ঢাকার বনানীর বাসিন্দা ইফতেখার হোসেন পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসার প্রয়োজনে মাসে একাধিকবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আকাশপথে যাতায়াত করতে হয় তাকে। সাম্প্রতিক সময়ে তার ভ্রমণের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো বিমানের নিয়মিত যাত্রীদের জন্য চালু করা বিশেষ ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লায়ার প্রোগ্রাম—‘বিমান লয়্যালটি ক্লাব’।
ইফতেখার হোসেন জানান, বিমানের লয়্যালটি ক্লাবের সদস্য হওয়ার পর প্রতিটি ভ্রমণের বিপরীতে তার অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট পরিমাণ মাইল বা পয়েন্ট জমা হয়। পরবর্তীতে এই মাইল ব্যবহার করে ফ্রি টিকিট, কেবিন আপগ্রেড, অতিরিক্ত ব্যাগেজ সুবিধা কিংবা লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যায়। তার মতে, নিয়মিত ভ্রমণকারীদের জন্য এই প্রোগ্রাম দীর্ঘমেয়াদে ভ্রমণকে করে তোলে আরও সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক।
কী বিমান লয়্যালটি ক্লাব
বিশ্বের বড় বড় এয়ারলাইন্সের আদলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০১৩ সালের নভেম্বরে চালু করে এই ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লায়ার প্রোগ্রাম। এর মূল লক্ষ্য নিয়মিত যাত্রীদের আনুগত্যের স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করা। একই এয়ারলাইন্সে বারবার ভ্রমণের মাধ্যমে যাত্রীরা মাইল অর্জন করেন, যা পরবর্তী ভ্রমণে নানাভাবে ব্যবহার করা যায়।
সদস্য হওয়া সহজ ও বিনামূল্যে
বিমান লয়্যালটি ক্লাবের সদস্যপদ গ্রহণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। দুই বছর বা তার বেশি বয়সী যে কেউ আলাদা ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে এই ক্লাবে যুক্ত হতে পারেন। নিবন্ধনের পর সদস্যদের একটি ডিজিটাল মেম্বারশিপ কার্ড প্রদান করা হয়।
মাইল অর্জন ও ব্যবহার
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে প্রতিবার ভ্রমণের সময় ফ্লাইটের দূরত্ব ও ভ্রমণ শ্রেণি অনুযায়ী সদস্যদের অ্যাকাউন্টে মাইল যোগ হয়। টিকিট বুকিং বা চেক-ইনের সময় মেম্বারশিপ নম্বর উল্লেখ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাইল জমা হয়, যা সাধারণত সাত কার্যদিবসের মধ্যে অ্যাকাউন্টে যুক্ত হয়। এই মাইল দুই বছর পর্যন্ত বৈধ থাকে।
জমানো মাইল ব্যবহার করে যাত্রীরা ফ্রি রিওয়ার্ড টিকিট, ইকোনমি থেকে বিজনেস ক্লাসে আপগ্রেড, অতিরিক্ত ব্যাগেজ সুবিধা কিংবা লাউঞ্জ অ্যাক্সেস নিতে পারেন।
তিন স্তরের সদস্যপদ
বিমান লয়্যালটি ক্লাবের সদস্যদের তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে—গ্রিন, সিলভার ও গোল্ড।
গ্রিন মেম্বার: সব সদস্যের জন্য প্রাথমিক স্তর। মাইল অর্জন ও ব্যবহারসহ নানা অফার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সিলভার মেম্বার: বছরে ৫০ হাজার মাইল ভ্রমণ করলে এই স্ট্যাটাস পাওয়া যায়। এতে ১০ শতাংশ বোনাস মাইল, অতিরিক্ত ব্যাগেজ ও লাউঞ্জ সুবিধা যুক্ত হয়।
গোল্ড মেম্বার: বছরে ৭৫ হাজার মাইল ভ্রমণকারী সদস্যরা পান সর্বোচ্চ এই স্ট্যাটাস। এতে ২০ শতাংশ বোনাস মাইল, ২০ কেজি অতিরিক্ত ব্যাগেজ, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা ও লাউঞ্জ অ্যাক্সেসের মতো এলিট সুবিধা থাকে।
যাত্রীদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে বিমানের উদ্যোগ
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা জানান, নিয়মিত যাত্রীদের ভ্রমণকে আরও আনন্দদায়ক ও মূল্যবান করে তুলতেই এই প্রোগ্রামটি পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে লয়্যালটি ক্লাবের সেবার পরিসর ও সদস্যসংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বর্তমানে বিমান লয়্যালটি ক্লাবের সদস্য সংখ্যা প্রায় এক লাখ ১৫ হাজার। এর মধ্যে গোল্ড সদস্য এক হাজারের বেশি এবং সিলভার সদস্য কয়েক শতাধিক।
নিয়মিত আকাশপথে যাতায়াতকারীদের জন্য বিমান লয়্যালটি ক্লাব তাই কেবল একটি রিওয়ার্ড প্রোগ্রাম নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি ভ্রমণ-সহচর হয়ে উঠছে।
#BimanBangladeshAirlines
#BimanLoyaltyClub
#FrequentFlyerProgram
#BangladeshAirlines
#AirTravelBangladesh
#BusinessTravel
#TravelNewsBangla
#AviationNews
#BCNChannel
#BangladeshNews
#AirlinesLoyalty
#SmartTravel
#TravelBenefits
#FlyWithBiman
মন্তব্য করুন
নরসিংদীতে পুনরায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল সোয়া ৬টায় অনুভূত ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী। ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১ রিখটার।
১৩ দিনের ব্যবধানে নরসিংদীতে পঞ্চমবারের মতো ভূমিকম্প হওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়ে গেছে কয়েকগুন। তবে বড় ধরনের কোনো ক্ষতির খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত মাসের ২১ তারিখে হওয়া ভূমিকম্পে নরসিংদীতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক। ক্ষতিগ্রস্ত হয় শতাধিক সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালে আমরা সবাই ঘুমের মধ্যে ছিলাম। হঠাৎ ঘরের খাট আসবাবপত্রসহ ঘর কাঁপছিল। পরপর কয়েকবার কেঁপে ওঠার পর বুঝতে পারলাম ভূমিকম্প হচ্ছে। আতঙ্কিত হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসি।
তিনি আরও বলেন, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদী। এরই মধ্যে পরপর কয়েকবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে তাই আমাদের মধ্যে আতঙ্কের পরিমাণটা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
অপর বাসিন্দা শুভ্রজিত বলেন, যেভাবে নরসিংদীতে পরপর ভূমিকম্প হচ্ছে, তাতে আমরা ট্রমাটাইজ হয়ে যাচ্ছি। অনেকটাই হতভম্বের মতো। কি করব বুঝতে পারছি না।
স্বপন মিয়া নামে এক বাসিন্দা জানায়, ভূমিকম্পের সময় ঘুমের মধ্যে ছিলাম। তাই তখন ততটা বুঝতে পারিনি। এখন ভয় হচ্ছে ।
বারবার ভূমিকম্পের পর কী অবস্থা হবে নরসিংদীসহ আমাদের দেশের।
এ বিষয়ে কথা বলতে নার্স দিয়া আবহাওয়া অফিসে যোগাযোগের শ্রেষ্টা করা হলে তাদেরকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন
একই সঙ্গে প্রবাসীদের জন্য কর-ছাড় সুবিধাও নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব প্রবাসীর বিএমইটি (জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো) নিবন্ধন কার্ড রয়েছে, তারা দেশে ফেরার সময় ট্যাক্স ছাড়াই তিনটি ফোন আনতে পারবেন—নিজের ব্যবহারের ফোনসহ অতিরিক্ত দুটি নতুন হ্যান্ডসেট।
আর যাদের বিএমইটি কার্ড নেই, তারা নিজের ব্যবহারের ফোনের পাশাপাশি একটি অতিরিক্ত হ্যান্ডসেট ট্যাক্স দিয়ে আনতে পারবেন।
গত সোমবার (১ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এর সচিবালয়ে এনইআইআর কার্যকর ও মোবাইল আমদানির শুল্ক হ্রাস সংক্রান্ত একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। সভায় স্মার্টফোনের বৈধ আমদানির শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমানোসহ দেশের মোবাইল কারখানায় উৎপাদিত হ্যান্ডসেটের ওপর আরোপিত ভ্যাট-ট্যাক্স হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিটিআরসি জানিয়েছে, বর্তমানে বৈধ পথে মোবাইল আমদানিতে মোট শুল্কহার ৬১ শতাংশের মতো। এই উচ্চ শুল্ক কমালে বৈধ আমদানি বাড়বে এবং মোবাইলের বাজারদরও কমে আসবে।
নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উঠে আসে, শুধু আমদানির শুল্ক কমালে চলবে না—দেশে থাকা ১৩ থেকে ১৪টি মোবাইল উৎপাদনকারী কারখানার ওপর আরোপিত শুল্ক-ভ্যাটও যৌক্তিকভাবে কমানো প্রয়োজন।
অন্যথায় বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে বিটিআরসি, এনবিআর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আলোচনাও চলছে। মন্ত্রণালয় আশা করছে, শিগগিরই ডিভাইস ইন্ডাস্ট্রির জন্য অনুকূল সিদ্ধান্ত আসবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশ থেকে ফোন আনার ক্ষেত্রে ভ্রমণকারীদের মোবাইল কেনার বৈধ চালান সঙ্গে রাখতেই হবে। কারণ বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরা প্রবাসীদের চোরাচালান চক্র চাপ প্রয়োগ করে স্বর্ণ ও দামি ফোন শুল্ক ছাড়া বহনে ব্যবহার করছে।
একই সঙ্গে দেশে ব্যবহারের অযোগ্য পুরোনো বিদেশি মোবাইলের ‘ডাম্পিং’ বন্ধে কঠোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেসিং পরিবর্তন করে রিফারবিশড বা ইলেকট্রনিক বর্জ্য ঢোকানোর প্রবণতা ঠেকাতে বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। ভারত, থাইল্যান্ড ও চীন থেকে আগত ফ্লাইটগুলো চিহ্নিত করে কাস্টমস শিগগিরই অভিযান চালাবে।
এ ছাড়া ক্লোন ফোন, চুরি-ছিনতাইকৃত ফোন ও রিফারবিশড হ্যান্ডসেট আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাজারে অবৈধভাবে আমদানি করা—কিন্তু বৈধ আইএমইআই–যুক্ত—হ্যান্ডসেটগুলোর তালিকা বিটিআরসিতে জমা দিলে হ্রাসকৃত শুল্কে সেগুলো বৈধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে এনবিআরের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে ক্লোন ও রিফারবিশড ফোনকে কোনোভাবেই এই সুবিধার আওতায় আনা হবে না।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এনইআইআর চালু হলে ১৬ ডিসেম্বরের আগে সচল থাকা কোনো হ্যান্ডসেট বন্ধ হবে না। এ বিষয়ে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে এবং সচেতন থাকতে দেশবাসীকে অনুরোধ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
এখনও কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানান, কম্পন খুব বেশি ছিল না এবং স্থায়িত্ব ছিল কয়েক সেকেন্ড। অনেকেই ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। রাতের ঘটনায় এলাকায় কিছুটা আতঙ্ক তৈরি হয়।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) তাদের ওয়েবসাইটে জানায়, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.৯।
সংস্থার তথ্যে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের নাচুয়াংয়ে।
একই তথ্য দিয়েছে ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিকাল সার্ভে- ইউএসজিএসও। মিয়ানমারে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পে চট্টগ্রামও কেঁপেছে।
শেষ কিছু দিনে এটি নিয়ে অষ্টমবারের মতো ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বাংলাদেশে। শুরু হয়েছিল গত ২১ নভেম্বর শুক্রবার। সেদিন নরসিংদীতে ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে পুরো দেশ। এরপর থেকে টানা মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েই চলেছে।
মন্তব্য করুন
বুধবার সকালে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, মালাক্কা প্রণালী ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থারত নিম্নচাপটি আরও ঘণীভূত হয়ে প্রথমে গভীর নিম্নচাপ ও পরবর্তীতে ঘূর্ণিঝড় সেনিয়ারে পরিণত হয়ে বুধবার সকাল ৬টায় একই এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন শ্রীলঙ্কা উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত আরেকটি লঘুচাপ ঘনীভূত ও সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।
এটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।
মন্তব্য করুন
এবার অনলাইনে জুয়ায় জড়ালে সেই ব্যক্তির মোবাইল নম্বর চিহ্নিত করে তাতে ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়ার পথে হাঁটছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি কেউ অনলাইন বেটিংয়ে বিকাশের মাধ্যমে পেমেন্ট করলে তার বিকাশ নম্বরটিও বন্ধ করে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ‘অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক এক সভায় অংশ নিয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির কর্মকর্তা এবং বিকাশ, পেমেন্ট সিস্টেম এজেন্সির প্রতিনিধিরা এসব তথ্য জানান। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি সভাকক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, অনলাইন জুয়ায় জড়িত প্রায় ৫ হাজার এমএফএস (মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস) হিসাব এরই মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সরকার এখন একটি কমন ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, প্ল্যাটফর্ম ও অপারেটরদের সমন্বয়ে তথ্য সংরক্ষণ ও নজরদারি করা হবে।
বিশেষ সহকারী বলেন, যারা অনলাইন বেটিংয়ে জড়িত, তাদের ফোন নম্বরের ইন্টারনেট গতি সীমিত করার বিষয়টি বিবেচনাধীন। এছাড়া সিম ও এমএফএসের ইকে-ওয়াইসি সমন্বয়ে দ্রুততম সময়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করা হবে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও বলেন, দেশকে অনলাইন জুয়া থেকে মুক্ত করতে হলে জুয়ার চক্রের সুডো সদস্যদের চিহ্নিত করা, ট্রাফিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে লিংক স্লো করা এবং যে নম্বর বা এমএফএস অ্যাকাউন্ট থেকে লেনদেন হয়; সেগুলো পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যাচাইয়ের পর এসব অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হবে। তবে ন্যায্যতা ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
সভায় অংশ নিয়ে বিকাশের একজন প্রতিনিধি জানান, জুয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত দুই সপ্তাহে ৩৯৭টি মোবাইল নম্বর বন্ধ করা হয়েছে এবং এখন ক্রলিং ইঞ্জিন ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইন ট্র্যাকিং প্রক্রিয়া উন্নয়ন করা হচ্ছে।
পেমেন্ট সিস্টেম এজেন্সির আরেক প্রতিনিধি জানান, সিম, মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সমন্বয় করা গেলে অনলাইন জুয়ার সমস্যা অনেকাংশে সমাধান সম্ভব।
এদিকে সভায় প্রস্তাব করা হয়, অনলাইন স্ক্যাম ও জুয়া প্রতিরোধে মাদক অধিদপ্তরের মতো একটি বিশেষ সংস্থা গঠন এবং ক্রস-ডোমেইন মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
অনলাইন জুয়া বন্ধে করণীয় ঠিক করতে মোবাইল অপারেটর, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার, আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে সার্ভিস, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বরের পর সিম সংখ্যা ১০টিতে সীমিত করলে জুয়া প্রতিরোধে এটি সহায়ক হবে। একই সঙ্গে যারা জুয়া খেলছেন, তাদের শনাক্ত করাও জরুরি।
মন্তব্য করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক, BCN Channel
বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি এবার নতুন এক যুগে প্রবেশ করছে। শুধু তথ্য জানানো বা প্রশ্নের উত্তর দেওয়া নয়—এবার আপনার হয়ে অনলাইনে কেনাকাটাও করবে চ্যাটজিপিটি।
ওপেনএআই সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে, তাদের প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হচ্ছে “ইন্সট্যান্ট চেকআউট” নামের এক নতুন ফিচার। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা চ্যাটজিপিটির উইন্ডোতেই সরাসরি পণ্য খোঁজা থেকে কেনাকাটা সম্পন্ন করতে পারবেন। অর্থাৎ কোনো ওয়েবসাইটে আলাদা করে ঢোকার প্রয়োজন নেই—চ্যাটের মধ্যেই সব কিছু!
প্রাথমিকভাবে এই ফিচার চালু হচ্ছে ইটসি (Etsy) ও শোপিফাই (Shopify)-এর মতো জনপ্রিয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে। এর ফলে ক্রেতারা যখনই কোনো পণ্যের কথা ভাববেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই চ্যাটজিপিটি তাদের জন্য প্রস্তাব দেবে এবং তা কেনার সুযোগ করে দেবে।
ওপেনএআই জানায়, “ইন্সট্যান্ট চেকআউট” অনলাইন কেনাকাটার ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দেবে। এতে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে সময়ের ব্যবধান কমবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ হবে দ্রুত, এবং কেনাকাটার অভিজ্ঞতা হবে আরও সহজ ও আনন্দদায়ক।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উদ্যোগ অনলাইন ব্যবসা খাতে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করবে। আশা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে অ্যামাজন, ফ্লিপকার্টসহ অন্যান্য ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে।
এছাড়া নতুন আপডেটে চ্যাটজিপিটিতে যুক্ত হচ্ছে চ্যাটিং ফিচার, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা একে অপরের সঙ্গে মেসেজ আদান-প্রদান করতে পারবেন—একদম মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো সহজভাবে।
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্য করুন