প্রিন্ট এর তারিখঃ Feb 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 1, 2026 ইং
ইরানে সরকার পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে ইসরায়েল | বিবিসি এক্সপ্লেইনার

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বাড়ানো নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, তখন আশ্চর্যজনকভাবে নীরব অবস্থান নিয়েছে ইসরায়েল। ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সমর্থন জানানো ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলেননি, নীরব থেকেছে তার সরকারও।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরবতাই আসলে ইসরায়েলের কৌশল। ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যানি সিত্রিনোভিচ বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সামরিক উপস্থিতি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নেতানিয়াহুর কাছে একটি ‘সুবর্ণ সুযোগ’।
ইসরায়েলের আরেক সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা আসাফ কোহেনের মতে, ইসরায়েল এবার চায় যুক্তরাষ্ট্রই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিক। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা বেশি এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাও শক্তিশালী।
ইসরায়েলের নীরবতার অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ। সম্প্রতি ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা প্রধান ওয়াশিংটনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে ইরানের সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তু নিয়েও আলোচনা হয়।
ইসরায়েলের ধারণা, তেহরানে সরকার পরিবর্তন হলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি ও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আশঙ্কা অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি দুর্বল হবে হিজবুল্লাহসহ ইরান-সমর্থিত আঞ্চলিক মিলিশিয়াগুলো।
তবে ঝুঁকিও কম নয়। অতীতে সংঘাতে ইরান শত শত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার কিছু ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করে প্রাণহানির কারণ হয়েছে। নতুন সংঘর্ষ হলে পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ, আঞ্চলিক প্রভাব হ্রাস এবং সামরিক দুর্বলতার মধ্যে রয়েছে—যা অনেকের চোখে একবার আসা সুযোগ। তবে সরকার পতনের পর কী হবে, কে ক্ষমতায় আসবে—তা অনিশ্চিত।
সবশেষে সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর। এই অনিশ্চয়তাই ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ও হিসাবের জায়গা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বিসিএন চ্যানেল