
বাংলাদেশে পেঁয়াজ উৎপাদনে এবার নজিরবিহীন সাফল্য এসেছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় উৎপাদিত দেশি পেঁয়াজেই পুরো মৌসুমের চাহিদা মেটানো যাচ্ছে। ফলে আমদানি নির্ভরতা প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।
দেশের কৃষকেরাও পেয়েছেন ভালো দাম—যা ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও বাড়ানোর অনুপ্রেরণা তৈরি করছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে রপ্তানি কমে যাওয়ায় ভারতের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন।
দেশটির গণমাধ্যমে উঠে এসেছে পেঁয়াজ না বিক্রি হওয়ায় রাস্তায় ফেলে প্রতিবাদ, বস্তায় পচে যাওয়া পেঁয়াজ, আর কৃষকদের কান্নার খবর।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে বর্তমানে মানভেদে দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ৯৫–১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষ বিলম্বিত হলেও আগামী ১০ দিনের মধ্যে নতুন ‘মুড়িকাটা’ পেঁয়াজ বাজারে আসবে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।
আড়তদারদের ভাষ্য—
“দাম বেশি হলেও কৃষকের পকেটেই যাচ্ছে টাকা, আমদানি না হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হচ্ছে।”
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী:
২০২৪-২৫ মৌসুম: ৫.৩৫ লাখ একর → ৩২.২১ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন
২০২৩-২৪ মৌসুম: ৫.১৩ লাখ একর → ২৯.১৭ লাখ মেট্রিক টন
২০২২-২৩ মৌসুম: ৫.০২ লাখ একর → ২৫.৪৬ লাখ মেট্রিক টন
পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, রাজবাড়ী, মেহেরপুরসহ প্রধান অঞ্চলে এবার উৎপাদন আরও বেড়েছে।
পাবনার কৃষক সিদ্দিক আলী বলেন—
“গত মৌসুমে মণপ্রতি ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত পেয়েছি। এবারও দাম ভালো। সামনে আরও বেশি আবাদ করবো।”
ভারতের ইকোনমিক টাইমস ও ইটিভি জানায়:
বাংলাদেশ রপ্তানি বন্ধ করায় বাজার ভেঙে পড়েছে
দিল্লির গাজীপুর বাজারে পেঁয়াজ বস্তায় পচে যাচ্ছে
কোথাও কেজি মাত্র ২ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে
রপ্তানিকারকদের অভিযোগ—“বাংলাদেশ আমাদের মোট রপ্তানির এক-তৃতীয়াংশ কিনতো, এখন না কেনায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত”
রপ্তানিকারক অজিত শাহ বলেন—
“রপ্তানি নিষেধাজ্ঞায় ক্রেতারা বিকল্প বাজারে চলে গেছে। এখন ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।”
এ বছর বাংলাদেশ কার্যত পেঁয়াজ আমদানি করেনি—যা অনেক বছরের রেকর্ড।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম সোহরাব উদ্দিন বলেন—
“পুরো বছর আমদানি করতে হয়নি—এটি দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ইতিবাচক দিক। এতে ডলারের সংকট আরও বাড়েনি।”
খাতুনগঞ্জ–চাক্তাইসহ দেশের বড় পাইকারি বাজারগুলোতে ভারতীয় পেঁয়াজের এক কেজিও নেই। বিভিন্ন জেলা থেকে সরবরাহ হওয়া দেশি পেঁয়াজেই বাজার স্বাভাবিক রয়েছে।
কৃষকের হাতে বেশি দাম
বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়
আমদানি নির্ভরতা কমে যাওয়া
স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতার দ্রুত বৃদ্ধি
সব মিলিয়ে বাংলাদেশ পেঁয়াজে স্বনির্ভরতার দিকে শক্তভাবে এগিয়ে যাচ্ছে—যেখানে ভারতের বাজারে এখন নেমে এসেছে মন্দা।