প্রিন্ট এর তারিখঃ Feb 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 26, 2026 ইং
প্যারোল কী, কে দেন অনুমতি—কী বলছে আইন | বাংলাদেশে প্যারোল নীতিমালা ২০১৬

প্যারোল কী, কে দেন অনুমতি—কী বলছে আইন
নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদন নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
জুয়েলের বাড়ি বাগেরহাটে হলেও তিনি বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। স্ত্রী ও সন্তানের জানাজায় অংশ নিতে না পারায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
আইনের ভাষায়, প্যারোল বলতে শর্তসাপেক্ষে সাময়িক মুক্তি বোঝায়। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এবং কিছু শর্তের ভিত্তিতে কোনো বন্দিকে কারাগার থেকে বাইরে থাকার অনুমতি দেওয়াই হলো প্যারোল।
প্যারোলের আইনগত ভিত্তি
বাংলাদেশে প্যারোল সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ প্যারোল নীতিমালা প্রণীত হয় ১ জুন ২০১৬ সালে, যা বর্তমানে কার্যকর রয়েছে।
প্যারোলের অনুমতি কে দেন
নীতিমালা অনুযায়ী, কারাবন্দিকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক (জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) এর হাতে।
কারা কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে সরাসরি কোনো অনুমোদন ক্ষমতা নেই।
কখন প্যারোল পাওয়া যায়
প্যারোল দেওয়া যায় যদি—
মা-বাবা
স্বামী-স্ত্রী
সন্তান
ভাই-বোন
শ্বশুর-শাশুড়ি
মারা যান বা গুরুতর অসুস্থ হন।
এছাড়া আদালতের আদেশ বা সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্তেও প্যারোল দেওয়া যেতে পারে।
কত সময়ের জন্য প্যারোল দেওয়া হয়
নীতিমালা অনুযায়ী, প্যারোলে মুক্তির সময়সীমা সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা।
নিরাপত্তা ও দূরত্ব বিবেচনায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সময় নির্ধারণ করেন।
প্যারোলে মুক্ত বন্দির নিরাপত্তা
প্যারোলে মুক্ত বন্দিকে সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারায় রাখা হয়।
কারা কর্তৃপক্ষ বন্দিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে এবং সময় শেষে পুলিশ পুনরায় কারাগারে ফেরত দেয়।
জুয়েল সাদ্দাম প্রসঙ্গ
জুয়েলের স্বজনরা দাবি করেছেন, স্ত্রী ও সন্তানের জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলের আবেদন করা হয়েছিল। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা পড়েনি।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক মো. জান্নাত-উল ফরহাদ জানিয়েছেন, প্যারোল অনুমোদনের ক্ষমতা শুধু জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের, কারা কর্তৃপক্ষের নয়।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বিসিএন চ্যানেল