
রাতের শেষ প্রহর—নীরবতা, অন্ধকার আর সিজদায় ভেজা চোখ। অনেকেই নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়ছেন, কান্না করছেন, দোয়া করছেন। তবুও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—কেন আসমান থেকে ফয়সালা আসছে না?
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, মহান আল্লাহ রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেন:
“কে আছো বিপদগ্রস্ত? আমি তাকে উদ্ধার করবো। কে আছো অভাবী? আমি তাকে দান করবো।”
(সহীহ বুখারী)
তাহলে সমস্যা কোথায়?
ইসলামি স্কলারদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কিছু গুনাহ এমন আছে যা দোয়া কবুলের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
১️⃣ অবৈধ সম্পর্ক (জেনা) — গোপন আগুন
বর্তমান সময়ে “হারাম রিলেশন” বা বিয়ের আগে প্রেমকে অনেকেই হালকা করে দেখেন। অথচ ইসলাম স্পষ্টভাবে জেনার কাছেও যেতে নিষেধ করেছে।
📌 বিয়ের আগে অপ্রয়োজনীয় কথা, দেখা-সাক্ষাৎ, গোপন চ্যাট—সবই জেনার অন্তর্ভুক্ত।
📌 হারাম সম্পর্কে লিপ্ত থেকে সেই মানুষটিকে পাওয়ার জন্য তাহাজ্জুদে কান্না করা—এটি আত্মপ্রবঞ্চনা।
জেনা শুধু একটি পাপ নয়—এটি দোয়ার কবুলিয়তের বড় বাধা।
২️⃣ হক্কুল ইবাদ — মানুষের হক নষ্ট করা
কারও টাকা আত্মসাৎ করা, ব্যবসায় প্রতারণা, সুদ, চাঁদাবাজি, কারও মনে কষ্ট দেওয়া—এসব গুনাহ সরাসরি মানুষের হকের সাথে জড়িত।
হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তাঁর হক ক্ষমা করতে পারেন, কিন্তু বান্দার হক তখনই ক্ষমা হয় যখন সেই ব্যক্তি ক্ষমা করে।
আপনি যদি কারও হক মেরে সিজদায় পড়েন—সেই দোয়া কবুল হবে না যতক্ষণ না হক ফিরিয়ে দিচ্ছেন।
🔎 দোয়া কবুল না হওয়ার আরও কিছু কারণ (সংযোজন)
✔ হারাম উপার্জন
✔ গিবত ও অপবাদ
✔ নামাজে অবহেলা
✔ পিতা-মাতার অবাধ্যতা
✔ দোয়ার সময় তাড়াহুড়া করা
রাসূল ﷺ সতর্ক করেছেন—হারাম খাদ্য ও হারাম উপার্জন দোয়ার কবুলিয়ত বন্ধ করে দেয়।
🌿 মুক্তির উপায়
✅ খাঁটি তওবা
সত্যিকারের অনুশোচনা, গুনাহ পরিত্যাগ, পুনরায় না ফেরার দৃঢ় সংকল্প।
✅ হক আদায়
যার হক নষ্ট করেছেন, ফিরিয়ে দিন। সম্ভব হলে সরাসরি ক্ষমা চান।
✅ দান-সদকাহ
দান আল্লাহর গজব নিবারণ করে।
✅ ধৈর্য
তওবার পর ধৈর্য ধরুন। আল্লাহ সবরকারীদের ভালোবাসেন।
আজ যদি আপনি হারাম পথ ছেড়ে দেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ আপনার দোয়া বিফল যাবে না।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে প্রকাশ্য ও গোপন গুনাহ থেকে হেফাজত করুন। আমীন।