
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এ বছর রোকেয়া পদক পেয়েছেন রুভানা রাকিব (নারীশিক্ষা/গবেষণা), কল্পনা আক্তার (নারী অধিকার/শ্রম অধিকার), ঋতুপর্ণা চাকমা (নারী জাগরণ/ক্রীড়া), নাবিলা ইদ্রিস (মানবাধিকার)।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, পদকপ্রাপ্ত নারীরা বেগম রোকেয়ার দেখানো পথেই জাতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। এটা শুধু পুরস্কার না এটা যুগান্তকারী অর্জন। তারা আমাদেরকে দুনিয়ার সামনে অন্য স্তরে নিয়ে গেছেন, মন্তব্য করেন তিনি।
রোকেয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ১০০ বছর পার হলেও আরেকজন রোকেয়া সৃষ্টি করতে পারিনি—এটাই আমাদের দুর্ভাগ্য। তার স্বপ্নকে আমলে নিতে পারিনি, কথা বলেছি কিন্তু এগোতে পারিনি।
১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ এবং গ্রামীণ ব্যাংকের শুরুর সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দুর্ভিক্ষের আঘাত প্রথমে আসে মেয়েদের ওপরে, শিশুদের ওপরে।
তিনি জানান, অনেক নারী তখন নিজের নামও জানতেন না সমাজ কীভাবে নারীদের পিছিয়ে রেখেছে, সেটিই এর বড় উদাহরণ বলেও উল্লেখ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের আসনসংখ্যা এখনও কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছেলে-মেয়ে অর্ধেক-অর্ধেক, কিন্তু মেয়েদের হল পাঁচটি আর ছেলেদের ১৩টি—এটা কেমন বিচার?
গণ-অভ্যুত্থানে নারীদের নেতৃত্বের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আজকের নারী সমাজ ভিন্ন সমাজ—তাদের হাত ধরেই নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছে। নারীদের উঁচু স্তরে ধরে রাখা আমাদের জন্য জরুরি।
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা দেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়’ করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। স্বাগত বক্তব্য দেন সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ।