
সব মিলিয়ে তার পথচলাটা বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর হঠাৎ সংঘাতে পড়ে পরিবার এবং রাজনৈতিক দল বিএনপি। সে সময় দুই ছেলেকে নিয়ে ঢাকা সেনানিবাসে বসবাস করছিলেন খালেদা জিয়া।
স্বামীর মৃত্যুতে শোকাহত এই নারী রাজনীতিতে আসতে একেবারেই অনিচ্ছুক ছিলেন।
পরিবার থেকেও তেমন সমর্থন ছিল না।
কিন্তু বিএনপির শীর্ষ নেতারা আশঙ্কা করছিলেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ছাড়া দলটি ভেঙে পড়তে পারে। দলকে টিকিয়ে রাখতে তারা তাকে রাজনীতিতে আসার অনুরোধ জানাতে শুরু করেন।
অবশেষে ১৯৮২ সালে খালেদা জিয়া বিএনপির দলীয় সদস্যপদ গ্রহণ করেন। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তিনি নির্বাচিত হন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। এরপর ১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দায়িত্ব নেন।
এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তার নেতৃত্ব এবং দৃঢ় অবস্থান দ্রুতই তাকে দেশব্যাপী জনপ্রিয় করে তোলে।
বহু রাজনৈতিক লড়াই, আন্দোলন ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে বিএনপি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে। আর এভাবেই বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বেগম খালেদা জিয়া।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি যেসব নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তার কোনোটিতেই পরাজিত হননি। যা তাকে গণতান্ত্রিক নেতৃত্বে একটি শক্ত অবস্থান এনে দেয়।
তবে তার রাজনৈতিক পথচলা কখনোই সহজ ছিল না। ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর নানা বিতর্ক, মামলা ও ষড়যন্ত্রের মুখে পড়েন তিনি।
২০১৮ সালে মিথ্যা দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দী হন।
২০২০ সালে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেও বিদেশে চিকিৎসা ও সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণেও নিষেধাজ্ঞা ছিল।
সবশেষে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর একে একে সব মামলায় খালাস পান খালেদা জিয়া। বহু প্রতিকূলতা, কারাজীবন, আন্দোলন–সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তিনি এখনো অবিচল।
তার দৃঢ়তা, সহনশীলতা এবং নেতৃত্ব তাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুধু ক্ষমতার প্রতীক নয়, বরং আপোষহীন, সংকল্প আর স্থিতির প্রতীক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।
‘গৃহবধূ থেকে প্রধানমন্ত্রী—খালেদা জিয়ার জীবনগাথা আজও অনেকের কাছে প্রেরণার উৎস।’