প্রিন্ট এর তারিখঃ Feb 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 22, 2026 ইং
নগরকান্দায় হাত-পা বাঁধা ও গলাকাটা লাশ: ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন, ফিরোজ মিয়া গ্রেফতার

ফরিদপুরের নগরকান্দায় হাত-পা বাঁধা ও গলাকাটা অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ ঘটনায় অন্যতম প্রধান আসামি ফিরোজ মিয়া (৩৭)’কে কুষ্টিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানাধীন ডাঙ্গী ইউনিয়নের সোনাখোলা গ্রামে ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়কের নারায়ণখালী ব্রিজের উত্তর পাশে ঢালসংলগ্ন একটি ডোবায় স্থানীয়রা একজন অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, নিহত ব্যক্তি জিন্স প্যান্ট ও টি-শার্ট পরিহিত ছিলেন। তাঁর হাত-পা বাঁধা ছিল এবং চোখ-মুখ স্কচটেপ দিয়ে আটকানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
পাশাপাশি তাঁর গলা কাটা ছিল, যা ঘটনাটিকে আরও নৃশংস ও রহস্যজনক করে তোলে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
র্যাব তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তৎপরতা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২১ জানুয়ারি ২০২৬ রাত আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে র্যাব-১০ এর সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্প, র্যাব-১২ এর সহযোগিতায় কুষ্টিয়ার আল্লারদরগা বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এবং হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ফিরোজ মিয়াকে গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, নিহত ব্যক্তির নাম আলী মোল্লা (৩৪)। তিনি গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আসামি ফিরোজ ও তার শ্যালক মমরেজের সঙ্গে একটি ট্রাকে করে গাজীপুরের উলুখোলার একটি ফিড মিল এলাকায় যান। পরে বিভিন্ন স্থানে মালামাল লোড-আনলোডের কাজ করেন।
৩১ ডিসেম্বর রাতে আসামিরা কৌশলে নিহতের পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয়। অচেতন হওয়ার পর তার হাত-পা বেঁধে ফেলা হয় এবং পরে নির্মমভাবে আঘাত করে হত্যার পর মরদেহ নারায়ণখালী ব্রিজের নিচে ফেলে দেওয়া হয়।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, নিহত আলী মোল্লার সঙ্গে আসামিদের আর্থিক লেনদেন ও পারিবারিক জটিলতা ছিল। পাশাপাশি এক নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক ও ভিডিও ধারণের বিষয়টি হত্যার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
গ্রেফতারকৃত আসামি ফিরোজ মিয়ার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে দুটি মামলাসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বিসিএন চ্যানেল