প্রিন্ট এর তারিখঃ Feb 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 15, 2026 ইং
ভারতকেই বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিতে হবে: ভারতীয় বিশ্লেষকদের মত

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস জয়ের পর দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। দিল্লি অভিনন্দন বার্তা পাঠালেও দুই দেশের সম্পর্ক এখনো আস্থার ঘাটতিতে ভুগছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গত ডিসেম্বরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেই বৈঠককে অনেকেই ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
সম্পর্কের টানাপোড়েন
২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর থেকে ঢাকা–দিল্লি সম্পর্ক ক্রমেই জটিল হয়েছে। সীমান্ত হত্যা, পানি বণ্টন, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা এবং রাজনৈতিক বক্তব্য—এসব ইস্যুতে পুরোনো ক্ষোভ সামনে এসেছে। ভিসা সেবা সীমিত হওয়া, স্থলপথে যোগাযোগ কমে যাওয়া এবং সরাসরি ফ্লাইট হ্রাস—এসব বিষয়ও সম্পর্কের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
ভারতের কিছু রাজনৈতিক মহল ও টেলিভিশন বিতর্কে বাংলাদেশ নিয়ে উসকানিমূলক মন্তব্য ঢাকায় অসন্তোষ তৈরি করেছে।
তবে বাস্তবতা বলছে, দুই দেশ একে অপরের জন্য অপরিহার্য। ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত, নিরাপত্তা সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক সংযোগ—এসব বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয়। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ভারতের অন্যতম বড় বাণিজ্য অংশীদার; অন্যদিকে এশিয়ায় বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার ভারত।
প্রথম পদক্ষেপ কার?
ভারতের ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি-এর আন্তর্জাতিক বিষয়ক অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, বড় প্রতিবেশী হিসেবে ভারতেরই উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তার মতে, বাংলাদেশ শক্তিশালী নির্বাচন সম্পন্ন করেছে; এখন সহযোগিতার ক্ষেত্র খুঁজে বের করে সংলাপ শুরু করা দরকার।
অন্যদিকে, লন্ডনের এসওএএস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন-এর রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক অবিনাশ পালিওয়াল মনে করেন, বিএনপির সঙ্গে ভারতের অতীত সম্পর্ক জটিল ছিল। তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমান অতীতকে ভবিষ্যতের বাধা হতে দেননি—এটি রাজনৈতিক পরিপক্বতার লক্ষণ।
তার মতে, ভবিষ্যতের ‘নতুন স্বাভাবিকতা’ নির্ভর করবে—ঢাকার নতুন নেতৃত্ব কতটা ভারতবিরোধী মনোভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে এবং দিল্লি কতটা উত্তেজনাপূর্ণ বার্তা কমাতে সক্ষম হয় তার ওপর। অন্যথায় সম্পর্ক ‘নিয়ন্ত্রিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা’র পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বিসিএন চ্যানেল