
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন এ তফসিল ঘোষণা করেন। তার এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচার করা হয়।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী সময়সূচি:
মনোনয়ন জমা: ২৯ ডিসেম্বর
যাচাই-বাছাই: ৩০ ডিসেম্বর–৪ জানুয়ারি
আপিল দায়েরের শেষ সময়: ১১ জানুয়ারি
আপিল নিষ্পত্তি: ১২–১৮ জানুয়ারি
প্রার্থিতা প্রত্যাহার: ২০ জানুয়ারি
প্রতীক বরাদ্দ: ২১ জানুয়ারি
প্রচার শুরু: ২২ জানুয়ারি
প্রচার শেষ: ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭:৩০
দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সংসদের ব্যালট হবে সাদা-কালো, আর গণভোটের ব্যালট গোলাপি রঙের।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক
তফসিল ঘোষণার আগের দিন (১০ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় নির্বাচন ভবনে সিইসির ভাষণ রেকর্ড করা হয়। এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে কমিশন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে নির্বাচন ও গণভোটের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করে। রাষ্ট্রপতি এতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব খান মো. নূরুল আমীন এবং রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আদিল চৌধুরী।
জনগণ ও রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রতিক্রিয়া
নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা আলোচনা থাকলেও তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করছে দেশ।
এ নির্বাচনে প্রবাসীরাও পোস্টাল ব্যালেটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। সিইসির ভাষণ ঘোষণার সময় পর্যন্ত তিন লাখের বেশি প্রবাসী অনলাইনে নিবন্ধন করেন।
সংসদীয় আসন সীমানা পরিবর্তন
তফসিল ঘোষণার আগে সংসদীয় আসনের সীমানায় পরিবর্তন আনছে ইসি। আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী বাগেরহাটের তিনটি আসন ও গাজীপুরের একটি আসনের পূর্ববর্তী গেজেটকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে হাইকোর্টের রায়ে বাগেরহাটে চারটি আসন পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ভোটের দিনে ব্যবধান—আগের নির্বাচনের তুলনা
তফসিল থেকে ভোটের দিনের ব্যবধান অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে ছিল ৩৭–৬৮ দিনের মধ্যে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবধান ছিল ৫৩ দিন। এবারও সময়সূচি ঘনিষ্ঠই রাখা হয়েছে।