
ঢাকার বনানীর বাসিন্দা ইফতেখার হোসেন পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসার প্রয়োজনে মাসে একাধিকবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আকাশপথে যাতায়াত করতে হয় তাকে। সাম্প্রতিক সময়ে তার ভ্রমণের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো বিমানের নিয়মিত যাত্রীদের জন্য চালু করা বিশেষ ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লায়ার প্রোগ্রাম—‘বিমান লয়্যালটি ক্লাব’।
ইফতেখার হোসেন জানান, বিমানের লয়্যালটি ক্লাবের সদস্য হওয়ার পর প্রতিটি ভ্রমণের বিপরীতে তার অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট পরিমাণ মাইল বা পয়েন্ট জমা হয়। পরবর্তীতে এই মাইল ব্যবহার করে ফ্রি টিকিট, কেবিন আপগ্রেড, অতিরিক্ত ব্যাগেজ সুবিধা কিংবা লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যায়। তার মতে, নিয়মিত ভ্রমণকারীদের জন্য এই প্রোগ্রাম দীর্ঘমেয়াদে ভ্রমণকে করে তোলে আরও সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক।
কী বিমান লয়্যালটি ক্লাব
বিশ্বের বড় বড় এয়ারলাইন্সের আদলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০১৩ সালের নভেম্বরে চালু করে এই ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লায়ার প্রোগ্রাম। এর মূল লক্ষ্য নিয়মিত যাত্রীদের আনুগত্যের স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করা। একই এয়ারলাইন্সে বারবার ভ্রমণের মাধ্যমে যাত্রীরা মাইল অর্জন করেন, যা পরবর্তী ভ্রমণে নানাভাবে ব্যবহার করা যায়।
সদস্য হওয়া সহজ ও বিনামূল্যে
বিমান লয়্যালটি ক্লাবের সদস্যপদ গ্রহণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। দুই বছর বা তার বেশি বয়সী যে কেউ আলাদা ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে এই ক্লাবে যুক্ত হতে পারেন। নিবন্ধনের পর সদস্যদের একটি ডিজিটাল মেম্বারশিপ কার্ড প্রদান করা হয়।
মাইল অর্জন ও ব্যবহার
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে প্রতিবার ভ্রমণের সময় ফ্লাইটের দূরত্ব ও ভ্রমণ শ্রেণি অনুযায়ী সদস্যদের অ্যাকাউন্টে মাইল যোগ হয়। টিকিট বুকিং বা চেক-ইনের সময় মেম্বারশিপ নম্বর উল্লেখ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাইল জমা হয়, যা সাধারণত সাত কার্যদিবসের মধ্যে অ্যাকাউন্টে যুক্ত হয়। এই মাইল দুই বছর পর্যন্ত বৈধ থাকে।
জমানো মাইল ব্যবহার করে যাত্রীরা ফ্রি রিওয়ার্ড টিকিট, ইকোনমি থেকে বিজনেস ক্লাসে আপগ্রেড, অতিরিক্ত ব্যাগেজ সুবিধা কিংবা লাউঞ্জ অ্যাক্সেস নিতে পারেন।
তিন স্তরের সদস্যপদ
বিমান লয়্যালটি ক্লাবের সদস্যদের তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে—গ্রিন, সিলভার ও গোল্ড।
গ্রিন মেম্বার: সব সদস্যের জন্য প্রাথমিক স্তর। মাইল অর্জন ও ব্যবহারসহ নানা অফার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সিলভার মেম্বার: বছরে ৫০ হাজার মাইল ভ্রমণ করলে এই স্ট্যাটাস পাওয়া যায়। এতে ১০ শতাংশ বোনাস মাইল, অতিরিক্ত ব্যাগেজ ও লাউঞ্জ সুবিধা যুক্ত হয়।
গোল্ড মেম্বার: বছরে ৭৫ হাজার মাইল ভ্রমণকারী সদস্যরা পান সর্বোচ্চ এই স্ট্যাটাস। এতে ২০ শতাংশ বোনাস মাইল, ২০ কেজি অতিরিক্ত ব্যাগেজ, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা ও লাউঞ্জ অ্যাক্সেসের মতো এলিট সুবিধা থাকে।
যাত্রীদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে বিমানের উদ্যোগ
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা জানান, নিয়মিত যাত্রীদের ভ্রমণকে আরও আনন্দদায়ক ও মূল্যবান করে তুলতেই এই প্রোগ্রামটি পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে লয়্যালটি ক্লাবের সেবার পরিসর ও সদস্যসংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বর্তমানে বিমান লয়্যালটি ক্লাবের সদস্য সংখ্যা প্রায় এক লাখ ১৫ হাজার। এর মধ্যে গোল্ড সদস্য এক হাজারের বেশি এবং সিলভার সদস্য কয়েক শতাধিক।
নিয়মিত আকাশপথে যাতায়াতকারীদের জন্য বিমান লয়্যালটি ক্লাব তাই কেবল একটি রিওয়ার্ড প্রোগ্রাম নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি ভ্রমণ-সহচর হয়ে উঠছে।
#BimanBangladeshAirlines
#BimanLoyaltyClub
#FrequentFlyerProgram
#BangladeshAirlines
#AirTravelBangladesh
#BusinessTravel
#TravelNewsBangla
#AviationNews
#BCNChannel
#BangladeshNews
#AirlinesLoyalty
#SmartTravel
#TravelBenefits
#FlyWithBiman