমিত্রি মুরাতভ। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য দুঃসাহসিক লড়াইয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি তিনবার শান্তিতে নোবেল পেয়েছে রেড ক্রস (১৯১৭, ১৯৪৪ ও ১৯৬৩ সালে)। এছাড়া জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর পেয়েছে দু’বার (১৯৫৪ ও ১৯৮১ সালে)।
মন্তব্য করুন
ট্রাম্পের আফগান ঘাঁটি দখলচেষ্টার বিরুদ্ধে বিরল ঐক্য দেখা গেলো এশীয় দেশগুলোর মধ্যে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাগরাম ঘাঁটি ফের দখলে নেওয়ার উদ্যোগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আফগানিস্তানের আঞ্চলিক প্রতিবেশীরা। এমনকি, এই বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ মত দিয়েছে ভারত-পাকিস্তানের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীরাও।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) মস্কো ফরম্যাট অব কনসালটেশন্স অন আফগানিস্তান-এর সদস্যরা এক যৌথ বিবৃতিতে ‘আফগানিস্তানকে স্বাধীন, ঐক্যবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত’ করেছে। তারা আরও উল্লেখ করেছে, কোনো দেশ যদি আফগানিস্তান বা তার প্রতিবেশী দেশে সামরিক অবকাঠামো স্থাপন করতে চায়, তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
কারণ এটি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে অবদান রাখে না। মস্কো ফরম্যাট অব কনসালটেশন্স অন আফগানিস্তান-এর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া, ইরান এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ট্রাম্প বছর পাঁচেক আগে আফগানিস্তানের বাগরাম ঘাঁটি তালেবানের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন, যা কাবুল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পথ সুগম করেছিল। তবে সম্প্রতি তিনি ঘাঁটিটি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এমনকি, বাগরাম ফেরত না পেলে ‘খারাপ কিছু ঘটবে’ বলে হুমকিও দিয়েছেন।
তবে তালেবান ট্রাম্পের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। বাগরাম ঘাঁটি চীনের সীমান্ত থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। উল্লেখ্য যে, মঙ্গলবারের বিবৃতিতে ভারতও সমর্থন জানিয়েছে, যা ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি সম্পর্কের অবনতির মধ্যে আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত বহন করে।
আগামী ৯ অক্টোবর থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুততাকি প্রথমবারের মতো নয়াদিল্লি সফর করতে যাচ্ছেন।
জাগোনিউজের খবর পেতে ফলো করুন আমাদের আফগানিস্তান কোনো বিদেশি সামরিক উপস্থিতি মেনে নেবে না। তিনি বলেন, আফগানিস্তান একটি স্বাধীন দেশ, এবং ইতিহাস জুড়ে বিদেশিদের সামরিক উপস্থিতি কখনো গ্রহণ করা হয়নি। আমাদের নীতি ও সিদ্ধান্ত আফগানিস্তানকে স্বাধীন রাখার জন্য অটল থাকবে।
মন্তব্য করুন
নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন আমিন সওদাগর, আরজু, রকি, বাবলু, শাহাবউদ্দিন, জুয়েল, রনি ও আলাউদ্দিন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওমানের দুকুম সিদরা এলাকার সাগর থেকে মাছ ধরে ফেরার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে প্রবাসীদের বহনকারী গাড়িটি। এসময় মাছবাহী একটি কনটেইনার ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে তাদের গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই আটজন নিহত হন।
ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাসের সচিব (শ্রম) আসাদুল হক গণমাধ্যমকে জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৮ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। এ ঘটনায় চালক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত চালককে উদ্ধার করে নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছেন।
বর্তমানে মরদেহগুলো মর্গে রাখা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ বাংলাদেশে পরিবারের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মংচিংনু মারমা জানান, ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় সন্দ্বীপ উপজেলার সাতজন প্রবাসী নিহত হওয়ার বিষয়টি শুনেছি। বিস্তারিত জানতে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
রিম আবু উদ্দাহ; ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞের মধ্যে বিরল সাহস ও ঈমানি দৃঢ়তার এক অনন্য নজির স্থাপন করা এক ফিলিস্তিনি কিশোরী। ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক বোমাবর্ষণে গুরুতর আহত হয়েও হাসপাতালের বিছানায় থাকা অবস্থাতেই পুরো কোরআন হিফজ (মুখস্ত) করেছে সে।
তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা সত্ত্বেও অবিচল অধ্যবসায় পবিত্র কোরআনের পথে জয়ী করেছে তাকে। শনিবার (৪ অক্টোবর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে অসাধারণ এ গল্প।
হাসপাতালে শয্যাশায়ী রিম আল জাজিরাকে জানান, পবিত্র কোরআন মুখস্থ করার পথটি একইসঙ্গে সুন্দর ও কঠিন ছিল তার জন্য। রিম জানান, গত বছর ২৪ আগস্ট ছিল তার মায়ের মৃত্যুদিবস।
সেই দিনেই হিফজ সম্পন্ন করতে চেয়েছিল সে; কিন্তু তার দুই দিন আগেই, অর্থাৎ ২২ আগস্টের বিমান হামলায় গুরুতর আহত হয় সে। ইসরায়েলি বাহিনীর বোমার আঘাতে তার শরীরের একাধিক স্থানে শেলবিদ্ধ হয় এবং পেট জখম হয়।
তিনি আরও বলেন, আমি সেই এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিলাম, যাকে দখলদাররা নিরাপদ বলে ঘোষণা করেছিল। কিন্তু আমাদের পাশের তাঁবুতেই হামলা চালানো হয়। আল্লাহর অনুগ্রহে, প্রায় এক মাস চিকিৎসার সময় হাসপাতালেই আমি কুরআন মুখস্থ সম্পন্ন করি। আলহামদুলিল্লাহ,
আমি কুরআন মুখস্থ করেছি। রিমের বোন সাফা আবু উদ্দাহ জানান, রিম হাসপাতালে শয্যায় শুয়ে থেকেই কুরআন হিফজ শেষ করে। সে কোরআন তেলাওয়াত করতো, আর চিকিৎসকেরা তার অবিশ্বাস্য ধৈর্য ও মানসিক শক্তি দেখে রীতিমতো বিস্মিত হতেন। রিম তার বোন সাফাকে নিজের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ও জীবনের অবলম্বন বলে উল্লেখ করেছেন।
রিমের ভাষায়, এই ভয়াবহ যুদ্ধের পুরো সময় জুড়ে কোরআনই ছিল আমার ধৈর্য ও স্থিতিশীলতার প্রধান উৎস। কোরআন হিফজে এই অসাধারণ ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতিস্বরূপ গাজা শহরের হাবিব মুহাম্মদ সেন্টার-এর পক্ষ থেকে রিম আবু উদ্দাহকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
রিমের এই অর্জন গাজার ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও ঈমান, দৃঢ়তা আর শিক্ষার প্রতি ভালোবাসার এক জ্বলন্ত প্রতীক হিসেবে ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন
বিশ্বকাপের ঠিক আগে প্রকাশ্যে এলো এই টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল ম্যাচ বল— ‘ট্রাইওন্ডা’।
নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন পার্কে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে উন্মোচিত হয় বলটি।
ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফুটবল বিশ্বের পাঁচ কিংবদন্তি তারকা— জার্মানির ইয়ুরগেন ক্লিন্সম্যান, ব্রাজিলের কাফু, ইতালির দেল পিয়েরো, স্পেনের জাভি এবং ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান।
অনুষ্ঠানে জিদানের হাতে ছিল নতুন বল ‘ট্রাইওন্ডা’, আর অন্যদের হাতে ছিল তারা যে বছর বিশ্বকাপ জিতেছিলেন সেই বছরের অফিসিয়াল বল।
বলটি তৈরি করেছে ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস, যারা টানা ১৫তম বার বিশ্বকাপের বল তৈরি করল। ১৯৭০ সাল থেকে অ্যাডিডাসই বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল সরবরাহ করে আসছে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো জানিয়েছেন, ‘২০২৬ সালের বিশ্বকাপ বলের নকশায় তিন আয়োজক দেশ— আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো — কে একত্রে তুলে ধরা হয়েছে।’
‘ট্রাইওন্ডা’ নামের ‘ট্রাই’ শব্দটি এসেছে ‘তিন’ অর্থে এবং ‘ওন্ডা’ মানে ‘ঢেউ’। বলটিতে ব্যবহার করা হয়েছে তিনটি রং — লাল রং আমেরিকার প্রতীক, নীল রং কানাডার প্রতীক, সবুজ রং মেক্সিকোর প্রতীক।
বলটির নকশায় তিন দেশের প্রতীকও ফুটে উঠেছে— আমেরিকার তারা, কানাডার ম্যাপল লিফ এবং মেক্সিকোর ঈগল। ‘ট্রাইওন্ডা’তে রয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সেন্সর সিস্টেম, যা ভিএআর ব্যবস্থাকে আরও নিখুঁত করবে।
বলের ভেতরে থাকা সেন্সর ভিএআর-কে আরও নির্ভুল তথ্য দেবে, ফলে অফসাইড, গোল বা হ্যান্ডবলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে দ্রুত ও সহজভাবে।
ফিফার মতে, নতুন বলের গঠন ও লোগো খোদাই এমনভাবে করা হয়েছে যাতে গোলরক্ষকদের বল ধরতে কোনো সমস্যা না হয়। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন, আর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই।
তিন দেশের যৌথ আয়োজনে, নতুন প্রযুক্তি আর রঙিন বল ‘ট্রাইওন্ডা’— সব মিলিয়ে ফুটবল দুনিয়া অপেক্ষায় রয়েছে এক নতুন ইতিহাসের জন্মের।
মন্তব্য করুন
এ বছরের শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য, ‘শিক্ষকতা পেশা: মিলিত প্রচেষ্টার দীপ্তি’। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাবিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আজ বাংলাদেশেও এই দিবস উদযাপন হবে।
দিবসটি পালনের অংশ হিসেবে আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সকালে গুণী শিক্ষক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ১২ জন শিক্ষককে দেওয়া হবে সংবর্ধনা। এজন্য প্রাথমিকভাবে ৩৬ জন শিক্ষককে নির্বাচিত করা হয়েছিল।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাধ্যমিক, মাদরাসা, কারিগরি ও প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তাদের বাছাই করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ বছরের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের নীতিমালা অনুযায়ী, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ উদযাপন করা হবে।
এমতাবস্থায়, দিবসটি যথাযথভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ১৯৯৩ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ সভায় ৫ অক্টোবর দিনটিকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এরপর ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালন করা হয়। ১৯৯৫ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ পালন শুরু হয়। ইউনেস্কোর অনুমোদনে প্রতি বছর পৃথক প্রতিপাদ্যে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
মন্তব্য করুন
ভাগ্যবান বিজয়ীর নাম হারুন সরদার নূর নবি সরদার। ৪৪ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি ট্যাক্সিচালক বর্তমানে শারজাহ শহরে বসবাস করছেন। তিনি গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিজয়ী টিকিট কিনেছিলেন।
ড্র চলাকালে জনপ্রিয় দুই সঞ্চালক রিচার্ড ও বুচরা স্বর্ণালি ফোনে হারুনকে কল করে ২০ মিলিয়ন দিরহাম (প্রায় ৬৬ কোটি টাকা) জেতার সুসংবাদ জানান। এসময় জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার জেতার খবর শুনে তিনি বিস্মিত হয়ে যান এবং কেবল ‘ওকে, ওকে’ বলেন।
হারুন জানান, তিনি এই টিকিট ১০ জনের সঙ্গে মিলে কিনেছিলেন। তাই পুরস্কার ভাগ করে নেওয়া হবে সবার মধ্যে। তিনি ২০০৯ সাল থেকে আমিরাতে কাজ করছেন এবং গত ১৫ বছর ধরে আবুধাবিকে নিজের দ্বিতীয় ঘর বানিয়ে নিয়েছেন। পরিবার বাংলাদেশেই থাকে। নিয়মিতভাবে তিনি বিগ টিকিট কিনে আসছিলেন এবং কখনো আশাহত হননি।
বিগ টিকিট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অক্টোবর মাসে আরও বড় অফার থাকছে। আগামী ৩ নভেম্বরের ড্র-তে থাকছে ২ কোটি ৫০ লাখ দিরহামের গ্র্যান্ড প্রাইজ। এছাড়া প্রতি সপ্তাহে পাঁচজন বিজয়ী পাবেন ২৪ ক্যারেটের ২৫০ গ্রাম সোনার বার।
সূত্র: খালিজ টাইমস
মন্তব্য করুন
গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী গাজাজুড়ে একের পর এক বিমান হামলা ও আর্টিলারি শেলিং চালিয়েছে।
গাজার পশ্চিমে একটি ড্রোন হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন অনেকে। এ ছাড়া আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি তাঁবুতে হামলায় দুই শিশু নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, আল-মাওয়াসিকে ইসরায়েল তথাকথিত মানবিক নিরাপদ অঞ্চল ঘোষণা করেছিল। কিন্তু সেখানেও টানা হামলা চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে নুসেইরাত ক্যাম্প ও তুফাহ্ এলাকায়ও বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে এক কিশোরীও রয়েছে। এদিন গাজা নগরীর উত্তরে ফেরার চেষ্টা করা কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলি সেনারা গুলি করে হত্যা করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
নেতজারিম করিডর ঘেঁষে অবস্থান নিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী উত্তরাঞ্চলে ফেরত যাওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালাচ্ছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, উত্তর গাজা এখনো যুদ্ধক্ষেত্র এবং সেখানে ফিলিস্তিনিদের ফেরার অনুমতি নেই।
এর আগে, হামাস আংশিকভাবে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ করার পর ট্রাম্প ইসরায়েলকে গাজায় হামলা বন্ধ রাখতে বলেছিলেন।
ট্রাম্পের ঘোষিত প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্দি মুক্তি, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ধাপে ধাপে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। তবে ওই উদ্যোগ কার্যকর হওয়ার আগেই ফের হামলার ঘটনা ঘটলো।
সূত্র: আল-জাজিরা
মন্তব্য করুন
মার্কিন কংগ্রেস থেকে জানানো হয়েছে, এই অর্থায়ন চলমান অর্থবছরের মধ্যে দেওয়া হবে। লেবাননের মতো ছোট একটি দেশের জন্য এটি একটি বড় পদক্ষেপ।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন,যুক্তরাষ্ট্রের এ সহায়তা লেবাননের বাহিনীকে সমর্থন করে। যাতে তারা দেশজুড়ে লেবাননের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব পুরোপুরি কার্যকর করতে পারে।
লেবাননের এক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, এই সহায়তা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সামলাতে সক্ষম করবে, ফলে সেনাবাহিনীকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আরও কার্যকর হতে সাহায্য করবে।
মন্তব্য করুন
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) এ অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রন্ধীর জয়সওয়াল বলেন, আমরা এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার দেশটির আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে বারবার দায় চাপাচ্ছে।
জয়সওয়াল আরও বলেন, তাদের উচিত হবে আত্মসমালোচনা করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে স্থানীয় উগ্রপন্থিদের সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও ভূমি দখলের ঘটনাগুলো নিয়ে গুরুতর তদন্ত করা।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) অভিযোগ করে যে, কিছু গোষ্ঠী খাগড়াছড়ি জেলায় সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এই সহিংসতার সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেন।
উপদেষ্টা বলেন, দুর্গাপূজার উৎসবমুখর পরিবেশ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে খাগড়াছড়ির অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়েছে। একটা স্বার্থান্বেষী মহল অশান্তি তৈরি করতে চাইছে... তারা খাগড়াছড়ির ঘটনার পেছনে রয়েছে, মন্তব্য করেন তিনি। আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ‘সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা’ চালাচ্ছে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি জেলা সদরের সিঙ্গিনালা এলাকায় এক কিশোরীকে অচেতন করে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে সদর থানায় মামলা করেন। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর পুলিশ সন্দেহভাজন শয়ন শীলকে (১৯) গ্রেফতার করে।
এই মামলা কেন্দ্র করে খাগড়াছড়িকে অশান্ত করার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে জানা যায় ওই কিশোরী ধর্ষণের শিকারই হয়নি।
মেডিকেল রিপোর্টে ধর্ষণের কোনো আলামতই পাওয়া যায়নি। কিন্তু মেডিকেল রিপোর্ট হাতে আসার আগেই দুর্বৃত্তরা শত শত ঘরবাড়ি ও দোকানে ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ড ঘটায়।
মন্তব্য করুন
যুক্তরাজ্যের সঙ্গে কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের দেশ পর্তুগাল ও ফ্রান্সও ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। ইউরোপের আরও তিনটি দেশ স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও নরওয়ে গত বছরই এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ এরই মধ্যে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এদিকে, যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে ইসরায়েলি সরকার, জিম্মিদের পরিবার ও কিছু কনজারভেটিভ নেতা।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, এমন পদক্ষেপ ‘সন্ত্রাসকে পুরস্কৃত করার’ সমান।
তবে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রীরা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি শান্তির আশা টিকিয়ে রাখতে নৈতিক দায়িত্ব থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে গাজার পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তারা বলছে, গাজায় অনাহার ও সহিংসতার চিত্র ‘সহ্য করা যাচ্ছে না।
ইসরায়েলের সর্বশেষ স্থল অভিযানকে এক জাতিসংঘ কর্মকর্তা ‘মহাপ্রলয়সদৃশ’।
দখলদার বাহিনীর অভিযানে লাখ লাখ মানুষ গাজা সিটি থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে জাতিসংঘের এক তদন্ত কমিশন উপসংহার টানে যে, গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে।
ইসরায়েল এই প্রতিবেদনকে ‘বিকৃত ও মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ব্রিটিশ মন্ত্রীরা আরও বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের ক্রমাগত সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ ও এটাই তাদের এই সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস চলতি মাসের শুরুতে স্টারমারের সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাজ্যের স্বীকৃতির প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানান। দুই নেতা একমত হন যে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন শাসন ব্যবস্থায় হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না।
স্টারমার আগেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে সময়সীমা হিসেবে ঠিক করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যদি ইসরায়েল গাজার পরিস্থিতির অবসান, যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তির পথে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেয়, তবে যুক্তরাজ্য এই পদক্ষেপ নেবে।
তিনি বলেন, আমি সবসময়ই বলেছি, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে তখনই, যখন তা শান্তি প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় অবদান রাখবে। এখন যখন সেই সমাধান হুমকির মুখে, তখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।
মন্তব্য করুন
হামলার জন্য আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) দায়ী করা হয়েছে। তবে তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ওই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফ-এর মধ্যে ভয়াবহ সংঘাত চলছে। গত কয়েক সপ্তাহে আরএসএফ বড় ধরনের অগ্রগতি দেখিয়েছে এবং তারা এল-ফাশের পুরোপুরি দখলে নেওয়ার জন্য লড়াই করছে।
এই শহরটি দারফুরে সেনাবাহিনীর শেষ ঘাঁটি এবং এখানে এখনো তিন লাখের বেশি বেসামরিক মানুষ অবরুদ্ধ হয়ে আছেন।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, ভোরে ফজরের নামাজের সময় ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলে বহু মানুষ প্রাণ হারায়। চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ৭৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং প্রায় ২০ জন আহত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে লোকজনকে উদ্ধারে কাজ চলছে।
বিবিসি ভেরিফাই ফুটেজ নিশ্চিত করেছে যে, সেখানে প্রায় ৩০টি মরদেহ সাদা কাফনের কাপড় ও চাদরে মোড়ানো অবস্থায় মসজিদের পাশে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
চলতি সপ্তাহে আরএসএফ নতুন করে এল-ফাশেরে আক্রমণ চালিয়েছে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরের কাছেই অবস্থিত বাস্তুচ্যুত লোকজনের আশ্রয় নেওয়া আবু শৌক নামের একটি শিবিরেও ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যানিটারিয়ান রিসার্চ ল্যাবের (এইচআরএল) স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গেছে, ওই আশ্রয়কেন্দ্রের একটি বড় অংশ এখন আরএসএফ-এর নিয়ন্ত্রণে। এছাড়া ছবিতে দেখা গেছে, আরএসএফ সেনারা জয়েন্ট ফোর্সের সদর দপ্তরে প্রবেশ করেছে।
এই সদর দপ্তরটি একসময় জাতিসংঘ কম্পাউন্ড ছিল এবং এটি সেনাবাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষাকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিবিসি যাচাই করা ফুটেজে দেখা গেছে, আরএসএফ যোদ্ধারা এখন ওই কম্পাউন্ডের ভেতরে অবস্থান করছে, তবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। এই অগ্রগতি হলে এল-ফাশেরের বিমানবন্দর এবং সেনাবাহিনীর ডিভিশন সদর সরাসরি আরএসএফ-এর হামলার আওতায় চলে আসবে।
সুদানের বিশ্লেষক ও কর্মীরা আশঙ্কা করছেন, আরএসএফ শহরে থাকা বেসামরিকদের টার্গেট করতে পারে। শহরের অধিকাংশ বাসিন্দাই এমন জাতিগত গোষ্ঠীর সদস্য, যাদের আরএসএফ শত্রু হিসেবে দেখে।
শুক্রবার জাতিসংঘ এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলেছে, সংঘাত ক্রমশ জাতিগত রূপ নিচ্ছে। দুই পক্ষই পরস্পরের সমর্থক হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা চালাচ্ছে।
জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা নথিভুক্ত করেছে যে, আরএসএফ দখলকৃত এলাকায় অ-আরব সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে জাতিগত নিধন চালাচ্ছে।
তবে আরএসএফ এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে যে তারা কোনো ‘গোত্রীয় সংঘাতের’ সঙ্গে জড়িত নয়।
মন্তব্য করুন
বৈঠকে উপস্থিত একজন মন্ত্রীর বরাত দিয়ে কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, সোমবার বিক্ষোভকালে কাঠমান্ডুতে ১৭ জন এবং ইটাহরিতে দুজন নিহত হওয়ার পর নৈতিক দায় স্বীকার করে তিনি পদত্যাগ করেছেন।
এর আগে দিনের শুরুতে নেপালি কংগ্রেসের কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বৈঠকে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক গগন থাপা এবং বিশ্ব প্রকাশ শর্মা নৈতিক কারণে লেখকের পদত্যাগের দাবি জানান।
রমেশ লেখককে গত ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃত ও আহতদের মধ্যে অনেকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
এদিন বিক্ষোভকারীরা নির্দেশনা ভেঙে পার্লামেন্ট প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। এসময় পুলিশ জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এতে বহু বিক্ষোভকারী আহত হন।
নেপালের তরুণরা মূলত সরকারের দুর্নীতি ও ২৬টি অনিবন্ধিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম—যার মধ্যে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব ও স্ন্যাপচ্যাট রয়েছে—নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে।
সংঘর্ষের পর কাঠমান্ডু জেলা প্রশাসন শহরের বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি করেছে। এ বিক্ষোভ দেশের অন্যান্য বড় শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে।
মন্তব্য করুন
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আল জাজিরার আরও পাঁচ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। সাংবাদিকদের একটি আবাসস্থল লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে দখলদার বাহিনী।
এতে সাংবাদিক আনাস আল-শরিফ এবং তার চার সহকর্মী নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায় গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতালের প্রধান ফটকের বাইরে অবস্থিত তাঁবুতে হামলায় সাতজন নিহত হন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন আল জাজিরার সংবাদদাতা আনাস আল-শরিফ, মোহাম্মদ ক্রিকেহ এবং ক্যামেরা অপারেটর ইব্রাহিম জাহের, মোহাম্মদ নৌফাল এবং মোমেন আলিওয়া।
নিহত হওয়ার কিছুক্ষণ আগে ২৮ বছর বয়সী আল-শরীফ উত্তর গাজা থেকে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন ইসরায়েল গাজা শহরের পূর্ব এবং দক্ষিণ অংশে তীব্র বোমাবর্ষণ করছে। আল শরীফ আল জাজিরার একজন সুপরিচিত সাংবাদিক ছিলেন।
তার শেষ ভিডিওতে ইসরায়েলের তীব্র বোমাবর্ষণের বিকট শব্দ শোনা গেছে। সে সময় অন্ধকার আকাশ কমলা আলোর ঝলকানিতে আলোকিত হয়ে ওঠে।
যদি বেঁচে না থাকেন তবে তার মৃত্যুর পর যেন প্রকাশিত হয় এমন একটি বার্তায় আল শরীফ লিখেছেন, তিনি প্রচণ্ড যন্ত্রণার মধ্যে বেঁচে ছিলেন। বার বার আঘাত ও ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে।
তিনি ওই বার্তায় লিখে গেছেন, সবকিছুর পরেও আমি সত্যকে যেমন আছে তেমনভাবে প্রকাশ করতে কখনও দ্বিধা করিনি, বিকৃতি বা ভুল কোনো তথ্য উপস্থাপন করিনি।
এই আশায় যে আল্লাহ তাদের সাক্ষী থাকবেন যারা নীরব ছিলেন, যারা আমাদের হত্যা মেনে নিয়েছিলেন এবং যারা আমাদের নিঃশ্বাস রোধ করেছে।
আমাদের শিশু ও নারীদের ছিন্নভিন্ন দেহও তাদের হৃদয়কে নাড়া দেয়নি বা দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের জনগণ যে গণহত্যার শিকার হচ্ছে তারা সেটা থামাতে পারেনি।
স্ত্রী বায়ানকে ছেড়ে যেতে হবে এবং ছেলে সালাহ ও মেয়ে শামের বড় হওয়া দেখে যেতে পারবেন না বলেও দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন আনাস আল-শরিফ।
এক বিবৃতিতে আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক এই হত্যাকাণ্ডকে ‘সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আরেকটি স্পষ্ট এবং পূর্বপরিকল্পিত আক্রমণ’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।
গাজার অন্যতম সাহসী সাংবাদিক আনাস আল শরীফ এবং তার সহকর্মীদের হত্যার নির্দেশ, গাজার আসন্ন দখল এবং দখলদারিত্বের বিষয়টি প্রকাশকারী কণ্ঠস্বরকে নীরব করার একটি মরিয়া প্রচেষ্টা বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই চলমান গণহত্যা বন্ধে এবং সাংবাদিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা বন্ধ করার জন্য সিদ্ধান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং সকল প্রাসঙ্গিক সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আল জাজিরা।
আল জাজিরা জোর দিয়ে বলছে যে অপরাধীদের জন্য দায়মুক্তি এবং জবাবদিহিতার অভাব ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করছে এবং সত্যের বিরুদ্ধে আরও নিপীড়নকে উৎসাহিত করছে।
আল জাজিরার সংবাদদাতা হানি মাহমুদ, হামলার সময় মাত্র এক ব্লক দূরে ছিলেন। তিনি বলেন, গত ২২ মাসের যুদ্ধে আল-শরীফের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করা তার জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিল।
নেটওয়ার্কের ইংরেজি চ্যানেলে কর্মরত মাহমুদ বলেন, গাজায় ফিলিস্তিনিদের দুর্ভিক্ষ, দুর্ভিক্ষ এবং অপুষ্টির ওপর নিরলসভাবে প্রতিবেদন করার কারণে সাংবাদিকদের হত্যা করা হয়েছে, কারণ তারা এই অপরাধের সত্যতা সকলের কাছে তুলে ধরছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল গাজায় আক্রমণ চালানোর পর থেকে নিয়মিতভাবে গাজার ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের হামাসের সদস্য বলে অভিযুক্ত করে আসছে এবং তাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজায় এখন পর্যন্ত ২০০ জনেরও বেশি সাংবাদিক এবং মিডিয়া কর্মীকে হত্যা করেছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকজন আল জাজিরার সাংবাদিক এবং তাদের আত্মীয়স্বজনও রয়েছেন।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন